গ্রোনিভেল্ট পার্টিতে উপস্থিত সকল বিখ্যাত লোকদের সঙ্গেই পরিচিত হলো এবং প্রত্যেকেই পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করল। এই সকল ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করল। তাছাড়া পাটিতে উপস্থিত ছোট ছোট বাচ্চাদের প্রতি সে তার স্নেহশীল ভালোবাসা প্রদর্শন করল। বাচ্চাদের ঘুরে বেড়ানোটাকে সে খুব বেশি পছন্দ করল। বাচ্চারা যখন ঘুরে বেড়ছিল সে তখন তন্ময় হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। গ্রোনিভেল্ট লক্ষ্য করে দেখল, প্রত্যেকেই জুয়া খেলা নিয়ে ব্যস্ত, সবার মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটি লোকই নিজ নিজ আনন্দে ব্যাকুল মনে হচ্ছে, কারো কোনো দিকে নজর দেওয়া সময় নেই। একজন বৃদ্ধ সবার নজর কাড়ল। লোকটি নিজেও সবার সঙ্গে মজা করে কথা বলছিল। তার মধ্যে ডেন্টি এবং জর্জিও একটু উদ্বিগ্নতার মধ্যে কাটাতে ছিল।
গ্রোনিভেল্ট একটু বিরতি নিয়ে বলল, যেখানে আমরা সবাই আনন্দ করছি সেখানে তোমাদের সমস্যা কোথায়? আজকের দিনে সব ভুলে যাও, আসো, আমরা সবাই আনন্দে মেতে উঠি।
তাছাড়া আমি জানি তোমাদের কোনো ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা বা তোমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোন দুশ্চিন্তা নেই। কিছুক্ষণ পর পার্টি শেষ হলো। সবাই হোটেল থেকে নিজ নিজ বাড়ি ফিরতে আরম্ভ করল।
পিপি বলল, আমার পরিকল্পনা বিগ টিমের ওপর নির্ভর করছে। ক্রস বলল সবকিছু তার উপর ভিত্তি করলেই হবে না। এর জন্য তোমার নিজস্ব চিন্তা চেতনা থাকা দরকার। তুমি তোমার কাজ নিজে করার চেষ্টা করো। তোমার মতো মানুষের কাকে প্রতি নির্ভরশীল হওয়া চলে না।
হলিউডের তিনজন বিখ্যাত মহিলা ডেন্টির টেবিলের সামনে বসে ছিল। তারা সকলেই বড় মাপের তারকা। তারা সকলেই বিগ টিমের পার্টিতে যোগদান করতে এসেছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ছিল জুলিয়া ডিলারি, সে ছবির জগতের বিখ্যাত ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিল। তাদের ছিল দুটি সন্তান।
দ্বিতীয়জন জোন ওয়ার্ড, সে এখন পর্যন্ত বেশ আকর্ষণীয়, তার বয়স এখন প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। তার একটি সন্তান আছে। পরে সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। এই বুদ্ধিমত্তা অভিনেত্রী শত কষ্টের মধ্যেও তাকে ধরে রেখেছিল।
তৃতীয়জন অভিনেত্রী লরেটা, সেও ছবির সঙ্গে জড়িত একজনকে বিয়ে করেছিল। তার স্বামী নিজেও একজন বিখ্যাত অভিনেতা।
এই তিনজন তারকা তার বন্ধু ছিল। তারা একসঙ্গে জীবনযাপন করত। একে-অপরের সুখে-দুঃখে সাহায্যের হাত বাড়াত। তারা একসঙ্গে লং ড্রাইভ, শপিং করতে বের হতো। তারা কখনও কোনো কাজ করতে স্বামীর টাকার ওপর নির্ভরশীল ছিল না। তারা সব সময় কার্ড ব্যবহার করত। তারা কোনো ব্যাপারে তাদের স্বামীদেরও কোনো প্রশ্ন করত না।
জুলিয়া অভিযোগ করল, তার স্বামী তার সন্তানের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে না। আর জোন বলল, তার স্বামীর ব্যবহার শিশুসুলভ। তাছাড়া সে একজন নতুন তারকা। লরেটা অভিযোগ করল, স্বামী খুব বড় মাপের অভিনেতা। তারপরও আমি বলতে পারি, আমি বেশ সুখে আছি।
জুলিয়া বলল, আমি আমার স্বামীকে ভালোবাসি কিন্তু সে প্রতি মাসে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
তারা বসে গান উপভোগ করল।
ডেন্টি তাদের আকর্ষণীয় দিকগুলো আলাপ করছিল, এতে তারা আরো বেশি মজা পেল।
তারপর তারা নিজ নিজ সুইটে বিশ্রাম নিতে চলে গেল।
আমার সুইটে এসে জুলিয়া বলল, আমি তোমার সঙ্গে কথা বলব। ঠিক আছে আমি একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত আছি, পরে আসব। তারপর জুলিয়া বিশ্রামের প্রস্তুতি নিল।
ডেন্টি তার সুইটে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ডেন্টি জুলিয়ার সুইটের দরজায় নক করল। জুলিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর তারা দুজনেই নিজেদের শক্তি হারিয়ে চরম উত্তেজনার সাগরে ভাসতে শুরু করল।
আর ছবির কাজে গিয়ে সে নিজেই থাকে। তার সঙ্গে আমার যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এতে তার কি, আমার মনের দিক থেকে কোনো প্রকার সমস্যাও হয় না। লরেটা বলল, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। পৃথিবীর অনেক সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গেই তার কাজ থাকে। কিন্তু সে শুধু আমাকেই পছন্দ করে।
এভাবেই তারা তাদের স্বামীর ব্যাপারে কথাবার্তা বলছিল। তারা বলল, আমেরিকার অনেকেই আমাদের চেনে। তাই প্রয়োজন বোধে আমাদের অনেক সময় বেশভূষা পরিবর্তন করতে হয়। তারপরেও আমরা সুখী মানুষ বলে নিজেদের মনে করি।
ডেন্টি তাদের জানাদু হোটেলের লাউঞ্চ ক্লাবে নিয়ে গেল, সেখানে জুয়া খেলার পাশাপাশি একজন গায়িকার গান চলছিল।
ডেন্টি তুমি আর কখনও তোমার রেনেসাঁ টুপিটি পরবে না, কারণ মানুষ তোমাকে নিয়ে মজা করবে। আর সব সময় খেয়াল রাখবে তুমি যা করতে যাচ্ছ, তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বলবে না। কারণ এতে তোমার শত্রুতা বাড়বে। আরেকটি কথা, কখনও কোনো কাজ করতে গিয়ে পাগলের মতো আচরণ করবে না। তাতে তোমার আশেপাশের মানুষ তোমাকে নিয়ে মজা করবে।
ডেন্টি আস্তে করে বলল, আমি টুপি ছাড়া নিজে হতভাগ্য মনে করি।
পিপি মাথা ঝাঁকাল। তুমি কখনও কোনো কাজ করতে গিয়ে কারো সঙ্গে প্রতারণা করবে না। এটা উনের আদেশ। কখনও কারো সঙ্গে প্রতারণা করবে না। কারণ তিনি এটাকে মানতে পারেন না। প্রয়োজন বোধে তুমি নিজেই লস অ্যাঞ্জেলেসে যাও, সেখানে নিজে কিছু করার চেষ্টা কর। সেখানে তুমি আরো অনেকের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। যারা তোমাকে অনেকভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি। তুমি কখনও নিজস্ব বিদ্যাবুদ্ধিকে বিসর্জন দিয়ে কিছু করতে যেও না। তাহলে তুমি অবশ্যই বিপদে পড়বে। এখন তুমি ভেবে দেখো, তোমার কি করা উচিত। আমি তোমাকে এক ঘন্টা সময় দিলাম, তুমি এই সময়ের মধ্যে তোমার পরিকল্পনা তৈরি করে নেও। তবে সব সময় খেয়াল রেখো, তোমার কাজ তোমাকেই সমাধান করতে হবে। তুমি কখনও কোনো কাজই কার ওপর নির্ভর হয়ে করবে না, এটা আমার নির্দেশ এবং অনুরোধ।
