মুহূর্তের জন্যে চমকে উঠল নিনো। চেহারা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, স্তম্ভিত হয়ে গেছে সে। তারপর বলল, একশোবার, নিশ্চয়ই যাব-কথা দিলাম, দোস্ত। একটু থেমে আবার বলল, পুরস্কারটা পেলে ভাল, না পেলে ভুলে যাস। স্রেফ যত পারিস মদ গিলে মাতাল হয়ে পড়িস, পাশে থেকে তোর দেখাশোনা করব আমি। কথা দিচ্ছি, আজ রাতে একফোঁটা মদও ছোঁব না আমি। এবার বল, কেমন বন্ধু আমি।
দোস্ত, জনি ফন্টেন বলল, তুই আমাকে ভালবাসিস।
দিনের শেষে রাত এল, নিনোও তার কথা রাখল। সম্পূর্ণ প্রকৃতিস্থ অবস্থায় জনির বাড়িতে এল সে, তাকে নিয়ে রওনা হয়ে গেল জনি থিয়েটারের দিকে, যেখানে পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানটা হবে। ডিনারে জনি ওর বান্ধবী বা প্রাক্তন স্ত্রীদের কাউকে নিমন্ত্রণ করেনি কেন? প্রশ্নটা নিয়ে খানিক মাথা ঘামাল নিনো, কিন্তু কোন সদুত্তর পেল না। বিশেষ করে জিনি, তাকে নিমন্ত্রণ না করার কি কারণ থাকতে পারে? জিনি ওকে উৎসাহ দেবে, সাহস যোগাবে, প্রয়োজনে সান্তনা দেবে–এসব কি একবারও ভেবে দেখেনি জনি? বেশি না, শুধু এক গ্লাস মদ টানতে পারলে ভাল হত, ভাবছে নিনো, দেখেশুনে মনে হচ্ছে সামনে লম্বা আর বাজে একটা রাত পড়ে রয়েছে।
একাডেমি পুরস্কার বিতরণের গোটা ব্যাপারটাই একঘেয়ে বিরক্তিকর লাগছে নিনোর, কিন্তু শ্রেষ্ঠ পুরুষ অভিনেতার নাম ঘোষণার পর অন্য রকম হয়ে গেল তার মূর্তি। কানে যখন জনি ফন্টেন নামটা ঢুকল, সব কিছু ভুলে হুবহু ক্যাঙ্গারুর মত শূন্যে লাফ দিতে শুরু করে দিল সে, আর সেই সাথে জনির নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে। করমর্দনের জন্যে হাত বাড়িয়ে দিল জনি, সেটা ধরে ঝাঁকাতে শুরু করল নিনো। সে বুঝতে পারছে, এই মুহূর্তে জনির এমন একজনের মানবিক স্পর্শ চাই যার উপর ওর সম্পূর্ণ আস্থা আর বিশ্বাস আছে, সেই সাথে নিন্মের মনটা বিশাল একটা দুখে কাতর হয়ে উঠল এই ভেবে যে এমন একটা পরম গৌরবের মুহূর্তে জনি তারপয়ে ভাল আর কাউকে পেল না।
এরপর যা ঘটতে শুরু করল, রীতিমত দুঃস্বপ্ন বলে মনে হলো নিনোর। সুব প্রথম পুরস্কারগুলো বাগিয়ে নিয়েছে জ্যাক ওলটসের ছবি, ভাই স্টুডিওর পার্টিতে যত সাংবাদিক আর মতলববাজ নারী-পুরুষের দল ভিড় করে এল। মদ ছোবে না বলে কথা দিয়েছে জনিকে, সে-কথা রক্ষা করছে নিনো। কথা দিয়েছে নজর রাখবে জনির উপর সে-কথা রাখার চেষ্টাও করছে সে। কিন্তু এতে তেমন সুবিধে করতে পারছে না। পার্টিতে উপস্থিত মেয়েমানুষগুলো পালা করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে জনিকে একটা শোবার ঘরে, অজুহাত হিসেবে প্রত্যেকে বলছে, এসো, জনি, দুটো গল্প করি। নিনো বুঝতে পারছে, শোবার ঘরে ঢোকার পর জনির সাথে একটা কথা বলারও অবকাশ দিচ্ছে না মেয়েগুলো, একটা কথা বলা মানেই তো জনিকে নিয়ে ধস্তাধস্তি করার সময় থেকে কয়েকটা সেকেণ্ড কমে যাওয়া। যতবার শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে জনি, ওকে আগের বারের চেয়ে দুর্বল আর আরও বেশি মাতাল দেখাচ্ছে।
এই ভয়াবহ অবস্থায় জনি যে শুধু একা পড়েছে তা নয়, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছে যে মেয়েটা তারও সেই একই অবস্থা। তবে, তার প্রশংসা করতে হয় এই দেখে যে অবস্থাটা সে পুরোপুরি উপভোগ করছে, জনির মত নেতিয়ে পড়ছে না। উপস্থিত পুরুষদের মধ্যে একা শুধু নিনোই তাকে প্রত্যাখ্যান করল, বাকি কেউ এই সুবর্ণ সুযোগটার সদ্ব্যবহার করতে ছাড়ল না।
শেষ দিকে কার যেন মাথায় একটা বৈপ্লবিক চিন্তা খেলে গেল। প্রস্তাব উঠল, দুই প্রথম পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীকে প্রকাশ্যে যৌন সঙ্গম করতে হবে। বাকি যারা উপস্থিত আছে তারা সবাই দর্শকের ভূমিকা নেবে। কয়েকজন সুযোগসন্ধানী আর উৎসাহী পুরুষ মেয়েটার কাপড়চোপড় খুলে তাকে বিবস্ত্র করে ফেলল, অবশ্য মেয়েটা তাদেরকে যেচে পড়ে সাহায্য করল বলে পুরুষদের দল কাজটায় তেমন আশাপ্রদ মজা পেল না, এসব ব্যাপারে বাধা পেলে মজাটা জমে ভাল। ওদিকে উৎসাহী কয়েকটা মেয়ে এগিয়ে এসেছে জনি ফন্টেনের পোশাক খোলার জন্যে। ঝটপট সেরেও ফেলল তারা কাজটা, চারদিক থেকে হাস্যরোল আর জয়ধ্বনির হিড়িক পড়ে গেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে, উপস্থিতদের মধ্যে একমাত্র প্রকৃতিস্থ ব্যক্তি নিনো ভ্যালেন্টি, ভিড় ঠেলে এগিয়ে এল। উলঙ্গ জনিকে মেয়েগুলোর হাত থেকে উদ্ধার করে, তাকে নিজের মস্ত কাঁধে তুলে নিল। তারপর সবার প্রতিবাদ আর বাধার সাথে লড়তে লড়তে সোজা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়িতে এসে উঠে পড়ল।
গাড়ি চালিয়ে জনিকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নিনো। ভাবছে, একে যদি সাফল্য বলে, তা দিয়ে ওর দরকার নেই।
২.৮ ডন ভিটো কর্লিয়নির ছেলেবেলা
০৮.
ডন ভিটো কর্লিয়নির ছেলেবেলা।
মাত্র বারো বছর বয়েস, কিন্তু এরই মধ্যে রীতিমত সাবালক হয়ে উঠেছেন তিনি। মাথা ভর্তি কালো চুল, ছিপছিপে লম্বা শরীর। মরক্কোয় বসবাসরত আরবদের গ্রামের আদলে তৈরি অদ্ভুত একটা গ্রামে জন্ম, নাম ভিটো আন্দোলিনি। ওই বয়সেই বাবাকে হারালেন, একদল আগন্তুক এসে খুন করে গেল তাকে। এর কিছুদিন পর প্রামে একদল অচেনা লোক এসেছে, এবং তাদের উদ্দেশ্য কি জানতে পারার পর ভিটো আন্দোলিনির মা তার ছেলেকে পাঠিয়ে দিলেন আমেরিকায় তাদের পারিবারিক বন্ধু-বান্ধবদের কাছে।
