বলল; কি, দোস্ত, চুটিয়ে মজা করছিস তো?
নিঃশব্দে হাসল নিনো। ঠিক বুঝতে পারছি না। কেমন যেন অন্যরকম। এখন আমি আমার পুরানো আস্তানায় ফিরে গিয়ে বলতে পারব, ঙীনা ডান আমাকে দখল করেছিল।
হেসে উঠল জনি। ও যদি তোকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়, আরও ভাল খেলা দেবে। দাওয়াত দিয়েছে নাকি?
এদিক ওদিক মাথা দোলাল নিনো। ছবিটা আমার সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিল, বলল সে।
এবার কিন্তু হাসল না জনি। সিরিয়াস হ, নিনো, বলল ও। ওর মত একটা মেয়ে তোর জন্যে কি না করতে পারে। এত কিসের দাম তোর, তোকে আমি চিনি না? কোন রকম বাছবিচার ছাড়াই যার তার সাথে শুয়ে পড়তিস তুই, অৰীকার করতে পারবি? ব্যাটা, এমন সব মেয়েকে নিয়ে ঝুলে পড়তিস, ভাবতে গেলে এখনও আমার বমি পায় আর দুঃস্বপ্ন দেখি।
বদ্ধ মাতালের মত গ্লাস ধরা হাতটা নাড়ল নিনো, গলাটা চড়িয়ে বলল, যা, দেখতে তারা খারাপ, কিন্তু মেয়েমানুষ তো বটে। কামরার একধার থেকে ঘাড় ফিরিয়ে ওঁদের দিকে তাকাল ভীনা ডান। তার উদ্দেশে হাতের গ্লাসটা নেড়ে সৌজন্যতা দেখাতে ত্রুটি করল না নিনো।
হতাশ ভঙ্গিতে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল জনি, বুঝলাম, তুই একটা পাড়াগেঁয়ে ভূত।
নেশাগ্রস্ত ভঙ্গিতে হাসল নিনো, বলল, থাকবও তাই।
নিনোকে বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হচ্ছে না জনির। জানে, যতটা ভান করছে ততটা নেশা হয়নি তার। ভান করার একমাত্র কারণ, এমন সব কথা বলতে চাইছে সে এখন যেগুলো সুস্থ সচেতন অবস্থায় বলা অভদ্রতার সামিল হয়ে যাবে। নিনোর কাঁধে একটা হাত রেখে সস্নেহে বলল ও, তুই ব্যাটা বুদ্ধির একটা ডিপো। জানিস, এক বছরের চুক্তি হয়ে গেছে-এখন তুই যা খুশি করতে পারিস, যা খুশি তাই বলতে পারিস–চাইলেও তাকে আমি বিদায় করে দিতে পারি না।
কৃত্রিম ধূর্তামি ফুটে উঠল নিনোর চেহারায়। বলল, সত্যি? ইচ্ছা করলেও তুই আমার পাছায় লাথি মেরে ভাগিয়ে দিতে পারিস না?
পারি না, বলল জনি।
তাহলে তোকে আমি ইয়ে করি, বলল নিনো।
মুহূর্তের জুনে চমকে উঠে রেগে যাচ্ছিল জনি। বেপরোয়া, তাচ্ছিল্যের হাসিটা দেখতে পাচ্ছে নিনোর মুখে। রাগটা দমিয়ে আনতে পারল জনি, গত কয়েক বছরে অবশ্যই কিছু সুবুদ্ধি হয়েছে ওর, অথবা শ্রেষ্ঠ তারকার রাজাসন থেকে পতনের ফলে ওর অনুভূতি আর সহনশীলতা নিশ্চয়ই আরও অনেক বেড়েছে। এই এক নিমেষেই নিনোকে বুঝে ফেলল ও, বুঝে ফেলল কেন তার ছেলেবেলার গানের সাথী সাফল্যের মুখ দেখেনি, এখনই বা কেন সাফল্য লাভের সমস্ত সম্ভাবনা পা দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইছে। সাফল্যের জন্যে মূল্য দেবার চিন্তাটাই সহ্য হয় না নিনোর, তার জন্যে কেউ কিছু করছে বুঝতে পারলেই অপমান বোধ করে সে।
নিনোর হাত ধরে টেনে বাড়ির বাইরে বের করে নিয়ে এল জনি। এবার সত্যি নেশা হয়েছে, কোনমতে টলতে টলতে হাঁটতে পারছে এখন নিনো। নরম গলায়, সমবেদনা আদায়ের সুরে কথা বলছে জনি, ঠিক আছে, ভাই, তুই শুধু আমার জন্যে গাইবি। তোর ঘাড়ে সওয়ার হয়ে আমি কিছু টাকা কামিয়ে নিতে চাই। তুই কিভাবে জীবন কাটাবিসে-ব্যাপারে কথা দিচ্ছি, একটুও মাথা ঘামাব না আমি। তোর যা খুশি, শ্বা করতে মন চায়, তাই করবি। তোকে শুধু একটা কাজ করতে হবে, আমার জন্যে গাইবি, যাতে দুটো পয়সার মুখ দেখি আমি। জানিসই তো, আমি আর গাইতে পারি না। আমার কথা সব বুঝতে পারছিসতো, দোস্ত?
শিরদাঁড়া খাড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াল নিনো। তার জন্যে গাইব আমি, জনি, বলল সে। গলার আওয়াজ জড়িয়ে যাচ্ছে তার, বোঝা যায় কি যায় না। এখন তো তোর চেয়ে ভাল গাই আমি। গায়ক হিসেবে আমি তোর চেয়ে সব সময়ই ভাল, সেটা জানিস তো?
দাঁড়িয়ে পড়েছে জুনি, ভাবছে, আচ্ছা, এই তাহলে ব্যাপার। কিন্তু জানে ও, গলা যখন ভাল ছিল ওর, সমান হওয়া তো দূরের কথা, ওর ধারেকাছে ঘেঁষার উপযুক্ততাও ছিল না নিনোর। ছেলেবেলায় একটানা অত বছর গেয়েছে দুজন, তখনও তার চেয়ে ওর গলা শতগুণ ভাল ছিল। বুঝতে পারছে ও, একটা উত্তর পাবার জন্যে অপেক্ষা করছে নিনো, ক্যালিফোর্নিয়ার চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে টলছে। তোকে আমি ইয়ে করি, নরম সুরে বলল জনি। সাথে সাথে হো হো করে হেসে উঠল ওরা, সেই আগের মত, যখন ওরা দুজনেই প্রাণচঞ্চল তরুণ ছিল।
২.৭ ডন কর্লিয়নির আহত হবার খবর
০৭.
ডন কর্লিয়নির আহত হবার খবর শুনে জনি ফন্টেন তার গড ফাদারের জন্যে শুধু যে উদ্বিগ্ন হলো তাই নয়, ছবি করার টাকা, যোগান দেবার প্রস্তাবটা এখনও টিকে আছে। কিনা ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। নিউ ইয়র্কে যেতে চাইছে ও, হাসপাতালে শায়িত গড ফাদারকে শ্রদ্ধা জানাবে। কিন্তু টেলিফোনে জানিয়ে দেয়া হলো ওকে, ওর নামে কোন অপপ্রচার হোক ডন কলিয়নি তা কোনমতেই চাইবেন না। অগত্যা অপেক্ষা করে থাকাই স্থির করল জনি। এক হপ্তা পর লোক এল টম হেগেনের কাছ থেকে, হ্যাঁ, টাকা যোগান দেয়া হবে, তবে একবারে মাত্র একটা ছবির জন্যে।
এদিকে নিনোকে হলিউডে, ক্যালিফোর্নিয়ায় যা খুশি তাই করতে কোন বাধা দিচ্ছে না জনি। দ্বিতীয় শ্রেণীর অল্প বয়েসী তারকাদের সাথে বেশ জমিয়ে নিয়েছে নিনো। মাঝে মধ্যে তাকে ডেকে পাঠায় জনি, রাতে একসাথে বেরুবে বলে। তবে এ-ব্যাপারে তার উপর নির্ভর করে থাকে না। ডনের গুলি খাওয়া সম্পর্কে কথা উঠলে নিনোবলল, জানিস, আমি একবার তাঁর সংগঠনে একটা চাকরি চেয়েছিলাম। সোজা না করে দিলেন, কোনমতে রাজি হলেন না। অ্যানলে আমার আর ট্রাক চালাতে ভাল লাগছিল না, কিভাবে আরও অনেক টাকা রোজগার করা যায় তার একটা উপায় খুঁজে পেতে চাইছিলাম। ডন আমাকে কি বলেছিলেন জানিন? বলেছিলেন, প্রত্যেক মানুষের জন্যে একটা মাত্র নিয়ুতি নির্দিষ্ট হয়ে আছে। আমার নিয়তি নাকি শিল্পী হওয়া।
