মেয়েদের যৌন তৃপ্তি মেটাতে পারে এমন পুরুষ এ শহরে দুএকজনই আছে, বলল সে। তার মধ্যে,জনি ফন্টেন একজন বাকি সবাই মুরোদহীন, রুগ–ওদের মুখের ভেতর এক ট্রাক ভর্তি স্প্যানিশ মাছি পুরে দিলেও কোন মেয়েমানুষকে যৌন তৃপ্তি দিতে পারবে না ওরা। নিনোর একটা হাত ধরে লোক চলাচল আর প্রতিযোগিতা থেকে দূরে সরিয়ে আনল তাকে ডীনা।
কোমল মাধুর্যের সাথে নিনোর বিষয়ে জানতে চাইছে চীনা। ওর ভূমিকাটা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না নিনোর। অভিজাত ধনী পরিবারের দুলালী কন্যা তার আস্তাবলের সহিস কিংবা গাড়ির ড্রাইভারের প্রতি নেহাত দয়া দেখিয়ে কুশলাদি নিচ্ছে; কিন্তু এই ছোকরা যদি ওর সাথে প্রেম করতে চায় (এই ভূমিকায় যদি স্পেসার ট্রেসি অভিনয় করে), রূঢ় প্রত্যাখ্যান ছাড়া কিছুই জুটবে না তার কপালে; অথবা (ভূমিকাটিতে যদি ক্লার্ক গেবল অভিনয় করে) ছোকরার প্রেমে উন্মাদিনী হয়ে এই ধনীর দুলালী সব শ্রাগ করে তার সাথে পালিয়ে যাবে। যাই হোক, ডীনা ভান যে ভূমিকাই নিয়ে থাকুক, কিছু এসে যাচ্ছে না নিনোর। এক সময় আবিষ্কার করল ও, দিব্যি গড় গড় করে বলে খাচ্ছে কিভাবে একসাথে নিউ ইয়র্কে বড় হয়েছে সে আর জনি ফন্টেন কবে থেকেঁ ওরা ছোটখাট ক্লাবের আমন্ত্রণ পেয়ে গাইতে শুরু করে। অদ্ভুত মনোযোগ আর সহানুভূতির ছাপ ফুটে উঠেছে উনার চেহারায়। হালকা কথাচ্ছলে একবার জানতে চাইল ও, আচ্ছা, তুমি জানো, হারামজাদা জ্যাক ওলটসের কাছ থেকে কিভাবে ওই ভূমিকাটা আদায় করল জনি?
সেই মুহূর্তে শক্ত কাঠ হয়ে গেল নিনো, মাথা নেড়ে বোঝাতে চাইল, এ ব্যাপারে কিছুই জানে না সে। কথা বের করার জন্যে উীনাও কোন চাপ দিল না।
ছবি দেখাবার সময় হয়ে এসেছে। হঠাৎ প্রায় আগুনের ছ্যাঁকা লাগার মত উত্তাপ অনুভব করল নিনো, দেখল তার একটা হাত ধরেছে উীনা ডান, তাকে বন্দা করে নিয়ে এল বাড়ির অন্দর মহলের একটা কামরার ভিতর। কামরাটা কোন জানালা নেই, খাকার মধ্যে আছে দুজন করে বসতে পারে এই ধরনের পঞ্চাশটা সোফা। সেগুলো কামরার চারদিকে এমন ভাবে ছড়িয়ে সাজানো হয়েছে যে, দেখে মনে হয় নির্জন এক একটা দ্বীপ ওগুলো, একটার সাথে আরেকটার কোন যোগাযোগ নেই।
প্রত্যেক জোড়া সোফার সামনে একটা করে ছোট, নিচু টেবিল রয়েছে, তাতে কাঁচের জার ভর্তি বরফ, গ্লাস, মদের বোল, আর সিগারেট দেখতে পাচ্ছে নিনো। সঙ্গিনীকে একটা সিগারেট দিয়ে সেটা ধরিয়ে দিল সে। তারপর দুটো গ্লাসে মদ ঢেলে নিল দুজনের জন্যে। কেউ কারও সাথে কথা বলছে না। এর একটু পরই সব আলো নিভে গেল, নিখাদ অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেল সব।
নিজেকে প্রস্তুত করে নিল নিনো, এবার সাংঘাতিক কিছু একটা ঘটবে। হলিউড একটা নোংরা জায়গা, এ-সম্পর্কে রঙবেরঙের অনেক কাহিনী:শোনা আছে তার। কিন্তু তৈরি হয়ে নেবার জন্যে সামান্যতম সুযোগ না দিয়ে, সৌজন্যতা দেখিয়ে অনুমতি না নিয়ে, বন্ধুসুলভ আমন্ত্রণ না জানিয়েই ডীনা ডান যে তার পুরুষাঙ্গ নিয়ে এভাবে নাড়াচাড়া শুরু করে দেবে তা সে দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি। একটু একটু করে মদের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে নিনো, আর প্রাণপণ চেষ্টা করছে পর্দায় চোখ রেখে ছবি দেখতে। কিন্তু এই অবস্থায় না পারছে সে ছবির দিকে মন দিতে, না পারছে মদের স্বাদ নিতে। এর আগে জীবনে কখনও এমন প্রচণ্ডভাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠেনি সে। তার কারণ খানিকটা সম্ভবত এই যে এখন যে-নারী অন্ধকারে তার সেবায় নিয়োজিত এই নারীই ছিল তার কৈশোর জীবনের সব রঙিন স্বপ্নের বিষয়বস্তু।
অথচ, অনুভব করছে নিনো, এই ঘটনায় তার পৌরুষ অপমানিত হচ্ছে। তাই পৃথিবী বিখ্যাত উীনা ডান যখন পরিতৃপ্ত হয়ে ওর প্যান্টের বোতাম-টোতাম লাগিয়ে আবার ওকে গুছিয়ে দিল, বিশাল একটা স্বস্তিবোধ করল নিনো, অম্লান বদনে ওকে এক গ্লাস মদ ঢেলে দিল সে, অন্ধকারেই আবার একটা সিগারেট ধরিয়ে দিল ওকে, তারপর পরম আনন্দ আর আয়েশের সুরে বলল, দেখে তো মনে হচ্ছে ছবিটা খুবই চমৎকার।
সোফায় হাত পা এলিয়ে দেয়া ডীনা ডান-এর শরীরটা পাথরের মত শক্ত হয়ে উঠল, অনুভব করল নিনো। সবিস্ময়ে ভাবছে সে, এও কি সম্ভব যে ও তার কাছ থেকে দুএকটা প্রশংসা বাক্য আশা করছে? অন্ধকারে হাতড়ে যে বোতলটা পেল সেটা থেকে নিজের গ্লাসে মদ ভরে নিল সে। ভাবছে, মরুকগে। তার সাথে একটা পুরুষ বেশ্যার মত আচরণ করেছে ও। সঙ্গত কারণেই এখন. এই ধরনের সব মেয়ের ওপর ঠাণ্ডা একটা বিদ্বেষ অনুভব করছে সে। আরও পনেরো মিনিট দেখল ওরা ছবিটা। সোফার উপর, এক প্রান্তে কাত হয়ে শুয়ে আছে সে, যাতে পরস্পরের গায়ে ছোঁয়া না লাগে।
শেষ পর্যন্ত থাকতে না পেরে প্রথম নিস্তব্ধতা ভাঙল ভীনা ডানই, অমন সাধুর মত ভাব করে আছ কেন, তোমার যে ভাল লেগেছে তা তো বোঝাই গেছে। ফিসফিস করে বলল, কিন্তু কণ্ঠস্বরটা আশ্চর্য কর্কশ শোনাল। একটা বাড়ির মত বড় তোমার ওটা।
গ্লাসে আরও গোটা দুই চুমুক দিয়ে নিল নিনো, তারপর সহজ মৃদু গলায় বলল, ওটাই ওর স্বাভাবিক আকার। আমি উত্তেজিত হয়ে উঠলে তখন যদি ওটা দেখতে।
মৃদু হাসল ডীনা। ছবি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কোন কথা বলল না ও। আলো জ্বলে ওঠার পর চোখ কুঁচকে নিজের চারদিকে তাকাল নিনো। বুঝল অন্ধকারেই রীতিমত একটা বল ড্যান্স হয়ে গেছে, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কিছুই শুনতে পায়নি সে। তবে মেয়েদের কারও কারও চেহারায় পরম তৃপ্তির চকচকে একটা ভাব ফুটে রয়েছে, বিড়ালের মত জ্বলছে চোখগুলো, সদ্য খুব এক দফা হয়ে গেলে যেমনটি দেখায়। ধীর, ক্লান্ত পায়ে প্রজেকশন রূম থেকে বেরিয়ে এল ওরা। বেরিয়ে এসেই নিনোকে ছেড়ে একজন বয়স্ক লোকের সাথে কথা বলতে চলে গেল ভীনা। লোকটাকে চিনতে পারল নিনো, একজন বিখ্যাত অভিনেতা, কিন্তু এখন অবশ্য একটা ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নয় সে। কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছে নিনোর, ধীরে ধীরে চুমুক দিচ্ছে মদের গ্লাসে। ওর পাশে এসে দাঁড়াল জনি ফন্টেন।
