শেষ বিকেলে পৌঁছে গেছে বেলা। নেশা এখনও পুরো কাটেনি নিনোর। শাওয়ার সেরে তাকে ঘুমিয়ে নেবার প্রামর্শ দিল জনি। রাত এগারোটায় বড় একটা পার্টিতে যেতে হবে ওদেরকে।
ঘুম থেকে ওঠার পর নিনোকে নিয়ে বসল জনি। সংক্ষেপে একটু ধারণা পাইয়ে দিল তাকে আজ রাতের পার্টি সম্পর্কে।
বলল, চিত্রতারকাদের একটা ক্লাব আছে, নাম লোনলি হার্টস। পার্টিটা হচ্ছে এই ক্লাবের তরফ থেকে। ওখানে আজ তুই যে-সব মেয়েদেরকে দেখতে পাবি, এর আগে তাদেরকে তুই সিনেমার পর্দায় ধরাছোঁয়ার বাইরে মোহিনী মায়াবিনী হিসেবে দেখেছিস। লক্ষ-কোটি লোক এদের সাথে যদি প্রেম করার একটা মাত্র সুযোগ পায়, প্রত্যেকে তাদের একটা করে হাত কেটে দিতে রাজি হবে। এইসব মেয়েমানুষরা আজকের এই পার্টিতে কেন আসবে, আন্দাজ করতে পারিস? মুচকি একটু হেসে নিজেই জবাব দিল জনি, এদের প্রত্যেকের একটা করে পুরুষ দরকার, খুব দরকার। কেন বল তো? কারণ শক্ত সমর্থ বলিষ্ঠ তাগড়া যোয়ান পুরুষের অভাব বোধ করে এরা, অথচ এই সব পুরুষদের আলিঙ্গন আর আদর সোহাগ, ভালবাসা আর প্রেম ছাড়া এদের চলে কিভাবে, বয়স না হয় একটু বেশিই হয়ে গেছে। আসল কথা ওটাই, বয়স একটু বেশি হয়ে গেছে। তাই বলে খুব বেশি হয়নি, হলিউডের অর্থাৎ দুনিয়ার সেরা সুন্দরী বলতে এখনও এদেরকেই বোঝায়, সে-কথা ভুলিস না। অবশ্য সামনে থেকে দেখলেই তা বুঝতে পারবি। আর একটা ব্যাপার। সদ্য বেড়ে ওঠা যুবতীদের মত এধাও আদর সোহাগ জিনিসটা অভিজাত শ্রেণীর কাছ থেকে অভিজাত ভঙ্গিতে পেত আশা করে।
তোর গলায় কি হয়েছে.রে, জনি? জানতে চাইল নিনো।
গলা একেবারে নামিয়ে বলল জনি, একটু গাইলেই গুলার শক্তি ফুরিয়ে যায়। এই যে আজ গাইলাম, এরপর আর একমাস গাইতে পারব না। তবে, গলা-ভাঙাটা দুএকদিনের মধ্যে সেরে যায়।
চিন্তার কথা, তাই না? উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল নিনো।
শ্রাগ করল জনি। বলল, শোন, নিনো, একটা কথা বলে রাখি তোকে। খবরদার, আজ রাতে ভুলেও তুই খুব বেশি মাতাল হয়ে পড়বি না। হলিউডের এই রক্তচোষা রাক্ষসীগুলোকে দেখিয়ে দিতে হবে যে আমার এই গেঁয়ো বন্ধুটি নতুন আমদানি হতে পারে, কিন্তু সে আহাম্মক নয়, আসরটাকে মাতিয়ে রাখতে হবে তোকেই, বুঝলি? শোন, এই মেয়েমানুষগুলোর প্রতিপত্তি তুই কল্পনাও করতে পারবি না, এরা রাতকে দিন করতে পারে, দিনকে রাত। ইচ্ছা করলেই ভাল ভাল কাজ জুটিয়ে দিতে পারে তোকে। নিজের যদি সুবিধে হয়, একটু না হয় মিষ্টি ব্যবহার করলি ওদের সাথে, ক্ষতি কি।
গ্লাসে আবার মদ ঢালছে নিনো, বলল, টক বা ঝাল আমার ব্যবহারে কখনও দেখেছিস? এক চুমুকে গ্লাসটা নিঃশেষ করে নিঃশব্দে হাসল সে, বলল, এসব বাজে কথা বাদদ, আসল কথা বল, ডীনা ডানের কাছে আমাকে নিয়ে যেতে পারবি
নিরাশ হবার কোন কারণই নেই তোর, বলল জনি! তুই যা ভাবছিস ব্যাপারটা সেরকম নয়।
.
লোনলি হার্টস, নামটা হলিউডের কম বয়েসী নায়কদের দেয়া। তাদের উপস্থিতি এখানে বাধ্যতামূলক।
ক্লাবের সভ্যরা প্রতি শুক্রবার দিন জড়ো হয় ওলটস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম কর্পোরেশনের প্রেস এজেন্ট রক ম্যাক এরয়ের প্রাসাদোপম বাড়িতে। এই লোকটাকে জন-সংযোগ উপদেষ্টাও.বলা হয়ে থাকে। বাড়িটার মালিক আসলে জ্যাক ওলটস। এই পার্টির ধারণাটাও প্রথম তার মাথায় আসে! যে-সব তারকাদের জন্যে ওর স্টুডিও আজও কোটি কোটি ডলার রোজগার করছে, তাদের কারও কারও বয়স একটু বেশি হয়ে গেছে। আলোর কেরামতি আর মেকআপম্যানদের যাদু সাহায্য না করলে এদের যে সত্যি বয়স হয়েছে তা পরিষ্কার বোঝা যায়। সেজন্যে ব্যাপারটা একটা সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এই সমস্যার একটা শাখাও গজিয়েছে, বয়স বেশি হয়ে গেলে যা হয়-এই সব নায়িকাদের শারীরিক সজীবতা আর মানসিক ঘূর্তিও লক্ষণীয়ভাবে কমে গেছে। যাকে বলে প্রেমে পড়া। সেটা তাদের আর হয়ে উঠছে মা। অথচ আর তো কিছুর অভাব নেই, টাকা আছে অঢেল, খ্যাতি আছে। প্রচুর, নিজেদেরকে দুনিয়ার সেরা সুন্দরী বলে ভাবার অভ্যাস এখনও রয়ে গেছে, সুতরাং বয়স বাড়লে কি হবে, দেমাকে এখনও মাটিতে পা পড়ে না ওদের কারও। পার্টিগুলোর ব্যবস্থা করার পিছনে ওলটসের একমাত্র কারণ, এইসব সুন্দরী মেয়েগুলো যাতে তাদের প্রেমিক খুঁজে নেবার সুযোগ পায়। প্রথমে এক রাতের শষ্যাসঙ্গিনী হবে, তারপর এতে যদি পূরুষটাকে মজাতে পারে, ঠিকমত যদি ফেলতে পারে ফাঁদে, অনির্দিষ্টকালের জন্যে বিছানার সঙ্গী থেকে শুরু করে ক্রমশ ধাপে ধাপে উঠে যাওয়ার পথ করে নেয়া। পার্টিগুলোর মান অনেক সময় নামতে নামতে এমন যৌন বিকৃতি এবং মারপিটের পর্যায়ে দাঁড়ায়, পুলিশী ঝামেলা পর্যন্ত বেধে যায়। এসব দেখে ওলটস সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্টিগুলো অনুষ্ঠিত হবে জন-সংযোগ উপদেষ্টার বাড়িতে, তাতে যে-কোন হাঙ্গামা হলে মিটিয়ে দিতে পারবে সে। সাংবাদিক আর পুলিশদেরকে টাকা-পয়সা যা দেবার দিয়ে আয়ত্তে আনকে পরিস্থিতি, যাতে গোলমাল খুব বেশি দূর গড়াতে না পারে।
স্টুডিওর বেতনভুক যুবক অভিনেতারা যারা এখনও তারকার পর্যায়ে উন্নীত হয়নি তাদের কারও কারও কাছে শুক্রবারের এই পার্টিতে উপস্থিতিটা তেমন লোভনীয় বলে মনে হয় না। অধিকাংশ সময় তাদের কাছে পার্টির আসল উদ্দেশ্য গোপন করে যাওয়া হয়, তাদের জানানো হয় অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র অচিরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এমন একটা ছবি দেখানো হবে, পার্টিটা সেই উপলক্ষেই। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়। অবাঞ্ছিতদের এড়িয়ে যাওয়া যায়, আবার অনুষ্ঠানগুলোর গায়ে পেশাদারী রঙও চড়ানো হয়।
