জনির গাড়িতে চড়ে এয়ারপোর্টে আসছে ওরা। হেগেন ভাবছে, যতটা বাজে বলে ভেবেছিল তার চেয়ে অনেক ভাল লোক জনি ফন্টেন। এরই মধ্যে কিছুটা ভব্যতা শিখেছে সে, গাড়ি করে তাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেবার মধ্যেই প্রমাণিত হয় সেটা। এই ব্যক্তিগত সৌজন্য জিনিসটা ডন নিজে খুব পছন্দ করেন। তাছাড়া, ওর এই ক্ষমা চাওয়াটা পুরোপুরি আন্তরিক, কোন খাদ ছিল না। জনিকে তো আর সে আজ থেকে চেনে না, তাই বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না ভীতি এর উৎস নয়। বেপরোয়া আর দুঃসাহসী বলতে যা বোঝায়, জনি চিরকালই তাই। সেজন্যেই তো। সিনেমা জগতের হোমরাচোমরা আর মেয়েমানুষদেরকে নিয়ে সব সময় গোলমালে জড়িয়ে আছে সে। আঙুলে গোণা যায় এমন দুএকজন লোকের মধ্যে সেও একজন যে উনকে ভয় করে না। জনি আর মাইকেলই বুঝি দুজন লোক হেগেন চেনে যাদের সম্পর্কে এ-কথা বলা যায়। সুতরাং মাফ চাওয়াটায় কোন ভেজাল নেই। আগামী কয়েকটা বছর জনি আর সে পরস্পরকে খুব কাছ থেকে দেখবে। তবে পরবর্তী পরীক্ষাটা পাস করতে হবে জনিকে, তাতেই প্রমাণ হয়ে যাবে কতটা বুদ্ধি রাখে সে। ডনের জন্যে এমন একটা কাজ করে দিতে হবে তাকে যা ডন কখনোই করে দিতে বলবেন না, বা মনে করিয়ে দেবেন না যে কাজটা করা জনির জন্যে চুক্তির একটা অলংঘনীয় শর্ত। সেই কাজটা যে কি তা জনি ফন্টেন নিজের বুদ্ধিতে টের পাবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়, মুচকি হেসে ভাবছে টম হেগেন।
.
হেগেনকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিল জনি। প্লেন আসার অপেক্ষায় থাকতে চাইল ও, কিন্তু হেগেনই ওকে তার সাথে ঘুর ঘুর করতে নিষেধ করে দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিল। গাড়ি চালিয়ে সোজা জিনির বাড়িতে চলে এল জনি। ওকে দেখে অবাক হয়ে গেল জিনি। আসলে জিনির বাড়িতে থাকতে চাইছে জনি, নিরিবিলিতে বসে গোটা ব্যাপারটা ভাল করে ভেবে দেখতে চাইছে, কিভাবে কি করতে হবে তার একটা ছক কষে নেবে মনে মনে। জানে, হেগেন ওকে যা বলেছে তার গুরুত্ব অপরিসীম, এখন থেকে আমূল বদলে যাবে ওর জীবন। এক সময় খুব বড় একজন তারকা ছিল ও, কিন্তু আজ মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে সব খুইয়ে অতি সাধারণ নগণ্য একজন লোকে পরিণত করেছে নিজেকে সে। এব্যাপারে কোন ভুল ধারণা নেই তার, নেই নিজের সাথে কোন ছলচাতুরী। সেরা অভনেতার পুরস্কারটা যদি পায়ও সে, কতটুকুই বা লাভ হবে তাতে! ওটা কোন কাজেই আসবে না, যদি না তার কণ্ঠস্বর ফিরে আসে। বড়জোর তার স্থান হবে দ্বিতীয় সারিতে, সত্যিকার কোন ক্ষমতা থাকবে না, খাঁটি কোন সার বস্তু খুঁজে পাবে না কেউ ওর মধ্যে। ওই যে মেয়েটা তাকে অমন কেতাদুরস্ত ভঙ্গিতে প্রত্যাখ্যান করল, সে যদি এখনও সাফল্যের শিখরে থাকত তাহলে কি ওকে এতটা ঠাণ্ডাভাবে ফিরিয়ে দিতে পারত? যাই হোক, ডন তাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করলে এবার তাকে কেউ এড়িয়ে যেতে পারবে না, হলিউডের সব রথী-মহারথীদের সারিতে উঠে যাবে সে। রাজা বনে যাবে। আপন মনে হাসছে জনি। ঠাট্টা নয়, সে এমন কি একজন উনও হয়ে উঠতে পারে!
কয়েক হপ্তা, চাই কি আরও বেশি কিছু দিন জিনির সাথে থাকলে মন্দ হয় না। মেয়েদেরকে হয়তো সে রোজই একবার করে বেড়াতে নিয়ে যাবে। এবার সত্যি সত্যি নিজের যত্ন নেবে সে, ছেড়ে দেবে মদ গেলা আর সিগারেট ফোকা। বলা যায় না, গলায় হয়তো আবার শক্তি ফিরে আসবে তার। তা যদি ঘটে, আর এর সাথে ডনের টাকা যোগ হলে, কে তাকে হারায়। আগেকার দিনের রাজা বা সম্রাটদের মত হয়ে উঠবে সে, আজকের আমেরিকায় যতটা সম্ভব। আর এসবের জন্যে তার গলার অবদান না থাকলেও চলবে, দর্শকরা তাকে খুব বড় একজন অভিনেতা বলে মনে না করলেও কিছু এসে যাবে না। এই নতুন সামাজ্য তৈরি হবে পুরোপুরি টাকা দিয়ে, আর কে না জানে টাকা দিয়ে তৈরি সামাজ্যই সবচেয়ে টেকসই আর শক্তিশালী হয়।
গেস্টরুমটা ওকে খুলে দিল জিনি। কোন আলোচনা ছাড়াই ওদের মধ্যে যৌন সমঝোতা হয়ে গেছে। এক ঘরে শোবে না ওরা, পরস্পরের সাথে স্বামী-স্ত্রীর মত আচরণ করবে না। সেই সম্পর্ক আর কোন দিন ফিরে আসতে পারে না ওদের মধ্যে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বাইরে থেকে গুজব রটিয়ে কলামিস্টরা আর সিনেমার পোকারা ওদের বিয়েটা ভেঙে যাবার সমস্ত দোষ জনির ঘাড়ে চাপালেও, দুজনের মধ্যে ওরা নিজেরা জানে, জনির চেয়ে জিনিই বরং একটু বেশি দায়ী।
গায়ক আর অভিনেতা হিসেবে জনি যখন খ্যাতির তুঙ্গে তখনও স্ত্রী এবং মেয়েদেরকে শ্রাগ করার কথা মনে আসেনি তার। বড় বেশি ইতালীয় সে, প্রাচীন পন্থী। স্ত্রীর বিশ্বাস ভঙ্গকরাটা, সে তো স্বাভাবিক। ওর যা পেশা তাতে মেয়েদের সান্নিধ্য আর টোপ এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। তার চেয়েও বড় কারণ, মেয়েদেরকে ভাল লাগে ওর। বিশেষ করে অক্ষত যোনি মেয়ে হলে তো কথাই নেই। সবাই জানে কুমারী মেয়ে দেখলে জনিকে ধরে রাখা মুশকিল। ব্যাপারটা নিয়ে সবাই খুব হাসাহাসিও করে। তাদের ধারণা কুমারী মেয়েরা তো আনাড়ী, তাদের নিতম্ব শক্ত রাবারের মত, তালে তালে পাছা দোলাতেই তো শেখেনি তারা। তাছাড়া প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মত সুলিন ঘটাতে একজন কুমারী কতটা সময় নেয় তাও লক্ষ করো। কিন্তু জনির কাছে ব্যাপারটা অন্য রকম। একটা মেয়ে, যে এই প্রথম নিজের ভেতর একজন পুরুষকে গ্রহণ করছে, তাকে চরম পুলক দেয়ার মধ্যে যে আনন্দ আর মহত্র রয়েছে, আর কিসের সাথে তুলনা চলে তার?আহা, পর্দা ছিঁড়ে ভেতরে ঢোকার সে কি পরম তৃপ্তি! দুই পা দিয়ে ওরা যখন তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, কি ভালই না লাগে। আর অন্য ধরনের মেয়ে, যারা ধরি-করি-উড়ি নীতিতে বিশ্বাসী যারা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মত স্থলন ঘটাতে চায়, তাদেরকে মোটেও পছন্দ করে না জনি। এরা তাকে সন্তুষ্ট করতে অপারগ। ওর দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে শেষ পর্যন্ত বনিবনা হলো না, তার কারণ, পুরানো ঢংয়ে ইংরেজি সিটি-নাইন ভঙ্গিতে যৌন কম এত বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল,সে যে আর কোন ভঙ্গির নাম পর্যন্ত শুনতে রাজি হত না। এর ফলে যা হবার তাই হলো, জনি এড়িয়ে যেত। ওকে নিয়ে ঠাট্টা-ইয়ার্কি করতে শুরু করল সে, নাম রাখল খোকা বাবু, আর চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ল যে শুনি ফন্টেন আনাড়ী কিশোরের মত সহবাস করে। হয়তো সে জন্যই গতরাতে ওই মেয়েটা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে, ঢাতে কোন দুঃখ নেই ওর। যা হবার হয়েছে, মেয়েটাও এমন কিছু লোভনীয় ছিল না। যে মেয়ে, সত্যি রতিক্রিয়া পছন্দ করে তাকে দেখলেই চেনা যায়, আর তৃপ্তি দিতেও তাদের জুড়ি নেই। বিশেষ করে সেই সব মেয়েরা যারা এখনও খুব বেশি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে ও সেই সব মেয়েদের যারা তাদের বারো বছর বয়স থেকেই প্রবেশ করাতে শিখে গেছে আর বিশ বছর বয়সেই সমস্ত রমণ রপ্ত আর হজম করে ফেলেছে, অথচ এখনও এরা সেরা সুন্দরীদের দলে পড়ে, দেখে টেরই পাওয়া যায় না যে এদের দুই উরুর মাঝখানটা নরম কাদার মত পচে থকথকে হয়ে আছে।
