প্রীতিমধুর হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল জিনির মুখ। ওকে বলল, তোমার দখলেই তো ছিলাম আমি, মনে নেই? একটানা বারো বছর। আমি সুন্দরী এ-কথা বলে আজ আমাকে ভোলাবার কোন দরকার নেই।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফার উপর লম্বা হলে জনি।. না, ঠাট্টা নয়, জিনি-তুমি দেখতে সুত্যি খুব ভাল। তোমার তুলনায় আমি এখন একটা কুৎসিত পশু ছাড়া কিছুই নই।
বুঝতে পারছে জিনি, ওর মন খারাপ। প্রসঙ্গটা চাপা দিয়ে জানতে চাইল, ভালই তো হয়েছে ছবিটা, তাই না? পরিস্থিতি আরও ভাল হবে, কি বলো?
তা হয়তো হবে, বলল জনি, বলা যায় না, আগের প্রতিষ্ঠা ফিরে পেতেও পারি। একাডেমির প্রাইজটা যদি পেয়ে যাই, আর বোকার মত কিছু করে না বসি, তাহলে গান না গাইলেও কিছু এসে যাবে না, আগের মত আবার নাম করতে পারব। তা যদি হয়, মেয়েদেরকে আর তোমাকে আরও কিছু বেশি টাকা দিতে পারব আমি।
আরও টাকার দরকারটা কি? প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে আমাদের।
মেয়েদের জন্যে মন কেমন করে আমার, ওদেরকে আরও ঘন ঘন দেখতে চাই। এবার একটু সুস্থির হতে, না পারলে চলবে না আমার। আচ্ছা, খানিক ইতস্তত করে বলল জনি, প্রত্যেক শুক্রবার তোমার কাছে এসে যদি খাওয়াদাওয়া করি, তোমার অসুবিধে হবে?:বিশ্বাস করো, একটা শুক্রবারও বাদ দেব না, যতদূরেই থাকি বা যত কাজই থাকুক না কেন, তাছাড়া শনি রবিগুলো যখনই সম্ভব এখানে এসে কাটিয়ে যেতে পারি আমি, অপঘা ওরা আমার কাছে গিয়ে দুটির কিছুটা কাটিয়ে আসতে পারে।
জনির বুকের উপর একটা অ্যাশট্রে রাখল জিনি। আমার কোন অসুবিধে হবে না। আবার বিয়ে করলাম না তো এই জন্যেই, তুমি ছাড়া আর কেউ যাতে ওদের বাবার ভূমিকায় আসতে না পারে। তার কথায় আবেগের লেশমাত্র নেই। কিন্তু সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছে জনি, সেই যখন অবনতি শুরু হয়েছিল ওর, বিয়েটা যখন,ভেঙেই গেল, তখন যে-সমস্ত হৃদয়হীন নিষ্ঠুর কথা বলেছিল জিনি এখনকার কথাগুলো তারই ক্ষতিপূরণের চেষ্টা মাত্র।
আচ্ছা, বলো তো, জানতে চাইল জিনি, কে ফোন করেছিল আমাকে?
অনুমান করার ব্যাপারে কোনদিনই ছিল না জনি, আজও নেই। পাল্টা প্রশ্ন করল ও, কে?
আহা, একবার না হয় আন্দাজ করে দেখে না।
কিন্তু কথা না বলে চুপ করেই থাকল জনি।
তোমার গড ফাদার।
আকাশ থেকে পড়ল জনি। বলো কি? উনি তো কাউকে ফোন করেন না। কি বললেন তোমাকে?
বললেন আমি যেন তোমাকে সাহায্য করি। বললেন, আস্থা রাখতে পারো এমন একজন মানুষ দরকার তোমার!
জিনির দিকে অদ্ভুত একটা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জনি, যেন জানতে চাইছে, উত্তয়ে তুমি কি বললে?
জিনিও ব্যাপারটা ধরতে পেরে বলল, তোমার গড ফাদারকে প্রশ্ন করলা, আমার কি দায় পড়েছে যে জনিকে আমি সাহায্য করতে যাব? ক্ষীণ একটু হাসল জিনি। উনি বললেন, জনি ভোমার সন্তানদের বাবা, তাই। একটু থেমে আবার বলল ও, আশ্চর্য বিচক্ষণ আর মিষ্টি স্বভাবের মানুষ, অথচ লোকে কত আজেবাজে কথাই না বলে ওঁর সম্পর্কে।
এই সময় বেজে উঠল কিটেনের টেলিফোনটা। তাড়াতাড়ি উঠে গেল জিনি। প্রায় সাথে সাথে চোখে মুখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে ফিরে এল সে, বলল, জনি, তোমার ফোন। খুব নাকি জরুরী ব্যাপার, টম হেপেন তোমাকে ডাকছে।
কিচেনে এসে টেবিল থেকে ফোনের রিসিভার তুলল জনি। কি ব্যাপার, টম?
অপর প্রান্ত থেকে নিরুদ্বেগ গলায় টম হেগেন বলল, অনি, গড ফাদার চাইছেন, তোমার ওখানে গিয়ে কিছু ব্যবস্থা সেরে আসি আমি, তোমার ভাল হবে তাতে, ছবির কাজ তো শেষই হয়ে গেছে। সকালের প্লেন ধরতে বলছেন আমাকে, তুমি কি লস এঞ্জেলসে আসবে আমাকে রিসিভ করতে? আমি আবার রাতের মধ্যেই ফিরব নিউ ইয়র্কে, সুতরাং আমার জন্যে তোমাকে পুরো রাতটা অপচয় করতে হবে তা ভেব না।
অবশ্যই, টম, বলল জনি, আমার একটা রাত নষ্ট হবে মনে করে দুশ্চিন্তা কোরো না তুমি আসছ যখন, একটু বিশ্রাম নিয়ে যেয়ো। একটা পার্টির আয়োজন করছি আমি, এই সুযোগে সিনেমা জগতের কিছু হোমরা-চোমরাদের সাথে পরিচয় হয়ে যাক তোমার। এ-ধরনের আমন্ত্রণ সুযোগ পেলেই করে থাকে জনি, যাতে ওর পুরানো শুভানুধ্যায়ীরা মনে না করে যে তাদেরকে নিয়ে লজ্জিত সে।
ধন্যবাদ,বলল হেগেন, কিন্তু জরুরী কাজ আছে আমার, ভোরের প্লেন ধরে ফিরতেই হবে আমাকে। তুমি কি সকাল এগারোটায় নিউ ইয়র্ক-এর প্লেন নামার সময় এয়ারপোর্টে থাকতে পারবে?
একশোবার থাকতে পারব।
সীটিংরূমে ফিরে এসে জিনির প্রশ্নবোধক দৃষ্টির উত্তরে জনি জানাল, আমার কিছু সুবিধে করে দেবার ফন্দি এঁটেছেন-গড ফাদার। জানো, কিভাবে যে ওই ছবিটায় আমাকে ঢোকালেন তা আজও একটা রহস্য হয়ে আছে আমার কাছে। একটু চিন্তিতভাবে বলল, কিন্তু আর কোন ব্যাপারে ওঁর জড়িয়ে না পড়লেই বোধ হয় ভাল হত। সোফায় ফিরে এল ও, ক্লান্ত বোধ করছে।
আমাদের গেস্টরুমে শুতে পারো তুমি, বলল জিনি। তাহলে এত রাতে আর গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় না, মেয়েদের সাথে ব্রেকফাস্টও খেতে পারবে। ওই বাড়িতে তোমাকে একা থাকতে হয় ভেবে খারাপ লাগে আমার। একা লাগে না তোমার?
বাড়িতে আর থাকি কতক্ষণ?
তার মানে আগের মতই আছ তুমি, বলল জিনি। একটু থেমে আবার বলল, গেস্ট রূমটা তাহলে ঠিক করে দিই?
তোমার শোবার ঘরে জায়গা হয় না আমার?
