ওর দিকে ফিরল জনি ফন্টেন, নিঃশব্দে হাসল একটু। এখনও ভাল লাগছে, মেয়েটাকে ওর। বলল, আমি তোমাকে অনুপ্রাণিত করতে পারছি না, এই তো?
একটু কুণ্ঠিত হয়ে উঠল শ্যারন। বলল, শোনো, তুমি যখন খুব বিখ্যাত গায়ক ছিলে, আমি তখনও ছোট, একেবারে কচি খুকী। আমি তোমার এক পুরুষ পরে জন্মেছি, ঠিক নাগালের মধ্যে পাই না তোমাকে। স্বীকার করি, যাকে বলে সতী মেয়ে, আমি তা নই। তুমি যদি আমার সাথে বেড়ে উঠতে, যাকে ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি, প্রায় সমবয়েসী, তোমার সামনে কাপড় খুলতে এক সেকেণ্ডও লাগত না আমার।
এখন আর শ্যারনকে আগের মত ভাল লাগছে না জনির। মেয়েটা মিষ্টি, বুদ্ধিমতী, সুরসিকা, সন্দেহ নেই। ওর সাথে সহবাস করার জন্যে হন্যে হয়ে ছুটেও আসেনি, ওর সাথে ভাল সম্পর্ক থাকলে ছবিতে কাজ পেতে সুবিধে হবে ভেবে নিজেকে নির্লজ্জের মত মেলেও দেয়নি বা প্রেমেও গদ গদ হয়ে ওঠেনি–সন্দেহ নেই, খাঁটি মানুষ, সরল মানুষ। কিন্তু ব্যাপারটার মধ্যে আরেকটা বিষয় আবিষ্কার করতে পেরেছে জনি। এর আগেও কয়েকবার এমনটি হয়েছে। কিছু মেয়ে, ওর। সাথে সন্ধ্যা কাটাতে আসার আগেই মনে মনে ঠিক করে রাখে বিছানায় উঠবে না। তারা, কাপড় খুলবে না, তা সে যত ভালই লাগুক না কেন ওকে তাদের। এর কারণ, মেয়েরা চায়, ফিরে গিয়ে তারা যেন বন্ধু-বান্ধবদের, এবং নিজেদেরকেও বলতে পারে যে বিখ্যাত জনি ফন্টেনের সাথে শোবার সুযোগ পেয়েও তারা সুযোগটা নেয়নি। জনির এখন বয়স হয়েছে, সব বুঝতে পারে ও। শ্যারনের মনোভাব বুঝতে পেরেও তার ওপর রাগ হলো না ওর। শুধু আগের মত আর আকর্ষণ বোধ করছে না ওর প্রতি।
মোহটা কেটে গেছে বলে স্বস্তিবোধ করছে জনি। জানালা দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে তাকাল ও, মাঝে মধ্যে চুমুক দিচ্ছে গ্লাসে।
আশা করি আমার ওপর রাগ করোনি তুমি, জনি, বলল শ্যারন। হলিউডের নিয়ম হয়তো রক্ষা করতে পারিনি। হয়তো আমার ব্যবহার অদ্ভুত লাগছে তোমার কাছে। সঙ্গীকে বিদায় জানাবার সময় চুমো খাওয়াও যা, তার সাথে সহবাস করাও তাই-হলিউডের এই রকমই বোধ হয় নিয়ম। এসব ব্যাপারে এখানে কেউ কিছু মনে করে না, একেবারে পানির মত সহজ ব্যাপার ভেবে নেয় সবাই। আমার ব্যাপারটা হলো, আমি তো আর এখানে খুব বেশি দিন আসিনি।
মৃদু হেসে শ্যারনের মুখে একবার হাত বুলিয়ে দিল জনি, তারপর হাতটা নামিয়ে স্কার্টটাকে টেনে ঢেকে দিল মসৃণ হাঁটু দুটো। না, রাগ করিনি। সেকেলে মেয়েদের সাথে কাটাতে ভালই তো লাগে। খোঁচাটা ইচ্ছা করেই দিল ও।
আরেকটু ব্র্যান্ডি খেলো ওরা। আরও কিছু ঠাণ্ডা চুমোর দেয়া নেয়া হলো। এবার ঠিক করল শ্যারন, তার যাবার সময় হয়েছে।
সৌজন্যের খাতিরে বলল জনি, তোমাকে কোথাও একদিন ডিনার খেতে নিয়ে যেতে পারি?
শেষদিকে খোলা মন নিয়ে কথা বলল শ্যারন, বলল, সময় নষ্ট করে নিরাশ হতে চাও না তুমি, এ আমি জানি। আজকের এই আশ্চর্য সুন্দর সন্ধ্যাটির জন্যে তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার ছেলেমেয়েদেরকে একদিন গল্প শোনাব, বিখ্যাত জনি ফন্টেনের সাথে তার অ্যাপার্টমেন্টে আমি একা একটা সন্ধ্যা কাটিয়েছিলাম।
এবং তুমি ধরা দাওনি, মৃদু হেসে বলল জনি। তারপর দুজনেই হেসে উঠল।
যদি বলিও, তা ওরা কক্ষনও বিশ্বাস করবে না।
তুমি চাইলে লিখে দিই, বলল জনি, এখনও হাসছে ও। তাই চাও নাকি?
মাথা নাড়ল শ্যারন।
শোনো, কেউ যদি বিশ্বাস না করে, তাকে বলো আমাকে যেন ফোন কয়ে, আমি তোমার হয়ে সাক্ষী দেব। তাকে জানাব, গোটা বাড়িময় আমি তোমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছিলাম, তবু তুমি নিজের সতীত্ব বিসর্জন দাওনি, ঠিক আছে?
শেষ পর্যন্ত একটু নির্দয় হয়ে গেল ব্যবহারটা, শ্যারনের কচি মুখে বেদনা দেখে নিজেই খুব দুঃখ পেল জনি। জনি বলতে চাইছে যথেষ্ট চেষ্টা করেনি সে, বক্তব্যটা বুঝতে পেরে মন খারাপ হয়ে গেল তার। হার না মানার আনন্দটুকু কেড়ে নিল তার কাছ থেকে জনি। এখন ওকে ধরে নিতে হবে জনি ফন্টেনকে আকৃষ্ট করার মত যথেষ্ট মাধুর্য ছিল না তার মধ্যে, সেজন্যেই তেমন জোর দিয়ে চেষ্টা করেনি জনি। কিন্তু শ্যারন যে-ধরনের মেয়ে, যখনই কাউকে বলবে যে জনি ফন্টেনের ফাঁদ ও এড়িয়ে যেতে পেরেছিল, জয় করেছিল তার প্রলোডন, সেই সাথে এই কথাটাও জুড়ে দেবে যে, তবে সে তেমন চেষ্টাও করেনি। এইসব ভেবে শ্যারনের প্রতি করুণবোধ করল জনি।
বলল, কখনও যদি খুব বিষণ্ণ বোধ করো, একটা ফোন কোরো আমাকে, কেমন? আমি যত মেয়ের সাথে পরিচিত হই, তাদের সবার সাথে শুই না।
ফোন করব, বলে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল শ্যারন মুর।
মস্ত একটা ফাঁকা, নির্জন সন্ধ্যা পড়ে রয়েছে জনির সামনে। জ্যাক ওলটস যাকে বলে মাংসের কারখানা সেখানে যেতে পারে ও, যেতে পারে উৎসুক হবু তারকাদের খুদে আস্তানার যে-কোন একটাতে, কিন্তু, জনি এসব চাইছে নাও চাইছে সত্যিকার একজন মরমী মানুষের সাথে মন খুলে কথা বলতে। ওর প্রথমা স্ত্রী ভার্জিনিয়া, তার কথা মনে পড়ল ওর। ছবির কাজ শেষ হয়েছে, এখন একটু সময় দেয়া যাবে মেয়েদেরকে। ওর ইচ্ছে করছে আবার সে ওদের জীবনের অঙ্গ হয়ে ওঠে। ভার্জিনিয়ার কথা ভেবে চিন্তা হয় ওর। হলিউডের মস্তানগুলোকে সামাল দেবার ক্ষমতা নেই ওর, তারা হয়তো পিছু নিয়ে বিরক্ত করবে তাকে, পরে যাতে গর্ব করে বলে বেড়াতে পারে যে জনি ফন্টেনের স্ত্রীর সাথে তাদের প্রেম ছিল। যতদূর জানে জনি, এখন পর্যন্ত এ-ধরনের কথা কেউ বলতে পারেনি। পরমুহূর্তে মনে পড়ল, ওর দ্বিতীয় স্ত্রী সম্পর্কে এ-কথা প্রায় সবাই বলতে পারে। মনটা বিরূপ হয়ে উঠল সাথে সাথে। ফোনের রিসিভারের দিকে হাত বাড়াল জনি।
