ওই না নেবার মতই, বলল জনি।
শ্যারনের ব্র্যাণ্ডির গ্লাস আবার ভরে দেবে বলে উঠে দাঁড়াল জনি। সোনালী মনোগ্রাম করা একটা সিগারেট দিল ওকে, লাইটার জ্বেলে বাড়িয়ে দিল সেটা ধরাবার জন্যে। সিগারেট টানছে আর গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে শ্যারন। আবার তার পাশে বসল জনি।
নিজের গ্লাসে অনেক বেশি ব্র্যাণ্ডি নিয়েছে জনি, শরীর গরম আর মনটাকে চাঙা করে তুলতে এটুকু দরকার। ওর অবস্থা সাধারণ প্রেমিকদের ঠিক উল্টো। মেয়েটিকে নয়, নিজেকেই উত্তেজিত করে তুলতে হয়। সাধারণত মেয়েটিই উন্মুখ, অস্থির হয়ে থাকে, কিন্তু ও নিজে নড়ে চড়ে না। গত দুবছর ধরে ওর আত্মসম্মানে বড় বেশি আঘাত লেগেছে, সেই ঘা সারাবার জন্যে অতি সহজ একটা উপায় বেছে নিয়েছে ও সুন্দরী কুমারী তরুণীকে এক রাতের জন্যে পাশে নিয়ে শোয়ার পর, কয়েকবার তাকে ডিনার খেতে নিয়ে গিয়ে, দামী কিছু একটা উপহার কিনে দিয়ে, খুব নযভাবে খসিয়ে ফেলা, যাতে মনে দুঃখ না পায়। পরে এইসব মেয়েরা বলে বেড়াতে পারে যে বিখ্যাত জনি ফন্টেনের সাথে তাদের বিশেষ সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে সত্যিকার প্রেম নেই, কিন্তু মেয়েটি যদি আশ্চর্য সুন্দরী আর ভাল হয় তাহলে তাকে সহজে ভুলে যাওয়াও যায় না। কড়া, রাক্ষুসী টাইপের মেয়েগুলোকে দুচোখে দেখতে পারে না ও, এরা ওর সাথে সহবাস করেই বন্ধু-বান্ধবদেরকে বলতে ছোটে যে বিখ্যাত জনি ফন্টেনের সাথে আজ প্রেম হয়েছে। সেই সাথে এ-কথাও বলতে ভোলে না যে জনি ফন্টেনের চেয়ে যৌন অভিজ্ঞতা অনেক বেশি তার। সবচেয়ে বিমূঢ় করে জনিকে এইসব মেয়েদের সহানুভূতিশীল, মহৎপ্রাণ স্বামীরা। তারা প্রায় ওর মুখের ওপর বলতে দ্বিধাবোধ করে না যে কিছু মনে না রেখেই তারা তাদের স্ত্রীদের ক্ষমা করে দিয়েছে, কারণ, আদর্শ সতী স্ত্রীকেও জনি ফন্টেনের সাথে অবৈধ অন্যায় ব্যভিচার করতে দেয়া যেতে পারে, তাতে দোষের কিছু নেই। এসব শুনে হতভম্ব না হয়ে উপায় কি জনির!
রেকর্ডে এলাফিটজেরাল্ডকে ভাল লাগে ওর। গলায় ব্যাণ্ডির উষ্ণতা অনুভব করছে ও, রেকর্ডের সাথে সুর মিলিয়ে গাইতে ইচ্ছে করছে এখন ওর, কিন্তু বাইরের একজনের সামনে তা তো আর সম্ভব নয়। এক হাতে গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে ও, অপর হাতটা শ্যারনের কোলের উপর রাখল। ছল-চাতুরির ধার দিয়ে গেল না, উষ্ণতার সন্ধানে শিশুর মত শ্যারনের কোলে রাখা হাতটা দিয়ে রেশমী পোশাক টেনে তুলল একটু, সাদা বুনটের মোজার উপর খানিকটা উরু দেখা যাচ্ছে সাদা দুধের মত। ওইটুকু দেখে এতগুলো মেয়ে, এতলো বছর, এতদিনের অভ্যাস, সব বেমালুম ভুলে গেল জনি। উত্তপ্ত লাভার মত কামোত্তেজনার স্রোত বয়ে যাচ্ছে তার শরীরে। উত্তেজিত হওয়া প্রায় অভব একটা ব্যাপার, কিন্তু সেই অসম্ভবও সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু যখন আর তা হবে না, ওর গলার মত যখন অসভব অবই থেকে যাবে, তখন কি করবে জনি?
লম্বা ককটেল টেবিলের উপর হাতের গ্লাস নামিয়ে রেখে শ্যারনের দিকে শরীরটা ঘুরিয়ে নিল জনি। চুমো খেলো ওর ঠোঁটে, হাত দিয়ে বুক ছুঁলো, কোমল আর মসৃণ উরুতে হাত বুলাচ্ছে। সামনে আরও সরে এসে শ্যারনও চুমো খেলো ওকে, তার এই চুমোয় মমতা আছে, কিন্তু, কামের নামগন্ধ নেই। ভালই লাগছে জনির। হঠাৎ গরম হয়ে ওঠে যেসব মেয়েরা তাদেরকে পছন্দ করে নাও।
যা সব সময় করে, এইবার তাই করল জনি। এটা এমন একটা পন্থা যা কখনও ব্যর্থ নিরাশ করেনি ওকে। চরম সতর্কতার সাথে, ধীর এবং কোমলতার সাথে, যাতে মাত্র ছোঁয়াটুকু শুধু টের পাওয়া যায়, ওর মধ্যম আঙুলের ডগাটী শ্যারনের দুই উরুর মাঝখানের গভীর গহন অন্তঃপুরে পৌঁছে গেল। এমন অনেক মেয়ে আছে, প্রেম করার এই পদ্ধতি টেরই পায় না, তারা এর মজাটা বুঝে উঠতে অক্ষম। এটা যে আলাদা কিছু, তাই জানে না। আবার কোন কোন মেয়ে প্রচণ্ড বিহ্বল হয়ে উঠে, তাদের বুঝতে কষ্ট হয় ওটা শারীরিক স্পর্শ কিনা, কেননা একই সাথে ওদের ঠোঁটে গভীর আশ্লেষে চুমোও খায় জনি। কিছু মেয়ে ওর এই মধ্যম আঙুলটাকে প্রিয় সুখাদ্যের মত লেহন করত, চুষে খেত, যেন কত দিনের ক্ষুধার্ত। তবে, একথাও ঠিক যে নাম করার আগে এই কাণ্ডের জন্যে জনির গালে টেনে চড় মারত কোন কোন মেয়ে। কিন্তু এটাই জনির গোপন কৌশল, সাধারণত খুব ভাল ফল আদায় হয় এর সাহায্যে।
অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলো শ্যারনের। অনায়াসে, নির্দ্বিধায় সবটুকু গ্রহণ করল সে-আঙুলের ছোঁয়াটুকু, চুমোটা, কিছুতেই আপত্তি জানাল না। তারপর জনির মুখ থেকে মুখ সরিয়ে নিয়ে, জনির শরীর থেকে নিজেকে সামান্য একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে। হাত বাড়িয়ে ব্রাণ্ডির গ্লাসটা তুলে নিল টেবিল থৈকে। শীতল নির্দয়তার সাথে, কিন্তু। সুনিশ্চিত প্রত্যাখ্যান। নিজের গ্লাসটা তুলে নিয়ে জনিও অগত্যা সিগারেট ধরাল একটা।
অদ্ভুত মিষ্টি সুরে, আশ্চর্য হালকা ভঙ্গিতে কি যেন বলছে শ্যারন। তোমাকে যে আমার ভাল লাগেনি, ব্যাপারটা তা নয়, জনি। যতটা ভাল লাগবে বলে আশা করেছিলাম, তোমাকে আমার তার চেয়ে বেশি ভাল লেগেছে। আমি সে-ধরনের মেয়ে নই, ব্যাপারটা তাও নয়। আসলে ওরকম কিছু একটা করতে হলে সঙ্গীর সাথে তার মত মেতে ওঠার জন্যে আমার কিছু প্রেরণার দরকার হয়। ঠিক কি বলতে চাইছি বুঝতে পারছ তুমি?
