ফোন তুলে একটা নাম্বারে ডায়াল করুল সনি। চাপা কণ্ঠে কিছু বলে রিসিভারট্টা নামিয়ে রেখে দিল ও, বলল, একটু পর জানাবে।
ঝাড়া ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করার পর ফোনের বেল বেজে উঠল। রিসিভার তুলে ফিলিপসের কথা শুনছে সনি, প্যাডে নোট করছে দ্রুত। রিসিভার রেখে দিয়ে মুখ তুলে তাকাল সে, পেশীগুলো শক্ত হয়ে গেছে। বলল, মনে হচ্ছে পাওয়া গেছে। অভ্যাস মত আজও ম্যাকক্লাস্কি বলে গেছে কোথায় তাকে পাওয়া যাবে। ব্রঙ্কসে লুনা অ্যাজিওর রেস্তোরাঁয় থাকরে সে, আজ রাত আটটা থেকে দশটা পর্ষন্ত। কেউ চেনো নাকি জায়গাটা?
আমি চিনি, বলল টেসিও। আমাদের জন্যে খুব ভাল জায়গা। ছোট একটা ঘরোয়া পরিবেশ, কেবিনগুলো বেশ বড় বড়, নিরিবিলিতে কথা বলার আদর্শ জায়গা। ওখানের খাবারটাও খুব ভাল। যে যার নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে ওখানে সরাই। ভালই হয়েছে। সনির ডেস্কের ওপর ঝুঁকে পড়ে কয়েকটা পোড়া সিগারেটের টুকরো দিয়ে একটা নকশা তৈরি করছে সে। এটা প্রবেশ পথ। মাইক, কাজ শেষ করে বা দিকে ঘুরতে হবে তোমাকে, তারপর একটা মোড়নেবে। আমি খুঁজে নেব তোমাকে, গাড়ির হেডলাইট জেলে রাখব, চলন্ত গাড়িতে ছুটে উঠে পড়বে তুমি। কোন অসুবিধে দেখতে পেলে চিৎকার করবে। ভেতরে গিয়ে। তোমাকে আমি বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। ক্লেমেঞ্জা, খুব তাড়াতাড়ি কাজ সারতে হবে তোমাকে। দেরি না করে পিস্তল রেখে আসার জন্যে ওখানে কাউকে পাঠিয়ে দাও। ওখানে যে ল্যাট্রিনটা আছে সেটা সেকেলে..ধরনের, পানির টাঙ্কি আর দেওয়ালের মাঝখানে একটু ফাঁকা জায়গা আছে.। পিস্তলটা টেপ দিয়ে ওখানে আটকে রেখে আসতে হবে তোমার লোককে। মাইকেলের দিকে ফিরল টেসিও। শোনো, মাইক, গাড়িতে তুমি ওঠার পর তোমাকে ওরা সার্চ করবে, যখন দেখবে তোমার কাছে অস্ত্র নেই, তারপর থেকে তোমার ব্যাপারে মাথা ঘামানো ছেড়ে দেবে ওরা। রেস্তোরাঁয় ঢুকে অপেক্ষা করবে তুমি, তারপর উঠে দাঁড়াবার অনুমতি চাইবে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি ল্যাট্রিনে যেতে চাও। তার আগে এমন ভাব দেখাবে। যেন একটু অসুবিধে হচ্ছে তোমার। এ তো খুবই স্বাভাবিক। এতে সন্দেহ করার কিছুই থাকবে না ওদের। ল্যাট্রিন থেকে বেরিয়ে এসে মোটেও আর সময় নষ্ট করবে না। চেয়ারে বসতে যেয়ো না আবার ফিরে এসেই গুলি করতে শুরু করবে। কোন ঝুঁকি নেবার দরকার নেই। দুজনেরই মাথায় মারবে, প্রত্যেককে দুবার। তারপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করবে।
টেসিওর সব কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনল সনি, তারপর ক্লেমেঞ্জাকে বলল, পিস্তল রেখে আসার জন্যে সবচেয়ে এক্সপার্ট লোককে পাঠানো হোক, আমি চাই না আমার ভাই ল্যাট্রিন থেকে খালি হাতে বেরিয়ে আসুক।
আত্মবিশ্বাসের সাথে জোর দিয়ে বলল ক্লেমেঞ্জা, পিস্তল ওখানে ঠিকই থাকবে।
বেশ, বলল সনি। যার যা কাজ শুরু করে দাও তাহলে।
বিদায় নিয়ে চলে গেল টেসিও আর ক্লেমেঞ্জা।
সনি, জানতে চাইল টম হেগেন, মাইকেলকে নিউ ইয়র্কে পৌঁছে দেয়া উচিত আমার?
না। এখানে চাই আমি তোমাকে। মাইকের কাজ শেষ হওয়া মাত্র শুরু হবে আমাদের কাজ। তোমাকে তখন দরকার হবে আমার। ভাল কথা, সাংবাদিকদের ব্যবস্থা করে রেখেছ তো?
ঘাড় কাত করে বলল হেগেন, ঘটনা ঘটতে শুরু হওয়া মাত্র ওদেরকে তথ্য দিতে শুরু করব আমি।
উঠে দাঁড়াল সনি। এগিয়ে এসে ছোট ভাইয়ের সামনে দাঁড়াল। মাইকেলের হাত ধরে নাড়া দিল সে, বলল, ঠিক হ্যায়, ভাইয়া। শুরু করে দে কাজ। মাকে। আমি বুঝিয়ে বলে দেব যাবার আগে কেন দেখা করে যেতে পারিসনি। তোর বান্ধবীকেও খবর পৌঁছে দেব, সময় হয়েছে বলে মনে করব যখন। কোন ব্যাপারে কিছু বলার আছে তোর?
সব ঠিক আছে, বলল মাইকেল। আবার কবে ফিরতে পারব বলে মনে করো?
এক বছরের আগে নয়।
ওদের কথার মাঝখানে হেগেন বলল, আমি মনে করি ডন সম্ভবত আরও আগে বন্দোবস্ত করতে পারবেন। কিন্তু সেটার ওপর আশা করে থেকো না, মাইক। কখন তোমার ফিরে আসার সময় হবে তা নির্ভর করে অন্যান্য অনেক বিষয়ের ওপর। খবরের কাগজে আমাদের বিবৃতি আমরা কতটা সাফল্যের সাথে ছাপাতে পারি, আর সব পরিবারগুলো গোটা ব্যাপারটা কতটা তীব্রভাবে নেয়, পুলিশ বিভাগ কি পরিমাণ ধামাচাপা দিতে রাজি হয়–আরও অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে ব্যাপারটা। প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হবে, সাংঘাতিক উত্তপ্ত হয়ে উঠবে আবহাওয়া। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
টম হেগেনের সাথে হ্যাণ্ডশেক করল মাইকেল। বলল, যতটা পারো চেষ্টা করো। বাড়ি ছেড়ে আরও তিন বছর দূরে সরে থাকতে চাই না আমি।
নরম সুরে বলল, হেগেন, ভেবে দেখো, মাইক, পিছিয়ে আসার এখনও সময় আছে। তোমার বদলে আর কাউকে পাঠানো যায়, আর যারা রয়েছে তাদের কথা না হয় আরেকবার ভেবে দেখা যেতে পারে। হয়তো সোযোকে খুন করার সত্যি কোন দরকার নেই।
হাসল মাইকেল। নিজেদেরকে বোধহয় যা খুশি বোঝানো যায়। কিন্তু প্রথমে যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি সেটাই ঠিক। আমি তো চিরকাল আরামই করে এসেছি, এবার একটু কাজ না করলে চলবে কেন?
ওই ভাঙা চোয়ালটা যেন খুব বেশি প্রভাবিত না করে তোমাকে। এক নম্বরের বোকা লোক ম্যাককাকি, তাছাড়া, ঘটনাটাও ব্যবসার স্বার্থে ঘটেছে, এর মধ্যে ব্যক্তিগত কিছু নেই।
