কামরার পরিবেশ থেকে আড়ষ্ট ভাবটা কেটে গেছে। মৃদু একটু মাথা নেড়ে বলল মাইকেল, আর কোন উপায় নেই দেখেই এই চরম ব্যবস্থার কথা বলছি আমি, সনি। যে লোক বাবাকে খুন করবে বলে জানি তাকে আর সুযোগ দেয়া যায় না। শুধু আমিই ওর সবচেয়ে কাছে যেতে পারব, তাই না? সুতরাং কাজটা আমার। একজন পুলিশ ক্যাপ্টেনকে খুন করার সুযোগ তোমরা কেউ পাবে বলে মনে হয় না। কাজটা তুমি হয়তো করতে পারো, সনি, কিন্তু তুমি একজনের স্বামী, তার ছেলে-মেয়ের বাবা–তাদেরকে বিপদে ফেলার ঝুঁকি তুমি নিতে পারো না। আরেকটা কারণ, বাবা যতদিন অসুস্থ থাকবেন ততদিন তোমাকেই তো দেখতে হবে পারিবারিক ব্যবসাটাও! বাকি রইলাম আমি আর ফ্রেডি। ফ্রেডি শক খেয়েছে, ওর কথা বাদ দাও। শেষ পর্যন্ত টিকে যাচ্ছি শুধু আমি। আমার কথায় যুক্তির কোন অভাব দেখতে পেলে বলো। চোয়ালে ঘুসির সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।
নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সনি, এগিয়ে এসে ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরল। দরাজ গলায় বলল, কেন কি বলেছিস তাতে আমার কিছুই এসে যায় না। আমাদের দলে আছিস, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। তবে শোন, এতক্ষণ যা বলেছিস তার প্রতিটি কথা খাঁটি। একটাও বাজে কথা বলিসনি তুই। কিরলো, টম?
শ্রাগ করল হেগেন। যুক্তিতে খুঁত আছে তা বলতে পারি না। কারণ আপোসের ব্যাপারে সলোযো আন্তরিক নয়, তার কুমতলব আছে। আমার বিশ্বাস, মুখে যাই কলুক, ডনের ক্ষতি করতে চায় ও। তাই আমিও মনে করি, ওকে খতম করতে হবে। তা করতে হলে যদি পুলিশ মারতে হয়, তাতেও আমার আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু কাজটা যে করবে তার ওপর ভয়ংকর বিপদ নেমে আসবে। তাছাড়া আমি এ-কথাও ভাবছি, কাজটা মাইক করতে পারবে তো?
আমি পারব, মৃদুকণ্ঠে বলল সনি।
ধৈর্য হারিয়ে দ্রুত মাথা নাড়ল হেগেন, বলল, বুঝছ না কেন, বডিগার্ড হিসেবে দশজন পুলিশ ক্যাপ্টেন পাশে থাকলেও তোমাকে কাছে ঘেষতে দেবে না সলোযো। তাছাড়া আপাতত তুমি আমাদের পরিবারের মাথা, তোমাকে এ-ধরনের ঝুঁকি নিতে দিতে পারি না।ক্লেমেঞ্জা আর টেসিওর দিকে তাকাল সে। তোমাদের বাটন ম্যানদের মধ্যে দক্ষ, ওস্তাদ কেউ আছে নাকি, যে কাজটা করতে রাজি হবে? বাকি জীবনটা আর কোন কাজ না করেই সচ্ছলতার মধ্যে কাটাতে পারবে সে।
দুজনের হয়ে উত্তর দিল ক্লেমেঞ্জাই, এমন কেউ নেই যাকে সলোযো চেনে না। দেখলেই সব বুঝে ফেলবে সে। একই কথা আমি বা টেসিও গেলে।
এখনও নাম করেনি, কিন্তু খুব কঠিন পাত্র, এমন কেউ নেই? জানতে চাইল হেগেন।
ক্যাপোরেজিমিরা মাথা দোলাল। ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করার ভঙ্গিতে একটু হেসে বলল টেসিও, নোক আমরা দিতে পারি, কিন্তু তা হবে আন্তর্জাতিক খেলায় রংরুট নামাবার মত।
অগত্যা সিদ্ধান্ত দেবার ভঙ্গিতে বলল সনি, মাইককেই যেতে হয় তাহলে। যেতে যদি হয়, ওর যাবার পক্ষেই লক্ষ লক্ষ কারণ আছে। সবচেয়ে বড় কারণ, ওকে ওরা আনাড়ী বলে মনে করছে। গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, কাজটা করতে পারবে ও। এটাও কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নয়, কারণ ব্যাটা তুর্ক বেন্নিককে খতম করার ওই একটা সুযোগই পাওয়া যাবে। একটা ব্যাপার নিয়েই শুধু মাথা ঘামাতে হবে এখন আমাদেরকে, তা হলো, কি উপায়ে যত বেশি সম্ভব সুবিধে করে দেয়া যায় মাইকের।
সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছে সনির কথা।
টম, ক্লেমেঞ্জা, টেসিও, খুঁজে বের করো তোমরা, কোথায় ওরা নিয়ে যাবে মাইককে। এর পিছনে যত খরচ হয় হবে। আগে জায়গাটা খুঁজে বের করতে হবে, তারপর ভাবা যাবে কিভাবেওর কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেয়া যায়। ক্লেমেঞ্জা, তোমার গোপন সংগ্রহ থেকে সবচেয়ে নিরাপদ পি দেবে ওকে। একেবারে ঠাণ্ডা অস্ত্র, যার কোন সূত্র ধরা যাবে না। মনে রেখো, ব্যারেল ছোট আর বিস্ফোরণের ক্ষমতা বেশি হবে। লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা খুব বেশি না হলেও চলবে, কারণ ওটা যখন ব্যবহার করবে মাইক, তখন একেবারে ওদের ঘাড়ের ওপর থাকবে ও। মাইক, গুলি করেই পিস্তলটা মেঝেতে ফেলে দিবি তুই। যদি ধরা পড়িস, হাতে ওটা নিয়ে ধরা পড়িস না, খবরদার!
ক্লেমেঞ্জা, ব্যারেল আর ট্রিগারে তোমার সেই বিশেষ জিনিসটা লাগিয়ে দিয়ো, তাহলে আর আঙুলের ছাপ পড়বে না। আবার মাইকেলের দিকে ফিরল সনি। মনে রাখিস, প্রত্যক্ষদর্শী ইত্যাদির সব ব্যবস্থা করতে পারব, কিন্তু অ্যারেস্ট হবার সময় হাতে যদি পিস্তল থাকে, কিছুই করতে পারব না আমরা। গাড়ি, নিরাপত্তা সব ব্যবস্থা, করা থাকবে-কাজ সেরে একবার সরে আসতে পারলে আর কিছু ভাবতে হবে না তোকে। একটু থেমে কণ্ঠস্বর খাদে নামাল সনি, তারপর একেবারে বাতাসে মিলিয়ে যেতে হবে তোক। লম্বা ছুটি নিয়ে চলে যাবি অনেক দূরে, যতদিন না
এদিকটা ঠাণ্ডা হয়ে আসে ততদিনের জন্যে। কিন্তু আমি চাই না তুই তোর বান্ধবীর কাছ থেকে বিদায় নিস না, তাকে ফোন করাও চলবে না তোর। তুই নিরাপদে বিদেশে পৌঁছুলে, এদিকটা ঠাণ্ডা হয়ে এলে, আমি ওকে জানাব যে তুই ভাল আছিস। এটা আমার আদেশ।
ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল সনি, তারপর আবার বলল, এখন থেকে ক্লেমেঞ্জার কাছাকাছি থাক, যে পিস্তলটা দেবে তোকে সেটা প্র্যাকটিস কর। বাকি সব ব্যবস্থা আমরা করব। ঠিক হ্যায়, ভাইয়া?
