কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল সনি, ওদের সামনে সহজ একটা পথ খোলা রয়েছে। হয় সলোযোকে তুলে দিক আমার হাতে, নয়তো কর্লিয়নি পরিবারের সাথে লড়াই করার জন্যে তৈরি থোক। একটু থেমে আবার দৃঢ় গলায় বলল সে, আপসের বিষয়ে কোন কথা নয়, টম। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে। এখন তোমার কাজ হলো জেতার জন্যে আমাকে সাহায্য করা। বুঝেছ?
অনুগত ভঙ্গিতে মাথা নত করুল হেগেন। কয়েক মুহূর্তের জন্যে গভীর চিন্তায় ডুবে গেল সে। তারপর মাথা তুলে বলল, থানায় তোমার চর ফিলিপস-এর সাথে কথা হয়েছে আমার। সে বলছে, ম্যাকক্লাস্কি সলোযোর কাছ থেকে মোটা টাকাই শুধু খায় না, তাকে ড্রাগ ব্যবসা থেকে লাভের একটা ভাগও দেয়া হবে। সলোহোর বডিগার্ড হতে রাজি হয়েছে সে। সাথে পুলিশ ক্যাপ্টেন ম্যাককুাস্কি না থাকলে গর্ত থেকে নাকের ডগাও বের করবে না তুর্ক। আলোচনার টেবিলে মাইকেলের সামনে বসবে সে, তার পাশেই বসবে ম্যাকক্লাস্কি। সিভিল ড্রেসে থাকবে সে, সাথে অবশ্যই আগ্নেয়াস্ত্র থাকবে। ব্যাপারটা বুঝছ তো? এভাবে পাহারা নিয়ে থাকলে ওকে তুমি ছুঁতেই পারবে না। নিউ ইয়র্কের একজন পুলিশ ক্যাপ্টেনকে খুন করে আজ পর্যন্ত রেহাই পায়নি কেউ। এমন ঘটনা ভুল করে কেউ যদি ঘটায়, গনগনে আগুন হয়ে উঠবে শহর-ব্বরের কাগজ, আইন বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, গির্জা পরিষদ সবাই একেবারে উন্মাদ হয়ে উঠবে। সে এক ভয়ঙ্কর অবস্থা, কল্পনা করা যায় না। শুলো ইতালীয় পরিবার তোমাদের বিপক্ষে চলে যাবে। একঘরে করা হবে কর্লিয়নি পরিবারকে। শুধু তাই নয়, ডনের রাজনীতিক বন্ধুরাও পিঠটান দেবে। আমি বলতে চাই, সব দিক ভালভাবে ভেবেচিন্তে দেখে নিয়ে তারপর কাজে হাত দাও।
আমরাও অপেক্ষা করব, বলল সনি, সনোযোকে তো আর চিরকাল পাহারা দিয়ে রাখতে পারবে না ম্যাকক্লাস্কি।
অস্বস্তিতে ছটফট করছে টেসিও আর ক্লেমেঞ্জা, ঘন ঘন চুরুট ফুকছে। কিছু বলতে চায়, কিন্তু সাহস পাচ্ছে না। ঘেমে গোল হয়ে যাচ্ছে দুজনেই। সিদ্ধান্ত নিতে একটু যদি ভুল হয়, ওদেরই ছাল ছাড়িয়ে দড়িতে শুকাতে দেয়া হবে।
এতক্ষণে এই প্রথম কথা বলছে মাইকেল, হেগেনের দিকে ফিরে জানতে চাইল সে, হাসপাতাল থেকে বাবাকে এখানে নিয়ে আসা যায় না?
এদিক ওদিক মাথা দোলাল হেগেন। কথাটা প্রথমেই জানতে চেয়েছিলাম আমি। সম্ভব নয়। ডনের অবস্থা খুব খারাপ। নানারকম যত্ন আর বো পেলে তবেই টিকে থাকবেন তিনি। আরও অপারেশনের দরকার হতে পারে। না, অস্তব।
তাহলে আর দেরি করা যায় না, বলল মাইকেল, সলোযোকে এখুনি ধরতে হবে। লোকটা সাংঘাতিক, কখন কি মতলব আঁটে ঠিক নেই। জানো তো, বাবাকে সরাতে পারলেই জিতে যাবে ও। নিজের অবস্থা এখন ভাল নয়, তাই প্রাণের নিরাপত্তা পেলে সাময়িক পরাজয় মেনে নিতে আপত্তি নেই ওর। কিন্তু ওর কপালে যদি শেষ পর্যন্ত মৃত্যু লেখা থাকে, তাহলে ডনকে সরাবার আরেকবার চেষ্টা করবে ও। সাথে ওই ব্যাটা পুলিশ ক্যাপ্টেন থাকলে কখন কি হয় কিছুই বলা যায় না। কোন ঝুঁকি আমরা নিতে পারি না। সলোযোকে এখুনি সরিয়ে ফেলতে হবে।
চিন্তিতভাবে দাড়ি চুলকাচ্ছে সনি। বলল, ঠিক বলেছিস, মাইক। একেবারে খাঁটি কথা। বাবার ওপর আরেকটা হামলা চালাবার সুযোগ ওকে আমরা দিতে পারি না।
ধীর, মৃদু গলায় জানতে চাইল হেগেন, ক্যাপ্টেন ম্যাকক্লাস্কির কি হবে?
ঠোঁটে অদ্ভুত একটা হাসি নিয়ে ছোট ভাই মাইকেলের দিকে তাকাল সনি, বলল, হ্যাঁ, জবাব দে, জাহাবাজ পুলিশ ক্যাপ্টেনের কি হবে?
আশ্চর্য শান্তভাবে বলল মাইকেল, সন্দেহ নেই, এটা একটা চরম ব্যবস্থা। কিন্তু এমন সময়ও আসে যখন শুধু চরম ব্যবস্থাই সব দিক থেকে ভাল আর একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দেয়। চিন্তার ধারা পাল্টাতে হবে আমাদেরকে, ম্যাকাঙ্কিকে মেরে ফেলতে হবে এটা ধরে নিয়েই এগোতে হবে এখন। একটু কৌশলে করতে হবে কাজটা, অর্থাৎ জটিল ভাবে জড়িয়ে ফেলতে হবে ওকে, যেন কেউ মনে করতে না পারে একজন আদর্শ, পুলিশকে খুন করা হয়েছে। সবাই যেন দেখতে পায় একজন দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশ অফিসার উচিত সাজা পেয়েছে, লোকটা নানান বেআইনী কীর্তিকলাপের সাথে জড়িত ছিল। পোষা সাংবাদিক আছে আমাদের, তাদেরকে ডেকে বিবৃতি দেয়া যায়, বিবৃতির সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণও দেয়া। তাতে অনেকটা হালকা হবে পরিবেশ, গরম ভাবটা কমবে। তোমরা কি মনে করো? সবিনয়ে একে একে সকলের দিকে তাকাচ্ছে মাইকেল।
ক্লেমেঞ্জা আর টেসিওর মুখ গভীর, থমথম করছে, কিছু বলতে নারাজ ওরা।
বেড়ে বলেছিস, ভাই, সেই অদ্ভুত বাঁকা হাসিটা মুখে নিয়ে কথা বলছে সনি। থামলি কেন, চালিয়ে যা। ডন তো সব সময় বলতেন, শিশুদের মুখ থেকেই…। থামলি কেন, আরও বল শুনি।
একটু হেসে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে হেগেনও।
মুখটা লাল হয়ে উঠেছে মাইকেলের। কিন্তু রাগ বা দুঃখের চিহ্নমাত্র নেই ওর চেহারায়, ওর বিশ্বাস ও যা বলছে ভেবেচিন্তেই বলছে, এবং কেউ মানুক, বা না মানুক, নিজের কথা শেষ করবে ও। ওদের প্রস্তাব মতই ব্যবস্থা হোক। আমার সাথে কথা বলতে চায়, বেশ তো, যাব আমি। সলোযো, ম্যাকাঙ্কি আর আমি, এই তিনজন ছাড়া সেখানে আর কেউ থাকতে পারবে না। তারিখ দাও আজ থেকে দুদিন পর। ইতিমধ্যে আমাদের গুপ্তচরদের লাগাও, খুঁজে বের করুক তারা মীটিংয়ের জায়গাটা। জানিয়ে দিয়ে বৈঠকটা প্রকাশ্য কোন জায়গায় হতে হবে। আমি কোন ফ্ল্যাটে বা কারও বাড়িতে যেতে রাজি নই। রেস্তোরাঁ বা বার হলে চলবে, ডিনার খাবার ভিড় থাকলে নিরাপদ রোধ করব আমি। এই ব্যবস্থা ওদের মনেও নিরাপত্তা বোধ এনে দেবে। এই রকম আয়োজন করা গেলে এমন কি সলোযোও ঘুণাক্ষরে ভাবতে পারবে না যে ক্যাপ্টেনকে গুলি করতে যাচ্ছি আমরা। প্রথমেই ওরা আমাকে সার্চ করে দেখে নেবে আমার কাছে পিস্তল আছে কিনা, তার মানে তখন আমার কাছে অস্ত্র থাকলে চলবে না। ওদের সাথে আলোচনা চালাচ্ছি, এই সময় কি উপায়ে আমার কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেয়া যায় সেটা ভেবেচিন্তে বের করো তোমরা। তা যদি পারো, ওদের দুজনকেই খতম করব আমি।
