হ্যাঁ, বলল হেগেন। উপায় নেই দেখে অবশেষে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে সলোযো, একসাথে বসতে চায়। আয়োজনের খুঁটিনাটি দিকগুলো দেখছে একজন মধ্যস্থতাকারী। এর অর্থ আমাদের জিত হয়েছে। পরাজয় মেনে নিয়েছে সলোযো, প্রাণ নিয়ে পালাতে পারলে বাঁচে এখন। মিটিমিটি হাসছে হেগেন, তারপর আবার বলল, ওরা হয়তো ভেবেছিল দুর্বল হয়ে পড়েছি আমরা, কারণ পাল্টা আঘাত করিনি। কিন্তু টাটাগ্লিয়াদের একটা ছেলে হারিয়ে এখন ওরা বুঝতে পারছে আমরাও সহজে ছেড়ে দেব না। ডনকে আক্রমণ করে মন্ত ঝুঁকি নিয়েছিল ব্যাটা। ওদিকে, পাকা খবর পাওয়া গেছে লুকা সম্পর্কে। ডন যেদিন গুলি খেলেন তার আগের রাতে তাকে ওরা খুন করে। কোথায়, জানো? ব্রুনোর নাইট-ক্লাবে। ভাবতে পারো?
নিশ্চয়ই তাকে ওরা আচমকা আক্রমণ করেছিল, বলল মাইকেল।
.
লং বীচ।
প্রাঙ্গণে ঢোকার মুখে আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে পথ আটকে রেখেছে কালো একটা লম্বা গাড়ি। গাড়ির হুডে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুজন লোক। দুপাশের বাড়ি দুটোর উপরতলার সবগুলো জানালা খোলা, লক্ষ করল মাইকেল। তার মানে আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে সনি, সহজে ছাড়বে না সে।
প্রাঙ্গণের বাইরে গাড়ি দাঁড় করাল ক্লেমেঞ্জা, পায়ে হেঁটে ভিতরে ঢুকল ওরা। সেন্ট্রিরা ক্লেমেঞ্জার লোক, তাদের দিকে তাকিয়ে ভুরু কোঁচকাল সে-এটাই তার অভিবাদনের ধরন। সেন্ট্রিরাও মাথা ঝাঁকিয়ে স্বীকৃতি জানাল। কেউ হাসল না বা ঠোঁট নাড়ল না। মাইকেল আর হেগেনকে নিয়ে বাড়ির অন্দরমহলে এল ক্লেমেঞ্জা, ওরা বেল বাজাবার আগেই একজন সেন্ট্রি ভিতর থেকে খুলে দিয়েছে দরজা। বোঝা গেল, উপরের কোন একটা জানালা দিয়ে ওদেরকে আসতে দেখেছে সে।
শেষ প্রান্তের অফিস কামরায় ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে সনি আর টেসিও। মাইকেলকে দেখে উঠে দাঁড়াল সনি, এগিয়ে এসে ছোট ভাইয়ের মাথাটা দুহাতে ধরে বলল, চমৎকার, অপূর্ব!
ঠেলে বড় ভাইয়ের হাত দুটো সরিয়ে দিল মাইকেল, ধীর পায়ে হেঁটে ডেস্কের সামনে গিয়ে দাঁড়াল, গ্লাসে স্কচ হুইস্কি ঢেলে নিচ্ছে। তার দিয়ে বাঁধা চোয়াল দুটো ভীষণ ব্যথা করছে ওর, হুইস্কি খেলে যদি একটু কমে।
কামরার ভিতর পাঁচজন বসেছে ওরা, কিন্তু পরিবেশটা আর আগের বারের মত নেই। আরও খুশি আর উত্তেজিত দেখাচ্ছে সনিকে। এর অর্থ পরিষ্কার বুঝতে পারছে মাইকেল। সনির মনে এখন আর কোন সংশয় নেই। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে, সেখান থেকে এখন আর তাকে টলানো যাবে না। গতরাতে সলোযোর ওই অপচেষ্টার পর আর কোন কথা নয়। আপস করার প্রশ্নই ওঠে না।
হেগেনকে বলছে সনি, যে লোকটা মধ্যস্থতা করছে তার কাছ থেকে খবর পেলাম ঈর্ক এখন সরাসরি দেখা করতে চায়। হাসছে সনি। শয়তানটার দুঃসাহস দেখেছ? কণ্ঠে শ্রদ্ধা আর প্রশংসার সুর। কাল অমন তাড়া খেয়ে আজই দেখা করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ভেবেছে, ও যা বলৰে আমরা তাই মেনে নেব। কি স্পর্ধা, ভারতে পারো?
সতর্ক ভঙ্গিতে জানতে চাইল হেগেন, উত্তরে কি বলেছ তুমি?
নিঃশব্দে হেসে বলল সনি, এক কথায় রাজি হয়ে গেলাম, বললাম, অবশ্যই দেখা করব না কেন? ওর যখন সময় হবে তখনই দেখা করব আমরা। আবার হাসছে সনি। আমাদের কোন ব্যস্ততা নেই। একশোর ওপর বাটন-ম্যান ছেড়ে দিয়েছি রাস্তায় আমরা। সলোযো তার পাছার ব্লোয়াটুকু একবার দেখালে হয় শুধু, অমনি তাকে ওরা দুটুকরো কররে। যত ইচ্ছা সময় নিক না ব্যাটা।
স্পষ্ট কোন প্রস্তাব দিয়েছে কি? জানতে চাইল হেগেন।
দিয়েছে বৈকি, বলল সনি, ও যা বলতে চায় তা মাইককে গিয়ে শুনে আসতে হবে। ওর জামিন হবে মধ্যস্থতাকারী লোকটা। চাওয়ার কোন কারণ নেই, জানে ও, তাই নিজের নিরাপত্তার জামিন চায়নি সোযো। সাক্ষাতের আয়োজন ওরাই করবে। ওরাই রাস্তা থেকে মাইককে তুলে আলোচনার জায়গায় নিয়ে যাবে। সোযো সেখানে প্রস্তাবটা ব্যাখ্যা করে শোনাবে মাইককে, তারপর ওকে ছেড়ে দেয়া হবে। ওরা জোর দিয়ে বলছে, প্রস্তাবটা এত ভাল যে আমরা নাকি তা প্রত্যাখ্যান করতে পারব না।
টাটাগ্লিয়াদের খবর? প্রশ্ন করল হেগেন। কনোর ব্যাপারটা নিয়ে কি করবে ওরা?
প্রস্তাবের মধ্যে এ-বিষয়টাও আছে, বলল সনি। টাটাগ্লিয়া পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা সলোযোকে সমর্থন দিয়ে যাবে। তার মানে, আলোচনাকারী দিয়ে বুলে পাঠিয়েছে, ব্রুনোর কথা মন থেকে মুছে ফেলবে ওরা। বাবাকে আহত করার বিনিময়ে এই দাম দিতে হয়েছে রুনোকে। সব নাকি শোধ-বোধ হয়ে গেছে। আবার হাসছে সনি। বিপদে পড়ে কেমন সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে, তাই না?
সতর্ক ভঙ্গিতে বলল হেগেন, ওদের বক্তব্য আমাদের শোনা উচিত।
দ্রুত এদিক ওদিক মাথা দোলাচ্ছে সনি। না, না কনসিলিয়রি, এবারটি নয়। ওর বুলার মধ্যে ইতালীয় ভঙ্গি এবং সুর ফুটে উঠল। কৌতুক করার জন্যে বাবার বাচনভঙ্গি নকল করে আবার বলল ও, আর আলোচনা নয়। আর মীটিং নয়। সলোযোরধূর্তামি আর নয়। আমাদের জবাব শোনার জন্যে ওরা যোগাযোগ করলেই, আমি চাই তুমি এক কথায় জানিয়ে দেবে-আমরা সলোযোকে চাই। তা না হলে সামগ্রিক লড়াই। ব্যবসার ক্ষতি হবে, নিরুপায় ভঙ্গিতে কাধ ঝাঁকাল সনি, কিছু করার নেই, সেটুকু মেনে নিতে হবে আমাদেরকে।
কিন্তু আর সব পরিবার সামগ্রিক লড়াইয়ে রাজি হবে না, বলল হেগেন। তাতে সবার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
