সবাইকে শুনিয়ে চিৎকার করে বলল ক্যাপ্টেন, আমি? অসম্ভব। ওকে আমি চুইনি, ওই তো আমাকে প্রথম মারতে এসেছিল। খেয়াল থাকবে তো? আপত্তি করছিল গ্রেফতার হতে।
একটা লাল কুয়াশার ভিতর দিয়ে সব কিছু ঝাপসা দেখছে মাইকেল। দেখতে পাচ্ছে আরও কয়েকটা গাড়ি রাস্তার ধারে এসে দাঁড়াল, গাড়ি থেকে যারা নামছে তাদের মধ্যে, চিনতেও পারছে একজনকে, লোকটা ক্লেমেঞ্জার উকিল। দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্যাপ্টেনকে বলছে সে, মি. কর্লিয়নিকে পাহারা দেবার জন্যে তাঁর পরিবার একটা বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থাকে ভাড়া করেছে। আমার সাথে এরা যারা এসেছে, এদের সবার কাছে ফায়ার-আর্মসের লাইসেন্স আছে, ক্যাপ্টেন। কাউকে যদি গ্রেফতার করার দুর্মতি হয় আপনার। কাল সকালেই বিচারকের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে আপনাকে।
মাইকেলের দিকে ফিরল উকিল, বলল, আপনার এই অবস্থার জন্যে যে দায়ী তার বিরুদ্ধে আপনি অভিযোগ আনতে চান, মাইকেল কর্লিয়নি?
প্রচণ্ড ব্যথায় চোখে শর্ষে ফুল দেখছে মাইকেল, দুই চোয়াল এক করতে পারছে না, তবু বিড় বিড় করে বলল, আমি হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। দেখল, ওর দিকে ফিরে বিজয়ের উল্লাসে হাসছে ক্যাপ্টেন। জবাবে সেও একটু হাসতে চেষ্টা করল। যে-কোন মূল্যে শরীরের ভিতর প্রবাহিত ঠাণ্ডা আক্রোশের মোটা গোপন করতে চায় সে। ওর মনের ইচ্ছার কথাটা কেউ জেনে ফেলে সতর্ক হয়ে উঠুক তা চাইছে না। ডনও চাইতেন না। হঠাৎ টের পেল, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপর আর কিছু মনে নেই মাইকেলের।
.
সকালে ঘুম ভাঙতে মাইকেল দেখল তার চোয়াল দুটো তার দিয়ে বাঁধা হয়েছে, মুখের বাঁ দিকের চারটে দাঁত নেই। বিছানার পাশে বসে রয়েছে হেগেন।
ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়েছিল আমাকে, টুম? জানতে চাইল মাইকেল।
এমনিতেও তুমি প্রায় বেহুশ হয়ে ছিলে, কিন্তু হাড়ের কুঁচি বের করার সময় খুব বেশি ব্যথা লাগবে বলে ওষুধ দেয়া হয়েছিল তোমাকে।
আর কোথাও চোট পেয়েছি?
না। লং বীচের বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইছে তোমাকে সনি, যেতে পারবে বলে মনে করো?
পারব, বলল মাইকেল। ডন কেমন আছে?
গভীর, লাল হয়ে উঠল হেগেনের মুখ, বলল, সংকটটা বোধ হয় এবারের মত কাটিয়ে ওঠা গেছে। একটা বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থাকে পুরো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে, আমাদের লোক ভিড় করে আছে গোটা এলাকায়। গাড়িতে উঠে সব শুনবে।
গাড়ি চালাচ্ছে ক্লেমেঞ্জা, ব্যাক সীটে বসেছে হেগেন আর মাইকেল। মাথাটা দপ দপ করছে মাইকেলের। কাল রাতের রহস্যটা উদ্ধার করতে পেরেছ তোমরা? জানতে চাইল ও।
ফিলিপস বলে যে গোয়েন্দাটা তোমাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিল সে হলো সনির পোষা লোক, শান্তভাবে রুলছে হেগেন। তার মুখ থেকেই জানা গেছে সব। ক্যাপ্টেনের নাম ম্যাকক্লাস্কি, চাকরিতে ঢোকার পর থেকেই ধুমসে ঘুষ খাচ্ছে। কর্লিয়নি পরিবারও প্রচুর টাকা দিয়েছে ওকে। সাংঘাতিক লোভী নোক, তার ওপর একবিন্দু বিশ্বস্ত নয়। সন্দেহ নেই, অঢেল টাকা দিয়েছে ওকে সলোযো। ভিজিটিং আওয়ার শেষ হবার পরপরই হাসপাতাল থেকে টেসিওর সব লোককে গ্রেফতার করে ও, তারপর অন্য একটা জরুরী কাজের নাম করে ডনের দূরজা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় সরকারী গোয়েন্দাদেরকে। তাদেরকে বলা হয়েছিল, আরেক দল পুলিশ এসে দায়িত্ব নেবে। এসব ওর চালাকি। উনকে খতম করার জন্যে পরিবেশ তৈরি করে দেবে, এর বিনিময়ে সলোহোর কাছ থেকে টাকা খেয়েছিল ও। ফিলিপস-এর ধারণা, নাছোড়বান্দা, ছ্যাচড়া লোক ম্যাকক্লাস্কি, সে আবার চেষ্টা করবে। সন্দেহ, নেই, কাজের আগেই প্রচুর টাকা দিয়ে রেখেছে ওকে সলোমো, তারপর কাজ শেষ হলে আরও অনেক দেবে বলে লোভ দেখিয়ে রেখেছে।
আমার কথা খবরের কাগজে কিছু লিখেছে নাকি?
কেউ চায় না ব্যাপারটা জানাজানি হোক, বলল হেগেন। আমরাও না, পুলিশও না। চেপে যাওয়া হয়েছে।
ভাল হয়েছে। আচ্ছা, এনজো কি কেটে পড়তে পেরেছিল?
পুলিশের গাড়ি থামতেই ছুটে পালায় ও, বলল হেগেন; এখন বলতে চাইছে, সোযোর গাড়ি যাবার সময় ও নাকি তোমাকে কাভার দিয়েছে। তাই কি?
তাই, স্বীকার করুল মাইকেল। ছেলেটা ভাল।
তাহলে তো ওর একটা ভাল ব্যবস্থা করতে হয়, বলল হেগেন। কেমন বোধ করহু তুমি এখন? উদ্বেগ ফুটে উঠল হেগেনের চেহারায়। দেখে তো অবস্থা বিশেষ সুবিধের বলে মনে হচ্ছে না।
আমি ঠিক আছি, বলল মাইকেল! কি যেন নাম বললে ক্যাপ্টেনের?
ম্যাকক্লাস্কি, বলল হেগেন, তুমি হয়তো এনে খুশি হবে যে শেষ পর্যন্ত কর্লিয়নি পরিবার একটা চাল দিতে পেরেছে। ভোর চারটের সময়, ব্রুনো টাটাগ্লিয়া।
শিরদাঁড়া খাড়া হয়ে গেল মাইকেলের। সে কি! আমাদের না হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার কথা?
শ্রাগ করল হেগেন। হাসপাতালের ব্যাপারটা শক্ত হতে সাহায্য করেছে সনিকে। নিউ ইয়র্ক আর নিউজার্সিতে ছড়ানো আছে আমাদের বাটন-ম্যানরা, রাতের মধ্যে তালিকা তৈরি হয়ে গেল। সনিকে আমি বাধা দেবার চেষ্টা করছি, মাইক! আমি চাই তুমি ওর সাথে কথা বলো। আমি এখনও মনে করি বড় রকমের যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েও গোটা ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলা যায়।
ঠিক আছে, ওর সাথে কথা বলব আমি, বলল মাইকেল। আজ সকালে আলোচনা হবে নাকি?
