ঠিক হ্যায়, বলল লুকা। বেশ উত্সাহিত হয়ে উঠেছে সে, চেহারা দেখে স্টো বোঝা গেল। চারটের দিকে এখানে তাহলে আবার ফিরে আসব আমি।
এর একটু পরই ক্লাব ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল লুকা। ট্যাক্সি নিয়ে টেনথ এভেনিউয়ে নিজের বাড়িতে এল। একটা ইতালীয় পরিবারে পেয়িং গেস্ট হিসাবে থাকে সে। পরিবারটা দূর-সম্পৰ্কীয় আত্মীয় হয় তার। বাড়িটার একটা আলাদা অংশে ওর ঘর দুটো, আসা-যাওয়ার জন্যে আলাদা দরজা।
খাটের তলা থেকে একটা ট্রাঙ্ক বের করল লুকা! তালা খুলল। ভিতর থেকে বের করল খুব ভারি একটা বুলেট প্রুফ গেঞ্জি।
পোশাক ছাড়ল লুকা। গরম কাপড়ের অন্তর্বাসের উপর গেঞ্জিটা পরল। তার উপর চড়াল শার্ট আর কোট।
লাইসেন্সসহ পিস্তল আছে লুকার। এই লাইসেন্সটা যোগাড় করতে চূড়ান্ত ঝামেলা তো পোহাতে হয়েছেই, দামও দিতে হয়েছে অসম্ভব বেশি-দশ হাজার ডলার। এত দাম দিয়ে লাইসেন্স যোগাড় করার ঘটনা আর কারও বেলায় বোধহয় ঘটেনি। যাই হোক, কর্লিয়নিদের একটা শুভ হিসেবে এই রকম দামী একটা লাইসেন্স পাবার যোগ্যতা তার আছে। কিন্তু লাইসেন্সওয়ালা পিস্তলটা আজ সে নিল না। বলা তো যায় না, সূচনাতেই হয়তো গোটা ব্যাপারটাকে খতম করে দিতে হতে পারে। তাই একটা নিরাপদ পিস্তল সাথে নিল। এটা নিয়ে সে যদি ধরাও পড়ে, কিছু এসে যাবে না। পিস্তলটা তারই এটা প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
আবার ক্লাবে একবার ঢুঁ মারুল লুকা, কিন্তু বেশিক্ষণ বসলও না, মদও ছুঁল না। ওখান থেকে বেরিয়ে ফোর্টিএইটথ স্ট্রীটে খামোকা ঘুরঘুর করল কিছুক্ষণ। তারপর ঢুকল ওর সবচেয়ে প্রিয় রেস্তোরাঁ প্যাটসিতে। আয়েশ করে,, অলস ভঙ্গিতে সাপার খেল ওখানে।
ঠিক সময়ে আবার শহরের মাঝখানে ফিরে এল লুকা। ক্লাবে ঢোকার সময় দেখল, দারোয়ানেরও ছুটি হয়ে গেছে, টুপি জমা রাখে যে মেয়েটা সেও নেই।
ব্রুনোকে ছাড়া আর কাউকে দেখল না লুকা। সেই তাকে সাদরে নির্জন বারে নিয়ে গিয়ে বসাল। খালি টেবিলগুলো চারপায়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাঝখানে প্রকাণ্ড একটা হীরক খণ্ডের মত পালিশ করা হলুদ কাঠের ড্যান্সফ্লোরটা জ্বলজ্বল করছে। পিছনে, ছায়ায় ঢাকা পড়ে আছে ব্যাণ্ডস্ট্যাণ্ড, ধাতব মাইক্রোফোনটাকে কঙ্কালের মত লাগছে দেখতে।
কাউন্টারের ওপারে বসেছে ব্রুনো টাটাগিয়া। এপারে লুকা। মদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে একটা সিগারেট ধরাল সে। ভাবছে সলোযোর সাথে হয়তো এর কোন সম্পর্ক নেই। নো হয়তো সম্পূর্ণ অন্য কোন বিষয়ে অন্য লোকের মাধ্যমে কথা বলতে চায়। আচ্ছা, দেখাই যাক না।
চিন্তায় বাধা পড়ল লুকার। সলোযোকে দেখতে পেয়েছে সে। কামরার গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা একটা কোণ থেকে বেরিয়ে এদিকে এগিয়ে আসছে সে।
কথা বলল না, শুধু হাতটা বাড়িয়ে দিল সলোযো হ্যাণ্ডশেকের জন্যে। নির্বিকারভাবে হ্যাণ্ডশেক করল লুকা। তার পাশেই বসল সলোযো। ব্রুনো, কাউন্টারে এক গ্লাস মদ রাখতেই মাথা ঝাঁকিয়ে ধন্যবাদ জানাল তুর্কী।
আমার পরিচয় জানা আছে তোমার? লুকার দিকে ফিরে প্রশ্ন করল সলোযো।
ইতিবাচক ভঙ্গিতে মাথা কাত করল লুকা। বিষণ্ণ হাসি ফুটে উঠেছে তার মুখে। অন্তরের পুলকটা ঢাকার মতলবেই এই হাসি ফুটিয়ে তুলেছে সে।
তাহলে আমার প্রস্তাবটাকি তাও তোমার জানা আছে?
এবারও একই ভঙ্গিতে মাথা কাত করল লুকা।
একটু নড়েচড়ে বসল সলোযো। তীক্ষ্ণ; অন্তর্ভেদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সারাক্ষণকার দিকে। বলল, খুবই ভাল ব্যবসা, লাভের সম্ভাবনা প্রচুর। কর্মকর্তা পর্যায়ে যারা এতে অংশগ্রহণ করবে তাদের প্রত্যেকের ভাগে আসবে লক্ষ লক্ষ ডলার। কথা দিতে পারি প্রথম চালানের মাল তোলার সাথে সাথে নগদ পঞ্চাশ হাজার ডলার পেয়ে যাবে তুমি। মাল মানে মাদকদ্রব্যের কথা বলছি, বুঝছ তো? উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সবটাই লাভ।
কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য আমার কাছে পরিষ্কার নয়, বলল লুকা। ডনকে এ সম্পর্কে বলব, এই চান আপনি?
রাগে বিকৃত হয়ে উঠল সলোযোর মুখ। তার সাথে আর কথা বলার কোন মানে হয় না। একবার যখন রাজি হয়নি, কখনোই সে মাথা নোয়বে না। তাকে বাদ দাও। আমার দরকার তোমার মত একজন জবরদওলোকের, আমাদের ব্যবসাটাকে টিকিয়ে রাখার জন্যে প্রয়োজনে যে গায়ের জোর খাটাবে। শুনেছি, কর্লিয়নিরা নাকি তোমাকে যথাযোগ্য মূল্য দিচ্ছে না। সেজন্যেই ভাবছি, তুমি হয়তো চাকরিটা বদল করতেও পারো।
বদল করে যদি অবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করি, কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল লুকা।
সলোযোর সেই তী, অন্তর্ভেদী দৃষ্টিটা বদলে গেল। কি যেন আবিষ্কার করার চেষ্টা করছিল সে। আবিষ্কার করা হয়ে গেছে।
কটা দিন দেখো। তারপর জানাও। কথা শেষ করে হ্যাণ্ডশেকের জন্যে হাত বাড়িয়ে দিল সলোযো।
কিন্তু সলোযোর হাতটা ধরার জন্যে নিজের হাতটা বাড়াল না লুকা। তার ভাব দেখে মনে হলো, ব্যাপারটা তার চোখেই পড়েনি। প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে সেটা ঠোঁটে তুলতে ব্যস্ত সে এখন।
কাউন্টারের ওপাশ থেকে ব্রুনোর লাইটার ধরা হাতটা এগিয়ে এল হঠাৎ করেই, অপ্রত্যাশিতভাবে। খুট করে লাইটার জালাল ব্রুনো। সেটার আগুনে সিগারেট ধরাবার জন্যে মুখ বাড়াল লুকা, ঠিক এই সময় হাত থেকে ছেড়ে দিল ব্রুনো লাইটারটা। খট করে পড়ল সেটা কাউন্টারের উপর। তার আগেই ব্রুনো প্রচণ্ড শক্তিতে লুকার ডান হাতটা কাউন্টারের সাথে চেপে ধরেছে।
