গেঞ্জিটা দেখেই ছ্যাৎ করে উঠল সনির বুক।
ঝট করে উঠে দাঁড়াল হেগেন। কাঁপছে সে।
ক্লেমেঞ্জা বলল, পলি পাটোর খবর পেয়ে প্রতিদান হিসাবে এই খবরটা পাঠিয়েছে সলোযো।
কেঁপে গেল টেসিওর কণ্ঠস্বর, অস্ফুটে বলল সে, যা ভেবেছিল্লাম তাই! লুকা ব্রাসিকে কতল করেছে সলোয়যা।
চুরুট ধরাতে গিয়ে সনি লক্ষ্য করল, তার হাত দুটো কাঁপছে। গ্লাসে মদ ঢেলে নিয়ে ঢক ঢক করে নিঃশেষ করল। ঠক করে নামিয়ে রাখল গ্লাসটা, মেঝেতে ছিটকে পড়ল ভাঙা কাঁচ।
কিছু বুঝতে পারছে, কিছু গোলমেলে লাগছে, মাইকেলের। এর-ওর মুখের দিকে বোকার মত তাকাচ্ছে সে। কিন্তু কেউ কথা বলছে না দেখে নিজেই জানতে চাইল, মরা মাছ কেন? ওটার মানে কি?
সে প্রশ্নের উত্তর এলো আইরিশ কনসিলিয়রি টম হেগেনের মুখ থেকে, মহাসাগরের নিচে ঘুমাচ্ছে লুকা ব্রাসি। এটা একটা সিসিলীয় সাঙ্কেতিক বার্তা।
১.৮ ডন গুলি খাওয়ার কয়েক মাস আগে
০৮.
ডন গুলি খাওয়ার কয়েক মাস আগেই সলোমোর দলের সাথে যোগাযোগ করে লুকা ব্রাসি। যোগাযোগটা খুব সহজেই করতে পেরেছিল সে। টাটাগ্রিয়া পরিবারের পরিচালনাধীন কয়েকটা নাইট ক্লাব আছে, সেগুলোয় নিয়মিত যায় সে। ওদের ভাড়াটে মেয়েগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সেরা যে তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। মেয়েটার পাশে শুয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, আর মনের দুঃখ প্রকাশ করে। কর্লিয়নি পরিবারের উপর মোটেও সন্তুষ্ট নয় সে। তাকে ওরা যথোচিত মূল্য দেয় না, ওর কদর বোঝে না।
এভাবে এক হপ্তা কাটল। তারপর একদিন ডাক পড়ল তার নাইট ক্লাবের ম্যানেজার ব্রুনো টাটাগ্লিয়ার অফিসে।
পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে ব্রুনো। বাইরে থেকে দেখে সবাই মনে করত টাটাগ্লিয়া পরিবারের কলগার্ল বিজনেসের সাথে ব্রুনোর কোন সম্পর্ক নেই। আসলে ব্যাপারটা ঠিক তার উল্টো। নারী-ব্যবসার গোটা ব্যাপারটাই পরিচালনা করে ব্রুনো।
প্রথম সাক্ষাৎ করেই ব্রুনো তাদের পরিবারের পক্ষে শক্তি প্রয়োগের দায়িত্ব নেবার প্রস্তাব দিল লুকা ব্রাসিকে। রাজি হবে কি হবে না, এই রকম দোটানা ভাব, দেখা গেল লুকার মধ্যে, এই করে মাসখানেক কাটল। লুকার আচরণ দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে মনের খেদ প্রকাশ করার পিছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই তার, সে আসলে তার এই বেশি বয়সে সুন্দরী মেয়েটার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।
ব্রুনোর হাবভাব সম্পূর্ণ অন্য রকম। ব্যবসায়ী লোক সে, তার আচরণে সেটা পরিষ্কার ফুটেও উঠল। প্রতিদ্বন্দ্বীর একজন জবরদস্ত লোককে দল থেকে ভাগিয়ে নিয়ে আসাটাই যেন তার একমাত্র উদ্দেশ্য।
ওদের আবার দেখা হলো। এবার লুকার হাবভাব একটু অন্যরকম। সুন্দরী মেয়েটার সান্নিধ্য ছাড়া সে বাঁচবে না, তাই নোর প্রস্তাবে সে মোটামুটি রাজি। কিন্তু সম্মতি জ্ঞাপনের পরপরই স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল, কিন্তু একটা শর্ত আছে। কাউকে যদি শ্রদ্ধা করি তো তিনি ডন কর্লিয়নি। গড ফাদারের বিরুদ্ধে কখনও আমি যাব না। দল শ্রাগ করার কথা ভাবছি এইজন্যে যে পারিবারিক ব্যবসায় তার ছেলেদের চেয়ে আমাকে বেশি সুযোগ দেয়া সম্ভব হবে না কখনোই। অর্থাৎ আমার ভবিষ্যৎ ওখানে খুবই সীমিত।
সেকাল তো আর নেই, ব্রুনো বলল, আজকাল সবার সাথে সবার মিল মহব্বত। আমার বাবা আপনাকে কখনোই কর্লিয়নিদের ক্ষতি করতে বলবেন না। আপনি কঠিন লোক, ব্যবসা চালু রাখার জন্যে আপনার মত লোক সবসময়ই দরকার হয়। আগে মনস্থির করুন, তারপর আসুন আমার কাছে। আমাদের সাথে আপনার বনিবনা চালই হবে।
শ্রাগ করে বলল লুকা, যাই হোক, ওদের সাথে থাকছি না আমি আর। সেদিনের আলোচনা এর বেশি এগোয়নি।
পরবর্তী ঘটনা ঘটল ডন কর্লিয়নি গুলি খাওয়ার আগের রাতে। নাইটক্লাবে লুকা ব্রাসি ঢুকতে না ঢুকতে ওর টেবিলে চলে এল ব্রুনো টাটাগ্লিয়া।
মুখ তুলে তাকাল লুকা।
একগাল হেসে ব্রুনো বলল, আমার এক বন্ধু, বুঝলেন, বিশেষ একটা ব্যাপারে আপনার সাথে আলাপ করার জন্যে খুব আগ্রহ দেখাচ্ছে।
বেশ তো, নির্বিকার মুখে বলল লুকা, এখানে নিয়ে আসুন তাকে।
মুখের হাসিটা অম্লান রেখে রুনো বলল, আপনিও যেমন! বিশেষ কথা কি এত লোকজনের সামনে হয়, না হওয়া উচিত?
কোন রকম ভাব ফুটল না লুকার চেহারায়। জানতে চাইল, তার পরিচয়?
আমার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আপনার জন্যে একটা প্রস্তাব নিয়ে আসবে। আরেকটু রাত হোক, তারপর দেখা করার ব্যবস্থা করি, কি বলেন?
ঠিক আছে, বলল লুকা, ঠিক কখন? কোথায়?
লোকজনের ভিড় না থাকলে এই জায়গাটাও মন্দ নয়, একটু চিন্তা করে বলল রুনো। ভোর চারটেয় বন্ধ হয়ে যাবে ক্লাব। সাফ সুতরো করার জন্যে শুধু ওয়েইটাররা থাকবে। তখনই, কি বলেন?
ভোর চারটের সময় আলোচনার জন্যে বসার ব্যাপারটা অদ্ভুত বলে মনে হলেও ব্যাপারটা আসলে অদ্ভুত নয়। প্রায় রোজই বিকেল তিনটের সময় ঘুম থেকে ওঠে লুকা, তারপর ব্রেকফাস্ট খায়। বিকেলের বাকি অংশ এবং প্রায় পুরোটা রাত কারও সাথে জুয়া খেলে বা কোন মেয়ের সাথে সময়টা কাটায় সে। মাঝে মধ্যে সিনেমাও দেখে। ক্লাবে গিয়ে মদ খেয়েও কিছু সময় কাটায়। মনে মনে লুকা ভাবল, ওর ওপর বেশ কিছু দিন থেকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়েছে, তার দৈনন্দিন জীবনের রুটিন ওদের মুখস্থ হয়ে গেছে।
