মাইকেলের বক্তব্যের সাথে সবাই একমত হয়ে মাথা নাড়ল। ঠিক এই কথাগুলো গুছিয়ে সে কেন আগে বলতে পারেনি ভেবে নিজের উপর একটু রাগ হলো সনির। মুখ একটু ভার করে ফেলল সে। বলল, আমি তাই ভেবেছি। কি সুবিধে করে নিতে পারে তাও জানা আছে আমার। লুকাকে সরাতে পারলেই মস্ত সুবিধে হয়ে যায় সলোহোর। একটু থেমে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে। চারদিকে রটিয়ে দেয়া হয়েছে কর্লিয়নিরা লুকাকে তার পুরানো দায়িত্বগুলো দেবার জন্যে খুঁজছে, দেখা যাক কি হয়।
থামল সনি। তারপর গ্লাসে মদ ঢালতে শুরু করে আবার বলল, আরেকটা সুবিধে পাবার চেষ্টা করতে পারে সলোযো। নিউ ইয়র্কের আর সব পরিবারগুলোর সমর্থন। কাঁধ ঝাঁকাল সে। ঢক ঢক করে গলায় মদ ঢালল। কালই হয়তো খবর আসবে। আমাদেরকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়া হবে সংগ্রাম শুরু হলে ওরা সবাই আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।
সেক্ষেত্রে?
সলোযোর প্রস্তাব মেনে না নিয়ে উপায় থাকবে না, মাথা নিচু করে বলল সনি।
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিল হেগেন। ঠিক। ডনের অনুমতি ছাড়া যুদ্ধ ঘোষণা করার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি সব বোঝেন, এবং সবকটা পরিবারের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণার ঝুঁকি একমাত্র তিনিই নিতে পারেন। ডনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ওজন জানা আছে সবার, সেই ক্ষমতার সাহায্য সব সময় দরকার হয় সবগুলো পরিবারের, সুতরাং কিসের বিনিময়ে কি চেয়ে বোঝাঁপড়া করতে হবে তা একমাত্র ডনই ভাল বুঝবেন।
কোথাকার পানি কোথায় গড়াবে, কিছুই বলা যায় না, বলল সনি।
চিন্তিতভাবে উপর নিচে মাথা নাড়ল হেগেন।
দপ করে যেন জ্বলে উঠল ক্লেমেঞ্জ। কর্কশ, রূঢ় গলায় বলল, এ-বাড়িয় কাছেপিঠে খোদ যমও ঘেষতে পারবে না, সনি। এব্যাপারে তুমি চিন্তা করো না। যার বাটনম্যান ইদানীং বেঈমানী করেছে তার মুখে দৃঢ় ভঙ্গির কথাগুলো ঠিক যেন মানাল না।
ভুরু কুঁচকে কয়েক সেকেণ্ড ক্লেমেঞ্জার দিকে তাকিয়ে থাকন সনি। তারপর ধীরে ধীরে টেসিওর দিকে ফিরল। হাসপাতালের খবর বলো। যারা পাহারা দিচ্ছে সবাই তোমার বাছাই করা লোক তো?
আজকের আলোচনায় এই প্রথম টেসিওর চেহারায় আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠল। ধীরস্থির ভঙ্গিতে কথা বলছে সে, বাছাই করা লোকদের নিয়েই আমার দল। হাসপাতালের ভিতরে ওরা প্রতিটি ইঞ্চির ওপর চোখ রেখেছে। বাইরে, চারদিক থেকে একরকম গায়ে গা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওরা। ওরা না চাইলে বাতাসেরও ভিতরে ঢোকার অনুমতি নেই। একটু থেমে টেসিও বলল, পুলিশ বিভাগও কড়া পাহারার ব্যবস্থা করেছে। তবে একটা হাস্যকর ব্যাপার হলো, ভনের কামরার বাইরে গোয়েন্দারা বসে অপেক্ষা করছে, উনি জ্ঞান ফিরে পেলেই কথা বলবে, তাই। কিচেনেও পাহারা আছে, কিন্তু খাবার পরীক্ষা করা হচ্ছে না তার কারণ, ডন এখনও কিছু খাচ্ছেন না। কোন দিক থেকে কোন সুবিধে করতে পারবে না হাসপাতালে, উনকে ওদের নাগালের একেবারে বাইরে রেখেছি আমরা।
রিভলভিং চেয়ারে হেলান দিল সনি। হাইজ্যাকের সম্ভাবনা ষোলো আনা। প্রশ্ন হলো, কাকে? একটু হাসল সে। আমাকে? এদিক ওদিক মাথা দোলাল সে। আমাকে নিয়ে গেলে ওদের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। এখন আমি পরিবারের মাথা, কারবার করতে হবে আমার সাথে। উঁহু, আমাকে নিয়ে যাবার মতলব নেই, ওদের। ছোট ভাই মাইকেলের দিকে তাকাল সনি, আবার হাসল সে। কে জানে, তোমাকে দিয়ে ওদের কাজ চলবে কিনা! সলোমোর মতলব কিছুই বলা যায় না। তোমাকে আটকে রেখে আমার সাথে রফা করার প্রস্তাব পাঠাবে, এই রকম ভেবে থাকতে পারে।
অসন্তুষ্ট চিত্তে ভাবছে মাইকেল, কে-র সাথে দেখা করা বুঝি শিকেয় উঠল। বাড়ি থেকে সনি বোধহয় বেরুতেই দেবে না তাকে।
দূর! বিরক্তির সাথে বলল হেগেন। জিম্মি রাখার কথা ভেবে থাকলে মাইককে ওরা কত আগেই তো ধরে নিয়ে যেতে পারত। জানতে কারও বাকি। আছে, পারিবারিক ব্যবসার সাথে মাইকের কোন সম্পর্ক নেই? মাইক একজন সাধারণ সিটিজেন, ওর সাথে এই রেষারেষির কোন সম্পর্ক নেই। সলোযো এত নীচ কাজ করতে সাহসই পাবে না। জানে, এ কাজ করলে আর সব পরিবারগুলো মুহূর্তে তার ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করবে। শুধু তাই নয়, সবগুলো পরিবার টাটাগ্লিয়াদের বাধ্য করবে সনোযোকে ধরে আমাদের হাতে তুলে দেবার জন্যে।
মুখের বিরক্তিভাব বদলে গেল হেগেনের। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। যেন বহুদূর অবধি দেখতে পাচ্ছে। আবার কথা বলল সে, পরিবারগুলোর সমর্থন আদায় করছে ও, এটাই তার গোপন সুবিধে। কাল হয়তো সবার তরফ থেকে একজন প্রতিনিধি আসবে আমাদের কাছে। বলবে, সলোযোর সাথে ব্যবসা করতেই হবে আমাদের।
ধীরে ধীরে নিঃশব্দে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে মাইকেল বলল। একটা কথা। রাতে আমাকে একটু বেরুতে হবে।
বিস্ময়ে প্রায় চেঁচিয়ে উঠল সনি, কি বলছ তুমি?
বাবাকে দেখতে চাই, হাসছে মাইকেল, আরও একটা কাজ আছে। বাবা ডন কর্লিয়নির স্বভাব পেয়েছে সে, আসল উদ্দেশ্যটা কাউকে জানায় না। না জানাবার পিছনে কোন কারণ থাকে না, এমনি এটা একটা অভ্যাস ওর।
কিচেন থেকে উত্তেজিত গলা ভেসে আসছে শুমতে পেয়ে কামরা থেকে বেরিয়ে গেল ক্লেমেঞ্জা। প্রায় তখুনি ফিরে এলো সে। হাতে একটা বুলেট প্রুফ গেঞ্জি দেখা যাচ্ছে। বিরাট একটি মাছকে গেঞ্জিটা দিয়ে জড়িয়ে রাখা হয়েছে।
