কোথায় রাগ, আশঙ্কায় নীল হয়ে উঠল সনি। অস্ফুটে বলল, ফর গভর্স সেক, ওই একটা মাত্র ব্যাপারকে যমের মত ভয় পাই আমি। লুকা আমাদের বিরুদ্ধে চলে যায়নি তো? তোমরা কি ভাবছ, ক্লেমেঞ্জা? টেসিও?
খুব ধীর গলায় বলল ক্লেমেঞ্জা, পলির কথা ভাবো একবার। আমি বলতে চাইছি, যে কেউ দল শ্রাগ করতে পারে। কিন্তু লুকা? না! অসম্ভব।
কেন অসভব?
অসম্ভব এ জন্যে যে লুকা ব্রাসি ভয় করে না কাউকে, বিশ্বাস করে না কাউকে–শুধু একজনকে ছাড়া, বলল ক্লেমেঞ্জা। এই একজন হলেন গড ফাদার। অনেকের অনেক পথ থাকতে পারে, কিন্তু লুকার একটা পথ। গড ফাদারের ওপর ওর যে ভক্তি, তার তুলনা নেই। কথাটা শুনতে যাই হোক, কিন্তু বর্ণে বর্ণে সত্যি যে সবাই গড ফাদারকে ভক্তি করে, কিন্তু লুকার মত? না। আমার প্রাণ বাজি রেখে বলতে পারি, লুকা বেঈমানী করেনি, করতে পারে না। আবার, সলোযো যতই ধড়িবাজ চতুর হোক, লুকাকে বাগে পেয়ে সর্বনাশ ঘটিয়ে ফেলেছে বলেও আমি বিশ্বাস করি না। সম্ভাব্য যে কোন বিপদের জন্যে তৈরি থাকে সে। এমন হতে পারে, দুএকদিনের জন্যে কোথাও গেছে সে।
গম্ভীর হয়ে ক্লেমেঞ্জার দিক থেকে টেসিওর দিকে তাকাল সনি।
ব্রুকলিনের ক্যাপোরেজিমি টেসিও শ্রাগ করল। ততটা কাউকেই আমি বিশ্বাস করি না। কে কি কারণে বেঈমানী করে বসে, কিছু বলা যায় না। লুকার একটা দুর্বলতার কথা আমার জানা আছে। একটুতেই দুঃখ পে সে। ডনের কোন আচরণে মনে চোট পেয়ে থাকতে পারে। তার মানে কিন্তু আমি বলতে চাইছি না যে লুকা বেঈমানী করেছে। আমার বিশ্বাস সলোযো যেভাবেই হোক ওকে সরিয়ে দিয়েছে। ক্লেমেঞ্জার বিশ্বাসের সাথে এখানেও একমত হতে পারছি না আমি। দুনিয়ার কেউ অজেয় নয়। সবাইকেই, তা যে যত শক্তিশালী আর দুর্ধর্ষই হোক, সাবাড় করা সম্ভব। আমি বরং কনসিলিয়রির সাথে একমত, সবচেয়ে জঘন্য বিপদের জন্য নিজেদেরকে তৈরি রাখা উচিত আমাদের।
টেসিও থামতে সনি খানিক চিন্তা করল। তারপর বলল, পলি গাটোর খবর তো পেয়ে গেছে, সলোযোর প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে?
কর্লিয়নিরা নির্বোধ নয়, এটুকু অন্তত বুঝবে, প্রচণ্ড আক্রোশে মুখটা বিকৃত দেখাচ্ছে কুমেঞ্জার। নেহাত কপালের জোরে যা করার করেছে
তীক্ষ কণ্ঠে বাধা দিল সনি। কি বললে? কুপালের জোর? বোকা নাকি! এর মধ্যে কপাল কোথায় দেখতে পাচ্ছ তুমি? বলো, সাধনার জোরে। বলো পরিকল্পনার জোরে। অনেকদিন থেকে বাবার গতিবিধির ওপর নজর রেখেছে ওরা। শুধু তাই নয়, বেঈমানী করার জন্যে আমাদের লোককে প্রস্তাব দিয়েছে। পলির কথা বলছি। হয়তো লুকাকেও। তারপর টমকে হাইজ্যাক করার ব্যাপারটাও ধরো। নিখুঁত প্ল্যান ধরে প্রতিটি কাজ করেছে ওরা। ঠিক সময়টিতে নিয়ে গেছে ওকে। এবার বলো, কপালের, জোর কোথায় দেখছ? বরং, একথা বলো যে কপাল ওদের সাথে অসহযোগিতা করেছে? ওঁদের প্ল্যানে কোন খুঁত ছিল না। কিন্তু কপাল দোষে ভাড়াটে খুনেগুলো যথেষ্ট দক্ষতা দেখাতে পারেনি, বাবা এক সেকেণ্ড আগেই সব বুঝে ফেলেছিলেন। প্রথম দফায় গুলি খেয়েও পড়ে যাননি।
একটু থামল সনি। সবার দিকে তাকাল একবার করে। চুপচাপ বসে আছে মাইকেল। কি ভাবছে না ভাবছে মুখের ভাব দেখে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।
বাবা মারা গেলে আপোস না করে উপায় ছিল না আমার, আবার বলল সনি। আপোস করা মানে পরাজয় মেনে নেয়া। তাই মেনে নিতাম। তারপর সুযোগে অপেক্ষায় থাকতাম। পাঁচ বছর বা দশ বছর কেটে যেত, তারপর প্রতিশোধ নেবার সূযোগ আসত। এই যে সুযোগটা আসত, এটাকে তুমি কি বলবে, পীট? কপালের জোর? মোটেই না। এরই নাম কৌশল, এরই নাম প্ল্যান। শেষের দিকে সনির কথায় ঝাঁঝের মাত্রা কমে গেল।
কিচেন থেকে মস্ত এক ডিশে করে নিয়ে আসা হলো স্প্যাগেটি। সাথে কয়েকটা প্লেট, কাঁটা চামচ, গ্লাস এবং মদের বেশ কয়েকটা বোতল। কথা ওদের থামেনি, কিন্তু খাবারের প্রতি অবহেলাও করছে না কেউ, শুধু মাইকেল ছাড়া। অবাক হয়ে দেখছে সে ব্যাপারটা। ভেবেই পাচ্ছে না এই পরিস্থিতিতে খিদে আসে কোত্থেকে! ক্লেমেঞ্জা আর টেসিও নড়েচড়ে বসে তৈরি হয়ে নিয়ে খাবারের উপর হামলা চালাল। সমিকেও প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করতে দেখা গেল। এটা যদি সম্ভব হয়, খাবার নিয়ে তিনজনের মধ্যে মারামারি লেগে গেলেও আশ্চর্য হবার কিছু নেই, কথাটা ভেবে হাসি পেল মাইকেলের। টম অবশ্য এসব লক্ষ্যই করছে না। শোকে বা ভয় কাহিল হয়নি সে, বুদ্ধির ধার দিয়ে জট ছিঁড়ে প্রকৃত অবস্থাটা অনুধাবন করতে এতই মগ্ন যে, কারও নড়াচড়া তার দৃষ্টিতে ধরাই পড়ছে না ভাল করে, শুধু কে কি বলছে তাই শুনতে পাচ্ছে।
সলোযোর প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে, সে ব্যাপারেও ক্লেমেঞ্জার সাথে দ্বিমত পোষণ করল টেসিও। তার ধারণা খবরটা পেয়ে ঘাবড়াবে না সলোমো। সে বরং ভাববে, বুদ্ধুটা খুন হয়ে ভালই হয়েছে, মাসে মাসে আর বেতন গুণতে হবে না। ভয়ও সে পাবে না। এই অবস্থায় পড়লে কর্লিয়নিরা কি ভয় পেত?
এতক্ষণ নির্বাক শ্রোতার ভূমিকা পালন করেছে মাইকেল। টেসিও থামতে নরম গলায় সে বলল, এসব ব্যাপারে আমি একেবারে আনাড়ী, কিন্তু তবু একটা কথা বলতে চাই। সলোযে লোকটা সম্পর্কে তোমাদের মুখে মোটামুটি সবই তো শুনলাম। টমের সাথে যোগাযোগ কেটে দিয়েছে সে, এটাকে ভাল লক্ষণ বলে মনে করছি না আমি। আমার ধারণা গোপনে কোন সুবিধে করে নিচ্ছে ও। তৈরি হয়েই হয়তো এমন কোন চাল চেলে বসবে, দেখতে পাব নিরাপদ জায়গায় বসে কর্লিয়নিদের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে সে। এখন আমাদের উচিত আগে থেকে সঠিক আঁচ করা সেই চালটা ওর কি হবে। নির্ভুলভাবে তা যদি জানতে পারি, ও কোন সুবিধে করতে পারবে না, আমরাই লাঠি ঘোরাব।
