দরজায় নক করে ক্লেমেঞ্জার একজন লোক ঢুকল কামরায়। রেডিও নিউজ। পলি গাটোর গাড়িতে তার লাশ পাওয়া গেছে।
কর্কশ গলায় হুঙ্কার ছাড়ল ক্লেমেঞ্জা। তাতে তোমার কি? যাও ভাগো!
হতভম্ব লোকটা তার ক্যাপোরেজিমির দিকে বোকার মত তাকিয়ে থাকল। কিন্তু পরমুহূর্তে ব্যাপারটা বুঝে নিয়ে চরকির মত আধপাক ঘুরে দ্রুত পালিয়ে গেল কামরা ছেড়ে।
ডন এখন কেমন আছেন? ভারি গলায় জানতে চাইল সনি।
ভাল, বলল হেগেন। আর দিন দুই পর কথা বলতে পারবেন। অপারেশনের ধকলটা তো গুলি খাওয়ার চেয়েও সাংঘাতিক। করণীয় সম্পর্কে তার সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত লক্ষ রাখতে হবে, সলোযো বোকার মত আবার কিছু করে না ফেলে। সেজন্যেই আমি মনে করি ওর সাথে আলোচনা শুরু করে দেয়া উচিত তোমার।
আমি তৈরি, কিন্তু ওরই তো কোন খবর নেই, বলল সনি। ক্লেমেঞ্জা আর টেসিও খুঁজছে ওকে, খুজতে থাকুক। তারপর আলোচনা যখন শুরু হয় হবে।
সলোযো জানে, বলল হেগেন, আলোচনার টেবিলে একবার যদি বসে, নিজেকে প্রায় পুরোপুরি আমাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। সম্ভবত সেজন্যেই আপস করতে মন চাইছে না তার। ওর এখন সবচেয়ে বেশি দরকার নিউ ইয়র্কের অন্যান্য পরিবারের সমর্থন। তাই পাবার চেষ্টা করছে সে। এবং যদি পায়, ওর বিরুদ্ধে চরম কোন সিদ্ধান্ত ডন নিলে তা বাস্তবায়িত করা সহজ হবে না আমাদের পক্ষে।
সনি ঠিক বুঝল না। ভুরু কুঁচকে উঠল তার। কি বলতে চাইছ? আর সব পরিবার বাবার বিরুদ্ধে চলে যাবে? কেন শুনি?
অধৈর্য না হয়ে হাসল হেগেন। তারপর বুঝিয়ে দিল, বড় গোছের একটা যুদ্ধ বেধে যাক তা কেউ চায় না, তাই। যুদ্ধ বাধলে সবার ক্ষতি, খবরের কাগজ এবং সরকারের নাক গলাবার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সনির মুখ ধীরে ধীরে গম্ভীর হয়ে উঠছে।
আবার বলল হেগেন, ওরা সলোযোকে সমর্থন করবে। তার মেলা কারণ আছে। সলোযোর কাছ থেকে লাভের অংশ পাবে ওরা। মাদক ব্যবসায় প্রায় সবটুকুই লাভ, এ তো আমরাও জানি। আমাদের ওসব দরকার না থাকতে পারে, জুয়ার ব্যবসাটাকেই সবচেয়ে ভাল বলে মনে করছি আমরা, কিন্তু আর সব পরিবারের খাই অনেক, অনেক বেশি। লাভের সম্ভাবনা দেখলে ওরা পাগল হয়ে যায়। ভারি চালাক-চতুর লোক সালোয়য। ওদেরকে লোভ দেখিয়ে খেপিয়ে তুলতে তার কোন অসুবিধেই হবে না। কি দাঁড়াচ্ছে তাহলে? ওদের কাছে সলোহোর অনেক দাম, তাই নয় কি? এত যার দাম, তাকে ওরা মরতে দেবে কেন?
সনির মুখের দিকে তাকিয়ে মাইকেল তার জীবনের আরেক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। রক্তশূন্য, ফ্যাকাসে হয়ে গেছে সনির চেহারা। তারপর দ্রুত রক্ত ফিরে এসে মস্ত মুখটাকে টকটকে লাল করে তুলল। অস্বাভাবিক গভীর, কিন্তু শান্ত গলায় বলল সে, ওদের লাভ লোকসানের খতিয়ান আমি শুনতে চাই না। ওদেরকে আমি গ্রাহ্যই করি না। এই যুদ্ধে কেউ যদি নাক গলাতে আসে, নিজের ধ্বংস ডেকে, আনবে সে। আমাকে ওরা এখনও চেনেনি।
কাঠের মত শক্ত হয়ে গেছে ক্লেমেঞ্জা আর টেসিও। সনি এখন ডনের প্রতিনিধিত্ব করছে, তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সামগ্রিক যুদ্ধের ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত যদি গ্রহণ করে সে, প্রতিপক্ষদের দুর্ভেদ্য দুর্গ আক্রমণ করতে হবে তাদেরকেই। লড়তে ভয় নেই ওদের, কিন্তু লড়াই করে শেষটায় কি লাভ হবে, বিজয় উৎসবে যোগ দেবার জন্যে কর্লিয়নি পরিবারের কেউ বেঁচে থাকবে কিনা, সেটাই সবচেয়ে আগে ভেবে দেখতে হবে।
ধৈর্যচ্যুতি ঘটল হেগেনের। কিন্তু গলা না চড়িয়ে সে বলল, ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করো, সনি। ডন এ ধরনের কথা শুনতে পছন্দ করেন না। কেউ গায়ের জোর দেখিয়ে কোন সমস্যার সমাধান করলে তিনি বলেন, লোকটা লোকসানের বীজ রোপন করল। কিন্তু, একথাও ঠিক, আমরা সবাই জানি, ডন যদি নির্দেশ দেন সলোযোকে সরাতে হবে, দুনিয়ার কোন শক্তি আমাদেরকে ঠেকাতে পারবে না। হেগেন আরও গম্ভীর হলো। সমস্যাটা ব্যক্তিগত নয়, ব্যবসায়িক। এর সমাধান ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে না এসে আসতে হবে ব্যবসা-বুদ্ধি থেকে।
কিন্তু তুমি বলছ অন্যান্য পরিবারগুলো সলোযোকে বাঁচাতে চাইবে, বলল সনি। আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল সে, কিন্তু হেগেন তাকে বাধা দিল।
চাইবেই তো, বলল হেগেন। নিজেদের লাভটা দেখবে না ওরা?
তাহলে…
এই সমস্যারও সমাধান আছে, মৃদু হেসে বলল হেগেন। সলোযোকে আমরা খতম করতে চাই এটা তাদেরকে স্পষ্ট ভাবে না জানিয়ে আমরা তাদেরকে কি ধরনের কি কি বাড়তি লাভের সুযোগ করে দিতে রাজি আছি তা জানালেই আমাদের ইচ্ছাটা কি তা পরিষ্কার বুঝে নেবে ওরা। তখন একটা কেন, এক ডজন সলোযোকেও যদি আমরা খুন করি, ওরা দেখেও না দেখার ভান করবে। সেজন্যেই বলছি, ক্ষেপে গিয়ে রক্তলোলুপ হয়ে উঠো না। এটা আমাদের ব্যবসা। তোমার বাবাকে ব্যক্তিগত কারণে নয়, ব্যবসায়িক কারণেই গুলি করা হয়েছে। এটুকু বোঝার ক্ষমতা তোমার থাকা উচিত।
চোখমুখ এখনও উ ক্রোধে রক্তিম হয়ে আছে সনির। আমি আর কিছু শুনতে চাই না, শুধু দেখতে চাই সলোযোর পিছনে যদি লাগি, কেউ যেন বাধা দিতে না আসে। টেসিওর দিকে ফিরল ও। লুকার খবর বলো।
খবর নেই, অসহায় ভাবে মাথা নাড়ল টেসিও। সলোমোর খপ্পরে পড়েছে কিনা…
চিন্তিতভাবে হেগেন বলল, লক্ষ্য করেছি, লুকার কথা ভেবে একটুও ঘাবড়ায়নি সলোযো। তখনই খটকা লেগেছিল আমার। মাথায় মগজ আছে এমন কেউ লুকাকে ভয় করবে না, এ হতেই পারে না।
