জনি ফন্টেনের ফোন এল সন্ধ্যা নাগাদ।
ফোন ধরল সনি। খুব শান্ত, বুঝিয়ে বলার ভঙ্গিতে জনিকে সে বলল, না, ভাই, বাবাকে দেখার জন্যে অতদূর থেকে তোমার আসার দরকার নেই। তুমি আসছ, এ খবরটা তো আর চাপা থাকবে না, তাতে তোমার সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সে ঝুঁকি তুমি নাও, এ আমি চাই না। বাবা সুস্থ থাকলে তিনিও চাইতো না। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুন, তখন এসো। হা হা, অবশ্যই; নিশ্চয়ই তোমার কথা বলব। ক্র্যাডলে রিসিভার রেখে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল সনি। জনি আসতে চেয়েছিল শুনে বাবা খুব খুশি হবেন রে।
সন্ধ্যা একটু গাঢ় হতে ক্লেমেঞ্জার একজন লোক এসে জানাল কোন এক ভদ্রমহিলা মাইকেলকে চাইছেন। কোম্পানির তালিকাভুক্ত ফোনটা ধরার জন্যে কিচেনে এল মাইক।
কেমন আছেন তোমার বাবা? ক্লান্ত কণ্ঠে প্রথমেই জানতে চাইল কে অ্যাডামস।
সাথে সাথে ব্যাপারটা বুঝে নিল মাইকেল। খবরের কাগজে বাবা পের্কে যেসব কথা বলা হয়েছে… গুণ্ডা সর্দার, চোরাকারবারী, গ্যাংস্টার, এসব দেখে ঘাবড়ে গেছে কে, বিশ্বাসই করতে পারছে না।
এখন ভালই আছেন।
হাসপাতালে তোমার সাথে আমিও যেতে চাই, বলল সে।
মনে মনে হেসে ফেলল মাইকেল। তার কথা খুঁটিয়ে সব মনে রাখে কে, এটা বুঝতে পেরে খুব ভাল লাগল ওর বুড়ো ইতালীয়দের মন জয় করতে হলে কি কি করতে হয় ঠাট্টাচ্ছলে তা একধার শেখাবার চেষ্টা করেছিল ও কে-কে, সে-কথা মনে রেখেই এখন বাবাকে দেখার জন্যে হাসপাতালে যেতে চাইছে ও।
এখন তোমার যাওয়া উচিত হবে না, বলল মাইকেল। পিরস্থিতিটা ঠিক স্বাভাবিক নয়, সে তো তুমি বুঝতেই পারছ। সাংবাদিকরা তোমার নাম জানাবে, কালই ডেলি নিউজে খবর ছাপা হবে এই হেডিংয়ে কুখ্যাত মাফিয়া গুণ্ডা-সর্দারের ছেলের সাথে প্রখ্যাত ইয়াঙ্কি পিরবারের কন্যার গোপন সম্পর্ক। তোমার গুরুজনরা কিভাবে নেবেন ব্যাপারটা, ভেবে দেখো।
ওরা ডেলি নিউজ পড়েন না, সাথে সাথে উত্তর দিল কে। একটু থেমে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জানতে চাইল, মাইক, তামাকে লুকিয়ো না, তোমার কোন বিপদের ভয় নেই তো?
আমাকে সবাই ভাল মানুষ গোবেচারা হিসাবে জানে, হাসছে মাইকেল। আমার তরফ থেকে বিপদ হতে পারে, একথা কেউ বিশ্বাসই করে না। সুতরাং, আমাকে ওরা গোণার মধ্যেই ধরে না। তাছাড়া, কে, যা হবার হয়ে টয়ে চুকে গেছে। সব, আর কিছু ঘটবে না। দেখা হলে বুঝিয়ে দের সব।
দেখাটা কবে হবে?
একটু চিন্তা করল মাইকেল। কে-র মানসিক অস্থিরতার কথা বিবেচনা করল। বলল, আজও হতে পারে, কে। একটু বেশি রাতে, কেমন? শোনো, কাউকে বলো না কথাটা। কাল সকালের কাগজে তোমার আমার ছবি বেরুক তা চাই না বুঝছ তো? জানাজানি হয়ে গেলে তোমার মা-বাবার জন্যে গোটা ব্যাপারটা অপ্রীতিকর হয়ে উঠবে।
ওসব কথা থাক। তোমার জন্যে কি করতে পারি তাই বলো। বড় দিনের কিছু কেনাকাটা করব? কিংবা…এই সময়ে তোমার কাজে লাগতে পারলে মনটা ভাল থাকত আমার।
হঠাৎ নিজেকে সাংঘাতিক ভাগ্যবান বলে মনে হলো মাইকেলের। অদ্ভুত একটা পুলক অনুভব করছে সে। বলল, আমার জন্যে অপেক্ষা করো। আর কিছু চাই না।
ওদিকে ফোনের অপরপ্রান্তে কে অ্যাডামসের শরীরে রোমাঞ্চের হোত বইতে শুরু করেছে। ছোট্ট, চাপা উত্তেজনার সাথে হাসল সে। ওটাই তো আমার আনন্দের কাজ, তোমার জন্যে অপেক্ষা করে থাকা, চিরকাল থাকব, মাইক। একটু ইতস্তত করে আবার বলল, আমি তোমাকে যে কথাটা বলতে পারি-ভালবাসিসে কথাটা, কই, তুমি তো বলো না।
কিচেনের গুণ্ডাপাণ্ডাদের দিকে চোখ বুলাল মাইকেল। নীরস গলায় বলল, পারি না।
কে-র সাড়া নেই অপরপ্রান্তে। এদিকে মাইকেলও কথা বলছে না। এভাবে অনেকক্ষণ কাটল। শেষে মাইকেল বলল, আমি আসব তো?
এসো, অস্ফুটে বলল কে।
ক্র্যাডলে রিসিভার রেখে ক্লেমেঞ্জার দিকে তাকাল মাইকেল। খানিক আগে ফিরে এসে একে-তাকে ধমক-ধামক মেরে চুলোয় এক হাঁড়ি টমেটো-সস চাপিয়েছে সে। তার উদ্দেশ্যে মাথা একটু ঝাঁকিয়ে শেষ প্রান্তের কামরায় ফিরে এল মাইকেল। হেগেন আর সনি অপেক্ষা করছে ওর জন্যে। দুজনেই উত্তেজিত।
ক্লেমেঞ্জা কোথায়?
বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মাইকেল বলল, কিচেনে।
ডাকো ওকে। সাথে টেসিওকেও নিয়ে আসতে বলো।
অফিস ঘরে হাজির হলো সবাই। ক্লেমেঞ্জাকে ছোট্ট একটা প্রশ্ন করল সনি, ওর খবর বলো?
নির্বিকার ক্লেমেঞ্জা জবাব দিল, শেষ।
শিরশির করে উঠল মাইকের শরীর। কার সম্পর্কে কথা হচ্ছে, তার পরিণতি কি হয়েছে, সবই বুঝতে পারছে সে। উৎসব অনুষ্ঠানে যে লোক সবচেয়ে বেশি আনন্দে মাতোয়ারা করে সবাইকে, সে আমুদে ক্লেমেঞ্জা খুন করেছে পলি গাটোকে।
সলোযোর বিষয়ে কতদূর কি জানা গেল? হেগেনের দিকে তাকাল সনি।
উপযুক্ত লোক এখনও ঠিক করতে পারিনি। বলল হেগেন। সলোযো বিশ্বাস করবে, এমন লোক হওয়া চাই। আপোস একটা করতেই হবে, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ও। বুড়ো ভদ্রলোক বেঁচে গেছেন, তার মানে সব সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে ওর।
কিন্তু আমাদের পরিবারের সাথে এতটা চাতুর্যের সাথে, এত বড় ঝুঁকি নিয়ে কেউ কখনও লাগতে আসেনি, এ-কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে, বলল সনি। বাবাকে সেরে ওঠার সময় দেবার জন্যে আমরা সময় নষ্ট করছি, এটাই সে ধরে নিয়েছে বলে মনে হয়।
তা সে যাই ধরে নিক না কেন, আপোস রক্ষার চেষ্টা এখন তাকে করাতেই হবে। কাল নাগাদ একটা ব্যবস্থা করতে পারব আমি।
