রকোকে গাড়িতে রেখে নেমে গেল ক্লেমেঞ্জা। পায়ে হেঁটে ভেরা মারিয়ে, রেস্তোরাঁয় এল। স্যালাড আর মাংস দিয়ে হালকা ডিনার খেলো, এই ফাঁকে পরিচিত দুচার জনের সাথে কিছু কথাও হলো তার। ঘণ্টাখানেক রেস্তোরাঁয় কাটিয়ে আবার পায়ে হেঁটে ফিরে এল আর্থার এভিনিউয়ে। চারদিক অন্ধকার হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।
গাড়িতে চড়ে বলল ক্লেমেঞ্জা, বোঝো এবার। এখন বলছে লং বীচে ফিরে যেতে হবে। সনি মত বদলেছে, এ কাজ পরে করলেও চলবে। রকো, তোমাকে নামিয়ে দিয়ে যাবো নাকি?
মৃদু গলায় বলল রকো, কিন্তু আমার গাড়িটা যে আপনাদের ওখানে রেখে এসেছি।
তবে তো তোমাকে আমাদের সাথেই ফিরতে হয়।
লং বীচে ফিরছে ওরা। এবারও কথা বলছে না কেউ। শহরে ঢোকার ঠিক আগে ফাঁকা রাস্তার উপর দিয়ে ছুটছে গাড়ি। হঠাৎ বলল ক্লেমেঞ্জা, গাড়ি দাঁড় করাও, পলি। পেচ্ছাব না করলেই নয়।
ক্যাপোরেজিমির মূত্রাশয়টা একটু বেয়াদব, জানে পলি, হঠাৎ করে সময়ে, অসময়ে প্রায়ই তার পানি শ্রাগ করার বেগ চাপে। রাস্তার একধারে নরম মাটির উপর গাড়ি থামাল সে। নেমে গেল ক্লেমেঞ্জা, একটা ঝোঁপের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল সে। সেখানে সে প্রস্রাবও করল। তারপর ফিরে এসে গাড়ির দরজা খুলে চট করে রাস্তার এদিক ওদিক দেখে নিয়ে বলল, এবার মারো।
পিস্তলের আওয়াজটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মত শোনাল। সামনের দিকে লাফ দিল পলি, হুমড়ি খেয়ে পড়ল স্টিয়ারিং হুইলের উপর, সেখান থেকে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এল সীটের উপর, তারপর কাত হয়ে গেল একদিকে। দ্রুত পিছিয়ে গেছে ক্লেমেঞ্জা, গায়ে যাতে খুলির কুচি বা রক্তের ছিটে না লাগে।
পিছনের সীটে ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ তুলে নিচে নামল রকো। হাতের পিস্তলটা ছুঁড়ে ফেলে দিল ঝোঁপের দিকে। তারপর ক্লেমেঞ্জার পিছু পিছু গিয়ে একটু দূরে দাঁড়ানো একটা গাড়িতে চড়ে বসল।
সীটের নিচে হাত দিতেই চাবিটা পেল রকো। স্টার্ট দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিল সে।
ক্লেমেঞ্জাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে অন্য পথে ফিরে আসছে রকো। জেনিস বীচ কজওয়ে ধরে মেরিক শহরে পৌঁছল সে, ওখান থেকে মেডোরুক পার্কওয়ে ধরে সোজা ছুটল নর্দার্ন স্টেট পার্কওয়ের দিকে। বাক নিয়ে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেস ওয়েতে পড়ল সে, হোয়াইট স্টোন ব্রিজ পেরোল, তারপর ব্রঙ্কস হয়ে সোজা ম্যানহাটনের নিজের আস্তানায়।
১.৭ গুলি খেয়েছেন ডন কর্লিয়নি
০৭.
গতকাল গুলি খেয়েছেন ডন কর্লিয়নি। সাংঘাতিক ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কাটছে আজকের দিনটা।
ফোন ছেড়ে নড়ছে না মাইকেল। অসংখ্য টেলিফোনকল একের পর এক আসছেই। ধৈর্য ধরে সবার কথা শুনছে সে, তারপর সনিকে খবরের সারমর্ম জানাচ্ছে।
ওদিকে টম হেগেনেরও এক মুহূর্ত ফুরসত নেই। সলোযোর সাথে দেখা করার। ব্যাপারে শর্তাবলী আদান প্রদানের জন্যে একজন মধ্যস্থকারী দরকার, উপযুক্ত লোক খুঁজে বের করতে হবে। তুর্ক ব্যাটা একেবারে বেমালুম গায়েব হয়ে গেছে বাতাসের সাথে। তার অবশ্য কারণও আছে। ক্লেমেঞ্জা আর টেনিওর বাটনম্যানরা তার সন্ধানে শহরের প্রতিটি অলিগলি হাতড়ে বেড়াচ্ছে, এ খবর তার অজানা থাকার কথা নয়। টাটাগ্রিয়া পরিবারের মাথাগুলো নিজেদের গোপন আস্তানায় গা ঢাকা দিয়েছে, ধরে নেয়া হলো সলোযো তাদের কোলের ভিতরই লুকিয়ে আছে। শত্রুপক্ষ, প্রাথমিক সতর্কতা অবলম্বন করবে, এটাই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছে সনি।
পলি গাটোকে নিয়ে ক্লেমেঞ্জাও ব্যস্ত। টেসিওকে ভার দেয়া হয়েছে লুকা ব্রাসিকে খুঁজে বের করার। ডনের গুলি খাওয়ার আগের রাত থেকে কোন খবরই নেই তার, খুব অশুভ লক্ষণ এটা। কিন্তু লুকা বেঈমানী করেছে বা কেউ অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে মেরে ফেলেছে, একথাও বিশ্বাস করতে পারছে না সনি।
হাসপাতালের কাছাকাছি পারিবারিক কোন বন্ধুর বাড়িতে রয়ে গেছেন সনির মা। এই সঙ্কটে জামাই কার্লো রিটসি কোন সাহায্য করতে পারে কিনা জানতে চেয়েছে, উত্তরে তাকে বলা হয়েছে নিজের ব্যবসা দেখাশোনা করছে, তাই করুক, এদিকে তার মাথা গলাবার দরকার নেই, ম্যানহাটনের ইতালীয় এলাকায় রেস-এর সাথে জড়িত অত্যন্ত লাভজনক একটা ব্যবসার মালিক সে এখন, ডন কর্লিয়নিই তাকে এ ব্যবসাতে বসিয়েছেন। শহরে মার কাছেই আছে কনি, ঘনঘন যাতে হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখে আসতে পারে।
ফ্রেডিকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ওষুধ খাইয়ে এখনও ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে তাকে। দেখে চমকে ওঠার মত চেহারা হয়েছে তার। যেন কত যুগ ধরে অসুস্থ। তাকে দেখে বাইরে বেরিয়ে এসে অবাক হয়ে সনি মাইকেলকে বলল, এমন <লো কি করে! একটাও গুলি খায়নি, অথচ বাবার চেয়ে রুগ্ন দেখাচ্ছে ওকে।
উত্তর না দিয়ে কাঁধ ঝাঁকাল মাইকেল। যুদ্ধের সময় এসব দেখা আছে তার। তবে ফ্রেড যে এতটা নাড়া খাবে ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি ও। ছোটবেলায় এই ফ্রেডই ছিল সবচেয়ে শক্ত। কিন্তু হলে কি হবে, সব ব্যাপারেই পিছু হটে যাবার একটা স্বভাবও ছিল তার, ব্যক্তিত্বও তেমন জোরালো ছিল না। বুদ্ধি যে একেবারেই ছিল না তা নয়, কিন্তু যেটুকু ছিল, তাতে ধার ছিল না এতটুকু। নির্মম তো সে কোনোকালেই নয়। ব্যবসাতে মেজ ছেলেটি যে উন্নতি করতে পারবে না, একথা অনেকদিন আগেই বুঝে নিয়েছিলেন বাবা।
