অবশ্য, এত ঝামেলায় না গিয়ে পলিকে আরও সহজে খুন করা যায়। নজরবন্দী রাখা হয়েছে, পালাতে পারবে না। কিন্তু সব কাজ নিয়ম ধরেই হওয়া চাই, এবং যার যা প্রাপ্য তাকে তা নিতেই হবে, রেহাই পাওয়া চলবে না।
ফিকে নীল রঙের ক্যাডিলাকটা ধুচ্ছে আর চিন্তা করছে সে, পলিকে কি কথা বলবে, কখন কি রকম হবে তার মুখের ভাব ইত্যাদি।
কথা বলবে কম, অসন্তুষ্ট হয়েছে এরকম একটা ভাব দেখাতে হবে। সন্দিগ্ধ স্বভাব গাটোর, বুদ্ধিটাও ধারাল, সদ্ভাব প্রকাশ করলেই সতর্ক হয়ে উঠবে। অন্যমনস্কতার ভান করে বিরক্তি দেখাতে হবে। কিন্তু রকোকে দেখে ভীষণ ঘাবড়ে যেতে পারে পলি। ড্রাইভিং সীটে হাতে হুইল নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় এমনিতেই অসহায় মনে হবে নিজেকে তার, তার উপর রকো যদি মাথার পিছনে থাকে, ঘাবড়ে তো যাবেই পলি। তাহলে উপায়? সাথে আরেকজন লোক নিলে কেমন হয়? না। কারণ ভবিষ্যতের কথা কিছুই বলা যায় না। ভবিষ্যতে কে ওর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে না দেবে এখনও তা বলা যায় না। ওর জবানবন্দীর বিরুদ্ধে দুজন কথা বললে বিপদ গুরুতর আকার ধারণ করবে। না, আগের উপায়টাই ভাল।
আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া আছে, শাস্তিদানের ব্যাপারটা চেপে রাখা হবে না। অর্থাৎ, লাশটা খুঁজে পাওয়া যাবে।
লাশ লুকিয়ে ফেলার জন্যে সাধারণত নাগালের কাছে মহাসাগর অথবা নিউজার্সিতে পারিবারিক বন্ধু বান্ধবদের জমি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, বিশেষ কারণ দেখা দিলে নানান জটিল উপায় অবলম্বন করা হয়। কিন্তু পলি গাটোর লাশ গুম করা যাবে না দুটো কারণে। এক, তার লাশ দেখিয়ে সম্ভাব্য বিশ্বাসঘাতকদের মনে ভয় ঢোকাতে হবে। দুই, শত্রুদেরকেও সতর্ক করা দরকার-কর্লিয়নিরা নির্বোধ এবং দুর্বল নয় এটা তাদেরকে বোঝাতে সাহায্য করবে লাশটা।
ধোঁয়া মোছর পর ঝকঝকে ক্যাডিলাকটাকে বিশালএকটা নীল রঙের ইস্পাতের তৈরি ডিমের মত দেখাচ্ছে। কাজের শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ একটা বুদ্ধি পেয়ে গেল ক্লেমেঞ্জা। সব সমস্যার চমৎকার একটা সমাধান বের করে ফেলেছে সে।
পরিবারগুলোর লড়াই ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করলে সবাই তখন পরিচিত আবাসস্থল ছেড়ে গোপন ফ্ল্যাটে অস্থায়ী আস্তানা গাড়ে। সেই সব ফ্ল্যাটে সৈনিকরা তোষক বিছিয়ে রাতে শোয়। এই ব্যবস্থার অনেক সুবিধে আছে। সাধারণত বিশ্বস্ত, একজন কাঁপোরেজিমিই খুঁজে পেতে বের করে গোপন আস্তানা, সেখানে অনেকগুলো তোষকের ব্যবস্থা রাখা হয়। এই গোপন আস্তানা থেকে গা ঢাকা দিয়ে বেরিয়ে সৈনিকরা হামলা চালায় শত্রুদের উপর। এখন ক্লেমেঞ্জা যদি গোপন আস্তানা খুঁজতে বেরোয়, সেটা কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার হবে না। আস্তানার জন্যে তোষক, আসবাব মোগাড় করার জন্যে তার সাথে লোক থাকা দরকার–সুতরাং গাটো আর রকোকে নিচ্ছে সে। আপন মনে হাসল ক্লেমেঞ্জা। কথাটা শুনেই অতি লোভী পলি ভাববে এই তথ্যের বিনিময়ে সলোযোর কাছ থেকে কত টাকা আদায় করা সম্ভব।
ঠিক সময়ে এসে পৌঁছুল রকো ল্যাম্পনি। পূব কথা বলল তাকে ক্লেমেঞ্জা। বিস্ময়ে, কৃতজ্ঞতায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল রকোর মুখ। সমীহের সাথে ধন্যবাদ জানাল সে। তার কাধ চাপড়ে দিয়ে বলল ক্লেমেঞ্জা, আজ থেকে তোমার রোজগার কিছু বাড়বে। তবে এ-বিষয়ে এখন কোন আলোচনা নয়। বুঝতেই তো পারছ, হাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে আমাদের।
রকো জানাল, এসব ব্যাপারে সে ধৈর্য ধরতে জানে।
সেফ খুলে একটা পিস্তল বের করে রকোকে দিল ক্লেমেঞ্জা। পলির সাথে গাড়িতেই ফেলে রেখো এটা। সূত্র ধরে এর মালিককে খুঁজে বের করা সম্ভভ নয় কারও পক্ষে।
একটু পরই এল পলি গাটো। বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়েছে সে। পিছনে রকোকে নিয়ে গাড়ির কাছে হাজির হলো ক্লেমেঞ্জা। সামনের সীটে গাটোর পাশে, গম্ভীর মুখে বসল সে। বিরক্তির সাথে রিস্ট ওয়াচ দেখল একবার। ভাবটা এই রকম, পলি যেন আসতে দেরি করেছে।
ঘাড় ফিরিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে ক্লেমেঞ্জার দিকে তাকিয়ে আছে পলি। পিছনের সীটে ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ হতেই ভিউ মিররে তাকাল সে, রকো ল্যাম্পনিকে দেখেই কেমন যেন আড়ষ্ট হয়ে উঠল। অন্য ধারে সরে বসো, রকো। তোমার মত লম্বা চওড়া লোক ওখানে বসলে ভিউ মিররে কিছুই দেখতে পাব না।
সুবোধ বালকের মত সরে আরেক ধারে বসল রকে।
সনিটার দ্বারা কিচ্ছু হবে না, বুঝলে? ঝাঁঝ মেশানো বিরক্তির সুরে বলল ক্লেমেঞ্জা। এত ভয় পেলে চলে নাকি। চিন্তা করো, এখুনি তোষক পাততে চাইছে সে। একটু বিরতি নিয়ে আবার মুখ খুলল সে, পলি, রকোকে সাথে নিয়ে নতুন আস্তানার জন্যে লোকজন, আসবাব সব যোগাড় করতে হবে তোমাকে। কবে নাগাদ বাকি সৈনিকরা এই আস্তানায় জড়ো হবার হুকুম পাবে তা অবশ্য এখনও ঠিক হয়নি। আস্তানার জন্যে ভাল কোন জায়গার সন্ধান জানো নাকি?
মুহূর্তের জন্যে চোখ দুটো লোভে চকচক করে উঠল পলির, তা লক্ষ করে মনে মনে হাল ক্লেমেঞ্জা।
চমৎকার ভান করে যাচ্ছে রকো। জানালা দিয়ে উদাস চোখে বাইরে তাকিয়ে আছে সে।
ভেবে দেখি, কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল পলি।
গাড়ি চালাতে চালাতে ভাব, মেজাজ খারাপ করে বলল ক্লেমেঞ্জা। আজই আমি নিউইয়র্কে পৌঁছুতে চাই।
অপ্রয়োজনীয় একটা কথাও হলো না গাড়িতে। ওয়াশিংটন হাইটসের দিকে যেতে বলল পলিকে ক্লেমেঞ্জা। ওখানে কয়েকটা ফ্ল্যাট বাড়ি দেখে নিয়ে আর্থার এভিনিউয়ে চলে এল। পলিকে গাড়ি থামাতে বলল সে।
