তারপর ভাবছে ক্লেমেঞ্জা, এই পদে যে আসবে তার আয়ের ব্যবস্থা কি করা হবে সেটাও একটা সমস্যা। ডনকে সে অনেকদিন থেকেই বলছে বাটন-ম্যানদের রোজগারের রাস্তা বড় করা দরকার, কিন্তু ডন সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছেন। পলি গাটোর রোজগার আরও বেশি হলে সলোহোর টোপ হয়তো গিলত না সে।
মনে মনে সম্ভাব্য তিনজন প্রার্থীর একটা তালিকা তৈরি করল ক্লেমেঞ্জা।
এনফোর্সার বলা হয় যে লোকটাকে তার কথা প্রথমে বিবেচনা করল ক্লেমেঞ্জা। হার্লেমের নিগ্রো পলিসি ব্যাঙ্কার-দের সাথে কাজ করে সে, শক্তিমান প্রকাণ্ডদেহী, সবার সাথে তার বলিবনা আছে–আবার তাদের মনে ভয় ঢোকাতেও তার জুড়ি নেই। কিন্তু আধঘণ্টা ভাবনাচিন্তা করে তালিকা থেকে তার নামটা কেটে দিল ক্লেমেঞ্জা। নিগ্রোদের সাথে বড় বেশি মাখামাখি করে লোকটা, তারমানে নিশ্চয়ই তার চরিত্রে কোথাও গলদ আছে। তাছাড়া, যে পদ থেকে তাকে তুলে আনা হবে সে পদের জন্যে উপযুক্ত লোক জোগাড় করাও কঠিন হবে।
দ্বিতীয় লোকটাকেই দেয়া যেতে পারে পলি গাটোর পদটি, প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল ক্লেমেঞ্জা। প্রচণ্ড পরিশ্রমী লোক সে, সব কাজ নিপুণভাবে শেষ করে, সংগঠনের কাজে পাকা কর্মী। প্রথমদিকে বুকমেকারের চর ছিল সে, এখন কর্লিয়নিদের লাইসেন্স প্রাপ্ত মহাজনদের কাছ থেকে ডেলিঙ্কোয়েন্ট অর্থাৎ অবহেলিত অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে। কিন্তু এখনও সে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদের যোগ্যতা অর্জন করেনি।
শেষ পর্যন্ত রকো ল্যাম্পনি নামে একজন লোককে নির্বাচন করল ক্লেমেঞ্জা। অল্পদিন হলো কর্লিয়নি পরিবারে যোগ দিয়ে হাতে কলমে কাজ শিখছে বটে, কিন্তু এরই মধ্যে কাজ দেখিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে সে। আফ্রিকাতে যুদ্ধ করে আহত হয়েছে লোকটা, সামরিক বাহিনী থেকে ছাড়া পেয়েছে উনিশশো তেতাল্লিশ সালে। আহত হবার ফলে একটু খুঁড়িয়ে হাঁটে, কিন্তু সে সময় অল্প বয়েসি লোকজনের খুব অভাব বলে বাধ্য হয়ে কাজে লাগিয়েছিল তাকে ক্লেমেঞ্জা। সেই ক্ষুদ্র পদ থেকে ধাপে ধাপে উঠে রকৌ ল্যাম্পনি আজ গোটা সংগঠনের পরিত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় গুণ ওর সূক্ষ্ম বিচার বোধ। অল্প দাম দিয়ে দামী জিনিস কেনার অদ্ভুত একটা প্রবণতা রয়েছে ওর। গায়ের জোর এবং হুমকি হলো ওর সেই অল্প দাম, এই দাম দিয়ে বড় বড় মুনাফা লাভের পক্ষপাতী ও। যে অপরাধ করলে সামান্য একটা জরিমানা অথবা বড়জোর ছয় মাসের জেল হতে পারে সে অপরাধ তেমন লাভজনক নয়, তাই গায়ের জোর বা হুমকি একেবারে না খাটালে নয় বলেই খাটায় ও। ওর বুদ্ধির এমনই গভীরতা যে এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভীত প্রদর্শন না করে অল্প অল্প ছোটখাটো ভয় দেখিয়ে কাজ উদ্ধার করে নেয়।
রকো ল্যাম্পনিকে নির্বাচিত করে ক্লেমেঞ্জা সিদ্ধান্ত নিল আজকের কাজটায় সে নিজে উপস্থিত থাকবে। এবং তাকে সাহায্য করবে রকো। নতুন একজন লোককে বাস্তব জ্ঞান দেবার উদ্দেশ্যে কাজের সময় সশরীরে সেখানে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়নি সে, সিদ্ধান্তটা নিয়েছে পলি গাটোর সাথে তার নিজের একটা হিসাব নিকাশ আছে বলে। শুধু কর্লিয়নি পরিবারের সাথে নয়, পলি গাটো ক্লেমেঞ্জার সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সাংঘাতিক অপমানিত হয়েছে সে। এই অপমানের প্রতিশোধ নেয়া দরকার।
আগেই পলি গাটোকে বলে রাখা হয়েছে সে যেন বেলা তিনটের সময় নিজের গাড়িতে তুলে নেয় ক্লেমেঞ্জাকে।
রকো ল্যাম্পনিকে ফোন করল ক্লেমেঞ্জা এবার। নিজের পরিচয় না দিয়ে শুধু বলল, কাজ আছে, আমার বাড়িতে এসো।
ঠিক আছে, বলল রকো। এই ভোরেও তার কণ্ঠস্বরে ঘুমের জড়তা বা বিস্ময়ের সুর নেই লক্ষ্য করে খুশি হলো ক্লেমেজা।
তাড়াহুড়োর কিছু নেই, বলল ক্লেমেঞ্জা। তবে বেলা দুটোর পর আর দেরি করো না।
আবার সংক্ষিপ্ত ঠিক আছে ভেসে এল অপরপ্রান্ত থেকে। রিসিভার রেখে দিল ক্লেমেঞ্জা।
আরেকটা কাজের কথা মনে পড়ল তার। প্রাঙ্গণে টেসিওর দলের জায়গায় ওর দলের লোকেরা জায়গা নেবে। এ ব্যাপারে আগেই নির্দেশ দিয়ে রেখেছে, সে নিজের লোকজনকে। তারা অন্তত দক্ষ, ঠিকঠাক পালন করবে নির্দেশ। সুতরাং এ কাজের ব্যাপারেও চিন্তার কিছু নেই।
ক্লেমেঞ্জা ঠিক করল ক্যাডিলাকটাকে ধোবে সে। খুব প্রিয় গাড়ি এটা তার। চলার সময় একটুও শব্দ করে না। গদিগুলো এত দামী আর আরামদায়ক যে দিনটা ভাল থাকলে গাড়িতে বসে ঘন্টাখানেক সময় কাটায় সে-বাড়িতে বসে থাকার চেয়ে অনেক লোভনীয় সেটা। তারপর মনে পড়ল, বাবা বলতেন, গাধার গা ধুইয়ে দেবার সময় তার নাকি বুদ্ধি খুলত। কথাটা তার জন্যেও সত্যি। গাড়ি ধোবার সময় তারও বুদ্ধি খুলে যায়।
শীত সহ্য হয় না তার, গরম গ্যারেজে দাঁড়িয়ে কাজ করছে সে, আর চিন্তাভাবনা করছে। পলি ছুঁচোর মত চালাক, বাতাসে বিপদের গন্ধ পায়। এগোতে হবে খুব সাবধানে। তবে যতই শক্তিমান থোক, ডন বেঁচে আছেন শুনে নিশ্চয়ই ঘন্টায় ঘন্টায় প্যান্ট নষ্ট করে ফেলছে। গাধার পাছায় পিঁপড়েদের ভিড় জমলে সে যেমন ছটফট করে, এর অবস্থাও তাই হয়েছে।
রকোকে সাথে নেবার একটা অজুহাত দাঁড় করাতে হবে। তাছাড়া, তিনজনের একত্রে কোথাও যাবার একটা বিশ্বাসযোগ্য উদ্দেশ্য না দেখাতে পারলে সন্দেহ জাগবে তার মনে।
