ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল সনি। বলল, মাইক, তোরও সাবধানে থাকা উচিত। অবশ্য, ব্যবসার সাথে জড়িত নয়, এমন কাউকে নিয়ে সলোযো টানাহেঁচড়া করবে বলে মনে করি না আমি। তা করলে সবাই বিরক্ত হবে ওর ওপর। তবু, সাবধানের মার নেই।
এরপর টেসিওর দিকে ফিরল সনি। বলল, তোমার সব লোককে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখো। শহরের কোথায় কি ঘটছে, খুঁটিনাটি সব খবর তোমার কাছ থেকে পেতে চাই আমি।
বিশালদেহী ক্লেমেঞ্জার দিকে তাকাল সনি। বেশি দেরি না করে পলি গাটোর ব্যাপারটা ইতি করো। তারপর টেসিওর লোকদের ছেড়ে দিয়ে তোমার লোকদের হাতে তুলে দাও উঠানের দায়িত্ব। টেসিওর দিকে আবার ফিরল সনি। হাসপাতালে তোমার লোকই থাকুক।
কনসিলিয়রির দিকে তাকাল সনি। বলল, কাল সকালে তোমার প্রথম কাজ সলোযো আর টাটাগ্লিয়ার সাথে আলোচনা শুরু করা! ফোন করে অথবা লোক পাঠিয়ে, যেভাবে ভাল মনে করবে, যোগাযোগ করো ওদের সাথে।
ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেণ্ড চুপ করে থাকল সনি। কি যেন ভাবছে সে।
সবাই ধৈর্য ধরে বসে আছে, সনির নির্দেশ অনুযায়ী কিভাবে কি করতে হবে তার একটা ছক তৈরি করে নিচ্ছে মনে মনে।
মাইক, বলল সনি, ক্লেমেঞ্জার দুজন লোককে সাথে নিয়ে লুকার বাড়িতে যাবি তুই কাল। যতক্ষণ সে ফিরে না আসে বা কোন খবর না পাস, অপেক্ষা করবি ওখানে। একটু থেমে চিন্তিত ভাবে আবার বলল সে, পাগলটা হয়তো.খবর শুনেই সোযোকে খুঁজতে বেরিয়ে গেছে। টাকার লোভে গড ফাদারের সাথে বেঈমানী করেছে এ আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না।
হেগেন ইতস্তত করছে দেখে তার দিকে তাকাল সনি, চোখে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি।
কাঁধ ঝাঁকাল কনসিলিয়রি, তারপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলল, মাইককে খোলাখুলিভাবে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। ওকে এসবের বাইরে রাখলেই বোধহয় ভাল হয়।
তাই তো! ঠিক বলেছ তুমি, টম, সায় দিয়ে বলে উঠল সনি। মাইক, কোথাও যেতে হবে না তোকে। তার চেয়ে জরুরী কাজটাই বরং কর তুই, এখানে বসে ফোন সামলা।
কথা বলল না মাইকেল। সঙ্কোচ, লজ্জা বোধ করছে ও খারাপ লাগছে এই ভেবে যে এ-বাড়িরই ছেলে হওয়া সত্ত্বেও ওর উপর তেমন আস্থা নেই কারও। সবাই ধরেই নিয়েছে, এই বিপদে সে কোন গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য করতে অক্ষম। আরেকটা ব্যাপার দৃষ্টি এড়ায়নি ওর। ক্লেমেঞ্জা আর টেসিওর চেহারায় কোনরকম ভাবের প্রকাশ নেই। ভাবল, নিশ্চয়ই ওরা অসন্তোষ আর ঘৃণা লুকাবার চেষ্টা করছে। মৃদু কাধ ঝাঁকিয়ে ক্রাডল থেকে রিসিভার তুলল ও। ডায়াল করল। শুনতে পাচ্ছে লুকা ব্রাসির বাড়িতে ফোনটা বাজছে। বেজেই চলেছে।
১.৬ একফালি তাজা ইতালীয় রুটি
০৬.
ভোর।
একফালি তাজা ইতালীয় রুটি, পুরু এক টুকরো জোনোয়ার সসেজ, এক গ্লাস গ্রাপা এবং সবশেষে চীনামাটির জাগ ভর্তি ধুমায়িত কফি পান করে নাস্তা সারল ক্লেমেঞ্জা। ড্রেসিং গাডন আর লাল চামড়ার স্যাণ্ডেল পরে পায়চারি করছে সে, দিনের শুরুতেই আজকের কাজের কথাগুলো ভেবে নিচ্ছে। কাল রাতে সনি কর্লিয়নি পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে পলি গাটোর ব্যাপারটা দেরি করা চলবে না। তার মানে আজই ব্যবস্থাটা করতে হবে।
বেশ একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে ক্লেমেঞ্জা। ওর অধীনে থেকে পলি গাটো বেঈমানী করেছে বলে নয়। যা ঘটেছে তার জন্যে একজন ক্যাপোরেজিমির বিচার বুদ্ধিকে দোষ দেয়া চলে না। পলি গাটোর অতীত সম্পর্কে সবাই জানে, তাকে অবিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠেনি কখনও। সিসিলীয় পরিবারের ছেলে সে, একই পাড়ায় কর্লিয়নিদের ছেলেদের সাথে খেলাধুলো করে বড় হয়েছে, স্কুল পর্যন্ত লেখাপড়া শিখেছে। কাজে নেবার আগে সব রকম ভাবে পরীক্ষাও করা হয়েছিল তাকে, কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছিল সে। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে এই পরিবারের কাছ থেকে ভাল বোজগারের সুযোগও আদায় করে নিয়েছিল–ঈস্ট সাইডের জুয়া ব্যবসার অংশ পেত, ইউনিয়ন থেকেও টাকা নিত। নিয়মের বাইরে গায়ের জোর দেখিয়েও এখান সেখান থেকে টাকা খেত সে, জানত ক্লেমেঞ্জা। এতে তার দক্ষতাই প্রমাণ হয়েছে। এ-ধরনের ছোটখার্ট নিয়ম ভাঙাকে সজীব প্রাণচাঞ্চল্য বলেই মনে করত তারা। তাগড়া ঘোড়া যেমন তার লাগামের সাথে লড়ে। জোর করে টাকা তোলার সময় কখনও কোন হাঙ্গামার সৃষ্টি করেনি পলি। কেউ আহত হয়নি কখনও। যাই হোক, ছেলেছোকরাদের হাত লম্বা হলে সুবিধেই হয় তাতে। কাজে আগ্রহ বাড়ে। পলির ব্যাপারটা তাই ভাল চোখেই দেখা হয়েছে। কিন্তু সে যে বেঈমানী করে বসবে:ত কে ভেবেছিল!
পলি এখন কোন সমস্যা নয়। তার শাস্তির ব্যবস্থা করা দৈনন্দিন আর সব কাজের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। ব্যবস্থাপনার বিষয়টা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে ক্লেমেঞ্জা। নিচে থেকে কাকে টেনে তুলে পাটোর জায়গায় বসাবে সে? কে লাভ করবে পদোন্নতি?
কর্লিয়নি পরিবারে পদের বিশেষ গুরুত্ব আছে। সদ্য শূন্য পদটির নাম বাটন ম্যান। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ, যাকে তাকে এ পদে বসানো হয় না। শক্তি এবং বুদ্ধি তার থাকতেই হবে, হতে হবে অতি বিশ্বস্ত। মৌন থাকার সিসিলীয় মন্ত্র, যার নাম ওমের্তা; সেই মন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে তাকে, প্রাণ নিয়ে টানাটানি পড়ে গেলেও যে পুলিশের কাছে মুখ খুলবে না।
