কৌতূহলী হয়ে উঠল মাইকেল, বলল, আচ্ছা, লুকার ব্যাপারটা কি? সবাই তাকে সাংঘাতিক কিছু একটা বলে মনে করে। সত্যিই কি সে তাই?
লুকা ব্রাসি? মুগ্ধ মুখভঙ্গি করে মাথা নাড়ল সনি! সে একাই একশো। টাটাগ্লিয়াদের পিছনে লেলিয়ে দেব ওকে। সলোযোর ব্যবস্থা আমি নিজে করব।
অবস্তি বোধ করছে মাইকেল। বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছে, মাঝেমধ্যে অদ্ভুত একটা আক্রোশ আর নিষ্ঠুরতা দেখা গেলেও মনটা আসলে ভাল সনির। অথচ সেই সনি কেমন শান্তভাবে, ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করার কথা বলছে। কাকে কাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে তার তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে সে টেসিও. আর ক্লেমেঞ্জাকে–সে যেন সিংহাসনে আসীন রোমের একজন প্রতাপশালী সম্রাট। নিজের কথা ভেবে স্বস্তি বোধ করল মাইকেল। বাবা বেঁচে আছেন, সুতরাং প্রতিশোধ নেবার জন্যে এই গণ্ডগোলে তাকে জড়িয়ে পড়তে হবে না। টুকটাক সাহায্য করবে, ফাইফরমাশ খাটবে, টেলিফোন ধরবে,-তার বেশি কিছু না। সনি, এবং সুস্থ হয়ে উঠে বাবা, এরা নিজেরাই নিজেদের ব্যবস্থা করতে পারবে। তাছাড়া লুকা যখন আছে, চিন্তার কিছু নেই।
হঠাৎ বাইরে থেকে একটা মেয়েলি কণ্ঠের চিৎকার ভেসে এল।
ব্যাপার কি, ভাবল মাইকেল, গলাটা হেগেনের স্ত্রীর না? ঝট করে উঠে দরজার দিকে এগোল সে।
দরজা খুলে মাইকেল দেখল বাইরের কামরায় উঠে দাঁড়িয়েছে সবাই। টম হেগেন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে কামরার মাঝখানে, তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে তার স্ত্রী।
স্ত্রীকে সোফায় বসিয়ে দিয়ে সিধে হলো: টম হেগেন। মাইকেলের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমাকে দেখে খুব খুশি হয়েছি আমি, মাইক। টেরিসা কাঁদছে। এখনও, কিন্তু তার দিকে না তাকিয়ে দীর্ঘ পদক্ষেপে অফিস কামরায় এসে ঢুকল হেগেন। অদ্ভুত একটা গর্বে মুখটা লাল হয়ে উঠল মাইকেলের। ভাবছে, কর্লিয়নি পরিবারে বৃথাই কি আর দশটা বছর কাটিয়েছে টম। বাবার খানিকটা বৈশিষ্ট্য সে-ও পেয়েছে, সনিও পেয়েছে এবং কি আশ্চর্য বাড়ি থেকে দূরে দূরে কার্টালে কি হবে, বাবার কিছু গুণ তার গায়েও লেগে আছে।
১.৫ ডনের অফিস রূমে
০৫.
ভোর চারটে। ডনের অফিস রূমে গোল হয়ে বসে আছে ওরা পাঁচজন–সনি, হেগেন, ক্লেমেঞ্জা, টেসিও, মাইকেল। অভয় দিয়ে পাশেই নিজেদের বাড়িতে স্ত্রীকে পাঠিয়ে দিয়েছে হেগেন। বাইরে এখনও অপেক্ষা করছে পলি গাটো। টেসিওর। লোকেরা পাহারা দিচ্ছে তাকে। তাদেরকে নির্দেশ দেয়া আছে পলিকে চোখের আড়াল করা চলবে না। কিন্তু পলি এসব কিছুই জানে না।
সবাই গভীর মনোযোগের সাথে কনসিলিয়রির কথা শুনছে। প্রথমে সলোযোর প্রস্তাব সম্পর্কে বলল হেগেন। তারপর গডফাদার বেঁচে আছেন শুনে সলোযোর প্রতিক্রিয়াটা বর্ণনা করল।
সাথে সাথে বুঝলাম আমাকে মেরে ফেলা হবে, বলল সে। কিন্তু ডনের কাছ থেকে কম তো আর শিখিনি, সেগুলোকে কাজে লাগাতেও দেরি করলাম না। তুর্কী খচ্চরটাকে আশ্বাস দিয়ে বললাম, ডন বেঁচে আছেন তো কি হয়েছে, শয্যাশায়ী তো বটে, তাকে বোঝাতে মোটেও বেগ পেতে হবে না আমার। সনির দিকে তাকিয়ে খানিকটা আবদারের, খানিকটা ক্ষমাপ্রার্থনার, খানিকটা কৌতুকের সুরে বলল আবার। সে, দেখো ভাই, রাগ-টাগ কোরো না। ওকে আমার বলতে হয়েছে যে বাপের গদিতে বসার যথেষ্ট আগ্রহ আছে তোমার, বলতে হয়েছে তুমি আমার কথায় ওঠো বসো। ওই গড! আমায় মাফ করো! কুণ্ঠিতভাবে হাসল হেগেন।
মাথা নেড়ে ইশারায় জানাল সনি, কিছু মনে করেনি সে, পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিকই করেছে হেগেন।
টেলিফোনটা হাতের কাছে নিয়ে ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে নাইকেল। হেগেন আর সনিকে খুব মনোযোগের সাথে লক্ষ করছে ও। হেগেন কামরায় ঢুকতেই ছুটে গিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছে সনি, দৃশ্যটা ক্ষীণ একটু ঈর্ষার উদ্রেক করেছে ওর মনে। মনে পড়ে গেছে সনি ওর নিজের বড় ভাই হলেও, দুই ভাইয়ের মধ্যে যতটা ঘনিষ্ঠতা তার চেয়ে সনির সাথে টমের ঘনিষ্ঠতা অনেক ক্ষেত্রে অনেক বেশি।
এবার কাজের কথা হোক, বলল সনি। ঠিক করতে হবে, কি করব আমরা। টেসিওকে ইঙ্গিতে দেখিয়ে বলল, আমরা দুজন একটা তালিকা তৈরি করেছি, সেটা প্রথমে দেখো তুমি। ক্লেমেঞ্জাকে তোমার কপিটা দাও, টেসিও।
আমি মনে করি, মাইকেল বলল, চূড়ান্ত আলোচনায় ফ্রেডিরও উপস্থিত থাকা উচিত।
ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল সনি। নিস্তেজ গলায় বলল, ওর কাছ থেকে সাহায্য পাবার কোন আশাই নেই। ডাক্তার বলেছে, প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়েছে ও, ধকলটা সামলাতে প্রচুর সময় লাগবে। আমি ঠিক বুঝছি না। তবে ফ্রেডি তোর আমার মত নয়, একথা ঠিক। গড় আর বাবা, দুজনকে সমান চোখে দেখে ও। গডকে মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে দেখলে ভক্তের যে অবস্থা হবার কথা, ওরও ঠিক তাই হয়েছে।
ঠিক আছে, ওকে বাদ দাও, তাড়াতাড়ি বলল হেগেন। করণীয় স্থির করার আগে আরেকটা কথা, বলতে চাই আমি। সলোযো শত্রু, শত্রুকে কখনও তুচ্ছ ভাবতে নেই। এই বাড়ি ছেড়ে একপা বেরুনো চলবে না, তোমার। তোমার জন্যে, একমাত্র নিরাপদ জায়গা এই বাড়ি। সলোযোকে আমি এক বিন্দু বিশ্বাস করি না। হাসপাতাল পাহারা দেবার কি ব্যবস্থা করেছ?
পুলিশ ঘিরে রেখেছে। ভেতরে এবং বাইরের প্রতি গজে আমাদের লোকও আছে। নিজের তালিকাটা হেগেনের দিকে বাড়িয়ে দিল সনি। দেখে বলো তুমি কি মনে করো।
