মাথা নেড়ে বলল মাইকেল, ওরা কেউ নয়। সনি একটু আগে আভাসে বলেছে যে কে অপরাধী তা সে টের পেয়েছে, সেজন্যেই এই উত্তরটা দিল মাইকেল। ভোট দেবার প্রশ্ন উঠলে ক্লেমেঞ্জাকে নিরপরাধ বলে ভোট দিতে হয় তার।
মাইকেলের দিকে তাকিয়ে হাসছে সনি। বলল, ভেব না, ক্লেমেঞ্জা নির্দোন কাজটা পলিই করেছে।
মাইকেল লক্ষ করল বিরাট একটা হাঁপ ছাড়ল টেসিও। সে-ও এক ক্যাপোরেজিমি; তাই ক্লেমেঞ্জা নির্দোষ প্রমাণ হওয়াতে খুশি হয়েছে সে। তার ক বিষয়টা আরও একটা কারণে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তা হলো অত্যন্ত উঁচু প একজনকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছিল। ধীরেসুস্থে বলল সে, কাল আনা লোকদের ফেরত নিতে পারব তো?
পরশু, বলল সনি। তার আগে ব্যাপারটা প্রকাশ হোক তা আমি চাই না। এবার আমার ভাইয়ের সাথে ব্যক্তিগত কিছু আলাপ করব। বাইরের ঘরে থাকে তুমি, কেমন? তালিকাটা পরে শেষ করলেও চলবে। ক্লেমেঞ্জাকে সাথে নিয়ে তুমিই এটা করে ফেলো।
ঠিক আছে, কামরা থেকে বেরিয়ে গেল টেসিও।
পলি দোষী জানলে কিভাবে? প্রশ্ন করল মাইকেল।
এ-মাসে অসুস্থতার অজুহাতে তিনদিন কাজে আসেনি পলি, বলল সনি। এই তিন দিনই বাবার অফিসের উল্টোদিকের রাস্তার একটা বুথ থেকে কেউ ফোন করেছিল পলিকে। আজও। ওরা সম্ভবত খোঁজ নিচ্ছিল বাবার সাথে পলি যাচ্ছে, নাকি অন্য কেউ। কাঁধ ঝাঁকাল সনি। যাই হোক, ভাগ্য ভাল যে ক্লেমেঞ্জা দোনা নয়। ওকে এখন আমাদের বড় দরকার।
একটু ইতস্তত করে মাইকেল বলল, একেবারে মরণপণ যুদ্ধ বেধে যাবে নাকি?
সনির চোখ দুটোয় নিষ্ঠুরতার ঝিলিক খেলে গেল। টম এসে পৌঁছলেই শুরু করব আমি। বাবা যতক্ষণ নিষেধ না করেন।
সেক্ষেত্রে বাবা কিছু না বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই তো পারো।
একটু তাচ্ছিল্য এবং কৌতুকের সাথে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল সনি। যুদ্ধে তুই এত পদক পেলি কিভাবে ভেবে পাই না। আমরা বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি, দেখছিস না? যুদ্ধ না করে উপায় নেই আমাদের। আমার একটাই ভয়-টমকে যদি না ছাড়ে?,
রীতিমত বিস্মিত হলো মাইলে, কেন, ছাড়বে না কেন?
ধৈর্যের সাথে, বুঝিয়ে দেয়ার ভঙ্গিতে বলল সনি, বাবাকে মেরে ফেলতে পেরেছে মনে করে টুমকে হাইজ্যাক করেছিল ওরা, টমকে দিয়ে যাতে প্রস্তাব পাঠাতে পারে আমার কাছে। কিন্তু বাবা বেঁচে যাওয়ায় আমি আর কিছু নই ওদের কাছে, তাই টমও ওদের কোন কাজে আসছে না। তাকে ওরা যা খুশি করতে পারে এখন-খুনও করতে পারে, আবার ছেড়েও দিতে পারে। খুন করার একমাত্র অর্থ হবে আমাদেরকে জানিয়ে দেয়া যে ওদের সাথে লাগলে তার পরিণাম ভাল হবে না, এবং আমাদের ওপর জোর-জবরদস্তি খাটাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওরা।
মৃদু গলায় জানতে চাইল মাইকেল, বাবা মারা যাবার পর প্রস্তাব পাঠালে তুমি আপস করবে, এ-কথা সলোযোর মনে হলো কেন?
সাথে সাথে টকটকে লাল হয়ে উঠল সনির মুখটা। কয়েক মুহূর্তে চুপ করে থাকার পর বলল সে, কয়েক মাস আগে সলোহোর সাথে একটা আলোচনায় বসেছিলাম আমরা। ড্রাগ ব্যবসার একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল সে। বাবা সেটা প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু, নিজের উপর রাগে-অনুশোচনায় কালো হয়ে গেল সনির মুখটা, আমি একটু বেশি কথা বলে ফেলেছিলাম, যার ফলে সলোযো বুঝতে পেরেছিল ওর প্রস্তাবটাতে আমার সমর্থন আছে।
চুপ করে থাকল কিছুক্ষণ সনি, তারপর বলল, এত বড় অন্যায় জীবনে আর করিনি। যাই হোক, বাবার সাথে আমার এই মত পার্থক্য লক্ষ করে সলোযো ভাবল ডন বেঁচে না থাকলে আমার সাথে ব্যবসাটা করতে পারবে সে। বাবা মারা গেলে এই পরিবারের অবস্থা কি দাঁড়াতে পারে তা কল্পনা করতে অসুবিধে হয়নি তার। রাতারাতি অর্ধেক কমে যেত আমাদের ক্ষমতা। বাবার গড়া ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খেয়ে যেতাম আমরা। এই পরিস্থিতিতে ড্রাগের ব্যবসা ধরে নিজেদেরকে রক্ষার চেষ্টা করতাম। অন্তত তাই ভেবেছিল সলোমো, বাবাকে তার এই খুন করার চেষ্টা আর কিছু নয়, এর মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা অন্য কিছু নেই, স্রেফ ব্যবসার একটা চাল মাত্র। অবশ্য আমাকে ব্যবসায় নামিয়ে খুব সাবধানে থাকত সে, কখনও খুব কাছে ঘেঁষতে দিত না, যাতে সরাসরি গুলি করতে না পারি তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে রাখত। এবং একথাও তার জানা আছে যে একবার তার প্রস্তাবে রাজি হলে ভবিষ্যতে আর কখনোই প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে লড়াই শুরু করতে পারব না আমি। অন্য পরিবারগুলো যেভারে থোক বাধা দেবে আমাকে। আপোস হয়ে যাবার পর শান্তিভঙ্গ করার চেষ্টা একটা মারাত্মক অন্যায় বলে মনে করবে সবাই।
বাবা মারা গেলে কি করতে তুমি?
সরল এবং সত্য কথাটা সহজ ভাবে বলল সনি, সলোযো আর টাটাগিয়া পরিবারকে জড় সুদ্ধ নির্মুল করতাম। তাতে যদি নিউ ইয়র্কের পাঁচটা পরিবারের সাথে যুদ্ধ করতে হত–তাও করতাম। তাতে যদি এই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ডুবতে হত–তাও ডুবতাম।
একটু ইতস্তত করল মাইকেল, তারপর ধীর ভঙ্গিতে, মৃদু কণ্ঠে বলল, তুমি যেভাবে নিচ্ছ, বাবা কিন্তু সেভাবে নিতেন না।
হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ করল সনি, বলল, জানি, বাবার মত আমি হতে পারিনি। কিন্তু তোমাকে বলছি, কথাটা বাবাও জানেন, যখন সত্যি কাজের সময় আসে তখন যে কোন দক্ষ লোকের মত সবদিক আমিও সামলাতে পারি। সলোযো, ক্লেমেঞ্জা, টেসিও-এদেরও জানা আছে ব্যাপারটা। শেষ পরিবারিক লড়াইয়ে বাবাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছি আমি। সুতরাং, সামলাতে না পারার ভয় আমার মধ্যে নেই। তাছাড়া, এ-ধরনের পরিস্থিতিতে লড়াই করার সবচেয়ে ভাল আয়োজন আমাদেরই রয়েছে। এখন শুধু লুকার জন্যে অপেক্ষা করছি, সে এলেই কাজ শুরু করব।
