এসব ব্যাপার এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভাবছে হেগেন। সবচেয়ে আগে লং বীচে, কর্লিয়নিদের দুর্ভেদ্য কেল্লার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যেতে হবে তাকে। আপনার কথার মধ্যে মুক্তি আছে, একথা বত ডনও স্বীকার করতেন। এই পরিস্থিতিতে ডন কি রতেন, তাও বুঝতে পারি আমি। তিনি আপনার প্রস্তাব মেনে নিতেন।
হ্যাঁ, সলোমো একটু গম্ভীর হয়ে বলল, তোমার সাথে আমি একমত। সেকেলে বলেই তাকে মরতে হলো, কিন্তু তার ব্যবসা-বুদ্ধির প্রশংসা না করে উপায় নেই।
কিন্তু সনিকে রাজি করাতে পারব, এখানে বসে সে প্রতিশ্রুতি আপনাকে আমি দিতে পারি না, ধীর গলায় কথাগুলো বলল হেগেন। এইটুকু বলতে পারি, আমার তরফ থেকে চেষ্টার কোন ত্রুটি হবে না।
মাথা ঝাঁকিয়ে নরম গলায় সলোযো বলল, গুড, ওইটুকুই চাই আমি তোমার কাছ থেকে। ব্যবসায়ী মানুষ আমি, রক্তপাতের দাম বহুত চড়া, তাই ওসব ভালবাসি না।
ঝন ঝন করে বেজে উঠল টেলিফোনটা। হেগেনের পিছনে দাঁড়ানো একজন লোক এগিয়ে এসে রিসিভার তুলল। কি শুনল সে কে জানে, মুখটা কালো হয়ে গেল নিমেষে, বলল, আচ্ছা, দিদি, খবরটা।
সনোযোর দিকে তাকাল লোকটা। রিনির নামিয়ে রাখছে ক্র্যাডলে। তার। দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। হেলে লক্ষ করল, লোকটার কাপুনি ধরে গেছে। এগিয়ে গিয়ে সলোমোর পাশে গিঁয়ে দাঁড়াল সে, নিচু হয়ে তার কানে কানে কিছু বলল।
মুহূর্তে রক্তশূন্য ফ্যাকাসে হয়ে গেল সলোযোর চেহারা। হিংস্র একটা আক্রোশ ফুটে উঠল দুই চোখে।
অজানা আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠল হেগেনের। সলোযো তীব্র দৃষ্টিতে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে, সাংঘাতিক কোন মতলব ফঁদছে যেন।
ঘন অন্ধকারে বিদ্যুৎ চমকে উঠল যেন, হেগেন পরিষ্কার বুঝে ফেলল তাকে এখন আর ছেড়ে দেয়া হবে না। প্রতিকূল এমন কিছু ঘটেছে, এখন আর তাকে মেরে না ফেলে সলোযোর কোন উপায় নেই।
শালা বুড়ো মরেনি! দাঁতে দাঁত ঘষে বলল সলোযো। চেহারাটা বিকৃত হয়ে উঠেছে তার, ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর দেখাচ্ছে তাকে। পাঁচটা গুলি খেয়েও টিকে আছে এখনও।
হেগেনের দম বন্ধ হয়ে এল। অদ্ভুত একটা স্বস্তির পরশ অনুভব করল সে। হঠাৎ উপলব্ধি করছে, এখন আর সে নিঃসঙ্গ নয়। গডফাদার যেন ঠিক তার পাশেই উপস্থিত রয়েছেন।
কাঁধ ঝাঁকাল সলোযো। ভঙ্গিটা আত্মসমর্পণের। উপায়ও নেই তার এখন নিজেকে সম্পূর্ণ ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেয়া ছাড়া। ডন কর্লিয়নি বেঁচে থাকা মানে গোটা পরিস্থিতি ওর বিরুদ্ধে চলে যাওয়া।
হেগেনের চোখে চোখ রেখে আবার কাঁধ ঝাঁকাল সলোযো। মুখে অসহায়। ভাব ফুটিয়ে বলল, আমিও ডুবলাম, তুমিও ডুবলে-দুৰ্ভগ্য আর কাকে বলে!
১.৪ প্রবেশ পথটা শিকল দিয়ে আটকে রাখা
০৪.
প্রবেশ পথটা শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। আটটা বাড়ির ফ্রাড লাইটের আলোয় দিনের মত উজ্জ্বল হয়ে আছে প্রাঙ্গণটা। ধনুকের মত বেঁকে যাওয়া কংক্রিটের রাস্তায় দশ-বারোটা গাড়ি দেখতে পাচ্ছে মাইকেল। লোহার শিকলটার উপর ভর দিয়ে যে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে তাদের একজন জিজ্ঞেস করল, কে?
নিজের নাম বলল মাইকেল।
কাছের বাড়িটা থেকে একজন লোক বেরিয়ে এসে খুঁটিয়ে দেখল মাইকেলকে, তারপর প্রহরীদেরকে বলল, ডনের ছোট ছেলে ইনি। তারপর মাইকেলকে বলল, ভিতরে আসুন।
বাড়ি ভর্তি লোক, কিন্তু সবাই অচেনা, শেষ পর্যন্ত ড্রয়িংরুমে ঢুকে হেগেনের স্ত্রী টেরিনাকে পেল, মাইকেল। একটা সোফায় পা গুটিয়ে বসে সিগারেট খাচ্ছে। সামনের কফি টেবিলটাতে হুইস্কি ভর্তি একটা গ্লাস। সোফার আরেক ধারে ভাবলেশহীন মুখে মোটাসোটা ক্যাপোরেজিমি ক্লেমেঞ্জা বসে আছে, তার কপালের ঘাম আর হাতের চুরুটে লেগে থাকা থুথু উজ্জ্বল আলোয় চকচক করছে।
মাইকেলের হাত ধরে নাড়া দিল ক্লেমেঞ্জা, সান্তনার সুরে বলল, তোমার বাবাকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন তোমার মা-গুর্ন সুস্থ হয়ে উঠবেন।
একটা চেয়ার ছেড়ে করমর্দনের জন্যে উঠে দাঁড়াল পলি। মাইকেল জানে, পলি গাটো বাবার দেহরক্ষী। কিন্তু পলি আজ বাড়ি থেকে বেরোয়নি, তা এখনও জানে না ও। তাই কৌতুক মেশানো কৌতূহলের সাথে পলির দিকে তাকিয়ে থাকল।
পলির তীক্ষ্ণ চেহারার মধ্যে চাপা উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। চটপটে আর দক্ষ বলৈ সুনাম আছে তার। হাঙ্গামার সৃষ্টি না করে নানা ধরনের সূক্ষ্ম কাজ সারতে জুড়ি নেই ওর। লোকটার জন্যে দুঃখ হলো মাইকেলের এই ভেবে যে আজ সে তার দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
ড্রয়িংরুমে এখানে সেখানে আরও অনেকেই বসে আছে। কাউকে চেনে না মাইকেল। তবে এরা ক্লেমেঞ্জার দলের কেউ নয়। দেখেশুনে পরিষ্কার বুঝতে পারছে সে, বিশ্বাসঘাতক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে ক্লেমেঞ্জা আর গাটোকে।
ফ্রেডি কেমন আছে? জানতে চাইল সে।
ডাক্তার ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে ওকে, বলল ক্লেমেঞ্জা।
ঝুঁকে পড়ে হেগেনের স্ত্রী টেরিসার গালে একটা চুমো খেলো মাইকেল। খুব ভাল সম্পর্ক দুজনের মধ্যে। চিন্তা কোরো না, নিচু গলায় বলল ও, নিরাপদে আছে টম। সনির সাথে কথা হয়েছে তোমার?
মাইকেলের একটা হাত শক্ত করে ধরে কয়েক সেকেণ্ড স্থির হয়ে থাকল টেরিসা, তারপর মাথা দোলাল। এমনিতে আশ্চর্য সুন্দরী, তার উপর মাথা দোলনোটা অদ্ভুত সুন্দর লাগল মাইকেলের হাত ধরে টেনে তুলল তাকে। সাথে করে নিয়ে গেল শেষ প্রান্তে রাবার অফিস কামরায়।
