পারছি, বলল সনি। এইমাত্র ঘুম থেকে তুলেছে তাকে স্ত্রী। শরীরটা তাজা ঝরঝরে।
কোন ভূমিকা করল না ফিলিপস। বলল, অফিসের বাইরে কেউ তোমার বাবাকে গুলি করেছে। এই মিনিট পনেরো আগে। ফ্রেঞ্চ হাসাপাতালে আছেন উনি। আঘাতগুলো মারাত্মক। ফ্রেডিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছেচেলসি থানায়, ছাড়া পেলেই একজন ডাক্তারকে দিয়ে ওকে পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভাল হয়। আমি এখন হাসপাতালে যাচ্ছি, যখন যা খবর হয় জানাব তোমাকে।
স্বামীর চেহারা লাল, ৰীভৎস হয়ে উঠতে দেখে ভয় পেয়ে গেল সা; ফিসফিস করে জানতে চাইল, কি হয়েছে?
অধৈর্যের সাথে স্ত্রীকে চুপ করতে ইশারা করে সনি প্রশ্ন করল, বাবা বেঁচে আছেন কিনা ঠিক জানো?
জানি, বলল ফিলিপস। মারাত্মক ভাবে আঘাত পেয়েছেন, তবে বেঁচে আছেন।
ধন্যবাদ। হাজার ডলার পাবে,কাল সকালে। বাড়ি থেকো।
ফোন নামিয়ে রেখে নিজেকে স্থির রাখার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করছে,সনি। জানে, প্রচণ্ড রাগই হলো ওর নিজের সবচেয়ে বড় দূর্বলতা। এবং এটা এমন একটা অভাবিত পরিস্থিতি যখন এই রাগই গোটা পরিবারটার সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।
সবচেয়ে আগে দরকার টমকে খবর দেয়া। ফোনের দিকে হাত বাড়াতে যাচ্ছে সনি, ঝন ঝন শব্দে বেজে উঠল সেটা। ঘোড়দৌড়ের একজন বুক মেকারের ফোন, টাকা দিয়ে ডনের অফিস এলাকায় রাখা হয়েছে তাকে। জানাল, ডন কর্লিয়নি মারা গেছেন। সনি জেরা করে বুঝল বুক মেকারকে যে খুবরটা দিয়েছে সে ডনের কাছাকাছি যায়নি। ডিটেকটিভ ফিলিপসের খবরটাই সত্যি, নতুন খবরটাকে গুরুত্ব দিল না সে। এরপরই ফোন করল ডেলি নিউজের রিপোর্টার। সে নিজের পরিচয় দিতেই যোগাযোগ কেটে দিল সনি।
এবার হেগেনের বাড়িতে ফোন করল সে। টম ফিরেছে?
না।
হেগেনের স্ত্রীকে বলল সনি, টম বাড়ি ফিরলেই আমাকে যেন ফোন করে।
নিঃশব্দে বসে ভাবছে সনি। কাজটা যে সলোযোর তা সে প্রথমেই ধরে নিয়েছে। কিন্তু ডনের মত মহারথীকে আক্রমণ করার দুঃসাহস তার থাকতে পারে না। তার মানে একাজে অন্যান্য ক্ষমতাবানদের সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছে সে।
আবার টেলিফোন। অপরপ্রান্তের কণ্ঠস্বর আশ্চর্য নরম আর অস্বাভাবিক শান্ত লাগল সনির কানে। কে, সান্তিনো কর্লিয়নি?
বলছি।
টম হেগেন আমাদের হাতে, অপর প্রান্ত থেকে বলছে লোকটা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে তাকে, আমাদের প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছে সে। আগে তার মুখ থেকে আমাদের বক্তব্য শুনুন, তার আগে কিছু করে বসবেন না, তাতে শুধু অশান্তিরই সৃষ্টি হবে। যা হবার তা তো হয়েই গেছে, এবার মাথা ঠাণ্ডা রেখে বুদ্ধিমানের মত নির্দেশ মেনে চলতে হবে সবাইকে। দয়া করে আপনার সেই বিখ্যাত রাগটা দেখাবেন না! কণ্ঠস্বরে মৃদু ব্যঙ্গের সুর। সনির মনে হলো, গলাটা সলোযোর হতে পারে।
নিচু, ম্লান সুরে সে বলল, বেশ। ক্লিক করে একটা শব্দ হলে সাথে সাথে। চট করে রিস্টওয়াচটা দেখে নিল সে, তারপর টেলিফোন কলটার নির্দিষ্ট সময় টেবিল কুথের উপর লিখে রাখল।
রান্নাঘরের টেবিলে মাথা নিচু করে বসে ভাবছে সনি।
কি হয়েছে, সনি? জানতে চাইল সাণ্ডা।
স্ত্রীর দিকে তাকাল সনি। বাবাকে গুলি করেছে ওরা, শান্ত ভাবে বলল সে। কিন্তু সাণ্ডার মুখ বিকৃত হয়ে উঠছে দেখে মারমুখো হয়ে উঠে কর্কশ গলায় আবার বলল, চেঁচামেচিকোরো না, বাবা বেঁচে আছেন। ভয়ের আর কিছু নেই।
আবার ফোন এসেছে।
মোটাসোটা ক্লেমেঞ্জা হাঁপাচ্ছে অপর প্রান্তে। তোমার বাবার খবর পেয়েছ?
তবে মারা যাননি তিনি, বলল সনি। তারপর দুজনেই অনেকক্ষণ চুপ করে থাকল।
অবশেষে নিস্তব্ধতা ভাঙল ক্লেমেঞ্জাই, আবেগে রুদ্ধ হয়ে উঠছে তার কণ্ঠস্বর। থ্যাঙ্ক গড! থ্যাঙ্ক গড! পরমুহূর্তে উদ্বেগের সাথে বলল, ঠিক খবর পেয়েছ? আমি শুলাম।
বাবা বেঁচে আছেন, বলল সনি। ক্লেমেঞ্জা র প্রতিটি উচ্চারণের উত্থান পতন, স্বরের সূক্ষ্ম ভাব ইত্যাদি গভীর মনোযোগের সাথে শুনতে চেষ্টা করছে সে। আবেগটাকে খাঁটি বলেই মনে হলো তার। কিন্তু সেই সাথে একথাও মনে পড়ে গেল যে ভাল অভিনয় করাটা এই লোকের কাজেরই একটা অঙ্গ।
খেলা এবার তোমাকে চালিয়ে যেতে হবে, বলল ক্লেমেঞ্জা। কি করতে হবে বলে দাও আমাকে।
বাবার বাড়িতে চলে যাও তুমি, পলি গাটোকে ডেকে নাও।
হাসপাতালে আর তোমাদের বাড়িতে লোক পাঠাতে হবে না?
না, বলল সনি। শুধু তোমাকে আর পলি গাটোকে চাই আমি।
আবার দীর্ঘক্ষণ চুপচাপ থাকল ওরা। ব্যাপারটা কি বোঝার চেষ্টা করছে ক্লেমেঞ্জা।
পরিবেশটাকে একটু স্বাভাবিক করার জন্যে আবার বলল সনি, সে হারামজাদা করছেটা কি? গেছে কোথায়?
এখন আর হাঁপাচ্ছে না ক্লেমেঞ্জা। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কথা বলছে সে। সর্দি লেগেছে বলে বাড়ি থেকে আর বেরোয়নি পলি। শীতকালটা অসুখ বিসুখেই কাটল ওর।
হঠাৎ সজাগ হয়ে উঠল সনি। গত দুমাসে কবার বাড়ি ছেড়ে বেরোয়নি ও, জানো?
বেশ কয়েকবার তো হবেই,বলল ক্লেমেঞ্জা। আমি তো হাজার বার জিজ্ঞেস করেছি অন্য লোক দরকার কিনা; কিন্তু ফ্রেডির একই উত্তর, দরকার নেই। বিপদ আপদ দেখা দেয়নি, দশটা বছর নির্বিমে কেটেছে, তাই তেমন গুরুত্ব দিইনি
হু, বলল সনি। পলিকে নিয়ে বাবার বাড়িতে এসো, ওখানে দেখা হবে। রিসিভারটা খটাং করে রেখে দিল সে।
খুঁপিয়ে কাঁদছে সাণ্ডা, তার দিকে তাকিয়ে বেসুরো গলায় বলল সনি, নিজেদের লোক ফোন করলে বাবার ব্যক্তিগত নাম্বারে পাওয়া যাবে আমাকে। আর কেউ ফোন করলে কিছু জানো বলে স্বীকার করবে না। টমের স্ত্রীকে বলবে, কাজে বেরিয়েছে, ফিরতে দেরি হবে টমের। একটু চিন্তা করল সে, তারপর আবার বলল, দুজন লোককে এখানে রেখে যাচ্ছি। সাার চোখে ভয় দেখে বিরক্ত হলো সে। ভয় পেয়ো না, বেশি, অস্থির হয়ো না-খুব জরুরী না হলে ফোন কোরো না আমাকে।
