কিন্তু না, কনি শুধু জানতে চাইল, বড়দিনে কি উপহার দিয়ে খুশি করা যেতে পারেবাবাকে। জানতে চাইছে সনি, ফেউ আর মাইকেলকেই বা কি দেয়া যায়? মায়ের উপহারটা আগেই ঠিক করে রেখেছে সে। হেগেনের একটা পরামর্শও পছন্দ হলো না তার, তাই টেলিফোন ছেড়ে দিল তাড়াতাড়ি।
এরপর আবার একটা ফোন এল। চুলোয় যাক সব, কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে নিতে ভাল হৈগেন। অফিস থেকে কেটে পড়বে এবার সে। কিন্তু টেলিফোনটা না ধরে এড়িয়ে যাবার কথা একবারও ভাল না। সেক্রেটারি এসে জানাল ফোনে ডাকছে মাইক কর্লিয়নি।মনটা খুশি হয়ে উঠল এবার হেগেনের। মাইককে ওর খুব ভাল লাগে। ১ টম, টেলিফোনে বলল মাইকেল কর্লিয়নি, বড় দিনের আগেই জরুরী একটা কথা বলতে চাই বাবাকে। কে-কে নিয়ে কাল আমি শহরে যাচ্ছি, বাবা বাড়িতে থাকবেন তো?
তা থাকবেন, বলল হেগেন। তোমার জন্যে কিছু করার আছে আমার?
ডনের মতই তার এই ছোট ছেলেটির স্বভাব খুব চাপা। সে বলল, না। ধন্যবাদ, টম। বড় দিনে দেখা হবে, কেমন? লং বীচে সবাই থাকবে তো?
থাকবে, বলল হেগেন। গল্প-গুজবের ধার দিয়ে না গিয়ে মাইক রিসিভার নামিয়ে রাখতে মৃদু একটু হাসল সে।
বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হতে পারে, কিন্তু তার জন্যে যেন খাবার রাখা হয়, এই কথাটা স্ত্রীকে জানাবার দায়িত্ব সেক্রেটারিকে দিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ল হেগেন। মেসির দোকানের দিকে হাঁটছে সে, একজন লোক ওর সামনে এসে পথরোধ করে দাঁড়াল। সবিস্ময়ে হেগেন দেখল লোকটা সলোযো।
হেগেনের একটা হাত শক্ত করে চেপে ধরল সলোযো, বলল, ঘাবড়াবার কিছু নেই, আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই তোমাকে। ফুটপাথ ঘেঁষে দাঁড়ানো একটা গাড়ির দরজা ঝট করে খুলে গেল এই সময়। উঠে পড়ো গাড়িতে, ব্যস্তভাবে বলল সে। তোমার সাথে আমার কথা আছে।
হ্যাঁচকা এক টান দিয়ে হাতটা ছাড়িয়ে নিল হেগেন। ঘাবড়ায়নি সে, ভয়ও পায়নি, শুধু বিরক্ত হয়েছে। এখন আমি সময় দিতে পারব না।
এই সময় পিছনে দুই জোড়া বুট জুতোর শব্দ কানে ঢুকল হেগেনের। নিমেষে সব বুঝে ফেলল সে। হঠাৎ অবশ, দুর্বল হয়ে উঠল তার পা দুটো।
নরম সুরে বলল সলোয়য, উঠে পড়ো। আমরা চাইলে এতক্ষণে তুমি মরে যেতে। তেমন কোন ইচ্ছে আমাদের নেই, বুঝতেই পারছ। আমাকে বিশ্বাস করতে পারো।
সলোযোকে বিশ্বাস না করেই গাড়িতে উঠল হেগেন।
.
হেগেনকে সত্যি কথাটা বলেনি মাইকেল কর্লিয়নি। নিউ ইয়র্কে আসলে সে আগেই পৌচেছে, ফোন করেছিল হোটেল পেনসিলভেনিয়ার একটা কামরা থেকে।
মাইকেল রিসিভার নামিয়ে রাখছে, ওর দিকে চোখ রেখে অ্যাশট্রেতে গুঁজে নিভিয়ে দিচ্ছে সিগারেটটা কে অ্যাডামসু, বলল, বাহ, চমৎকার মিথ্যে কথা বলতে পারো তো!
বিছানায় ওর পাশে বসল মাইকেল। পারি, বলল সে, শুধু তোমার জন্যে। বাড়ির ওরা যদি জানে এখানে রয়েছি আমরা, এক্ষুণি, ডেকে পাঠাবে। ডিনার, থিয়েটার, একসাথে ঘুমানো-চুলোয় যাবে সব। বিয়ের আগে এসব আমাদের বাড়িতে চলে না। কে-কে জড়িয়ে ধরল মাইকেল, আলতোভাবে একটা চুমো খেলো তার ঠোঁটে।
ধীরে ধীরে কে-কে বিছানার উপর শুইয়ে দিল মাইকেল। আদর পাবার উন্মুখ প্রত্যাশায় চোখ বুজে অপেক্ষা করছে কে। বড় মিষ্টি মুখ, অপার আনন্দে ভরাট মনে ভাবছে মাইকেল, যুদ্ধের রক্তাক্ত দিনগুলোয় ঠিক এই রকম মিষ্টি চেহারার একটা মেয়ের স্বপ্ন দেখত সে। কে-কে পেয়ে ধন্য হয়ে গেছে ও। জীবনের একটা দিবে সার্থকতা এসেছে ওর।
ডিনার খেয়ে থিয়েটার দেখতে যাবে, তার আগে পর্যন্ত সময়টা মত্ত আবেগে প্রেম করে কাটাল ওরা।
বাইরে বেরিয়ে ওরা দেখল উজ্জ্বল আলোকমালায় চারদিক ঝকমক করছে, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো উপচে পড়ছে ক্রেতার ভিড়ে। মাইক জানতে চাইল, বড়দিনের কি উপহার নেবে তুমি?
শুধু তোমাকে নেব, গাড়িতে মাইকের গা ঘেঁষে, তার একটা কাঁধে মাথ রেখে বলল কে। তোমার বাবা আমাকে পছন্দ করবেন বলে মনে হয়?
মৃদু গলায় বলল মাইকেল, সেটা বড় কথা নয়। তোমার মা বাবা আমাকে কিভাবে নেবেন, আমি তাই ভাবছি।
মাথা তুলল কে, কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, যেভাবেই নিক, তাতে কিছু এসে যায় না।
আইনগত অধিকার নিয়ে নিজের নাম বদল করার কথাও ভেবেছি, বলল মাইকেল। কিন্তু কিছু যদি ঘটে, নাম বদলেও লাভ হবে না। তারপর ঠাট্টার সুরে জানতে চাইল, সত্যি তুমি কর্লিয়নি নামটা দিতে চাও?
প্রশ্নটাকে গাম্ভীর্যের সাথে নিল কে; দৃঢ় স্বরে বলল হ্যাঁ।
বড়দিনের হপ্তাটা শেষ হবার আগেই বিয়ে করবে বলে ঠিক করেছে ওরা। দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে গোপনে সারা হবে কাজটা। মাইকেল ভাবছে, ব্যাপারটা বাবাকে অন্তত জানানো দরকার। কিন্তু নিজের মা বাবা সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে কে-র। শুনেই ওরা ভাববে আমি অন্তঃসত্ত্বা, মাইকেলকে বলেছে সে।
মুচকি হেসে মাইকেল বলেছে, আমার ওরাওঁ তাই ভাববে, সন্দেহ নেই।
গীতি নাটক দেখে বাইরে বেরিয়ে এল ওরা, মাইকেলের গায়ে হেলান দিয়ে সে বলল, বিয়ের পর কি পেটাবে তুমি আমাকে, আর তারপর আকাশ থেকে পেড়ে এনে চাঁদ তারা উপহার দেবে?
হাসল মাইকেল, বলল, আমার উচ্চাশার কথা বলা হয়নি তোমাকে! গণিতের অধ্যাপক হব আমি। তারপর জানতে চাইল, হোটেলে ফেরার আগে কিছু খাবে নাকি?
মাথা নাড়ল কে। মাইকেলের চোখে চোখ রেখে অকারণ লজ্জায় লাল হয়ে উঠল সে, মৃদু একটু শিউরে উঠল শরীরটা। সে পুলক অনুভব করছে, বুঝতে একটুও দেরি হলো না মাইকেলের। শীত লাগছে ওর। দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে রাখল কে কে, তারপর চুমো খেলো।
