লাফ দিয়ে গাড়িতে উঠে বসে স্টার্ট দিল পলি। ওদিকে তার লোকেরা ধুমসে পেটাচ্ছে কেভিন মুনানকে। কোন তাড়াহুড়ো নেই ওদের মধ্যে, হাতে যেন অঢেল সময় রয়ে গেছে। এলোপাতাড়ি মারছে না ওরা, শরীরের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে ধীরেসুস্থে একের পর এক ঘুসি চালাচ্ছে। ওদের ওপর নির্দেশ আছে, মাথায় বা পিছনে শিরাড়ার উপর মারা চলবে না। তার মানে ছোকরাদের মৃত্যু চাওয়া হয়নি। তবে সেই সাথে সাবধানের সুরে একথাও জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে ছোকরা দুজন যদি হাসপাতাল থেকে মাসখানেকের আগে ছাড়া পায়, ওদেরকে আবার সেই ট্রাক চালাবার কাজে ফেরত পাঠানো হবে। দুজনেই এককালে মুষ্টিযোদ্ধা ছিল ওরা। টাকা কর্জ দেয়ার এমন ব্যবসা এদেরকে শিখিয়ে দিয়েছে সনি কর্লিয়নি যে রীতিমত আরাম আয়েশের সাথে জীবন কাটাতে পারছে। তাই ছোটখাটো এই কাজটা অত্যন্ত উৎসাহ আর আগ্রহের সাথে করে দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার এই মন্ত সুযোগ ওরা ছাড়েনি।
যেখানেই আঘাত লাগছে সেখানেই চামড়া ফেটে যাচ্ছে কেভিন মুনানের। চেহারাটা চেনা যাচ্ছে না এখন তার। তাকে ছেড়ে দিয়ে প্রাক্তন মুষ্টিযোদ্ধারা আবার ফিরল ওয়াগনারের দিকে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে, সেই সাথে হেলপ, হেলপ করে চেঁচামেচি করছে।
একজন কাঁধে ঘুসি মেরে বসিয়ে দিল তাকে, অপরজন তার হাতটা মুচড়ে ধরে পিঠে প্রচণ্ড এক লাথি মারল। মট করে শব্দ হলো, পাজরের একটা হাড় বোধহয় ভেঙে গেল।
বার থেকে একজন লোক বেরিয়ে আসছে দেখে কাজের গতি দ্রুত করুল ওরা। ওয়াগনার চেঁচাচ্ছে, শব্দের আকৃষ্ট হয়ে ঝটপট খুলে যাচ্ছে বাড়িগুলোর জানালা। আরও লোকজন বেরিয়ে আসছে বার থেকে। কিন্তু কেউ ওদের কাছাকাছি আসছে না বা কিছু বলছে না।
ওয়াগনারের মাথাটা স্থির রাখার জন্যে দুহাত দিয়ে সেটা চেপে ধরুল একজন, দ্বিতীয় লোকটা লক্ষ্য স্থির করে ধই করে ঘুসি মারুল মুখের উপর। যথেষ্ট হয়েছে, চেঁচিয়ে বলল পলি গাটো। চলে এসো এবার।
দৌড়ে এসে গাড়িতে উঠে পড়ল প্রকাণ্ডদেহীরা, সাথে সাথে গাড়ি ছেড়ে দিল পলি। অনেকেই দেখেছে গাড়িটা, নাম্বারও টুকে রাখতে ভুল করেনি, মুচকি হেসে ভাবছে সে, কিছু এসে যায় না তাতে–চুরি করা ক্যালিফোর্নিয়ার নাম্বার প্লেট এটা। তাছাড়া, এক লাখের উপর শেভ্রলে সিডান আছে নিউ ইয়র্ক শহরে।
১.২ নিজের আইন অফিসে টম হেগেন
০২.
বৃহস্পতিবার সকাল। শহরে নিজের আইন অফিসে এসে পৌঁছল টম হেগেন। আগামীকাল ভার্সিল সলোমোর সাথে সাক্ষাৎকারের দিন ঠিক হয়েছে, তাই কাগজ কলমের বাকি কাজ সেরে, গুছিয়ে তুলে রাখতে চায় সে। ডন অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন সাক্ষাৎকারটিকে, নিজেদেরকে প্রস্তুত করার জন্যে গোটা একটা সন্ধ্যা ব্যয় করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি হেগেনকে। সন্ধ্যার মীটিংয়ে হালকা মনে উপস্থিত থাকার জন্যে হাতের কাজ সেরে ফেলতে চাইছে সে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ফিরে এসেই ওলটসের ব্যাপারটা রিপোর্ট করেছিল হেগেন। সব শুনে মোটেও অবাক হননি ডন। হেগেন যখন সেই ছোট সুন্দর মেয়েটার কথা বলল, অসন্তোষে তার মুখের চেহারা বদলে গেল। কী জঘন্য!মৃদু কণ্ঠে মন্তব্য করলেন তিনি। চরম ঘৃণা এবং আপত্তি প্রকাশ করার সময় এই দুটো শব্দ ব্যবহার করেন ডন কর্লিয়নি।
সব শুনে একটি মাত্র প্রশ্ন করলেন তিনি। লোকটার সত্যিকার পৌরুষ আছে কি?
ডনের এই প্রশ্নের অন্তর্নিহিত অর্ধ কি হতে পারে তাই নিয়ে অনেক মাথা ঘামাতে হয়েছে হেগেনকে। দীর্ঘ দিন সান্নিধ্য লাভের ফলে সে জানে সাধারণ মানুষ আর ডনের মূল্যবোধের মধ্যে এত বেশি পার্থক্য রয়েছে যে তার একটা কথার অর্থ সাধারণভাবে যা হওয়া উচিত অনেক সময় তা না হয়ে অনেক বেশি গভীর অর্থ বহন করে।
ঠিক কি জানতে চাইছেন ডন? ওলটসের ব্যক্তিত্ব আছে কিনা? তার মছিবীজোর আছে কি? অবশ্যই আছে। কিন্তু হেগেন বুঝল, ডন এসব জানতে চাননি। কিতে, ধাপ্পায় বিচলিত হয় না, সেই মুরোদ আছে কি নোকটার? সিনেমা তৈরিতে বাধা পড়লে প্রচুর আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করতে হবে তাকে, তার সবচেয়ে বড় অভিনেতা হেরোইনে আসক্ত এই গুজব ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় উঠবে–এসব ঝুঁকি নেবার মত ক্ষমতা আছে কি তার? অবশ্যই আছে। কিন্তু ডন এসবও জানতে চাননি।
প্রশ্নটার সঠিক অর্থ নিজেই বিশ্লেষণ করে আবিষ্কার করতে পেরেছে হেগেন। ডন জানতে চাইছেন, আত্মসম্মান রক্ষার জন্যে, প্রতিশোধ নেবার জন্যে স্ব হারাবার ঝুঁকি নিতেও পিছপা হবে না, এতটা পৌরুষ কি আছে ওলটসের?
বড় একটা হাসে না হেগেন, কিন্তু এই ঘটনা উপলক্ষে মৃদু একটু হেসেছে সে, এবং ডনের সাথে কিঞ্চিত রসিকতা করে বলেছে, আপনি আসলে জানতে চাইছেন ওলটস একজন সিসিলীয় কিনা।
প্রশ্নের অর্থ আবিষ্কার করে ফেলায় হেগেনের বলার মধ্যে একটা আত্মপ্রসাদের সুর ফুটে উঠল, সন্তুষ্টচিত্তে মাথা নেড়ে সেটা এবং প্রশ্নের ব্যাখ্যাটাকে মেনে নিলেন। উন।
পরদিনও এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেছিলেন ডন, এবং বিকেলে হেগেনকে তার বাড়িতে ডেকে কিছু আদেশ দিয়েছিলেন। দিনের বাকি অংশটা সেই আদেশ পালন করতেই কেটে গিয়েছিল হেগেনের। ডনের প্রতি শ্রদ্ধায় অভিভূত হয়ে পড়েছিল সে। তিনি যে সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন, এ ব্যাপারে তার মনে কোন সন্দেহই ছিল না।
