আস্তাবলের দিকে রওনা হলো ওরা। তোমার সম্পর্কে খবর নিয়েছি, বুঝলে? তুমি ডন কর্লিয়নির প্রতিনিধিত্ব করছ একথা আমাকে আগে বলা উচিত ছিল। আমাকে ধাপ্পা দেবার জন্যে থার্ড ক্লাস একজন গুণ্ডাকে পাঠিয়েছে জনি, এই ভেবে নিয়েছিলাম আমি। কি জানো, ধাপ্পাবাজিতে বিশ্বাস নেই আমার। তা সে যাই হোক, ডিনারের পর কাজের কথা হবে।
মেহমানকে আনন্দ দানের মনোবৃত্তি এবং আয়োজন, কোনটারই অভাব নেই ওলটসের। গোটা আমেরিকায় তার আস্তাবলটা যাতে সবচেয়ে নামকরা এবং অত্যাধুনিক হয়ে ওঠে সেজন্যে কি সব নতুন পদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনা কাজে লাগিয়েছে তার একটা ফিরিস্তি দিল সে। প্রতিটি আস্তাবল ফায়ার-ফ, পয়ঃপ্রণালী, পানি নিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা ত্রুটিহীন। একটা ইনভেষ্টিগেশন কার্ম ঘোড়া এবং আস্তাবলগুলোকে পাহারা দেয়। সবশেষে হেগেনকে ওলটস একটা স্টলে নিয়ে গেল, সেটার দেয়ালে প্রকাণ্ড একটা তামার ফলক ঝুলছে, তাতে ওলটসের প্রিয় ঘোড়ার নাম লেখা, খাম।
ঘোড়া সম্পর্কে কিছু না জানলেও খামকে দেখে মুগ্ধ হলো হেগেন। গায়ের রঙটা চকচকে কালো। কপালে সাদা একটা রুহিতন আঁকা। সোনার তৈরি আপেলের মত চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। রেসের সবচেয়ে দামী ঘোড়া, গর্বের সাথে বলল ওলটস। রাশিয়ার জাররাও ঘোড়ার পিছনে এত টাকা কখনও খরচ করেনি, ছয় লাখ ডলার দিয়ে কিনেছি ওকে আমি। কিন্তু ওকে রেসের মাঠে নিয়ে যাব না। বাচ্চা পয়দার কাজে লাগাব। আস্তাবলটাকে আমি এমন ভাবে গড়ে তুলব, দেশের লোকের যেন তাক লেগে যায়। হেগেনের দিকে ফিরে বলল, পঞ্চাশ পেরোবার পর প্রথম ষোড়ায় চড়তে শিখি আমি, কিন্তু সবাই আমাকে একজন ওস্তাদ ঘোড়সওয়ার বলে জানে। চোখ মটকে হাসল সে, বলা যায় না, কোন কসাক হয়তো আমার দাদী বা নানীকে ধর্ষণ করেছিল রাশিয়ায়, সেই শালার রক্ত রয়েছে আমার গায়ে। প্রিয় ঘোড়র পেটে সুড়সুড়ি দিচ্ছে সে। ব্যাটার যন্ত্রটা দেখেছ? আমারটা যদি ওর মত হত!
একজন বাটলার এবং তিনজন ওয়েইটার পরিবেশন করল ডিনার। প্লেট, কাঁটা চামচ সব রূপোর। খাওয়া শেষ করে দুটো চুরুট ধরাল ওরা। কাজটা তাহলে পাচ্ছে না জনি? প্রশ্ন করল হেগেন।
সম্ভব হলো না। কন্ট্রাক্ট সই হয়ে গেছে সব, আজ বাদে কাল থেকে শুটিং শুরু হবে। এখন আর কোনমতে, সভব নয়।
আপনার ইচ্ছার ওপর জোর নেই, বলল হেগেন। চুরুটে ঘন ঘন টান দিয়ে ধোয়া ছাড়ল সে। আমার মনিবকে বলব এ কথা। নাকি অন্য কিছু ভাবছেন আপনি?
শ্রমিকরা একটু গোলমাল করবে, বুঝতে পারছি। প্রতি বছর এক লাখ ডলার ঘুষ খায়, অথচ এ-বিষয়ে আভাস দিতে সাহস পেল গফ ব্যাটা। কি জানো, ছবি তৈরির টাকার জন্যে কারও কাছে হাত পাততে হচ্ছে না আমাকে, যথেষ্ট আছে আমার। তোমার বসকে বলল, তার অন্য যেকোন অনুরোধ রাখতে চেষ্টা করব। জনি ফন্টেনকে দুচোখে দেখতে পারি না আমি।
হেগেন ভাবছে, নিশ্চয়ই কোন উদ্দেশ্য আছে হারামজাদার, তা নাহলে এতদূর টেনে নিয়ে আসত না তাকে। ঠাণ্ডা গলায় বলল সে, মনে হচ্ছে অবস্থাটা বোঝেননি আপনি। মি. কর্লিয়নির সাথে জনির সম্পর্কের মধ্যে আশ্চর্য একটা পবিত্রতা রয়েছে, তিনি ওর ধর্মপিতা। ধর্মের প্রসঙ্গ উঠতে শ্রদ্ধায় মাথা নিচু করল ওলটস। আপনাকে জানানো কর্তব্য বলে মনে করছি, আমার মালিকের মনটা খুবই স্পর্শকাতর, দ্বিতীয়বার কোন অনুরোধ করার আগে তিনি স্মরণ করেন তাঁর প্রথম অনুরোধটা রক্ষা করা হয়েছিল কিনা।
কাঁধ ঝাঁকাল ওলটস। সত্যি, খুবই দুঃখিত। উপায় নেই, তাই কিছু করতে পারলাম না। কিন্তু তুমি যখন সামনে রয়েছ, এসো না, সম্ভাব্য শ্রমিক অসন্তোষের ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলি। কত টাকা? ক্যাশ দেব। এখুনি।
ডনকে তোয়াক্কা করছে না ওলটস, জনিকে সুযোগ না দেবার ব্যাপারে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সে বুঝতে পেরেও মাথা ঠাণ্ডা রাখল হেগেন। ভাবছে, বিস্তর টাকার মালিক লোকটা, এফ, বি, আই-এর কর্তার সাথে বন্ধুত্ব, অনেক রাজনৈতিক নেতা তার পৃষ্ঠপোষকতায় চলে, ছায়াছবির জগতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই রকম একজন নোক কোন দুঃখে ভয় পাবে ডন কর্লিয়নিকে? নিজের প্রতিষ্ঠা পরিমাপ করে যে-কোন বুদ্ধিমান লোককে স্বীকার করতেই হবে, সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে ওলটস। তবে, এই বিশ্লেষণে একটা কিন্তু রয়েছে। ডন কর্লিয়নি জনিকে কথা দিয়েছেন ভূমিকাটা তাকে পাইয়ে দেবেন। হেগেন জানে, কথা রাখার জন্যে সম্ভাব্য সব কিছু করে থাকেন তিনি।
শান্তভাবে বলল হেগেন, আপনি আমাকে ইচ্ছা করে ভুল বুঝছেন। আমার মালিক কথা দিচ্ছেন, বন্ধুত্বের বিনিময়ে সম্ভাব্য শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাবেন তিনি, বিনিময়ে আপনি তার ধর্মপুত্রকে কাজটা দেবেন। সে যাই হোক, বোঝাই যাচ্ছে, আপনি মন স্থির করে ফেলেছেন। তবে আমি বলব, মস্ত ভুল করতে যাচ্ছেন আপনি।
রেগে ওঠার এই সুযোগটা হাতছাড়া করল না ওলটস মাফিয়াদের পুরানো কায়দায় ভয় দেখাচ্ছ আমাকে, এই তো? এতে কাজ হবে না, যাও। চরিত্রটা জনির জন্যে সবচেয়ে মানানসই, আমি জানি, কিন্তু ধড়ে প্রাণ থাকতে ওই ভূমিকায় অভিনয় করতে দেব না ওকে আমি। তার কারণটাও জেনে রাখো। আমার পোষ মানানো একটা মেয়ের সর্বনাশ করেছে ও। পাঁচ বছর ধরে লাখ লাখ ডলার খরচ করে তাকে আমি নাচ গান অভিনয় শিখিয়েছিলাম, অমন সুন্দরী মেয়ে, অমন নিতম্বিনী কোটিতে গুটিকয়েক দেখা যায়। পুরুষমানুষকে শুষে নিয়ে ছিবড়ে বানিয়ে ফেলার আশ্চর্য একটা ক্ষমতা ছিল তার। এই রকম মেয়েকে কিনা আমার কাছ থেকে ভাগিয়ে নিয়ে গেল শালা, রীতিমত বোকা বনে গেলাম আমি। আমার যা পজিশন, তাতে কারও চোখে বোকা প্রতিপন্ন হওয়া চলে না, মি. হেগেন। জনিকে আমি শিক্ষা দিতে চাই।
