সৌজন্য দেখাতে কার্পণ্য করল না মাইকেল। এক বছর নাও লাগতে পারে। তার আগেই সব ব্যবস্থা করে ফেলার সুযোগ পাবে তোমরা। তবে, আমাদের মধ্যে কেউ যদি চাও চিরকাল কর্লিয়নি পরিবারের সাথে থেকে যাবে, তাতেও কোন বাধা। নেই। কিন্তু আমাদের ক্ষমতার কেন্দ্র এবং উৎস হবে পশ্চিমে, সেখানে তোমরা হয়তো নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারবে না। আমার তো মনে হয় স্বাধীনভাবে। পরিবার গড়লেই ভাল করবে তোমরা।
অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে আবার মুখ খুলল টেসিও। তাই যদি হয়, তাহলে দলে নতুন লোক ভর্তি করার অনুমতি দাও আমাকে। বেজন্মা শয়তান বার্জিনিয়া আমার এলাকায় ঢুকে রোজই থাবা মারছে। ভদ্রতা কাকে বলে তা একটু শিখিয়ে দেয়া দরকার ওদেরকে।
এদিক ওদিক মাথা নাড়ল মাইকেল। না, বলল ও। দল বড় করে লাভ নেই কোন। বাবা মারছে, মারুক, মারতে দাও-কোনরকম অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখাতে যেয়ো না। ভেব না তোমাদেরকে অসহায় বা দুর্বল অবস্থায় এখানে ফেলে রেখে যাব আমরা। সবদিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তোমাদের সমস্ত সমস্যা মিটিয়ে দেয়া হবে আমরা চলে যাবার আগেই।
কিন্তু টেসিওকে এত সহজে সন্তুষ্ট করতে পারল না মাইকেল। ওকে অসন্তুষ্ট করলে ঝুঁকি নেয়া হয়ে যায়, এ-কথা জানা সত্ত্বেও ঝুঁকিটা নিল টেসিও। মাইকেলের দিকে তাকালই না, সরাসরি ফিরল ডনের দিকে। বলল, গড ফাদার, অপরাধ হয়ে গেলে মাফ কোরো আমাকে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বের দায়িত্বের কথা মনে রেখে কথাটা আমাকে বলতেই হচ্ছে। আমি মনে করি, নেভাডায় চলে যাবার ব্যাপারে তুমি আর তোমার ছেলে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছ। তোমাদের পেছনে যদি এখানের জোবাল শক্তি না থাকে সেখানে গিয়ে সাফল্যের আশা করো কি করে? শক্তি আর সাশ্য, একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটাকে কল্পনা করা যায় না। তাছাড়া, তোমরা এখন না থাকলে বার্জিনি আর টাটাগ্লিয়া জোটের সাথে কোনমতেই এটে উঠব না আমরা। পীট আর আমি একেবারে পানিতে পড়ে যাব। এই আমি বলে রাখছি, দেখো, দুদিন আগে আর পরে, শেষ পর্যন্ত ওদের হাতের মুঠোয় গিয়ে পড়তে হবে আমাদের। ওদের বশ্যতা স্বীকার করাও যা, আত্মসমর্পণ করাও তাই, কিছুদিন পর আমাদের অস্তিত্বই থাকবে না। একটু দম নিল টেসিও। তারপর আবার বলল, বাৰ্জিীন লোকটাকে আমি সহ্যই করতে পারি না। কিন্তু সেটা প্রসঙ্গ নয়। আমি বলতে চাই, একান্তই যদি কর্লিয়নি পরিবারকে জায়গা বদল করতে হয়, সেটা যেন আমাদের জোর আছে বলেই করা হয়, দুর্বলতার জন্যে নয়। ঠিক এই মুহূর্তে আমাদের উচিত ক্লেমেঞ্জা আর আমার দল দুটোকে নতুন করে গড়ে তোলা, সৈনিকের সংখ্যা আরও বাড়ানো, তারপর অন্তত স্টেটেন আইল্যান্ডের হারানো জায়গাগুলোকে আবার কজা করা।
শান্ত ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন ডন কর্লিয়নি। বললেন, আমি ওদের সাথে শান্তি চুক্তি করেছি, মনে নেই? একবার কথা দিয়েছি, সে কথা আমি আর ভাঙতে পারব না।
কিন্তু টেসিওকে কার সাধ্য থামায় আজ। শান্তি চুক্তি করেছ, কিন্তু তারপরও কি বার্জিনিয়া তোমাকে কম খুঁচিয়েছে? সবাই জানে, ওদের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে আছি আমরা। শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন করার জন্যে এর চেয়ে বড় কারণের দরকার হয় না। তুমি কথার খেলাপ করতে চাও না, বেশ, নাই করলে–কিন্তু মাইকেল যদি পরিবারের নতুন নেতা হয়ে থাকে, ওদের বিরুদ্ধে সে কেন ব্যবস্থা নিতে পারবে না? মাইকেল যদি কোন পদক্ষেপ নেয়, তার দায়দায়িত্ব তো আর তোমাকে বইতে হবে না।
তীক্ষ্ণ গলা শোনা গেল মাইকেলের। চেহারাটা শান্ত দেখাচ্ছে ওর, কিন্তু আশ্চর্য একটা কর্তৃত্বের ভাব ফুটে উঠেছে চোখে-মুখে। নেতাসুলভ একটা কাঠিন্য লক্ষ করল সবাই ওর কণ্ঠস্বরে। একটু ধৈর্য ধরো, তোমার সব প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবে তুমি। একটু আগেই তো বললাম, সব দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দুশ্চিন্তা করার কোন কারণই নেই তোমার। আমার মুখের কথা যদি যথেষ্ট বলে মনে না হয়, তোমার ডনকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো।
এতক্ষণে বুঝতে পেরেছে টেসিও, বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে সে। ডনকে এখন কিছু জিজ্ঞেস করতে যাওয়া মানে মাইকেলের শত্রুতা অর্জন করা। শ্রাগ করল সে, বলল, নিজের জন্যে নয়, কর্লিয়নি পরিবারের ভালর জন্যেই কথাটা বলছিলাম আমি। নিজের ব্যবস্থা করে নিতে কোন অসুবিধে হবে না আমার।
ডনকে প্রশ্ন না করে মাইকেলের সম্মান রক্ষা করেছে টেসিও, তাতে খুশি হয়ে আন্তরিকতার সাথে হাসল মাইকেল। তোমাকে আমি কোনদিন অবিশ্বাস করিনি, টেনিও। আজও করছি না। কিন্তু আমি চাই, তুমিও আমার ওপর বিশ্বাস রাখো। এ তো জানা কথা যে তোমার বা পীটের সমান কোনদিনই হতে পারব না আমি। দিন্তু অবসর নিলেও, হাজার হোক বাবা তো বেঁচে রয়েছেন, চাইলে সব রকম পরামর্শই তো তার কাছ থেকে নিতে পারব, ঠিক কিনা? তুমি যেরকম ভয় পাচ্ছ সেরকম দুরবস্থায় পড়ব না আমরা-পরিণাম সবার জন্যেই ভাল হবে, দেখো।
এর খানিক পরই শেষ হয়ে গেল বৈঠক। আজকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, দুই ক্যাপোরেজিমি যার যার আলাদা পরিবার প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি পাবে। ঠিক হয়েছে, ব্রুকলিনের জুয়ার আড্ডাগুলো আর জাহাজঘাটা থাকবে টেসিওর দখলে, ক্লেমেঞ্জা পাবে লং আইল্যাণ্ডে ঘোড়দৌড় জুযায় কর্লিয়নি পরিবারের অংশ আর ম্যান হাটনের জুয়ার আড্ডাগুলো।
