প্রথমে ভেগাস যাত্রার ফলাফল ব্যাখ্যা করল মাইকেল। শেয়ার বিক্রি করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে মো গ্রীন, এই কথার পিঠে একটা আশ্বাসবাণী জুড়ে দিল ও, তবে, এবার এমন একটা প্রস্তাব দেয়া হবে তাকে, প্রত্যাখ্যান করার কথা ভাবতেই পারবে না সে। একটু থেমে একে একে সবার দিকে একবার করে তাকাল ও, তারপর শুরু করল, কর্লিয়নি পরিবারকে পশ্চিমে তুলে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত হয়েছে, একথা সবাই তোমরা জানো। ভেগাসের স্ট্রিপে চারটে হোটেল আর ক্যাসিনোর মালিকানা নিচ্ছি আমরা। তবে, এখুনি রাতারাতি সব কিছু নিয়ে উঠে যাচ্ছি না। সব কিছু গুছিয়ে নিতে বেশ একটু সময় লাগবে। ক্লেমোর দিকে সরাসরি তাকাল মাইকেল, বলল, পীট, তোমাকে আর টেসিওকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি আমি, তোমরা শুধু একটা বছর কোন রম প্রশ্ন না তুলে, কোন আপত্তি না জানিয়ে আমার কথামত কাজ করো। বছরের শেষ দিকে কর্লিয়নি পরিবার থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে যার যার নিজের পরিবার প্রতিষ্ঠিত করবে তোমরা। সকৌতুক হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল মাইকেলের চেহারা। আশা করি এ-কথা না বললেও চলবে যে তোমরা আলাদা পরিবার গড়ে তুললেও আমাদের বন্ধুত্ব আর প্রাতির সম্পর্কটা চিরকালই বজায় থাকবে। সে যাক, আসল কথায় ফিরে আসি অনুরোধটা আবার তোমাদের করছি আমি। এই একটা বছর চোখ-কান বুজে আমার নির্দেশ মেনে চলো তোমরা। মনে কোরো না অন্য কিছু ভাবছি আমি। তা ভাবলে তোমাদেরকে, বাবার প্রতি তোমাদের আনুগত্যকে অপমান করা হয়, সেটা আমি জানি। কিন্তু এই একটা বছর অন্ধের মত অনুসরণ করো আমাকে, এই আমি চাই! জানি, অনেক ব্যাপারে দুশ্চিন্তা আছে তোমাদের। কিন্তু সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি, এমন সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, যার ফলে তোমরা যে-সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না বলে মনে করছ সেগুলোরও সুষ্ঠু সমাধান হয়ে যাবে। একটু ধৈর্য ধরে থাকে, ব্যাস, তোমাদের কাছ থেকে আর কিছু চাই না আমি।
আমার একটা বক্তব্য আছে, মুখ খুলল টেসিও। মো গ্রীন তোমার বাবার সাথে দেখা করে কথা বলতে চাইছে, বেশ তো, বলুক না, তাতে অসুবিধেটা কোথায়? ডন কবে কাকে রাজি করাতে পারেননি, বলো? ওঁর যুক্তির সামনে কেউ কোনদিন দাঁড়াতে পেরেছে?
মাইকেল নয়, টেসিওর প্রশ্নের উত্তর দিলেন ডন নিজেই। বললেন, এসবের মধ্যে কিন্তু আমি নেই। তোমরা তো জানোই, আমি অবসর নিয়েছি। তারপরও যদি মাইকেলের ব্যাপারে নাক গলাই, ওকে অসম্মান করা হয়। তাছাড়া, বিশেষ করে ওই লোকটার সাথে কথা বলার কোন ইচ্ছে আমার নেই।
ফ্রেডির চড় খাওয়া সম্পর্কে একটা গুজব টেসিওর কানেও গেছে, সেটা এখন মনে পড়ে গেল তার। কেমন যেন সন্দেহ জাগল মনে। কথা আর না বাড়িয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল সে। ব্যাপারটা মোটামুটি আঁচ করতে পারছে, সম্ভবত এরই মধ্যে খরচের খাতায় নাম উঠে গেছে মো গ্রীনের। কর্নিয়নি পরিবার তাকে আর রাজি করাতে চায় না।
কার্লো মুখ খুলল এরপর, মাইকেলের কথা যেন ঠিক ধরতে পারেনি সে। কর্লিয়নি পরিবার তবে কি তাদের নিউ ইয়র্কের সমস্ত ব্যবসা উঠিয়ে দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
মাথা দুলিয়ে মাইকেল বলল, হ্যাঁ। জলপাই তেলের ব্যবসাটাও বিক্রি করে দিচ্ছি আমরা। সবটা নয়, কারণ যতটুকু পারা যায় ক্লেমেঞ্জা আর টেসিওকে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে…ভাল কথা, কার্লো, তুমি আবার তোমার চাকরির কথা ভেবে দুশ্চিন্তা কোরো না। তোমার জন্যে ভাল একটা ব্যনস্থার কথা ভেবে রেখেছি আমি। তুমি মানুষ হয়েছ নেভাডায়, ওখানকার লোকজন আর হালচাল সম্পর্কে তোমার মত অভিজ্ঞতা আর কারও নেই–সুতরাং তোমার যদি আপত্তি না থাকে, আমি আশা করে আছি আমরা এখানে শিকড় গেড়ে বসলে তুমিই হবে আমার ডান হাত।
চেয়ারে হেলান দিয়ে আরাম করে বসল কার্লো। আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে তার চেহারা। যাক, ভাবছে সে, এতদিনে তাহলে ভাগ্য খুলল। এই ধরনের কিছু একটার আশাতেই তো অপেক্ষা করে ছিল সে, সেই আশাতেই তো কর্লিয়নি পরিবারের নিরস মেয়েটাকে বিয়ে করেছে। এখন তার হাতে ক্ষমতা আসবে।
কনসিলিয়রির পদে টম হেগেন আর থাকছে না, বলে চলেছে মাইকেল। ভেগাসে ওকে আমি আমাদের উকিল হিসেবে চাই। দুমাসের মধ্যে সপরিবারে ওখানে চলে যাচ্ছে ও, ওখানেই পাকাপাকি ভাবে বসবাস করবে। শুধু আইন, তাছাড়া অন্য কোন বিষয়ে মাথা ঘামাবে না ও। আমার কথার অর্থ সবাই বুঝতে পারলে কি? তার মানে, এখন থেকে কেউ কোন কাজ নিয়ে ওর কাছে যাবে না বোমরা। টমের ব্যাপারে কোন ইঙ্গিত দেবার জন্যে কথাগুলো বলছি আমি তা ভেব না কেউ। প্রত্যেকের জন্যে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা করেছি, শুধু সেগুলো জানিয়ে দিচ্ছি। টমকে এখানে আমার কোন দরকার নেই। আর যদি পরামর্শেরই দরকার হয়, বাবা তো রয়েছেই, তার চেয়ে ভাল পরামর্শ কে আর দিতে পারবে আমাকে?
হেসে ফেলল সবাই।
কিন্তু শেষ কথাটা ঠাট্টার সুরে বললেও, মাইকেলের মূল বক্তব্য বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না কারও, ক্ষমতাশূন্য হয়ে গেল টম হেগেন। এক কথায়, বাদ দেয়া হলো তাকে। প্রত্যেকে একবার চোরা চোখে ওর দিকে তাকাল।
ভাবের কোন চিহ্নমাত্র নেই টম হেগেনের চেহারায়।
সাঙ্ঘাতিক মোটা ক্লেমেঞ্জা নড়েচড়ে বসে ভারি গলায় জানতে চাইল, তার মানে, এক বছর পর আমরা যে যার নিজেরটা বুঝে নিয়ে সরে যাব, তুমি ঠিক এই কথাটাই বলতে চাইছ, নাকি?
