দ্রুত মাথা নাড়ল মো গ্রীন। তাচ্ছিল্যের সাথে বলল, কর্লিয়নি পরিবারের এখন ডুবন্ত অবস্থা, সে গায়ের জোর এখন আর নেই তোমদের। যা খুশি তাই করে বেড়ানো এখন আর তোমাদের পক্ষে ব নয়। গড় ফাদার সুস্থ হলে আলাদা কথা ছিল। অন্যান্য পরিবারগুলো তোমাদেরকে নিউ ইয়র্ক থেকে ভাগিয়ে দিচ্ছে। সেজন্যেই তোমরা মতলব ফেঁদে এখানে পালিয়ে এসে সবার মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবে। কিন্তু সে গুড়ে বালি, সুবিধে করতে পারবে না তোমরা। বরং আমার পরামর্শটা গ্রহণ করো, মাইকেল, অন্য কোথাও আশ্রয় খোজো, এখানে তোমাদের জায়গা নেই। যদি ভাল চাও তো মন থেকে আমার শেয়ার কেলনার কথা মুছে ফেল।
মৃদু গলায় বলল মাইকেল, তবে কি এই সব কথা ভেবেই তুমি সাহস পেয়েছ ফ্রেডিকে সবার সামনে অপমান করার?
চমকে উঠল টম হেগেন। ঝট করে তাকাল সে ফ্রেডির দিকে।
লাল হয়ে উঠেছে ফ্রেডির মুখ। তাড়াতাড়ি বলল সে, আহা, মাইক, ওসব ব্যাপার টেনে আনার দরকারটা কি? ওটা কোন ব্যাপারই নয়। যা ঘটে গেছে, ঘটে গেছে–আমি বা মো কেউ কিছু মনে করিনি। হঠাৎ একজন মানুষের রাগ তো হতেই পারে, মো-রও তাই হয়েছিল। এমনিতে ওর সাথে আমার খুব ভাল সম্পর্ক, আমাদের মধ্যে কোন ব্যাপারে ঝগড়া নেই। কি বলো, মো?,
চেহারায় অদ্ভুত একটা আক্রোশ ফুটে উঠেছে মো গ্রীনের ফ্রেডির দিকে তাকাল সে, বলল, ঠিক। পরমুহূর্তে মাইকেলের দিকে ফিরল। ভাল করে একটা ব্যবসা চালাতে হলে লোকজনদের পাছায় লাথি না মারলে চলে না। ফ্রেডির ওপর খেপে গিয়েছিলাম আমি, কাল হোটেলের সব মেয়ের সাথে প্রেম করতে শুরু করে দিয়েছিল ও, ককটেল-ওয়েট্রেসদেরও বাদ দিচ্ছিল না। ফলে ওরা যে কাজে গাফিলতি করবে সে তো জানা কথা। সাবধান করতে গেলাম, উল্টে আমার সাথে তর্ক জুড়ে দিল। তাই বাধ্য হয়ে ওর গালে চড় মেরেছি আমি। উচিত শিক্ষা দেবার জন্যে দরকার ছিল ওটার।
ভাবের কোন চিহ্নমাত্র নেই মাইকেলের চেহারায়। বড় ভাইয়ের দিকে তাকাল ও, জানতে চাইল, উচিত শিক্ষা হয়েছে তোমার, ফ্রেডি?
মুখ হাঁড়ি করে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল ফ্রেডি, কিন্তু জবাব দিল না।
নিঃশব্দে হাসছে মো যীন। ও শালার কাণ্ড শুনলে মাথা ঘুরে যাবে তোমার, মাইকেল। শুয়োরটা একসাথে দুটো মেয়েকে নিয়ে শুতো, পুরানো সেই স্যাণ্ডউইচের নিয়মে। ফ্রেডির দিকে তাকাল সে। তবে, হ্যাঁ, একশো বার স্বীকার করব আমি, মেয়েগুলোকে সত্যি তুমি একেবারে মজিয়ে ফেলেছিলে, যাকে বলে পুরোপুরি ক্রীতদাস বানিয়ে ফেলা। আমার বিশ্বাস, তুমি ছেড়ে দিলে আর কারও পক্ষে ওদেরকে সুখী করা সম্ভব নয়।
আশ্চর্য হয়ে হেগেনের দিকে তাকাল মাইকেল! দুজনেই বুঝল ফ্রেডির ওপর এটাই ডনের রাগের কারণ। যৌন ব্যাপারে রীতিমত গোড়া তিনি, দুজন মেয়েকে বিছানায় নিয়ে শোয়াটাকে চরম দুর্নীতি ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারেন না। ফ্রেডির ওপর অসন্তুষ্ট হবার আরও বড় কারণ এখন জানতে পারল হেগেন। মো গ্রীনের মত একজন লোকের হাতে ব্যক্তিগত অপমান সহ্য করলে কর্লিয়নি পরিবারের অসম্মান হয়।
চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল মাইকেল। তার কথায় বিদায়ের সুর বেজে উঠল, কালই নিউ ইয়র্কে ফিরে যাচ্ছি আমি, তার মানে রাতেই ডেবে ঠিক করে রেখো কত দাম চাইবে তুমি শেয়ারগুলোর। কাল সকালে জানতে হবে আমাকে।
শুয়োরর বাচ্চা! ভেবেছিস এভাবে আমাকে খসাতে পারবি? হিংস্র ভঙ্গিতে বলল মো গ্রীন। গুণ্ডামি ছেড়ে দেবার আগে তোর চেয়ে ঢের বেশি মানুষ খুন করেছি আমি। নিউ ইয়র্কে যাব আমি। স্বয়ং ডনের সাথে কথা বলব।আমার একটা প্রস্তাব আছে তার কাছে।
ভয় পেয়ে গেল ফ্রেডি, অসহায়ভাবে হেগেনের দিকে তাকাল সে। তুমি তো কনলিয়রি, টম, ডনের সাথে কথা বলে তাকে তুমি পরামর্শ দিতে পারো।
ঠিক এই সময় মাইকেলের হিম-শীতল ব্যক্তিত্বের ক্ষুরধার স্পর্শ অনুভব করল ভেগাসের লোক দুজন। নিচু গলায়, কিন্তু তীক্ষ্ণষরে বলল মাইকেল, ডন কর্লিয়নি আধা-অবসর নিয়েছেন পারিবারিক ব্যবসা এখন আমার হাতে। টম হেগেনকে। আমি কনসিলিয়রির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এখন থেকে আমার উকিল ও। কিছুদিনের মধ্যেই সপরিবারে চলে আসছে এখানে, আইনগত সমস্ত ঝামেলা ও-ই সামলাবে। সুতরাং কারও যদি কিছু বলার থাকে, আমাকেই বলতে হবে। এখন আমিই সব।
কামরার ভেতর জমাট নিস্তব্ধতা। কেউ কথা বলছে না।
মৃদু গলায় আবার বলল মাইকেল, ফ্রেডি, তুমি আমার বড়, তাই তোমার ওপর আমার শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু আজ এই প্রথম আর শেষবারের মত তোমাকে সাবধান করে দিচ্ছি আমি, আর কখনও বাইরের কারও সাথে একজোট হয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলতে যেয়ো না। আজ যা করেছ তুমি তা আমি ডমের কাছে উল্লেখ পর্যন্ত করব না। মো গ্রীনের দিকে ফিরুল মাইকেল। কেউ যদি তোমাকে সাহায্য করতে চায়, তাকে কখনও অপমান করতে নেই। শুনেছিলাম তোমার রাগ একটু বেশি। কিন্তু যুক্তির বিরুদ্ধেও তুমি রাগ দেখাতে কুণ্ঠিত হও না, তা আমার জানা ছিল না। এই রাগ পুষে না রেখে যদি ক্যাসিনো কেন লোকসানে চলছে সেদিকে একটু নজর দিতে, নিজেরই সেবা করা হত সেটা। কর্লিয়নি পরিবার বিস্তর টাকা ঢেলেছে ওতে, কথাটা তুমি ভুলে যেতে চাইলেও আমরা তোমাকে ভুলতে দেব না। এত সব কথা আমাকে তুমি বলতে বাধ্য করলে, কিন্তু তোমাকে গালমন্দ করার জন্যে এখানে আমি আসিনি। তোমাকে সাহায্য করার জন্যে আমার হাত এখনও বাড়িয়ে রেখেছি-তুমি যদি সেই হাতে থুতু ফেল, সেটা তোমার ব্যাপার, তুমি বুঝবে। বলার আর কিছু নেই আমার।
