ঠিক এই মুহূর্তে প্রচণ্ড রেগে আছে মো গ্রীন, কিন্তু অন্যান্য সময় নিজেকে সে সামলে রাখার কোন চেষ্টা করে না, এখন করছে। সুদর্শন চেহারাটা কেমন যেন কদর্য বীভৎস হয়ে উঠেছে। সোজা এগিয়ে এসে মাইকেল কর্লিয়নির সামনে দাঁড়াল সে, হাত রাখল দুকোমরে। কখন তোমার সময় হবে আমার সাথে কথা বলার, সেজন্যে অপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব হলো না, মাইকেল, ভরাট, কর্তৃত্বের সুরে বলল মম গ্রীন। কাল জরুরী কিছু কাজ আছে আমার, তাই ভাবলাম, এখনই ধরব তোমাকে। কিছু বলার আছে তোমার?
নিঃশব্দে মো গ্রীনের দিকে তাকিয়ে আছে মাইকেল! ওর চেহারায় বিস্ময় এবং বন্ধুভাব, দুটোরই ছায়া ফুটে উঠেছে। মৃদু হাসল ও। খুব ভাল করেছ তুমি, গ্রীন, টম হেগেনের দিকে তাকান মাইকেল। গলা ভেজাবার জন্যে ওকে কিছু এনে দাও, টম।
মাইকেল হুকুম করছে টম হেগেনকে, ব্যাপারটা দৃষ্টি এড়াল না মো গ্রীনের।
খবরের কাগজের ওপর দিয়ে মো গ্রীনের দিকে তাকিয়ে আছে অ্যালবার্ট নেরি, দুচোখে শাপদের মত ঠাণ্ডা দৃষ্টি। ওর কাছেই দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মো গ্রীনের বডিগার্ডরা, তাদের দিকে ভুলেও একবার তাকাচ্ছে না নেরি। জানে, হিংসাত্মক ঘটনা ঘটার কোন সম্ভাবনা নেই, অন্তত লাস ভেগাসে নেই। এব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে। কেউ যদি সেই নিষেধ অমান্য করে কোন গোলমাল করে, তার বিচার হবে না, কিন্তু শাস্তি হবে। এত কড়াকড়ির কারণ হলো, ভেগাসে কোন গোলযোগ হলে পুলিশের বদনাম হবে, আর পুলিশের বদনাম হলে তারা অপরাধী এবং বেআইনী ব্যবসায়ীদেরকে আইনের প্রশ্রয় দিতে পারবে না। লাস ভেগাসকে জুয়াড়ীদের তীর্থস্থান করার সমস্ত স্বপ্ন বানচাল হয়ে যাবে।
ঘাড় ফিরিয়ে নিজের বডিগার্ডদের দিকে তাকাল মো গ্রীন। হাত নেড়ে পাইকারীভাবে কয়েকজনকে দেখিয়ে বলল, এদের সবার জন্য কিছু চিপের ব্যবস্থা করো, এরা সবাই হোটেলের খরচায় জুয়া খেলবে এখন। সবাই বুঝল জুলস, লুলি, জনি ফন্টেন আর মাইকেলের বডিগার্ড আলবার্ট নেরিকে কামর থেকে বেরিয়ে যেতে বলছে সে।
ব্যাপারটা হাসিমুখেই মেনে নিল মাইকেল। চমৎকার! সায় দিয়ে বলল ও।
মাইকেল কি বলে শোনার জন্যে অপেক্ষা করছিল অ্যালবার্ট নেরি, এবার সে উঠে দাঁড়িয়ে সবার পিছু পিছু বেরিয়ে গেল কামরা থেকে।
কামরায় রইল ফ্রেডি, টম হেগেন, মো গ্রীন আর মাইকেল।
মদের গ্লাসটা টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল মো গ্রীন। অনেক কষ্টে রাগ চেপে রেখেছে সে, কিন্তু মুখটা তার টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। ভরাট গলায় জানতে চাইল, এসব কি শুনছি আমি, মাইকেল? এত বড় স্পর্ধা হতে পারে কারও, এ তো আমি ভাবতেই পারি না। তোমরা নাকি আমার হোটেলের শেয়ারগুলো সব কিনে নিতে চাও? শোনো তাহলে, নিঃশব্দে হাসছে মো, তোমার বাপকে গিয়ে প্রস্তাব দাও, আমিই তোমাদের সব শেয়ার কিনে নিতে চেয়েছি। যত্তোসব! আমার শেয়ার কেলনার সুর দেখছে, ইহ!
এতটুকু উত্তেজিত হলো না মাইকেল, শান্তভাবে যুক্তি দেখাবার সুরে কথা বলছে সে, কেন তুমি শেয়ারগুলো বেচতে চাও না, সেটা আমাকে বুঝতে দাও, মো। যে-ই খেলতে আসে ক্যাসিনোতে, সেই প্রচুর টাকা জিতে নিয়ে যাচ্ছে, অন্তত সেই রকম হিসেবই দিয়েছ তুমি আমাদের। প্রতিটি বাড়িতেই লোকসান দিচ্ছে ক্যাসিনো! গলদটা কোথায়, ঠিক জানি না আমরা, কিন্তু গলদ যে একটা আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই, তাই না? যে ব্যবসায় প্রতি সেকেণ্ডে লোকসান দিচ্ছ, সেটাকে আঁকড়ে ধরে রাখার পেছনে তোমার উদ্দেশ্য কি? তারচেয়ে পুরোটা ছেড়ে দাও আমাদের হাতে আমরা চেষ্টা করে দেখি গলদটা দূর করতে পারি কিনা
চাপা, কর্কশ শব্দে হেসে উঠল মো ণীন। যত শালার ভুইফোড় আমার কপালে এসে জুটেছে। তোমাদের অবস্থা যখন খারাপ, দম বেরিয়ে যায় যায়, তখন উপকার করার জন্যে ফ্রেডিকে নিলাম আমি, আর তার বিনিময়ে তোমরা এখন আমারই পাছায় লাথি মেরে ভাগাতে চাইছ। নিজেদেরকে কি মনে করেছ তোমরা? শোনা, আমাকে যা তা ধরে নিয়ে কিছু করতে যেয়ো না, তাতে পরে তোমাদের পস্তাতে হবে। আমি আমার শেয়ার বিক্রি করছি না, কেউ আমাকে এখান থেকে তাড়াতেও পারছে না। কর্লিয়নিদের সাথে টক্কর দিতে পারে এমন কিছু বন্ধু-বান্ধব আমারও আছে। তারা আমাকে সমর্থন করবে।
এখনও উত্তেজিত হচ্ছে না মাইকেল। গলায় আওয়াজ চড়ল না ওর, চেহারায় রাগের কোন ছাপ ফুটল না, শান্তভাবে বলল, ফ্রেডিকে তুমি আমাদের উপকার করার জন্যে নাওনি, কর্লিয়নি পরিবার তোমাকে মোটা টাকা দিয়েছিল বলে নিয়েছিলে। তুমি তখন তোমার হোটেলের জন্যে ফার্নিচার কিনতে পারছিলে না, ভুলে গেলে এরই মধ্যে? ক্যাসিনো চালু করার জন্যে মোটা টাকার দরকার ছিল অথচ একটা পয়সা ছিল না তোমার কাছে। এসব ভূলে যাচ্ছ কেন, সেটা কি তোমার উচিত হচ্ছে? আরও ব্যাপার আছে। ফ্রেডির জামিন হয়েছিল শলিনারি পরিবার, তাই তুমি ওকে নিতে রাজী হওয়ায় তারা তোমাকে কতরকম সুবিধে করে দিয়েছে তার হিসেব করে দেখেছ কখনও? কম্মিনি পরিবার তোমার কাছে সামান্য একটু ঋণী যদি হয়েও থাকে অনেকদিন আগেই তা শোধ করে দিয়েছে। যাই হোক, তোমার এত রাগ করার কি আছে তা কিন্তু বুঝতে পারছি না আমি। তুমি কি ভাবছ আমরা তোমাকে ঠকাবার মতলব করেছি? সে রকম কোন ইচ্ছে আমাদের নেই, মো। ন্যায্য একটা দাম বলো তুমি, আমরা ঠিক সেই দামেই কিনে নেব তোমার শেয়ারগুলো। এতে অন্যায়টা কোথায়? তোমার ক্যাসিনো যদি লাভের ব্যাপার হত তাহলে প্রস্তাবটাই তুলতাম না আমরা, কেননা কারও রুজির ওপর হাত দেয়া আমাদের নীতি নয়। কিন্তু ক্যাসিনো তো প্রতি মুহূর্তে লোকসান দিচ্ছে। এটাকে বিক্রি করে দেয়াই তো তোমার জন্যে বুদ্ধিমানে কাজ হবে। একটু চিন্তা করে দেখলেই বুঝবে, আমরা আসলে তোমার উপকার করতে চাইছি।
