মাথা নিচু করে চুপিসাড়ে একটু হাসল টম হেগেন। স্বয়ং ডনও এমন চমৎকারভাবে বলতে পারতেন কিনা সন্দেহ।
লাল হয়ে উঠল জুলস সীগলের মুখ। দেখুন, আমি ঠিক তা বোঝাতে চাইনি। আপনার বাবা এবং আপনার কাছে ঋণী আমি, সে ঋণ অৰীকার করব, এ হতে পারে না। যাই হোক, আমার প্রশ্নটা আমি ফিরিয়ে নিচ্ছি। কি বলেছি, ভুলে যান।
মাথা ঝাঁকিয়ে বলল মাইকেল, ফাইন। হাসপাতালটা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আজ থেকে আপনি এই হোটেল, ক্যাসিনো আর যে হোটেলগুলো তৈরি হয়ে এসেছে তার সবগুলোর মেডিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করে দিন। লোকজন। যা লাগে, বহাল করুন। কেনাকাটার একটা ফর্দ তৈরি করে ফেলুন। আর হ্যাঁ, এখন থেকে আপনি এতগুলো প্রতিষ্ঠানের মেডিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে বেতন পাবেন। বেতন, আনুষঙ্গিক সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে পরে আপনি এক সময় টমের সাথে আলোচনা করে সব ঠিকঠাক করে নেবেন। এবার লুসির দিকে তাকাল মাইকেল। তোমার জন্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা ভেবে রেখেছি আমি। হোটেলগুলোর গ্রাউন্ড ফ্লোরে অনেক দোকান হবে, সেগুলো যাতে একটা নিয়মের মধ্যে বিলি করা হয় এবং ভাড়া আদায় থেকে শুরু করে সমন্বয় রক্ষা পর্যন্ত সমস্ত কাজ যাতে সুষ্ঠু ভাবে সারা যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে তোমাকে। মোট কথা, তুমিই হবে ওদিকটার সর্বেসর্বা। টাকা পয়সা তুমিই সব আদায় করবে। তার ওপর আরও কাজ আছে তোমার। ধরো, ক্যাসিনোর বিভিন্ন কাজে প্রচুর মেয়ে দরকার হবে, তাদের নিয়োগ করার দায়িত্ব নিতে হবে তোমাকে। ব্যাপারটা কি দাঁড়াল তাহলে? হাসল মাইকেল। ডাক্তার জুলস সীল তোমাকে যদি বিয়ে না করে, তুমি অন্তত একজন ধনী আইবুড়ো হতে পারবে।
পরিবেশটা হালকা হয়ে গেছে, আবার হাসছে সবাই। কিন্তু ফ্রেডি হাসছে না।
মুখটা থমথম করছে ওর, ঘন ঘন চুরুট ফুকছে সে। তার দিকে আরেকবার তাকাল মাইকেল, মৃদু গলায় বলল, দেখো, ফ্রেডি, আমার ওপর রাগ করা উচিত নয় তোমার। আমি ডনের স্রেফ একজন মেসেঞ্জার, তার বেশি কিছু না। তোমাকে কি করতে হবে না হবে তা তুমি নিশ্চয়ই জানতে পারবে ডনের কাছ থেকে। আমার ধারণা, তোমার পছন্দ হবে না এমন কাজ তোমাকে করতে বলবেন না তিনি। বিশেষ করে সবাই যখন বলছে তুমি এখানে দারুণ কাজ দেখাচ্ছ।
খানিকটা আশ্বস্ত বোধ করলেও, মনটা খুত খুত করছে ফ্রেডির। তাই যদি হয়, ডন আমার ওগর চটে আছেন কেন? ক্যাসিনোটা লোকসান দিচ্ছে বলে কি? কিন্তু ক্যাসিনোর ওদিকটা আমার দেখবার কথা নয়, ওটা মম গ্রীনের দায়িত্ব। আমার কাজ তো আমি ঠিকমতই করে যাচ্ছি, ওই বুড়ো ভদ্রলোককে খুশি করার জন্যে আর কি করতে পারি আমি?
ওসব ভেবে মন খারাপ কোরো না,কলল মাইকেল। ভাইয়ের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ও, তাকাল জনির দিকে। জানতে চাইল, কত আশা করুলাম, দেখা হবে নিনোর সাথে। কোথায় সে?
শ্রাগ করল জনি। দেখা করার অবস্থা তার থাকলে তো! সাঙ্ঘাতিক অসুস্থ ও, নার্সের হাতে ছেড়ে দিয়ে এসেছি। এদিকে আমাদের ডাক্তার কি বলেছেন জানো? ওকে নাকি পাগল সাব্যস্ত করে কোথাও আটকে রেখে তারপর ওর চিকিৎসা করতে হবে, তা না হলে ওর সুস্থ হবার কোন আশা নেই। ও নাকি একরকম আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। আমাদের নিনো!
অবাক হয়ে গেল মাইকেল। চিন্তিতভাবে কয়েক মুহূর্ত জনির দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলল, নিনো নিজেকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে? এ আবার কি ধরনের কথা! কারও মনে আঘাত দিয়েছে বা কোন নীচ কাজ করেছে বলে তো শুনিনি কখনও। সবকিছু হেসে উড়িয়ে দেয়াই ওর স্বভাব, কিছুতেই যেন কিছু এসে যায় না তার। একটু যা দুর্বলতা আছে বলে জানতাম ওই মদের ওপর।
ওই মদই তো কাল হয়েছে ওর, বলল জনি। মিছিলের মত টাকা আসছে ওর পকেটে। শুধু ছবিতে গান গেয়েই লক্ষ লক্ষ ডলার কামাতে পারে ও। একটা ছবিতে অভিনয়ের জন্যে এখন পঞ্চাশ হাজার ডলার করে পাচ্ছে। একটা কানাকড়িও থাকে, সব উড়িয়ে দেয়। সেই ছোটবেলার বন্ধু ও আমার, একটা খারাপ কাজ করতে দেখিনি কখনও। জানি না কি ভূতে ধরেছে হারামজাদাকে, মদ খেয়ে মরার পণ করেছে শালা।
কি যেন বলতে যাচ্ছিল জুলস, এই সময় নক হলো দরজায়। দরজার সবচেয়ে কাছে বসে খবরের কাগজ পড়ছে অপরিচিত লোকটা, সবাই আশা করল সেই দরজা খুলে দেবে, কিন্তু এক চুল নড়তে পর্যন্ত দেখা গেল না তাকে। যেমন কাগজ পড়ছিল তেমনি পড়তে লাগল। ব্যাপারটা লক্ষ করে অবাক হলো জুলস। দরজা খুলে দিল টম। হেগেন।
হেগেনকে একরকম ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল মো যীন। লম্বা লম্বা পা ফেলে কামরার ভেতর ঢুকল সে। পিছনে দুজন বডিগার্ড।
গুণ্ডা হিসেবে তো বটেই, সুদর্শন পুরুষ হিসেবেও নামডাক আছে মো গ্রীনের। ছয় ফিটের ওপর লম্বা, হাড়গুলো চওড়া, প্রচণ্ড শক্তি রাখে শরীরে। ব্রুকলিনে একটা সংঘবদ্ধ অপরাধী দল ছিল, তাদের ভাড়াটে খুনী হিসেবে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল সে। তারপর বেশি রোজগারের আশায় জুয়ার ব্যবসা শুরু করেছিল। ভালই আয় করছিল জুয়ার আড্ডা বসিয়ে, কিন্তু আরও টাকার লোভে আমেরিকার পশ্চিমে চলে আসে সে। সে-ই সবার আগে টের পেয়েছিল অপরাধীদের জন্যে লাস ভেগাস সাঙ্ঘাতিক সম্ভাবনাময় একটা জায়গা। প্রথম দিকে হাতে গোণা যে কটা হোটেল ক্যাসিনো হয়েছে এদিকে তার একটা ওর নিজেরই তৈরি। ওর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো, হঠাৎ করে প্রচণ্ড রাগে দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মাথায় রক্ত চড়ে গেলে কাউকে গ্রাহ্য করে না সে। সেজন্যেই হোটেলের সবাই যমের মত ভয় করে তাকে। তাদের মধ্যে ফ্রেডি, লসি, জুলস সীগলও বাদ যায় না। এরা সবাই যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে রগচটা মো গ্রীনকে।
