সে দেখা যাবেখন, বলল ফ্রেডি। আগে কিছু মুখে দাও। আমাদের হোটেলে এমন একজন বাবুর্চি আছে যার তুলনা হয় না, একবার খেলে তার হাতের রান্না ভুলতে পারবে না তুমি এখানেই সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে, কিন্তু তার আগে কাপড় চোপড় ছেড়ে গোসল সারো। ওরা সবাই তৈরি হয়েই আছে, তুমি ডাকলেই দেখা করতে আসবে।
সহজ, শান্তভাবে বলল মাইকেল, মো গ্রীনকে সবার শেষে ডেকো, কেমন? জনি আর নিনো খাবে আমাদের সাথে। সি আর ডাক্তারও। ওদের সাথে খেতে বসেই কথা বলব আমি। টম হেগেনের দিকে তাকাল ও। আর কাউকে ডাকতে চাও, টম?
কথা বলল না টম, এদিক ওদিক মাথা নাড়ল শুধু। যতটুকু প্রাপ্য তার চেয়ে অনেক কম খাতির করেছে তাকে ফ্রেডি। কারণটা অবশ্য বুঝতে পারছে হেগেন। ফ্রেডির বাবা ছেলের ওপর সাঙ্ঘাতিক চটে আছেন, তার রাগ দূর করার জন্যে কনসিলিয়রি হিসেবে হেগেন যদি চেষ্টা না করে বা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় তাহলে তো তার ওপর ফ্রেডি অসন্তুষ্ট হবেই। গড ফাদারের রাগ দূর করার চেষ্টা খুশি মনেই করত হেগেন, কিন্তু ছেলের ওপর তার রাগের কারণটাই জানা নেই ওর। কারও ওপর অসন্তুষ্ট হলে বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা উচ্চারণ করেন না ৬ন কর্লিয়নি। তার আচরণেই শুধু অসন্তোষ প্রকাশ পায়।
রাত বারোটায় মাইকেলের সুইটে ডিনার খেতে বসল ওরা। ঘরে ঢুকেই মাইকেলকে জড়িয়ে ধরে ওর গালে চুমো খেল লুসি মানচিনি। কিন্তু অপারেশন করিয়ে মুখটাকে কেমন দেখাচ্ছে সে-বিষয়ে কোন মন্তব্য করল না। ডাক্তার জুস সীগলের মাঝে কোন ইতস্তত ভাব বা জড়তা দেখা গেল না। সবাইকে এক রকম ঠেলে সরিয়ে দিয়ে মাইকেলের সামনে এসে দাঁড়াল সে। ওর মুখটা পরীক্ষা করুল, টিপেটিপে দেখল মাংসের ভেতর হাড়টা, তারপর বলল, বাহু, চমৎকার! চমৎকার জোড়া লেগেছে। সাইনাস নিয়ে আর কোন অসুবিধে নেই তো?
কোনও অসুবিধে নেই, হাসি মুখে বলল, মাইকেল। আপনার সহযোগিতার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ, ডাক্তার।
বিশেষভাবে আয়োজিত এই ডিনারের মধ্যমণি মাইকেল। ওর কথা, তাকানো, হাবভাব-সব কিছুর ভেতর ডন কর্লিয়নির সাদৃশ্য দেখতে পাচ্ছে ওরা। কেন, কিভাবে কে জানে, ওকে দেখে সেই একই ভক্তি, সেই একই ধরনের ভয় ভয় ভাব জাগছে সবার মনে। সন্দেহ নেই, এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার। কেননা মাইকেলের আচার-ব্যবহারে এতটুকু অস্বাভাবিকতা নেই। কেউ যাতে কুণ্ঠা বা অপ্রতিভ বোধ না করে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে ও।
ডন-এর সাথে উপস্থিত থাকার সময় যে নিয়ম পালন করে টম হেগেন, এখনও সেই একই নিয়ম মেনে চলছে সে, মাইকেলকে সামনে রেখে নিজে খানিকটা পিছনে সরে রয়েছে। একজন নতুন লোককে দেখছে সবাই, তার সম্পর্কে ওদের কারও কিছু জানা নেই। খাবার পরিবেশনের আগে সে জানাল, তার খিদে নেই। কথাটা বলৈ ঘুরে দাঁড়াল সে, এগিয়ে গেল দরজা পর্যন্ত, কিন্তু কামরা থেকে বেরিয়ে গেল না। দরজার কাছেই একটা আরাম কেদারায় নিঃশব্দে বসল, চোখের সামনে মেলে ধরুল একটা স্থানীয় খবরের কাগজ।
কয়েক দফা মদ খাবার পর ডিনারে বসল ওরা, তারপর বিদায় করে দেয়া হলো ওয়েটারদের।
শুনলাম, জনির দিকে ফিরে বলল মাইকেল, তোমার গলা নাকি ডাল হয়ে গেছে? আগের চেয়ে ভাল? আরও উলাম, তোমার আগের ভক্তরা নাকি দল আরও ভারি করে ফিরে এসেছে তোমার কাছে? খুশির খবর। কস্থ্যাচুলেশনস।
ধন্যবাদ দিল জনি। কৌতূহলে অস্থির হয়ে পড়েছে সে। মনে মনে ভাবছে, ওর সাথে দেখা করতে চাওয়ার কারণ কি মাইকেলের? ওর কাছ থেকে না জানি কি চাইবে ওরা।
সবাই তাকিয়ে আছে মাইকেলের দিকে। সবার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নিল, এখনও কেউ তার কথা শোনার জন্যে তৈরি হতে বাকি আছে কিনা, তারপর ধীরে ধীরে শুরু করল মাইকেল, কর্নিয়নি পরিবার এই লাস ভেগাসে উঠে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জলপাই তেলের ব্যবসাতে আমাদের সমস্ত অংশ বিক্রি করে দিয়ে আমরা এখানে এসে নতুন করে ব্যবসা এবং বসবাস শুরু করব। আমরা তিনজন-ডন, আমি আর টম হেগেন–এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করেছি। কর্নিয়নি পরিবারের ভবিষ্যৎ এখানেই নিহিত, এব্যাপারে আমরা তিনজনই একমত। তল্পিতল্পা গুটিয়ে এখুনি বা আসছে বছরই উঠে আসছি আমরা, ব্যপারটা তা নয়। সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে ব্যবস্থা করতে হবে, তার জন্যে সময় দরকার। দুই, তিন, এমন কি চার বছরও লেগে যেতে পারে তবে, তোমাদেরকে জানানো হলো মোটামুটি এই রকম একটা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, এবং ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। আমাদের বন্ধুরা এখানের এই হোটেল আর ক্যাসিনোর কিছু শেয়ারের মালিক, লাস ভেগাসে সেটাই হবে আমাদের ভিত্তি। মো দ্বীনের কাছ থেকে আমাদের বন্ধুরা তার শেয়ারগুলো কিনে নেবে, তার মানে বন্ধুরা দুটোরই একচ্ছত্র মালিক হবে।
ফ্রেডির গোল চাঁদের মত মুখে দুশ্চিন্তার ছায়া পড়ল। এর আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। এই ব্যবসাটাকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসে মো গ্রীন, তার শেয়ার সে বিক্রি করে দিতে রাজী হবে কেন?
হবে, বিরক্ত বা উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে কল মাইকেল। যাতে রাজী হয় সেইরকম প্রস্তাবই দেয়া হবে তাকে।
কথাগুলো সহজ আর স্বাভাবিকভাবে বলা হলেও, মুহূর্তে বদলে গেল কামরার পরিবেশ, কেমন যেন থমথমে হয়ে উঠেছে সবার চেহারা। তার কারণটা সম্ভবত এই যে, মাইকেল এই মুহূর্তে যা বলল ঠিক সেই কথাগুলোই ওই একই ভঙ্গিতে প্রায়ই বলে থাকেন ডন কর্লিয়নি।
