প্রথমবারই ভাল করে পরীক্ষা করেছিলাম ওকে, বলল জুলস। রক্ত ইত্যাদি পরীক্ষা করে তখনই বুঝতে পেরেছিলাম ডায়াবিটিস হয়েছে ওর। মাইন্ড অ্যাডাল্ট স্ট্যাবিলি। মুখ বেছে চললে আর ওষুধ-পত্র খেলে এটা কোন রোগই নয়। কিন্তু মুশকিল হলো, আমার কথা কানে তোলার পাত্র নন তিনি। ওঁর প্রতিজ্ঞাটা সম্পর্কে কিছু জানা আছে আপনার? চোখে প্রশ্ন নিয়ে জনির দিকে তাকাল জুল। কিন্তু জনি নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে দেখে আবার শুরু করল সে, মি, ভ্যালেন্টি পণ করেছেন, মদ খেয়ে মারা যাবেন তিনি। এ এক ধরনের আত্মহত্যার প্রবণতা লিভারটা প্রায় পচে গেছে, মগজটাও যেতে বসেছে। এখনকার এই অসুস্থতা আর কিছু নয়, ডায়াবিটিসের কোমা। আমার পরামর্শ চাইলে বলব ভদ্রলোককে কোথাও আটকে রাখার ব্যবস্থা করুন।
খানিক স্বস্তিবোধ করল জনি। যাক, সিরিয়াস কিছু নয় তাহলে। জানতে চাইল, আটকে রাখার কথা কি যেন বললেন? বদ্ধ মাতালদের চিকিৎসা করা হয় যেখানে সেখানে পাঠাতে বলছেন ওকে?
নিঃশব্দে বারের দিকে এগোচ্ছে জুস। গ্লাসে নিজের জন্যে খানিকটা হুইস্কি ঢালল। তারপর ঘুরে দাঁড়াল জনির দিকে! না। আমি ওকে বন্দী করে রাখার কথা বলছি। পাগলা গারদে।
কি! আপনি খেপলেন নাকি, ডাক্তার?
না। কথাটাকে ঠাট্টা বলে উড়িয়ে দেবেন না। মানসিক রোগের ব্যাপারে আমি বিশেষজ্ঞ নই তা ঠিক, কিন্তু কিছুটা অন্তত বুঝি আমি, পেশার খাতিরে খানিকটা বুঝতেই হয়। লিভারের খুব বেশি ক্ষতি না হয়ে থাকলে আপনার বন্ধুকে কিছুটা সুস্থ করে তোলা হয়তো সম্ভব। তবে লিভারের অবস্থা বোঝার জন্যে ময়না তদন্ত করতে হবে। কিন্তু ভদ্রলোকের রোগটা মাথায়, মানে, মানসিক ব্যামোতে ভুগছেন তিনি। যতটুকু বুঝতে পেরেছি, মৃত্যুকে ডেকে নিয়ে আসার অদ্ভুত একটা তাগিদ অনুভব করছেন মি, ভ্যালেন্টি। কে জানে, উনি বোধহয় আত্মহত্যাই করতে চান। সবচেয়ে আগে ওর এই রোগটা সারাতে হবে। তবেই আশা আচ্ছ, তা না হলে হাল ছেড়ে দেয়াই ভাল। আর যদি চিকিৎসা করতে চান, ঘোষণা করে দিন মি. নিলো ভ্যালেন্টি পাগল হয়ে গেছেন–তাহলে প্রয়োজনীয় মানসিক চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। এর আর কোন বিকল্প নেই।
নক হলো দরজায়। ভেতরে ঢুকল লুসি মানচিনি। ছুটে জনির গায়ের ওপর এসে পড়ল সে, জনিকে চুমো খেয়ে হাসল একগাল। বলল, জনি! ও জনি! কি খুশিই যে হয়েছি তোমাকে দেখে।
হ্যাঁ, বলল জনি। অনেকদিন পরে দেখা হলো। লক্ষ করল লুসি আর সেই আগের লুসি নেই। মেদ ঝরে গেছে শরীর থেকে, কাপড়-চোপড়গুলো শুধু দানী নয়, সেগুলো পরেছেও সুন্দর করে। মুখের কাটিংয়ের সাথে ছেলেদের মত ছোট করে ছা চুল চমৎকার মানিয়েছে। আরও অনেক সুন্দর আর বয়সটাও খুব কম দেখাচ্ছে। ক্ষীণ একটা আশা জাগল জনির মনে, এখানে বেড়াতে এলে লোভনীয় সঙ্গিনী হতে পারে লুসি। এমন একটা মেয়েকে সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোতেও আনন্দ। কিন্তু হঠাৎ উপলব্ধি করল, তা হবার নয়। লুসি এখন ডাক্তারের বান্ধবী, হাত বাড়িয়ে কোন লাভ নেই। তাই লুসিকে মুগ্ধ করার কোন চেষ্টাই করল না ও। সেফ বন্ধুত্বের মিষ্টি হাসি দিয়ে দায় সারল! বলল, ব্যাপারটা কি? এত রাতে নিনোর ঘরে এসেছ কি মনে করে?
মুঠো পাকিয়ে জনির কাঁধে একটা কিল মারল লুসি। নিনোর অসুখ, জুলস্ দেখতে এসেছে, শুনেই চলে এলাম। যদি কোন কাজে লাগি। কেমন আছে এখন ও?
ভাল। ভালই আছে।
না, ভাল নেই, সোফার ওপর লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে বলল জুল। জনির দিকে নয়, বুসির দিকে তাকিয়ে কথা বলছে সে তোমাদের দেশী বন্ধুর জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত এসো সবাই জেগে বসে থাকি আমরা। তারপর ওকে বোঝাব, রাজী করার আটক থাকতে। ওর যা অবস্থা, চিকিৎসা করতে হলে পাগলা গারদে পাঠাতে হবে। তোমাকে ও খুব পছন্দ করে, লুসি, তাই না? তুমি হয়তো আমাকে সাহায্য করতে পারো। জনির দিকে ফিরল জুলস, তাকে বলল, আপনি যদি সত্যি মি, নিনো ভ্যালেন্টির ভাল চান তাহলে আমার দল থাকুন। ঠিক যেভাবে বলছি সেভাবে যদি ওর চিকিৎসা না হয়, কাঁধ ঝাঁকাল সে, হলপ করে বলতে পারি কোন মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবরেটরিতে ওর পচা লিভার প্রদর্শনীর জন্যে সাজানো অবস্থায় দেখতে পাবেন আপনারা।
কথাগুলো গুরুতর, কিন্তু জুলস্ হালকা সরে বলছে, ব্যাপারটা লক্ষ করে মনে মনে সাঙ্ঘাতিক চটে উঠছে জনি। কি মনে করে নিজেকে লোকটা? কড়া কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল জনি, এই সময় বিছানা থেকে নিনোর গলা পাওয়া গেল, দে না, ভাই, কেউ একটা মদ দে না আমাকে!
ফিরে তাকাল সবাই। বিছানার ওপর উঠে বসেছে নিনো। লুসির দিকে চেয়ে হাসছে সে। হাত দুটো বাড়িয়ে দিয়ে বলল, এসো গো মেয়ে, এসো, নিনোবুড়োর কোলে এসো।
হাসতে হাসতে এগিয়ে গিয়ে খাটের ওপর বসল লুসি, জড়িয়ে ধরুল নিনোকে। অসুস্থ বলে মনেই হচ্ছে না তাকে। আঙুল মটকাল, জনির দিকে তাকিয়ে বলল, অ্যাই, শালা জনি তুই করছিসটা কি? আমাকে এক গ্লাস হুইস্কি দিতে পারিস না? এই তো সবে সন্ধ্যা, এরই মধ্যে আউট হয়ে যাওয়া চলে নাকি? যারে, আমার রাক জ্যাক, টেবিলটা কোন্ চুলোয় গেল কল দেখি?
মদ খাওয়া নিষেধ আপনার নিজের গ্লাসে লম্বা একটা চুমুক দিয়ে বলল জুল। আপনার ডাক্তারের নির্দেশ।
ভুরু কুঁচকে উঠল নিনোর। মুখ ভেটে বলল, জুতো মারো ডাক্তারের মুখে! পরমুহূর্তে চেহারায় একটা নাটুকে অনুতাপের ভাব ফুটিয়ে বলল, দুঃখিত! দুঃখিত। আমার ডাক্তার যে আপনি সেকথা একেবারে ভুলেই গিয়েছিলাম। ডাক্তার, তুমি কিছু মনে কোরো না। ধরে নাও, তুমি এখন, এই মুহূর্তে এখানে উপস্থিত নও। অ্যাই, জনি শালা, কি বললাম তোকে? কথা কানে যায় না, না? এই শেষ বার জিজ্ঞেস করছি, মদ এনে দিবি কিনা? না দিলে আমি নিজে উঠে গিয়ে নিয়ে আসব।
