নিনোর পাশে বসে রাজ্যের ন্যাকামি জুড়ে দিয়েছে মেয়েটা। উদ্দেশ্যটা যে কি, বুঝতে পারছে জনি। একটা চিপ বাগানে। দুত্তোরি ছাই, নিজেকে তিরস্কার করল জনি। না হয় দুএকটা চিপ নিলেই মেয়েটা, আর নেবে নাই বা কেন? কি বা না নিক, সেটা কোন ব্যাপারই নয়। ওর মন খারাপের একমাত্র কারণ হলো, এত টাকা রোজগার করেও যাকে বলে ভালভাবে বেঁচে থাকা তা নিনোর কপালে জুটল না। একটা জিনিসও ডাল প্লে না বেচারা।
কয়েক দান খেলল মেয়েটা। তার হাতে একটা চিপ গুঁজে দিয়ে নিতম্বে এক থাবড়া মেরে টেবিল থেকে তাকে সরিয়ে দিল নিনো।
মেয়েটাকে ডেকে খানিকটা মদ চাইল জনি। ব্যস, শুরু হয়ে গেল নাটক। মদ এনে দিল সে, কিন্তু এমন ভঙ্গি আর কায়দা কসরৎ করে আল যে দেখলেও বমি পায়। জনি ভেবেই পায় না এই সব মেয়েরা কি মনে করে নিজেদেরকে। তাকে দেখে মনে হলো, দুনিয়ার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ছায়াছবির সবচেয়ে রোমাঞ্চকর চরিত্রে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দৃশ্যে অভিনয় করছে এই মুহূর্তে। বিখ্যাত জনি ফন্টেনের ওপর তার সবটুকু মোহিনী মায়া ঢেলে দিয়ে জাদু করার চেষ্টা করছে মেয়েটা। হেসে ফেলল জনি। কলল, ধন্যবাদ।
পরের দৃশ্যটা আরও অবিশ্বাস্য। জনির সহাস্য ধন্যবাদ শুন্তে এমন একটা শিহরণ বয়ে গেল মেয়েটার শরীরে, যেন আরেকটু হলেই তীর একটা যৌন ঝংকার শোনা যেত। চোখ দুটো আশ্চর্য ধোয়াটে হয়ে এল, শক্ত হলো শরীরটা। ক্রমশ সরু হয়ে আসা লম্বা পা দুটো সোজা হয়ে আছে, কোমরের ওপরের অংশটা পিছন দিকে হেলিয়ে দিল–যেন জনি ফন্টেন ধন্যবাদ জানিয়েছে বলে সাথে সাথে চরম তৃপ্তি লাভ হলো তার।
সুন্দর অভিনয়, এর আগে এমনটি দেখেনি জনি। কিন্তু সবটাই ওই জিনিস, অভিনয়, তার বেশি কিছু না। এ-ধরনের অভিনেত্রীরা বিছানায় খুব কমই ভাল হয়। গ্লাসে ঘোট ঘোট চুমুক দিতে দিতে জনি দেখল ফিরে যাচ্ছে মেয়েটা নিজের চেয়ারে। চোখ ফিরিয়ে নিল জনি। দেখার সাধ মিটে গেছে ওর। আজ যদি মাতাল হত ও তাহলে আলাদা কথা ছিল। মন-মেজাজও আজ ভাল নেই।
পরাজয় স্বীকার করতে আরও এক ঘন্টা সময় নিল নিনো ভ্যালেন্টি। প্রথমে একদিকে হেলে পড়ল সে, কিন্তু কোনমতে সামলে নিয়ে সোজা হলে আবার, তারপরই একেবারে সটান ঝপ করে মেঝেতে। তবে পিট বস্ আর ডিলারকে আগেই সাবধান করে দেয়া হয়েছিল, তারা সাথে সাথে ধরে ফল নিনোকে। চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে গেল তাকে ওরা। পাশেই শোবার কামরা, সেখানে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দেয়া হলো তাকে।
ওদের পিছু পিছু শোবার ঘরে এল জনি। নিনোকে ম্ম করার কাজে পুরুষদের চেয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠতে দেখা গেল ওয়েট্রেস মেয়েটাকে। লেপ দিয়ে ঢেকে দেয়া হলো ওর শরীর। তারপর আবার ওরা সবাই খেলার ঘরে ফিরে এল।
নিনোর চিপগুলো ওল, পিট বস, তারপর কি যেন লিখে রাখল চিরকুটে। টেবিল আর ডিলারের চিপগুলো পাহারা দিচ্ছে সে।
কতদিন ধরে এইরকম চলছে? জানতে চাইল জনি।
শ্রাগ করল পিট বস। আজ তো খুব তাড়াতাড়ি জ্ঞান হারালেন, বলল সে। প্রথমবার হোটেলের ডাক্তারকে ডাকতে হয়েছিল। তিনি মি, ভ্যালেন্টিকে কি সব ওষুধ খাওয়ালেন, অমনি মি. ভ্যালেন্টি চাঙা হয়ে উঠলেন তারপর ডাক্তার তাকে একটা ছোট্ট বক্তৃতা শোনালেন। কিন্তু ডাক্তার চলে যাবার পর মি. ভ্যালেন্টি আমাদেরকে নিষেধ করে দিয়ে বললেন, আবার যদি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন কখনও, কেউ যেন ডাক্তারকে খবর না দেয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ধরে শুধু শুইয়ে দিলেই চলবে, পরদিন সকালে আবার তিনি সুস্থহয়ে উঠবেন। সেই থেকে তাই করি আমরা। ভাগ্যটা কিন্তু দারুণ, তাই না? এই দেখুন না, আজ রাতেও উনি তিন হাজার ডলার জিতলেন।
সে যাই হোক, বলল জনি, আমি যখন এখানে আছি, ডাক্তার ডাকতেই হবে। হোটেলের ডাক্তারকে একটা খবর পাঠান। ক্যাসিনোতে লোক পাঠাতে হলেও অবহেলা করবেন না।
পনেরো মিনিট পর ঘরে এসে ঢুকল ডাক্তার জুলস সীগল। তার সাজ-পোশাক দেখে মনে মনে সাংঘাতিক বিরক্ত হলো জনি। ছোকরা যেন রঙচঙে সঙ সেজে থাকে, দেখে ডাক্তার বলে মনেই হয় না। জুলসের পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুঁটিয়ে দেখছে ও। ঢিলেঢালা নীল পোলো শার্ট পরেছে, তাতে আবার সাদা পাড় বসানো। পায়ে মোজার বালাই নেই, সাদা সুয়েডের জুতো গলিয়েছে। হাতে ডাক্তারের চিরাচরিত কার্লো ব্যাগ। সব মিলিয়ে হাস্যকর লাগে।
দরকারী জিনিস-পত্ৰ গলফের একটা থলেতে ভরে আনলেই তো পারেন, বল জনি। আপনার রঙচঙে পোশাকের সাথে সেটাই বোধহয় বেশি মানাবে, না কি বলেন? থলেটা কেটে একটু ছোট করে নেয়া যেতে পারে।
সাথে সাথে তাকে সমর্থন করল জুল। বলল, ঋটি কথা। ডাক্তারের এই কার্লো ব্যাগ দেখেই রুগীর বুক ছ্যাৎ করে ওঠে, ভয়েই বেচারা আধমরা হয়ে যায়! আমি মনে করি, রঙটা তো অবশ্যই বদলানো দরকার। খাটের দিকে এগিয়ে গেল জুলস, নিনের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাগ খুলছে। আপনার পাঠানো কনসালটেশন ফী-র চেকটা পেয়েছি, বলল সে। সেজন্যে ধন্যবাদ। তবে, টাকার অঙ্কটা বেশি হয়ে গেছে। কিইবা করেছিলাম আমি।
করেনমি? তা বটে! হাসল জনি। সে যাক, ওসব বাসি হয়ে গেছে। নিনোর ব্যাপারটা কি বলুন তো?
নিনোর হার্টের অবস্থা, পালস আর ঝাড প্রেশার পরীক্ষা করল জুলর্স। একটা ইঞ্জেকশন বের করে হাতে পুশ করল। ঘুমাচ্ছে নিনো কিন্তু চেহারা থেকে ফ্যাকাসে ভাবটুকুদূর হয়ে গেল প্রয় সাথে সাথেই। বেড়ে গেছে রক্ত চলাচল।
