খাসা! চমৎকার! বলল নিনো। এই শালা, জনি, ইধার আও! তুই আজ আমার হয়ে জুয়া খেলবি। ঘাবড়াও মাত, আমার পয় আছে। শালা বাস্টার্ডগুলোকে হারিয়ে একেবারে ফকির বানিয়ে ছাড়ব–আয়, চলে আয়।
আরাম কেদারার উল্টো দিকে, একটা পা রাখার টুলে বসে আছে জনি ফনে। তুই তো জানিস, ওসব আমি খেলি না। এখন তোর শরীর কেমন তাই বল।
নিঃশব্দে হাসল নিনো। শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাই সয়-খাসা লাগছে, দোস্ত, তাজা ঝরঝরে হয়ে গেছে শরীরটা। রাত বারোটা বাজতে কত দেরি আর? কয়েকটা মেয়েমানুষ আসবে, জানিস তো? তারপর সাপার খাব। তারপর আবার ব্ল্যাক জ্যাক খেলব। এই তো জীবন, দো! মেয়েমানুষ, মদ, আর জুয়া। চুটিয়ে উপভোগ করছি, ঠিক কিনা বল? জনির দিকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকল সে যেন উত্তরটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে তার। কিন্তু জনি চুপ করে আছে দেখে নিজেই আবার বকবক করতে শুরু করল। জানিস, ক্যাসিনো থেকে কত জিতেছি? পঞ্চাশ হাজার ডলার। সেজন্যেই তো হুঁড়িগুলো পুরো এক হপ্তা ধরে আমার পিছু ছাড়ছে না।
শান্তভাবে বলল জনি, একটা কথা জিজ্ঞেস করি। টাকা তো আর কম কামালি না। তারপর জুয়া খেলছিস, তাতেও হারার নাম নেই-বলি, এত টাকা দিয়ে যাবি কাকে? মানে, যদি মরেই যেতে হয়?
লম্বা একটা চুমুক দিয়ে গ্লাসটা খালি করে ফেলল নিনো। পাল্টা প্রশ্ন করল সে, আমি তো ভেবেই পাই না, উড়নচণ্ডী বলে নাম কিনলি কিভাবে তুই। তুই জ্যান্ত একটা মানুষ কিনা সে-ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার। পুরুষমানুষ হবে তেজী ঘোড়ার মত, তুই ঠিক তার উল্টো। হ্যাঁরে, সন্ন্যাসী হয়ে যাবি নাকি? তোর পায়ে পড়ি, দোস্ত, ওরকম কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসিস না। যারা এই শহর দেখতে আসে তারাও তোর চেয়ে বেশি মৌজ লোটে। তোর ব্যাপারটা কি বল দেখি?
ঠিক, বলল জনি। নিজে যেতে পারবি, নাকি ব্ল্যাক জ্যাক টেবিলে তুলে নিয়ে যেতে হবে তোকে?
সাথে সাথে উঠে বসার চেষ্টা করল নিনো। নিজের সাথে ধস্তাধস্তি করে কোন রকমে উঠে বসতে পারল সে, পা দুটো নামাল কার্পেটের ওপর, তারপর টলতে টণতে উঠে দাঁড়াল। খুব সাবধানে, ধীর পায়ে এগোচ্ছে ব্ল্যাক জ্যাক টেবিলের দিকে। ডিলারের সাহায্যকারী লোকটা একটু তফাতে একটা চেয়ারে বসে আছে, নিনো ইঙ্গিত করামাত্র যাতে দেখতে পায়। গদিমোড়া চেয়ারে বসল নিনো, টেবিলে বিছানো সবুজ পশমী কাপড়ের ওপর আঙুলের গাঁট দিয়ে টোকা মারল সে, বল, চিপ দাও।
পকেট থেকে একটা প্যাড বের করল, পিট বস, খস খস করে একটা চিরকুটে কি যেন লিখল সে, তার কলমসহ, সেটা নিনোর সামনে রেখে বলল, নিন, মি. ভ্যালেন্টি। প্রথম বার বরাবর যা নিয়ে থাকেন, পাঁচ হাজার।
চিরকুটে নাম সই করল নিনো। সেটা পকেটস্থ করল পিট বস, তারপর ডিলারের দিকে ফিরে ছোট করে মাথা ঝাঁকাল।
বিস্ময়কর দক্ষতার সাথে টেবিলে বসানো খোপের ভেতর থেকে সোনালী আর কালো চিপ বের করছে ডিলার। পাঁচ সেকেণ্ড পর দেখা গেল নিনোর সামনে একশো ডলার চিপের পাঁচটা সমান থাক সাজানো হয়ে গেছে। প্রত্যেক থাকে দশটা করে চিপ। টেবিলে সবুজ বনাতের ওপর ছয়টা চতুষ্কোণ আঁকা রয়েছে। আকারে খেলার তাসের চেয়ে সামান্য একটু বড় রঙটা সাদা। সব খেলোয়াড়ের চেয়ারের সামনে এই রকম একটা করে চতুষ্কোণ। একাই খেলছে নিনো, কিন্তু একসাথে তিনটে খোপে বাজি ধরল সে। প্রত্যেকটি খোপে একটা করে চিপ রেখেছে। তার মানে প্রতিটি হাতে একশো ডলার বাজি ধরে খেলার সূচনা করল সে।
তিন হাতেই হিট দিতে রাজি হলো না ও, কারণ ডিলারের হাতে একটা ছয় আপ রয়েছে। ওটা একটা বাস্ট কার্ড। শেষে দেখা গেল ডিলার চিত্তির। আঁকশি দিয়ে জেতা চিপগুলো নিজের দিকে টেনে আনল নিনো। দেখলি তো? ঠিক এইভাবে শুরু করতে হয় রাতটা, জনিকে বলল সে।
হাসল জনি।
খেলার সময় চিরকুটে সই করা নিনো ভ্যালেন্টির মত জুয়াড়ীর পক্ষে মোটেও স্বাভাবিক নয়। বড় বড় বাজি ধরে খেলে যারা তাদের মুখের কথাই যথেষ্ট, সই করার দরকার হয় না। কিন্তু দেদার মদ খায় বলে নিনোর ওপর ভরসা রাখতে পারে না ওরা, তাই কোন রকম ঝুঁকি নেয় না। ওরা তো আর জানে না যে যত মাতালই হোক, কিছু ভুলে যাবার বান্দা নিনো ভ্যালেন্টি নয়।
পরের দান জিতল নিনো, তারপরের দানও। তিন দান খেলা শেষে আঙুল বাঁকা করে ওয়েটসকে ইশারা করুল সে। বারটা কামরার আরেকটা প্রান্তে, সেখান থেকে পানির গ্লাসে নাই হুইস্কি ভরে নিয়ে এল মেয়েটা। গ্লাসটা ধরল নিনো, তারপর হাত বদল করল সেটা, যাতে মেয়েটার কোমর জড়িয়ে ধরতে পারে। আমার পাশে বসো, সোনা মানিক। কহাত ধেলো, দেখি তুমি পয় আনতে পারো কিনা।
ওয়েট্রেস মেয়েটা অসাধারণ সুন্দরী। কিন্তু জনি ফন্টেন পরিষ্কার বুঝতে পারছে, এ মেয়ে ঠাণ্ডা বরফ, মরা সাপের মত নির্জীব। সজীবতা দেবার চেষ্টা অবশ্য পুরোমাত্রায় রয়েছে, নিনোর চোখাচোখি হলে এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন তাতেই ওর চরম পুল পাওয়া হয়ে যাচ্ছে। আসলে কিন্তু ব্যাপারটা সম্পূর্ণ বানোয়াট। নিনোর দিকে ঢুলুঢুলু লাল চোখে তাকিয়ে হাসলেও ওর লোভাতুর দৃষ্টি কিন্তু কার্লো আর সোনালী চিপসের দিকে, একটা পাবার জন্যে লালায়িত কুত্তী হয়ে উঠেছে। আহা, ভাবল জনি ফন্টেন, এই মেয়েই যদি যৌনমিলনের জন্যে ওরকম লালায়িত হয়ে উঠত, কি মজাই না হত তাহলে। রীতিমত বিস্ময়কর একটা স্কেল দিতে পারত ও। কিন্তু তা হবার নয়। মরা সাপ কখনও সাপড়ের বাঁশি শুনে দোল খায় না।
