বুড়ি ফিলোমিনা বিদায় নিয়ে চলে গেল।
যা বলল তা কি সত্যি? ডন টমাসিনোকে জিজ্ঞেস করল মাইকেল।
নিঃশব্দে মাথা ঝাঁকালেন মাফিয়া নেতা ডন টমাসিনো; সব সত্যি।
একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল মাইকেল। কেন কেউ ওকে গল্পটা বলতে চায়নি, এখন বুঝতে পারছে ও। সন্দেহ নেই, গল্প বটে একখানা! আর লুকাও একজন মানুষ বটে!
পরদিন সকালের দিকে মাইকেলের ইচ্ছা হলো, গত রাতে ফিলোমিনার বলা গল্পটা নিয়ে ডন টমাসিনোর সাথে একটু আলোচনা করবে ও। কিন্তু তাঁর খোঁজ নিতে গিয়ে জাল, বিশেষ একটা জরুরী বার্তা পেয়ে হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে পালার্মোয় চলে যেতে হয়েছে তাকে।
সন্ধ্যায় ফিরলেন ডন টমাসিনো। মাইকেলকে ডেকে পাঠালেন তিনি। ওকে নিয়ে নির্জন একটা কামরায় ঢুকলেন। তারপর বন্ধ করে দিলেন দরজাটা।
ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে মাইকেল। এখনও কো কথা বলেনি ও। আমেরিকা থেকে খবর এসেছে। কথা বলছেন ডন টমাসিনো। তার কণ্ঠস্বরে ক্ষোভ আর দুঃখ।-খারাপ খবর! সাঙ্ঘাতিক খারাপ খবর! সনি, সান্তনো র্লিয়নি খুন হয়েছে।
৪.০২ সিসিলি ভোর
০২.
সিসিলি ভোর।
হলদেটে রোদে ভরে গেছে মাইকেলের শোবার ঘর। ঘুম ভাঙতেই টের পেল ও, মখমলের মত অ্যাপলোনিয়ার শরীরটা ওর নিজের শরীরের সাথে সেঁটে রয়েছে। আদর সোহাগ দিয়ে জাগাল ওকে মাইকেল। এই কমাস তাকে পুরোপুরি অধিকার করেও তার রূপ, তার তীব্র বাসনা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারে না ও।
কামরা থেকে বেরিয়ে বাথরুমে ঢুকল অ্যাপলোনিয়া। খালি গায়ে খাটে শুয়ে রইল মাইকেল। একটা সিগারেট ধরাল। গায়ে এসে পড়েছে সকালের রোদ। এই বাগানবাড়িতে আজ ওদের শেষ দিন। সিসিলির দক্ষিণ তীরে, আরেক শহরে ওদের থাকাব ব্যবস্থা করেছেন ডন টুমাসিনো। এক মাসের অন্তঃসত্ত্বা অ্যাপলোনিয়া, কয়েক হপ্তা বাপের বাড়ি কাটিয়ে সেও যাবে মাইকেলের কাছে, ওদের নতুন নিরাপদ আশ্রয়ে।
গত রাতে অ্যাপলোনিয়া শুয়ে পড়ার পর, মাইকেলকে ডেকে নিয়ে এসে বাগানে বসেছিলেন ডন টমালিনো উদ্বিগ্ন আর ক্লান্ত দেখাচ্ছিল তাকে। মাইকেলের নিরাপত্য সম্পর্কে তাঁর দুশির কথা জানালেন। বললেন, বিয়ে করে তুমি লোকের চোখে পড়ে গেছ। তোমার বাবার কথা ভেবে অবাকই লাগছে আমার, তিনি তোমার জন্যে অন্য কোথাও ব্যবস্থা করছেন না কেন? এদিকে পালার্মোর নতুন সর্দারদের নিয়ে আমাকেও অস্বাভাবিক ভুগতে হচ্ছে। কিছু কিছু সুযোগ দিতে চেয়েছি ওদেরকে, তাতে ন্যায্য ভাগের কিছু বেশিই পাবে ওরা, কিন্তু মসিবত হলো বোকার দল সবটুকুই মুঠোয় ভরতে চায়। ওদের হাবভাব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না আমি কয়েকবার চেষ্টাও করেছে, কিন্তু আমাকে খুন করা অত সহজ নয়। ছেলেমানুষদের দোষটাই ওখানে, কার কত শক্তি বোঝে না, তা তারা যত গুণীই হোক না কেন। নিজেদের অধিকার কতটা ভেবে দেখবে না, যত পানি আছে কুয়োয় সবটুকু গিলে ফেলতে চাইবে।
এরপর ডন টমাসিনো জানালেন, দুই রাখাল দেহরক্ষী কার্লো আর ফ্যাব্রিযুযিয়ো মাইকেলের সাথে গাড়িতে থাকবে। তিনি নিজে আজ রাতেই বিদায় নেবেন, কারণ জরুরী কাজে খুব ভোরেই তাকে পলার্মোয় যেতে হচ্ছে। নিষেধ করলেন, মাইকেল যেন ডাক্তার তাজাকে ওর যাবার ব্যাপারে কিছু না বলে। কারণ, আজ সন্ধ্যাটা তিনি পালার্মোতেই কাটাবেন। গল্প করা স্বভাব, কার কাছে কি বলে বসেন তার কোন ঠিক নেই।
ডন টমাসিনো যে বিপদে জড়িয়ে পড়েছেন মাইকেল তা খুব ভালভাবে বুঝতে পারে। সশস্ত্র গার্ডরা বাড়ির চারদিকে পাহারা দেয় রাতে। কয়েকজন বিশ্বস্ত রাখাল লুপারা হাতে নিয়ে চব্বিশ ঘন্টা ঘুরে বেড়ায় বাড়ির ভেতর। নিজেও তিনি প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র সাথে নিয়ে বেরোন। সাথে তার ব্যক্তিগত বডিগার্ডরা তো থাকেই।
রোদটা এখন কড়া হয়ে এসেছে। সিগারেট নিভিয়ে ফেলল মাইকেল! এবার তৈরি হতে হয়। সিসিলীয় শ্রমিকদের প্রিয় ট্রাউজার পরল ও, তারপর শার্ট আর ঠোঁট লাগানো টুপি। খালি পায়ে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াল ও, একটু ঝুঁকে পড়তেই ফ্যাব্রিযযিয়োকে দেখতে পেল। বাগানে একটা চেয়ারে বসে রয়েছে, খুব আয়েশের সাথে ঘন কার্লো চুলে চিরুনি চালাচ্ছে সে। লুপারা বন্দুকটা অবহেলার সাথে ফেলে রেখেছে টেবিলের ওপর। শিস দিল মাইকেল, সাথে সাথে মুখ তুলে তালাল ফ্যাব্যিযিয়ো।
গাড়িটা নিয়ে এসো, বলল মাইকেল, পাঁচ মিনিটের মধ্যে রওনা হব আমি কার্লোকে দেখছি না যে?
কিচেনে, কফি খাচ্ছে, উঠে দাঁড়িয়ে বলল ফ্যাৱিষযিয়ো। বোতাম খোলা শার্টের ভেতর লাল-নীল উল্কি দেখা যাচ্ছে বুকে। তোমার সাথে তোমার স্ত্রীও যাচ্ছেন নাকি, মাইক?
ভুরু কুঁচকে উঠল মাইকেলের। হঠাৎ যেন খেয়াল হলো, কয়েক হপ্তা থেকে অ্যাপিলোনিয়ার ওপর বড় বেশি নজর রেখেছে ফ্যাব্রিযযিয়ো, বড় বেশি খোঁজ খবর রাখার চেষ্টা করছে। না, ভয় পাবার কিছু নেই–ডন টমাসিনোর বন্ধু মাইকেল, ওর স্ত্রীর সাথে বাড়াবাড়ি করার সাহস কখনোই হবে না তার। সিসিলিতে কেউ যদি মরতে চায়, সম্মানী লোকের বউয়ের দিকে নজর দিক, তাহলেই সাধ মিটে যাবে তার।
না, ঠাণ্ডা গলায় বলল মাইকেল। এখন বাপের বাড়িতে থাকবে ও, তারপর আমার কাছে যাবে। একটা পাথরের কুটিরে মেরামত করা হয় আলফা রোমিও, তাড়াতাড়ি সেখানে যেতে বলল ফ্যাৱিষযিয়োকে।
