প্রথমে কাঠ হয়ে পড়ে থাকল অ্যাপলোনিয়া। তারপর সাড়া দিল সে। ধীরে ধীরে ফিরল। অদ্ভুত এক পুলকে ছেয়ে গেল মাইকেলের মন, কি এক পরম তৃপ্তি পাবার ব্যর্থ আকাঙ্ক্ষায় অস্থির হয়ে উঠল ও এখনও ওর দিকে ফিরছে অ্যাপলোনিয়া, তার কোমল বুকের স্পর্শ পেল ও।
পরমুহূর্তে বিদ্যুৎ খেলে গেল দুজনের শরীরে। পরস্পরের আলিঙ্গনে ধরা দিল ওরা। নববধুকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরল মাইকেল, তার পাতলা ঠোঁটে গাঢ় চুমু খেলো। নগ্ন দুটো শরীর পরস্পরের সাথে সেঁটে আছে।
আঁটো রেশমের মত অ্যাপলোনিয়ার শরীর। কুমারী মেয়ের অধীর কামনায়, ব্যাকুল আগ্রহে উন্মাদিনী হয়ে উঠে সে-ও দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে মাইকেলকে। ভাবের আদান প্রদান চলছে ওদের মাঝে, কিন্তু কোন ভাষার সাহায্য নিচ্ছে না ওরা। অ্যাপলোনিয়ার কুমারী শরীরটার ওপর খেলা করছে মাইকেলের দুই হাত, কোথা থেকে কোথায় না চলে যাচ্ছে। তার শরীরে ঠোঁট ঘষছে ও। আর অ্যাপলোনিয়া? খানিক আগে পর্যন্ত নিজেকে ধন্য, কৃতজ্ঞ আর সৌভাগ্যবতী বলে মনে করছিল সে, কিন্তু এখন সে গর্ব অনুভব করছে। অদ্ভুত এক রোমাঞ্চে পুলকিত হয়ে উঠেছে শরীর। তার প্রতিটি অঙ্গ, সবটুকু মাধুর্য, সমস্ত আবেগ দিয়ে ধন্য করতে চাইছে মাইকেলকে। নিজের ভেতর মাইকেলের উদ্দেশে আশ্চর্য একটা ব্যাকুল আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে সে-আমাকে নাও! আমাকে নাও! গর্ব অনুভব করার সেটাই তার কারণ, শুধু হাত পেতে নেবার পাত্রী নয় সে, মাইকেলকে দেবারও অনেক কিছু রয়েছে তার এবং মাইকেল নিচ্ছেও প্রাণভরে। সেখানেই অ্যাপলোনিয়ার সার্থকতা।
যত পাচ্ছে তত আরও বেশি করে পেতে চাইছে মাইকেল। নির্লজ্জেরও একটা লজ্জার সীমা থাকে কিন্তু ও সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে বেপরোয়া, দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। আর অ্যাপলোনিয়া তাকে উৎসাহ যোগাচ্ছে, প্ররোচনা দিচ্ছে।
এক সময় জ্ঞান হারাবার মত অবস্থা হলো অ্যাপলোনিয়ার। এত আনন্দ, এত উত্তেজনা, এত সুখ সহ্য করার সাধ্য নেই তার। সারা শরীরে বিদ্যুতের প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, গুঙিয়ে উঠল সে। আনন্দের আতিশয্যে অস্থির হয়ে পড়ল। ওর অবস্থাটা বুঝতে পারল মাইকেল। নিজেও ধৈর্যের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে ও। মিলনের চরম মুহূর্তে অ্যাপলোনিয়ার মুখ থেকে সশব্দে একটা নিঃশ্বাস বেরিয়ে এল। মিলন চরিতার্থ হবার পরও কেউ কাউকে ছাড়ল না, দুর্দম আকর্ষণে একজন আরেকজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখল। কেউ কাউকে ছেড়ে দিলেই যেন হিম শীতল অন্ধকারে মৃত্যু এসে ছুঁয়ে দেবে ওদেরকে।
অনগ্রসর সমাজ কৌমার্যকে এত মূল্য দেয় কেন, আজ রাতে তা খানিকটা বুঝতে পারল মাইকেল কর্লিয়নি। এসব ওর কাছে নতুন নয়, কিন্তু, আজকের মত এমন লাগেনি কখনও আর। আজকের তৃপ্তির সাথে সেসব ঘটনার কোন তুলনাই হতে পারে না। আজ সে তার নিজের পৌরুষকে উপলব্ধি করতে পেরেছে।
এরপর হপ্তার পর হপ্তা ধরে প্রতিদিন অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে মাইকেলের উপলব্ধি আরও প্রখর হলো। সঙ্গিনী নয়, অ্যাপলোনিয়া ওর ক্রীতদাসীর মত হয়ে উঠেছে। অনগ্রসর সমাজে মেয়েদের যৌবন এক অমূল্য সম্পদ, অকাতরে শুধু স্বামীকে বিলিয়ে দেবার সাধনায় জীবন কাটে ওদের। এই সাধনার উপকরণ হলো প্রেম আর স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্যবতী তরুণীর শরীর আর মনে যখন প্রথম যৌন চেতনা জাগে তখন সে হয় পাকা ফলটির মত মধুর। সেই ফল যখন নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দেবার জন্যে উন্মুখ হয়ে ওঠে তখনই তো তাকে পেয়ে মজা।
নিরানন্দ বাগান বাড়িটা অ্যাপলোনিয়ার কোমল স্পর্শ পেয়ে সজীব হয়ে উঠেছে। ফুলশয্যার পরদিনই মাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে সে। প্রাণচঞ্চল মাধুরী দিয়ে গোটা বাড়িটা আলোকিত করে রেখেছে ও। লজ্জা এখনও কাটেনি তার, কিন্তু খাবার টেবিলে সবার জন্যে হাজির থাকে, এটা সেটা এগিয়ে দেয়, কার কি লাগবে না লাগবে জিজ্ঞেস করে। আজকাল প্রায় রোজ রাতেই ওদের সাথে খেতে বসেন ডন টমাসিনো।
বাগানে তিনজনের আড্ডাটা আবার শুরু হয়েছে। মদ খেতে খেতে পুরানো। গল্পগুলো আরেকবার করে শোনান ডাক্তার তাজা। বাগানের সবখানে দাঁড়িয়ে আছে শ্বেতপাথরের মূর্তি, তাদের গলায় লাল ফুলের মালা, সেগুলো দুলতে থাকে বাতাসে। বড় আনন্দে কাটে প্রতিটি সন্ধ্যা। আর রাতে নব দম্পতি ঘন্টার পর ঘণ্টা ব্যগ্র ব্যাকুলতার মধ্যে কাটায়। দুজনকে নিয়ে দুজন একেবারে উন্মাদ হয়ে আছে। অদ্ভুত এক নেশার ঘোরে সময়টা কাটছে মাইকেলের। অ্যাপলোনিয়ার শরীরের গঠনে কোন খুঁত দেখতে পায় না ও। ওর দিকে যখন তাকায়, তার দৃষ্টিতে কামনা মদির লালসা দেখতে পায়। দেখে দেখে মনের আশ মেটে না ওর। গায়ে এক অদ্ভুত মিষ্টি গন্ধ আছে অ্যাপলোনিয়ার, মেয়েমানুষের গায়ের সৌরভ নাকে ঢোকা মাত্র কামনার আগুন ধরিয়ে দেয় শরীরে। অ্যাপলোনিয়া এখনও লজ্জাবতী, কিন্তু। অৰীকার করতে পারবে না মাইকেল, ওর ক্ষুধা রাক্ষুসীর মত। তার যৌন কামনা ওর। লালসার চেয়ে কোন অংশে কম তীব্র নয়; অসীম ক্লান্তিতে এক একদিন ঘুমিয়ে পড়ে ওরা, তখন হয়তো ভোর হয়ে এসেছে। আবার এক একদিন কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না মাইকেলের। জানালার চৌকাঠে পা তুলে বসে থাকে, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অ্যাপলোনিয়ার নগ্ন শরীরের দিকে। ভোর হয়ে যায়, বেলা চড়ে, তবু চোখ। ফেরাতে পারে না। এমন সুন্দর মুখাবয়ব আর কখনও দেখেনি ও। না, দেখেছে–শুধু ইতালির শিল্পীর আঁকা বইতে, ঠিক যেন যীশুর চুমারী মায়ের চেহারা। না, তার চেয়েও সুন্দর, সে চেহারায় অ্যাপলোনিয়ার মত কৌমার্য ফোটে না।
