কি বলতে চান আপনি? এবার সত্যি সত্যি খেপে গেছে জনি আপনি কি নিজেকে তার চেয়ে বড় ডাক্তার বলে মনে করেন?
হেসে ফেলে পাল্টা প্রশ্ন করল জুলস, আপনি কি নিজেকে কারমেন লম্বার্ডোর চেয়ে বড় গাইয়ে বলে মনে করেন?
জুলসের প্রশ্ন শুনে হো হো করে হেসে উঠে চেয়ারে মাথা ঠুকতে শুরু করল নিনো ভ্যালেন্টি, তাই দেখে জুলস তো অবাক। সে ভাবছে, রসিকতা এমন কিছু ভাল হয়নি। নিনো ভ্যালেন্টির অট্টহাসির সাথে মদের গন্ধ বেরিয়ে আসছে, নাকে ধাক্কা লাগতেই জুলস বুঝল, যে-ই হোক না কেন, এই সাত সকালেই নেশায় প্রায় আধা-বেহুশ হয়ে আছে লোকটা।
এই ব্যাটা, বন্ধুর দিকে ফিরে হাসছে জনি ফন্টেন। তুই তো আমার রসিকতা শুনে হাসবি, ওরটা শুনে হাসছিস কি মনে করে?
হাত বাড়িয়ে ইতিমধ্যে বেডের কাছে জুলসকে টেনে নিয়ে এসেছে লুসি।
জনি আর নিনোকে বলছে সে, দেখতে ডাক্তার যাই হোক, হয়তো আনাড়ি বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু বিশ্বাস করো, ও কিন্তু প্রতিভাবান একজন সার্জেন। বাজে কথা বলার লোক নয়। যদি দাবি করে যে ডাক্তার টাকারের চেয়ে ভাল ও, তাহলে নিশ্চয়ই সেটাই সত্যি কথা, এর মধ্যে বড়াই থাকতে পারে না। জনির দিকে আবেদনের দৃষ্টিতে তাকাল ও। জুলসের কথা একবার শুনেই দেখো না। ও হয়তো তোমার গলার ত্রুটিটা সারিয়ে দিতে পারবে, জনি।
এই সময় কেবিনে একজন নার্স ঢুকে ওদেরকে জানাল, লুসিকে দেখার জন্যে আবাসিক ডাক্তার আসবেন, এবার সবাইকে চলে যেতে হয়। একটা কাণ্ড লক্ষ করে বেদম হাসি পেল জুলসের। জনি ফন্টেন আর নিনো ভ্যালেন্টি চুমো খাচ্ছে লুসিকে, কিন্তু লুসি ঠিক সময় মত এমন ভাবে মুখটা ঘুরিয়ে নিল, যাতে চুমোলো গালে লাগে, ঠোঁটে নয় অবশ্য, দেখে মনে হলো লুসির কাছ থেকে তাই আশা করেছিল তারা। তবে, জুলসকে কিন্তু ঠোঁটেই চুমো খেতে দিল লুসি। বিকেলে কিন্তু আবার আমাকে দেখতে আসতে হবে, ফিসফিস করে জুলসের কানে কানে বলল সে, মনে থাকবে তো?
মাথা ঝাঁকিয়ে রাজি হলো জুলস।
বাইরের করিডরে বেরিয়ে এল ওরা তিনজন।
কি অপারেশন হয়েছে ওর? জানতে চাইল নিনো ভ্যালেন্টি। জটিল কোন ব্যাপার নাকি, ডাক্তার?
এদিক ওদিকে মাথা নাড়ল জুলস। মেয়েলি ব্যাপার। জটিল কিছু নয়, নিতান্ত সাধারণ একটা অপারেশন। এ-বিষয়ে আপনাদের চেয়ে আমার দুর্ভাবনা বেশি। আশা করছি, লুসিকে আমি বিয়ে করব।
জুলস লক্ষ করল, জনি ফন্টেন আর নিনো ভ্যালেন্টির চোখে সংশয় ফুটে উঠল। লুসি হাসপাতালে তা আপনারা জানলেন কিভাবে?
টেলিফোন করে ফ্রেডি জানিয়েছে আমাদেরকে, বলল জনি। ছোটবেলায় আমরা সবাই এক পাড়াতেই বড় হয়েছি কিনা। ফ্রেডির বোন কনির বিয়েতে নীত কনে হয়েছিল লুসি।
তাই নাকি! বলল জুলস। এসব তথ্য যে নতুন নয় ওর কাছে তা আর প্রকাশ করল না ভাবছে, লুসির সাথে সনির সম্পর্কটা ওরাও হয়তো তার কাছে গোপন করতে চাইছে।
করিডর ধরে হাঁটছে ওরা। এই হাসপাতালে একজন ভিজিটিং ডাক্তারের সুবিধে ভোগ করি আমি, জনি ফন্টেনকে বলল জুলস, কিছু যদি মনে করেন, আপনার গলাটা একবার পরীক্ষা করতে দেবেন আমাকে?
দ্রুত এদিক ওদিক মাথা নাড়ল জনি। বলল, মাফ করবেন, আজ আমার সময় হবে না।
এটা কি সস্তা কোন লোকের গলা? ওই গলার দাম লক্ষকোটি টাকা। দেখাতে যদি হয়ই, আজেবাজে একজন ডাক্তারকে দেখাবে কেন? বলল নিনো। ভ্যালেন্টি। হাসছে সে। তার ওই হাসি দেখেই বুঝে নিল জুলস, লোকটা তার দলে, তাকেই সমর্থন করছে।
ডাক্তার হিসেবে আমি কিন্তু আজেবাজে নই, সহাস্যে বলল জুলস। পুব তীরে আমিই তো একমাত্র প্রতিভাবান সার্জেন ছিলাম। একটা গর্ভপাতের কেসে ধরা পড়ে গিয়েই না আজ আমার এই দশা।
যেমনটি আশা করেছিল জুলস, ঠিক তাই ঘটল। ওর কথার মূল্য দিল জনি ফন্টেন আর নিনো ভ্যালেন্টি। নিজের অপরাধ সাধারণত কেউ স্বীকার করে না। ও করেছে দেখে ওর সম্পর্কে ওদের ধারণা পাল্টে গেল মুহূর্তে! দ্রুত নিজেকে সামলে নিল প্রথমে নিনো ভ্যালেন্টি।
আপনার চিকিৎসা জনি যদি না চায়, বলল নিনো, তাতে আপনার মন খারাপ করার কিছু নেই। আমার এক বান্ধবী আছে, আপনি তাকে একবার দেখুন। তবে, নাটকীয়ভাবে কয়েক সেকেণ্ড চুপ করে থেকে তারপর বলল নিনো, গলার দিকটা নয়!
পরীক্ষা করতে কতক্ষণ সময় নেবেন আপনি? ভয়ে ভয়ে জানতে চাইল জনি ফন্টেন।
মিনিট দশেক, মিথ্যে কথা বলল জুলস। এ-ধরনের মিথ্যে কথা হর-হামেশা বলে থাকে ও। ওর বিশ্বাস, ডাক্তারী পেশার সাথে সত্যবাদিতা মানায় না, ও বিশেষ সংকটাপন্ন অবস্থা ছাড়া–এবং তখনও সত্য প্রকাশ করা সাজে কিনা সন্দেহ আছে জুলসের মনে।
ঠিক আছে, চাপা কর্কশ গলায় বলল জনি ফন্টেন। ভয় পেয়েছে সে, তাই আরও খারাপ শোনাল গলাটা।
একজন নার্স আর একটা কনসালটিং রুমের ব্যবস্থা করে ফেলল জুলস। পরীক্ষার জন্যে যা যা দরকার:তার সবগুলো এখানে নেই বটে, কিন্তু যা আছে তা দিয়েও চমৎকার কাজ চলে যাবে। জুলসের সন্দেহই সত্যি প্রমাণিত হলো। জনি ফন্টেনের স্বরতন্ত্রীতে কিছু একটা গজিয়েছে, মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে তা আবিষ্কার করা গেল। পানির মত সহজ একটা কাজ। ওই ব্যাটা টাকারেরই ধরতে পারার কথা, কিন্তু সাজগোজ করে হলিউডি চালচলন রপ্ত করতেই তার সময় বয়ে যায়, রোগীদের পিছনে খরচ করার মত সময় কোথায় তার। মাই গড, ভাবছে জুলস, হারামজাদার হয়তো ডাক্তারী লাইসেন্সই নেই, আর থাকলেও জাল না হয়েই যায় না, সুতরাং অনতিবিলম্বে কেড়ে নেয়া দরকার সেটা। নিনো আর অনির দিকে এখন আর ফিরেও তাকাচ্ছে না জুলস। এই হাসপাতালের গলা বিশেষজ্ঞকে ফোনে ডেকে পাঠাল সে। তারপর ধীরে ধীরে ফিরল নিনো ভ্যালেন্টির দিকে। বল, মি. জনি ফন্টেনকে বেশ কিছুক্ষণ এখানে থাকতে হবে বলে মনে হচ্ছে। আপনি বরং চলে যান।
