লক্ষ করল জুলস, খুব সাবধানে কাজ করছে এখন ডাক্তার। ছুরি চালাবার ঝুঁকিটা হলো, একটু বেশি কাটা হয়ে গেলেই মলদ্বার পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তবে, কেসটা একটুও জটিল নয়। এক্সরে প্লেট আর অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল দেখেছে জুলস। কোন বিপদ হবার কথা নয়। কিন্তু, সেই সাথে এ-কথাও সত্যি যে কাটাছেঁড়ার ব্যাপারে সব সময়ই আশঙ্কা থাকে। জোর করে কিছুই বলা যায় না।
ডায়াফ্রাম স্লিং-এর উপর কাজ করছে এখন কেলনার। যোনির খোপ ধরা রয়েছে টি-ফসেঁপের সাহায্যে, তাতে পেশী অ্যানি আর ফ্যাসি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এই পেশী দুটোই যোনির খোপ হিসেবে চিহ্নিত। গজ দিয়ে মোড়া ডাক্তার কেলনারের আঙুলগুলো মধ্যবর্তী সংযোগ রক্ষাকারী ঢিলা টিসুগুলো একপাশে সরিয়ে দিচ্ছে। যোনির দেয়ালের উপর চোখ রয়েছে ডাক্তার জুলসের, ওখানে কোন শিরা দেখা গেলেই বুঝতে হবে মলদ্বার আহত, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নিজের কাজে সাঙ্ঘাতিক দক্ষ ডাক্তার কেলনার, কাজে কোথাও এতটুকু খুত নেই তার। নিপুণ দক্ষতার সাথে ছুতোর যেভাবে পেরেক দিয়ে কাঠ জোড়া দেয় ঠিক সেভাবে লুসির শরীরে নতুন অংশ জুড়ে দিচ্ছে সে।
যোনির দেয়ালের বাইরে সমস্ত বাড়তি অংশ ছেটে ফেলে দিচ্ছে কেলনার। কেটে বাদ দেয়া জায়গাটুকু সেলাই করে এমনভাবে জোড়া লাগিয়ে দিচ্ছে পরে যাতে সেখানে খোঁচখাঁচ না গজাতে পারে। যোনির মুখ এখন ছোট হয়ে গেছে। প্রথমে সেটার ভিতরে তিনটে আঙুল ঢোকাবার চেষ্টা চালাল কেলনার। কিন্তু পারল না। এরপর দুটো আঙুল ঢোকাবার চেষ্টা করল সে। আঙুল দুটো কোন মতে ঢুকল ভিতরে! অন্দরমহলটা ভাল করে একবার নেড়েচেড়ে দেখে নিল সে। তারপর মুহূর্তের জন্যে জুলসের দিকে একবার তাকাল, গজ দিয়ে তৈরি মুখোশের উপর নেচে উঠল উজ্জল নীল চোখ দুটো, যেন জুলসের মতামত চাইছে, গর্তটা যথেষ্ট সরু হলো কিনা। পর মূহর্তে আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সে।
নির্বিঘ্নে শেষ হলো কাজটা। ট্রলি করে নিয়ে যাওয়া হলো লুসিকে রিকভারি রুমে, এখন থেকে ওখানেই থাকবে সে, যতদিন না সুস্থ হয়ে ওঠে। ডাক্তার কেলনারের সাথে কথা বলছে জুলস। ডাক্তারকে মহা খুশি দেখে বুঝতে পারছে সে, অপারেশন সফল হয়েছে, কোথাও কোন গোলমাল নেই। জুলসকে বলল সে, কোন দুশ্চিন্তা নেই। পানির মত সহজ কেস, ভেতরেও কিছু গজাচ্ছে না শরীরের বাঁধুনিটা চমৎকার, এ-ধরনের কেসে সাধারণত যা দেখা যায় না। মুচকি হাসল কেলনার। ফুর্তি করার এখন আর কোন অসুবিধেই রইল না-বুঝলে, তোমার ভাগ্যকে ঈর্ষা করি আমি। তবে কয়েকটা দিন ধৈর্য ধরতে হবে। কিন্তু, দেখো, শেষ পর্যন্ত আমার কাজের প্রশংসা না করে পারবে না তুমি।
তুমি একটা পিগমেলিয়ান ডাক্তার, সহাস্যে বলল জুলস। সত্যি জাদু জানো
এ আবার একটা কাজ নাকি? গভীরভাবে বলল ডাক্তার কেলনার। তোমার গর্ভপাতের কেসগুলো যেমন, এটাও সেরকম-পানির মত সহজ ব্যাপার। একটু থেমে আরও গম্ভীর হলো ডাক্তার। সমাজটা যদি আরেকটু আধুনিক হত, এখানের লোকজনের যদি আরেকটু বাস্তব-বুদ্ধি থাকত, হাতুড়েদের জন্যে এসব কাজ ছেড়ে দিয়ে তুমি আর আমি সত্যিকার গুরুত্বপূর্ণ কাজে মন দিতে পারতাম। কাঁধ ঝাঁকাল সে। ওহে শোনো, মনে পড়ে গেছে কথাটা, আগামী হপ্তায় আমার একটা কাজ করে দিতে হবে তোমাকে। একটা মেয়ে পাঠাব। খুব ভাল একটা মেয়ে। জানোই তো, ভাল মেয়েগুলোই শুধু বিপদে পড়ে। ওর সমস্যাটা মিটিয়ে দিলেই আজকের ব্যাপারটা শোধবোধ, কেমন?
ঠিক আছে, ডাক্তার কেলনারের সাথে হ্যান্ডশেক করে জুলস বলল, অসংখ্য ধন্যবাদ, ডাক্তার। কতবার তো বললাম, কই, এলে তো না আমাদের ওখানে বেড়াতে! একবার এসো না? আসবে? জুয়া খেলা থেকে শুরু করে সব কিছু ফ্রি তোমার জন্যে–আপ্যায়নের কোন ত্রুটি রাখব না।
ঠোঁট বাকা করে হাসল ডাক্তার কেলনার। জুয়া তো আমি রোজ খেলি। কিন্তু সে জুয়া খেলতে তোমাদের রুলেত সার্কেল আর ক্রাপ টেবিলের দরকার হয় না। ও-ধরনের জুয়া না খেলেও ভাগ্যের সাথে মাথা ঠোকাঠুকি কম করতে হয় না আমাকে। একটা কথা, জুলস! তুমি ওখানে আসলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছ। আরও দুএকটা বছর গেলে সত্যিকার সার্জারি কাকে বলে তাই ভুলে যাবে তুমি। কথা শেষ করেই বাক নিল ডাক্তার, জলসের জবাব শোনার জন্যে অপেক্ষা পর্যন্ত করল না।
ডাক্তার কেলনারের কথায় অভিযোগ নেই, জানে জুলস। সে শুধু তার শুভানুধ্যায়ী হিসেবে তাকে সাবধান করে দেবার জন্যে কথাগুলো বলল। তাসত্তেও, সাঙ্ঘাতিক খারাপ হয়ে গেল মনটা। কমপক্ষে আরও বারো ঘণ্টা পর রিকভারি রুম থেকে বেরুবে লুসি। অগত্যা গোটা সন্ধ্যাটা হৈচৈ করে কাটাল সে। প্রচুর মদও খেলো। এর কারণ নৈরাশ নয়, আনন্দ। লুসির অপারেশনটা ভালয় ভালয় চুকে গেছে বলে ভীষণ খুশি হয়েছে ডাক্তার জুলস।
.
পরদিন। সকাল।
লুসিকে হাসপাতালে দেখতে এসে আশ্চর্য হয়েগেল জুলস। ফুলে ফুলে ভরে আছে কেবিনটা লুসির বেডের কিনারায় বসে রয়েছে দুজন লোক লুসিও বালিশে হেলান দিয়ে বসে রয়েছে, উজ্জল হাসিতে উদ্ভাসিত মুখ।
জুলস জানে, বাড়ির লোকদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে লুসির। তাকে জানিয়েছিল ও, তাদেরকে কোন খবর দেবার দরকার নেই। তবে খুব যদি বিপদ দেখা দেয়, শেষ মুহূর্তে খবর তো দিতেই হবে। যাই হোক, বাড়াবাড়ি কিছু ঘটেনি, তাই লসির বাড়িতেও খবর দেয়া হয়নি। জানার মধ্যে জানে শুধু ফ্রেডি কর্লিয়নি। তাকে বলা হয়েছে, ছোট্ট একটা অপারেশনের জন্যে হাসপালে ভর্তি হয়েছে লুনি ফ্রেডিকেও বলা হত না, যদি না ওদের দুজনেরই ছুটির দরকার হত। কথাটা শুনে ফ্রেডি জানিয়েছে, অপারেশনের যাবতীয় খরচ হোটেলের তহবিল থেকেই মিটিয়ে দেয়া হবে।
