থামল জুলস। ইচ্ছা করেই গোপন সব কথা ফাস করে দিচ্ছে ও। অথচ কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা অভ্যাস নয় ওর। কারও দুর্বলতা প্রকাশ করে দেয়াটাকে এক ধরনের অপরাধ বলেই মনে করে ও কিন্তু লুসির মনটাকে হালকা করার জন্যে এই ছোট্ট অপরাধটা করতে হলো ওকে। ওর ইচ্ছা, লুসিও জানুক যে অন্যদেরও এমন কি ফ্রেডি কর্লিয়নির মত লোক, যাদেরকে লুসি শ্রদ্ধা আর ভয় করে, তাদেরও অনেক গোপন, লজ্জাকর ব্যাপার থাকে।
মনে করো তোমার শরীরের একটুকরো ইলাসটিক ঢিলে হয়ে গেছে, বলল জুলস, ওটার খানিকটা কেটে বাদ দিলেই আঁটো হয়ে যাবে আবার।
ঠিক আছে, কি করব না করব ভেবে দেখা যাবে পরে, বলল নৃসি. অপারেশন করাবেই, মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ও। ওর মনে জুলস সম্পর্কে অগাধ বিশ্বাস জন্মে গেছে। কিন্তু হঠাৎ আরেকটা কথা মনে পড়ে গেল ওর। জানতে চাইল, কি রকম খরচ পড়বে?
এ-ধরনের অপারেশন করার মত যন্ত্রপাতি তো এখানে নেই, ভুরু কুঁচকে, চিন্তিতভাবে বলল জুলস, তাছাড়া এ-বিষয়ে বিশেষজ্ঞও নই আমি। তবে আমার এক বন্ধু আছে লস এঞ্জেলেসে, ঠিক এই বিষয়েই একজন বিশেষজ্ঞ সে। ওখানকার সবচেয়ে ভাল হাসপাতালে ভর্তিও করে দিতে পারবে তোমাকে। সমস্ত চিত্রতারকাদের শরীর ওই তত আঁটসাট করে দেয়। মুখের আর বুকের চামড়া টেনে তুলে সেলাই করিয়ে নেবার পরও এই সব মহিলারা যখন দেখেন যে পুরুষরা তাদেরকে যথেষ্ট ভালবাসছে না তখন তারা আমার ওই বন্ধুর কাছে আসে। অপারেশনে দারুণ হাত তার, সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি একেবারে নিখুঁতভাবে সারিয়ে দেয়। কোন একটা ব্যাপারে আমার কাছে একটু ঋণী ও••• তোমার কাছে স্বীকার করতে আপত্তি নেই, ওর গর্ভপাতের কেসগুলো আমিই করে দিই। দেখো, লুসি, নীতির বাধা না থাকলে তোমাকে এমন বেশ কয়েকজন চিত্র-সম্রাজ্ঞীর কথা এই মুহূর্তে বাতে পারতাম যারা এই অপারেশন করিয়েছে।
আমাকে তুমি অনায়াসে বলতে পারো, মেয়েলি কৌতূহলে চিকচিক করে, উঠল লুসির চোখ দুটো। আমি কি আর কাউকে বলতে যাচ্ছি! জুলসের সামনে একটু না হয় পরচর্চা করা যেতে পারে, ভাবছে লুসি, তাই নিয়ে ও তো আর ব্যঙ্গ করবে না।
বলতে পারি, মৃদু হেসে বলল জুলস, একশর্তে।
কি শর্ত?
ডিনার খেয়ে আজ রাতটা আমার সাথে কাটাবে তুমি, বলল জুল তোমার বোকামির জন্যে অনেকদিন ধরে আমরা বঞ্চিত হয়েছি অনেক দুঃখ আর ক্ষোভ জমা হয়ে আছে তোমার শরীর আর মনে, সেগুলো পূরণ হওয়া দরকার। এমন আশ্চর্য সহানুভূতি আর আন্তরিকতার সাথে কথাগুলো বলল জুলস যে নিমেষে অভিভূত হয়ে পড়ল লুসি।
একটা ঢোক গিলল লুসি, কোনমতে বলল, অনেক দোষ-ত্রুটি আছে আমার, তুমি মোটেও আনন্দ পাবে না।
কি বোকা মেয়ে রে বাবা! হেসে ফেলল জলস। প্রেম করার যে আরও কত উপায় আছে তাও জানো না তুমি? আরও প্রাচীন, কিন্তু আরও সভ্য?
ও, বুঝতে পারার ভঙ্গিতে ছোট করে মাথা নেড়ে চোখ নামাল লুসি, ওটার কথা বলছ তুমি।
হ্যাঁ, লুসির কণ্ঠস্বর নকল করে ভেঙচাল জুলস, ওটার কথা বলছি আমি। আজকাল ভাল মেয়েরা ওটা করে না, তেজী ঘোড়ার মত পুরুষরাও ওটা পছন্দ করে না–এমন একটা আশ্চর্য পদ্ধতি, যার সমস্ত দিকই ভাল আর বিজ্ঞান-সম্মত, অথচ এই উনিশশো আটচল্লিশ সালেও এর প্রচলন নেই বললেই চলে। কিন্তু আমি এই লাস ভেগাসেরই এক থুড়থুড়ে বুড়ির কাছে নিয়ে যেতে পারি তোমাকে, একসময় এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত বেশ্যাবাড়ির সবচেয়ে কমবয়েসী মানী ছিল সে, ওয়াইল্ড ওয়েস্টের সেই উন্মাদ যুগে, সম্ভবত আঠারোশো আশি সালের দিকে। সে-যুগের গল্প বলতে ভালবাসে বুড়ি। তার গল্প শুনলে বিস্ময়ে মাথা ঘুরে যাবে তোমার জানো, আমাকে কি বলেছে সে? পৌরুষের প্রতীক, আগ্নেয়াস্ত্রধারী, দুঃসাহসী সেই যুগের পুরুষেরা, যাদেরকে কাউ বয় বলি আমরা, তারাও নাকি বেশ্যা পাড়ায় এসে মেয়েদের কাছে এই ফ্রেঞ্চ পদ্ধতির জন্যে অনুরোধ করত। ডাক্তাররা এটাকে ফেলাশিও বলে। তোমার প্রিয় সনির সাথে এসব হয়েছে কখনও?
এই প্রথম জুলসকে বিস্মিত করল লুসি। হঠাৎ হাসল সে, তাই দেখে সর্বশরীর শিহরিত হলো জুলসের। বিদ্যুৎচমকের মত আবিষ্কার এবং উপলব্ধি করল জুলস, হাসিটা হুবহু মোনালিসার ছবির মত। সাথে সাথে জুলসের বিজ্ঞান-সচেতন মন অন্য খাতে বইতে শুরু করল-মোনালিসার হাসির এই কি তবে রহস্য? তবে কি শতাধিক বছরের রহস্য উদঘাটিত হলো আজ?
সনির সাথে? মৃদু, চাপা গলায় বলল লুসি, সনির সাথে সব করেছি আমি। এমন খোলাখুলিভাবে এই প্রথম কারও কাছে কথাটা স্বীকার করল সে।
.
দুই হপ্তা পরের ঘটনা।
লুসির অপারেশন হচ্ছে। ডাক্তার জুলস সীগল উপস্থিত রয়েছে অপারেশন থিয়েটারে। অপারেশন করছেন তার বন্ধু ডাক্তার কেলনার।
ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করার আগে লুসির কানে কানে বলল জুলস, ডাক্তার তোমার চারদিকটা খুব ভাল করে এঁটে দেবে। তুমি আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, সে কথা ওকে বলেছি কিনা। তবে, এরই মধ্যে ঘুম পাড়াবার প্রাথমিক ওষুধ খেয়ে উদ্ৰামত এসে গেছে লুসির, তাই হাসতে পারছে না সে। কিন্তু রসিকতাটায় ভাল কাজ হলো, অপারেশনের ভয় বেশ একটু কমে গেল তার।
নিতম্বের ঝুল কমানোকে ডাক্তারী ভাষায় বলা হয় পেরিন কোরাফি আর যোনির দেয়াল সেলাই করাকে বলা হয় কল্পোরাফি। ডাক্তার কেলনার আত্মপ্রত্যয়ের সাথে ছুরি বসাল। পেশীর ঝুল কমিয়ে যোনি-মুখ সামনের দিকে সরিয়ে আনা, এই দুটো কাজ করতে হয় ডাক্তারকে নিতম্বের তলদেশ শক্ত করার জন্যে। এতে উপর থেকে বেশি চাপ পড়ার সম্ভবনা থাকে না।
