শাওয়ার সেরে ফিরে এলো লুসি। আড়ষ্ট ভাবটা কাটিয়ে উঠতে পারছে না কোনমতে। রাজ্যের কুণ্ঠা, লজ্জা এসে জড়সড় করে ফেলছে ওকে। জুলস ওর দিকে এগিয়ে আসছে দেখে দ্রুত মাথা নাড়ল ও। বলল, না!
কিন্তু ওর কথায় কান দিল না ডাক্তার। তাই বলে ধমক-ধামক মেরে আরও সন্ত্রস্ত করে তুলল না ওকে। ধৈর্যের সাথে বোঝাল খানিকক্ষণ, তারপর ওর পা দুটো আলগা করে শুইয়ে দিল খাটের উপর। কামরায় একটা অতিরিক্ত ডাক্তারী ব্যাগ রয়েছে। খাটের পাশে রয়েছে কাঁচ দিয়ে ঘেরা ছোট একটা টেবিল, এটার উপরেও কিছু যন্ত্রপাতি দেখা যাচ্ছে। মুহূর্তে পেশাদার ডাক্তার বনে গেল জুলস। পরীক্ষা। করছে লুসিকে। ভেতরে আঙুল ঢুকিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। ওদিকে লুসির অবস্থা গুরতর, লজ্জায় দম আটকে মারা যায় আর কি। টের পেয়ে ওর নাভির ওপর চুমু খেলো জুলস, আদর করে বলল, কাজ করে এই প্রথম আনন্দ পেলাম আমিই। এরপর আবার পরীক্ষা করল লুসিকে, এবার ওকে উপুড় করে শুইয়ে নিল। মল নিষ্কাশনের ফুটোটা পরীক্ষা করার সময় সির শরীরটা শিউরে শিউরে উঠছে। তাই দেখে রেগে কাই হয়ে গেল জুলস। খুব একচোট বকাবকি করেও যখন কাজ হলো না, তখন আবার সেই আগের পন্থায় ফিরে এলো সে, আদর করতে শুরু করল। সস্নেহে ওর গলায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
পরীক্ষা শেষ হতে বসিকে আবার সোজা করে শুইয়ে দিল জুলস। ওর ঠোঁটে হালকা চুমু খেয়ে বলল, সোনা মানিক, তুমি দেখো, তোমার এই শরীরটাকে একেবারে নতুন করে গড়ে দেব আমি। তারপর আবার পরীক্ষা করে দেখব–আমি নিজেই। এ-বিষয়ে এটা আমার এই প্রথম ডাক্তারী প্রচেষ্টা। ফলাফল যদি ভাল হয়, ডাক্তারী পত্রিকায় তথ্যবহুল একটা প্রবন্ধ লিখতে পারব।
ইতিমধ্যে কুণ্ঠা আর লজ্জার কিছুমাত্র অবশিষ্ট নেই লুসির মধ্যে। এর জন্যে দায়ী জুলসের সরুল সস্নেহ ব্যবহার। যা কিছু করল আর বলল তার মধ্যে পেশাদারী একটা কর্তব্যের ভাব ছিল, আন্তরিক ভালবাসা ছিল কিন্তু নোংরা কৌতূহল বা যৌনবিকৃতির লক্ষণ ছিল না।
এখন জুলস শেলফ থেকে মোটা একটা বই নামিয়ে লুসির মত আরেকটা কেসের বিবৃতি পড়ে শোনাচ্ছে। এতে অপারেশনের কথাও লেখা রয়েছে। শুনতে শুনতে হঠাৎ আবিষ্কার করুল লুসি, সে-ও ভীষণ কৌতূহলে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু বেঢপ আকৃতি শুধরে নেয়ার জন্যে নয়, বলল জুলস, স্বাস্থ্যের জন্যেও প্রয়োজন রয়েছে এটা। সময় থাকতে ত্রুটিটা সারিয়ে না নিলে পরে তোমার শরীরের সমস্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থায় গোলযোগ দেখা দিতে পারে। অপারেশন করে শুধরে নিতে যত দেরি করা হবে জায়গাটা ততই দুর্বল হয়ে পড়বে। দুঃখের কথা কি জানো? এই ধরনের রোগের চিকিৎসা করা তো দূরের কথা, অনেক ডাক্তার সেকেলে লজ্জা-শরমের জন্যে আসল গলদটা কোথায় তাই ধরতে পারে না। এই একই কারণে বেশির ভাগ মেয়েরাও মুখ ফুটে কিছু বলে না।
এবার তুমি থামবে? মুখটা লাল হয়ে আছে লুসির দোহাই লাগে, অন্য কিছু বলো তুমি।
বুঝতে পারছে জুলস, নিজের বিশ্রী বিকৃতির কথা ভেবে এখনও স্বাভাবিক হতে পারছে না লুসি। ডাক্তারী প্রশিক্ষণ পেয়েছে জুলস, তার কাছে ব্যাপারটা স্রেফ বোকামি বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু মনটা তার কোমল, বিরক্ত বোধ করলেও লুসির প্রতি আশ্চর্য একটা সহানুভূতি অনুভব করছে সে। আর এই সহানুভূতিটাই লুসির মন ভাল করে দেবার জন্যে সবচেয়ে বেশি দরকার এখন।
যাই হোক, হাসতে হাসতে বলল জুলস, তোমার গোপন কথাটা জানা হয়ে গেছে আমার। ইচ্ছা হলে আমারটাও এখন শুনতে পারো তুমি।
চুপ করে আছে লুসি, কিন্তু চোখ দুটো কৌতূহলে চিক চিক করছে।
তোমার মুখে তো একটা প্রশ্ন লেগেই আছে, বলল জুলস, আমার মত কম বয়েসী একজন প্রতিভাবান ডাক্তার এই বাজ-পড়া শহরে কেন মরতে এসেছি? নিজের সম্পর্কে খবরের কাগজে প্রকাশিত কয়েকটা বিবৃতি নিয়ে ব্যঙ্গ করল জুলস। তোমার কাছে কিছুই লুকাবার নেই আমার। শোনো তাহলে, আমি একজন গর্ভপাত বিশেষজ্ঞ। কাজটাকে তুমি খারাপ বলতে পারো না, একটু হাসল জুলস। কিন্তু কপাল মন্দ, আমি ধরা পড়ে গেলাম। আমার এক বন্ধু আছে, সেও একজন ডাক্তার, নাম কেনেডি। হাসপাতালে একসাথে চাকরি করতাম আমরা। ঘনিষ্ট বন্ধু কিনা, আমার বিপদ দেখে কথা দিল, কোন না কোন ভাবে সাহায্য করবে আমাকে। যতদূর জানা আছে আমার, টম হেগেন তাকে বলেছিল, কর্লিয়নি.পরিবার তার কাছে ঋণী, কখনও যদি কোন সাহায্যের দরকার হয়, সে যেন ওকে স্মরণ করে। সেই সূত্রেই টম হেগেনের সাথে আমার ব্যাপারে কথা বলল কেনেডি এই ঘটনার পরই শুনলাম, আমার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ তুলে নেয়া হয়েছে কিন্তু। শুধু মেডিকেল এসোসিয়েশন আর পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ আমার নামটা ব্ল্যাকলিস্ট থেকে বাতিল করল না। তার মানে, ওরা আমার খুব একটা উপকার করতে পারল না। তাই শেষ পর্যন্ত, কর্লিয়নি পরিবার এই চাকরিটা দিল আমাকে। খুব ভাল রোজগার করি আমি এখানে। শো-বিজনেসের এইসব বোকা মেয়েগুলো পা পিছলে ফ্যাসাদে পড়ে যায়–সময় মত আমার কাছে এলে ওদের গর্ভপাত ঘটাতে একটুও বেগ পেতে হয় না আমার। চেছে একেবারে কিউরেট করে দিই সব তুমি জানো, ওই ফ্রেডি কর্লিয়নিটি কি রকম সাঙ্ঘাতিক? আমি এখানে আসার পর গোটা পনেরো খেয়েকে বিপদে ফেলেছে ও। তার আগে কি করেছে না করেছে বুঝে নাও। ভাবছি, ওর সাথে একদিন কথা বলতে হবে আমাকে। কিছু জ্ঞান দেব, যা বাপের কালেও শোনননি ও। ভাবতে পারো, তিনবার গনোরিয়া আর একবার সিফিলিস বাধিয়ে আমার কাছে এসেছে চিকিৎসার জন্যে? এমন লম্পট ছোকরা দ্বিতীয়টি দেখিনি আমি।
