আহা, বলল জুলস, আমি একটু চেষ্টা না চালালে তুমিই তো অপমান বোধ করতে।
হেসে ফেলল লুসি।.ভাবছে, মিথ্যে বলেনি জুলস।
পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে অন্তরঙ্গ বন্ধ হয়ে উঠল ওরা তাকে ঠিক প্রেম। বলে না, কারণ ওরা কখনও শরীর ঘাটাঘাটি করে না আসলে জুলসকে কোন সুযোগই দেয় না লুসি। লক্ষ করে ডাক্তার একটু অবাক হয়, কিন্তু আর সব পুরুষের মত ক্ষুণ্ণ হয় না। তাতে ওর উপর লুসির আস্থা আরও বেড়ে গেল। আবিষ্কার করল বাইরে গুরুগম্ভীর পেশাধারী ডাক্তারী চেহারার আড়ালে ভারি কুর্তিবাজ বেপরোয়া একটা মানুষ বাস করে। শনি আর রবিবার একটা রিকন্ডিশন করা এম-জি গাড়ি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মোটর রেসে যোগ দেয় সে। ছুটি নিয়ে মেক্সিকোর ভিতর দিকে চলে যায়। লুসিকে বলে, সে বড় বুনো জংলী জায়গা, একজোড়া জুতোর লোভে ওখানকার লোকেরা বিদেশীদের খুন পর্যন্ত করতে ছাড়ে না। হাজার বছর আগের আদিম জীবন যাত্রা এখনও চলছে ওখানে। দৈবাং লুসি জানতে পারল, জুলস একজন সার্জেন, এক সময় নিউ ইয়র্কের কোন একটা বিখ্যাত হাসপাতালের সাথে জড়িত ছিল সে।
এসব শুনে আরও আশ্চর্য হয় লুসি। ভাবে, তাহলে জুলস এই হোটেলে চাকরি নিয়েছে কেন? একদিন জিজ্ঞেস করায় কলল, তোমার গোপন কথা আমাকে বললে আমারটাও তোমাকে বলতে পারি।
লাল হয়ে উঠল লসির মুখটা। প্রসঙ্গটা এড়িয়ে গেল ও। জুলস আর কিছু বলল না। ওদের সম্পর্কটা আগের মতই রয়ে গেল। অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তার উপর লুসি যে কতটা নির্ভর করে নিজেও সে বোঝে না।
৩.১০ জুলসের সোনালি চুলভর্তি মাথা
১০.
জুলসের সোনালি চুলভর্তি মাথা কোলে নিয়ে সুইমিং পুলের ধারে বসে রয়েছে নুসি! জুলসের উপর গভীর স্নেহে অভিভূত হয়েউঠেছে ওর মন। কামনায় উত্তেজিত হয়ে উঠেছে ওর শরীর। নিজের অজ্ঞাতে জুলসের গলায় হাত বুলাচ্ছে। জুলস ঘুমাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে ওর, ভাবছে টের পাচ্ছে না কিছুই। গায়ের সাথে গায়ের ছোঁয়া লাগতেই উত্তেজিত হয়ে উঠছে ও। হঠাৎ ওর কোল থেকে মাথা তুলে উঠে দাঁড়াল জুস, হাত ধরে দাঁড় করাল ওকে। ঘাসের উপর দিয়ে হেঁটে সিমেন্ট বাধানো পথের উপর নিয়ে এল ওকে। নমী মেয়ের মত ওর পিছন পিছন আসছে ও। একটি কটেজে থাকে জুলস, ওর সাথে সেই কটেজে এল লুসি। ভিতরে ঢুকে দুজনের জন্যে দুটো লম্বা, গ্লাসে পানীয় ঢালল জুলস। বাইরের চোখ ঝলসানো রোদ আর নিজের যৌনকামনাময় বাসনার গায়ে পানীয়টুকু যেন আগুন জেলে দিল। মাথা ঘুরছে ওর। ওকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল জুলস, সাতারের পোশাক পরা প্রায় অনাবৃত শরীরের সাথে শরীর সংলগ্ন হলো। নিচু গলায় বলল লুলি, না.! প্লীজ, না। কিন্তু গলার সুরে তেমন জোর নেই, কান দিল না জুলস। তাড়াতাড়ি ওর অন্তর্বাস খুলে ফেলে ওর বুকে আদর করছে সে, সাঁতারের পোশাক ছাড়িয়ে ওর সারা শরীরে, সুডৌল উদরে, উরুতে চুমু খাচ্ছে। উঠে দাঁড়িয়ে এবার নিজের সুইম স্যুট ছেড়ে ওকে জড়িয়ে ধরল জুলস। তারপর মিলিত হলো ওরা। এতটুকু স্পর্শ লাগতে না লাগতেই লুসির শরীরে চরম মুহূর্ত উপস্থিত। পরমুহূর্তে জুলসের ভাব-ভঙ্গি থেকে বোঝা গেল, ভারি আশ্চর্য হয়ে গেছে সে! সনিকে পাবার পূর্ব মুহূর্তের সেই লজ্জা আর হীনম্মন্যতা আবার গ্রাস করল লুসিকে। কিন্তু জুলস ওর শরীরটাকে খাটের কিনারায় বিচিত্র কায়দায় ঝুলিয়ে নিয়ে আবার মিলন ঘটাল। ওকে অনেকক্ষণ ধরে চুমো খেলো জুলস। এবার সে-ও পরম তৃপ্তি পেয়েছে।
শরীরের উপর থেকে জুলস নেমে যেতেই খাটের আরেক প্রান্তে সরে গিয়ে শরীরটাকে ছোট করে কাঁদছে লুসি। এ কি বিষম লজ্জা তার। পরমুহূর্তে চমকে উঠল। মৃদু শব্দে হাসছে জুলস। বলল, ওরে বোকা ইতালীয় মেয়ে, এইজন্যেই তাহলে এতদিন অৰীকার করেছ আমাকে! হাঁদা কোথাকার! সস্নেহে হাদা ডাক শুনে ওর দিকে ফিরল নি। ওর নগ্ন শরীর জড়িয়ে ধরে জুলস বলল, স্রেফ সেকেলে, একেবারে মধ্যযুগীয়। ওর কণ্ঠস্বরে গভীর সান্ত্বনা রয়েছে, রয়েছে আশ্বাস, কাঁদতে কাঁদতে সেটা অনুভব করছে লুসি।
একটা সিগারেট ধরাল জুলস, সেটা লুসির ঠোঁটে গুঁজে দিল। ধোয়া খেয়ে কেশে উঠল লুসি, অগত্যা থামাতে হলে কান্নাটাকে। এবার আমার কথা শোনো, বলল জুলস। তুমি যদি আরেকটু আধুনিক হতে, বিংশ শতাব্দীর শিক্ষাদীক্ষা পেতে, তাহলে তোমার এই সমস্যা কোনকালে মিটে যেত। তোমার অসুবিধেটা কোথায়, বুঝিয়ে দিচ্ছি, শোনো। তুমি কুৎসিত, তোমার চামড়া কর্কশ কিংবা তোমার চোখ ট্যারা–এসব তোমার সমস্যা নয়। এসব ত্রুটি পান্টিক সার্জারি দিয়েও সম্পূর্ণ সারানো যায় না। তোমার সমস্যাটা বরং থুতনিতে একটা আঁচিল অথবা মুখের কোথাও একটা জল থাকার মত। কিংবা কানের গঠনে ত্রুটি থাকার মত। এটা একটা খুদে যৌন সমস্যা। দুশ্চিন্তা ছাড়ো। যদি ভেবে থাকো তোমার নিতম্বের আকার বেশি বড় বলে কোন পুরুষ তোমার সাথে সঙ্গমে সুখ পায় না, তাহলে মস্ত ভুল করেছ। গঠনে খানিকটা দোষ যে নেই তা নয়, ডাক্তাররা যাকে বলে নিতম্বের নিচেকার ত্রুটি। সাধারণত সন্তান প্রসবের পর ওরকম হয়ে থাকে, এমনিতে হাড়ের আকৃতির দোষেও হয়। কত মেয়েরই তো অমন থাকে। মহা অসুখী অবস্থায় জীবন কাটায় তারা। অথচ সামান্য একটা অপারেশন করিয়ে নিলেই সব ল্যাঠা চুকে যায়। জানো তুমি, অনেকে এর জন্যে এমন কি আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। কি বোকা! তোমার এমন আশ্চর্য সুন্দর গড়ন, অথচ তোমারও যে এই সমস্যা থাকতে পারে তা আমি ভাবতেও পারিনি। ভেবেছিলাম, মানসিক কোন ব্যারাম বাধিয়ে বসে আছ। তোমার কাহিনী তো আমার জানা আছে–সনির সাথে সাঙ্ঘাতিকভাবে জড়িয়ে ছিলে। তোমার মুখেও সে-গল্প অনেকবার শুনেছি। এখন যখন সমস্যাটা জানা গেছে, চিন্তার কিছুই নেই তোমার। একবার যদি তোমার শরীরটাকে ভাল করে পরীক্ষা করতে দাও আমাকে, কোথায় কতটা কি করার দরকার হবে তা আমি সাথে সাথে বলে দিতে পারব। এবার যাও, শাওয়ারটা সেরে ফেলো।
