হেগেন বলল, তখন অন্য রকম মানুষ ছিল সে। বড় হয়ে সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল সনি।
আমার কাছে নয়, বলল লুসি অন্যদের কাছে হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে নয়। এখনও বড় দুর্বল লুসি, ভাল করে বুঝিয়ে বলতে পারেনি যে সনি তার সাথে আশ্চর্য কোমল ব্যবহার ছাড়া কখনও রূঢ় ব্যবহার করেনি। রাগ করেনি কখনও, বিরক্ত হয়নি কখনও, তাকে অবিশ্বাস করেনি কখনও।
লাস ভেগাস যাবার সব ব্যবস্থা করে দিল হেগেন। একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করা হলো, নিজে ওকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিল হেগেন ওকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিল, সেখানে গিয়ে নিঃসঙ্গ মনে হলে কিংবা কোন অসুবিধার কারণ ঘটলে হেগেনকে যেন অবশ্যই জানায়। যেমন করে পারে সাহায্য করবে হেগেন।
প্লেনে চড়ার আগে একটু ইতস্তত করে লুসি জানতে চাইল, তুমি যে আমার জন্যে এত সব করছ সনির বাবা তা জানেন?
আমি তার পক্ষ এবং নিজের পক্ষ থেকে এসব করছি, মৃদু হেসে বলল হেগেন। তিনি সেকেলে মানুষ, সনির বৈধ স্ত্রীর বিরুদ্ধে কখনও কিছু করবেন না। কিন্তু ওঁর ধারণা, তুমি একজন অবিবাহিত তরুণী, তাই সনির আর একটু বিবেচক হওয়া উচিত ছিল। তাছাড়া তুমি যখন অতগুলো ঘুমের বড়ি খেয়ে ফেললে, তোমার জন্যে আমরা সবাই চিন্তিত হয়ে পড়লাম। ইচ্ছা করেই টম হেগেন লুসিকে বলল না যে কেউ কারও জন্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, এই ঘটনাটাই একেবারে সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার ডন কর্লিয়নির কাছে।
লাস ভেগাসে আঠারো মাস বাস করার পর লুসি এই ভেবে আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছে যে এখন তাকে প্রায় সুখীই বলা চলে। কোন কোন রাতে সনিকে স্বপ্নে দেখে সে এখনও। তারপর ঘোর অন্ধকার থাকতে জেগে উঠে নিজেকে নিজে আদর করে স্বপ্নটাকে আরও প্রলম্বিত করে, যতক্ষণ না আবার ঘুম আসে চোখে। সনি মারা যাবার পর থেকে কোন পুরুষ মানুষের দিকে ফিরেও তাকায়নি লুসি; কিন্তু লাস ভেগাসে মনের মত জীবন পেয়েছে সে। হোটেলের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটে, লেক মীডে.নৌকা চড়ে বেড়ায় আর ছুটির দিনে মরুভূমির মাঝখানে গাড়ি নিয়ে ঘোরে। আগের চেয়ে কিছুটা রোগা হয়ে গেছে লুসি, তাতে শরীরের গড়নটা আরও সুন্দর হয়েছে দেখতে। এখনও লুসি পুরোদস্তুর ভোগবিলাসী, কিন্তু প্রাচীন ইতালীয় কায়দায় নয়, নব্য মার্কিনী কায়দায়। হোটেলের জনসংযোগ বিভাগে.অভ্যর্থনা কর্মীর কাজ করে সে। ফ্রেডির সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই, তবে দেখা হলেই ফ্রেডি থেমে ওর সাথে একটু গল্প করে যায়। ফ্রেডির এত পরিবর্তন দেখে লুসি মনে মনে আশ্চর্য না হয়ে পারে না। মহিলাদের সাথে আজকাল তার সাঙ্ঘাতিক সদভাব। ভাল কাপড়চোপড় পরে ফিটফাট বাবু হয়ে থাকে। শেখিন ক্যাসিনো চালাবার দক্ষতা সত্যিই রয়েছে তার। আবাসিক দিকটা পরিচালনা করে ফ্রেডি, ক্যাসিনোর মালিকরা কেউ একাজ সাধারণত করে না। প্রচণ্ড গরম আর হয়তো অতিরিক্ত যৌন সদ্যোগের ফলে সে-ও রোগা হয়ে গেছে। তার উপর হলিউডে তৈরি পোশাক-আশাকের জন্য ওকে মারাত্মক স্মাট আর সুন্দর লাগে দেখতে।
ছমাস পর টম হেগেন লাস ভেগাসে এল লুসির অবস্থা নিজের চোখে দেখার জন্যে! প্রত্যেক মাসে লুসি ছশো ডলারের একটা চেক পায়, বেতন ছাড়াই পায় এটা। হেগেন ব্যাখ্যা করে বলল যে ওই চেকের টাকা কোথা থেকে আসছে সেটা খাতা-পত্রে দেখানো দরকার, তাই লুসি যেন ওকে সম্পূর্ণ আমমোক্তারনামা সই করে দেয়, তাহলে হেগেনের পক্ষে টাকাটা এনে দিতে সুবিধে হবে। হেগেন তাকে আরও জানান, বিধি-মতে হোটেলের মালিকানার ফর্দে পাঁচ পার্সেন্টের অধিকারিণী হিসেবে লুসির নাম তোলা হবে। নেভাডার আইন মত ওর এই আয়ের ব্যাপারে যা কিছু করণীয় তার সবই করতে হবে। অবশ্য ওর নিজের দায়িত্ব খুব কমই থাকবে, সমস্ত কর্তব্যই ওর হয়ে করে দেয়া হবে। কিন্তু হেগেনের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে যেন কখনও কারও সাথে আলোচনা না করে লুসি সব দিক দিয়ে আইনের কবল থেকে ওকে রক্ষা করার ব্যবস্থা হবে। প্রতি মাসে নিয়মিত টাকা পেতে থাকবে সে কর্তৃপক্ষ কিংবা কোন্ত আইন সংস্থার তরফ থেকে ওকে কখনও কোন প্রশ্ন যদি করা। হয়, লুসি যেন সরাসরি তার উকিলকে জানিয়ে দেয়। তাহলে ওকে আর কেউ বিরক্ত করবে না।
রাজী হলো লুসি এর ভিতরের ব্যাপারটা সবই বুঝেছে ও, এবং কর্লিয়নিদের সুবিধে করে দেবার জন্যে ওকে যেভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তাতে ওর কোন আপত্তিও নেই। ওর মনে হচ্ছে ওদের জন্যে এটুকু ওর করাই উচিত। কিন্তু হেগেন যখন বলল, হোটেলের চারদিকে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেদিকে তো খেয়াল রাখতে হবেই, তাছাড়া ফ্রেডি আর ফ্রেডির উপরওয়ালার দিকেও নজর রাখতে হবে, তখন লুসি বলল, তার মানে? ফ্রেডির ওপরেও চোখ রাখতে হবে নাকি? ফ্রেডির উপরওয়ালাটি হোটেলের অনেকগুলো শেয়ারের মালিক। হোটেলটা সেই চালায়।
লুসির কথা শুনে হাল হেগেন। ফ্রেডির বাবা ওর জন্য দুশ্চিন্তা করেন। ওর সঙ্গীটি, মো গ্রিন গভীর পানির মাছ। আমরা শুধু এইটুকুই চাই ফ্রেডি যেন কোন। বিপদে না পড়ে। লাস ভেগাসের এই মরুভূমির মাঝখানে হোটেলটা তৈরি করার জন্যে ডন কর্লিয়নি অজস্ব টাকা ঢেলেছেন, তার কারণ শুধু ছেলের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় সৃষ্টি করা নয়, আরও অনেক বড় উদ্দেশ্যের চৌকাঠ পেরোবার ইচ্ছাটাও রয়েছে তাঁর-কিন্তু এত কথা লুসিকে বুঝিয়ে বলার দরকার আছে বলে মনে করল না হেগেন।
