জুলস, থামো, মিনতির সুরে বলল লুসি। লক্ষ্মীটি, থামো!
অনুতপ্ত হয়ে জুলস বলল, আচ্ছা। বেশ। এই থামলাম। খুশি, মানিক?
লুসির কোলে মাথা রেখে, ওর নরম উরু দুটোকে বালিশ বানিয়ে ছোট একটা ঘুম দিয়ে নিল জুলস। লুসির ছটফট করে ওঠা, লুসির কটিদেশের উত্তাপ, সব লক্ষ করে হাসি পাচ্ছে ওর। তারপর যেই লুসি ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিতে শুরু করল, খেলাচ্ছলে ওর হাতের কব্জি ধরে রাখল জুল, যেন আদর করছে, আসলে কিন্তু ওর পালস পরীক্ষা করছে। ঘোড়ার মত লাফাচ্ছে ওর পালস। আজ ওকে আয়ত্তে আনতেই হবে, ভেদ করতেই হবে রহস্যটা, তা যে ভাবেই হোক না কেন। এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ডা. জুলস সীগল।
সুইমিং পুলের চারদিকে তাকাচ্ছে লুসি। লোকজন দেখছে। দু বছরও তো কাটেনি, এরই মধ্যে ওর জীবনে এতটা পরিবর্তন আসবে ঘুণাক্ষরেও তা সে ভাবতে পারেনি। কনি কর্লিয়নির বিয়ের দিন ওর সেই মৃঢ়তার জন্য সে কখনও অনুশোচনা বোধ করেনি। সেদিন যা ঘটেছিল তার কোন তুলনা নেই ওর জীবনে, আর কখনও ঘটেনি। সনির সাথে সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে আজও সে পুলকিত হয়।
হপ্তায় কমপক্ষে একদিন ওর কাছে আসতই সনি। কোন কোন হপ্তায় একাধিক বার। সনিকে আবার দেখতে পাবার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত সারা শরীরে ওরসে কি যন্ত্রণা! পরস্পরের শরীর পাবার ওদের এই কামনাটা নিতান্তই আদিম ছিল, তার মধ্যে কাব্য বা মননশীলতার ছিটেফোঁটাও ছিল না। যাকে বলা যেতে পারে। সবচেয়ে মুল ধরনের প্রেম, স্রেফ শারীরিক প্রেম, মাংসের জন্যে বিপরীত মাংসের কামনা।
যেই ফোন করে সনি বলত যে সে আসছে, অমনি লুলি দেখে রাখ বাড়িতে যথেষ্ট মদ, রাত আর সকালের জন্য যথেষ্ট খাবার ইত্যাদি আছে কিনা। কাল্প সনি সাধারণত বেশ বেলা করে বিদায় নিত। প্রাণভরে ওকে পেতে চাইত সনি,ও-ও তাকে প্রাণ-মন দিয়ে পেতে চাই নিজের চাবি ছিল সনির, সে দরজা দিয়ে ঢোকামাত্র লুসি ছুটে গিয়ে তার বিশাল আলিঙ্গনের ভিতর সেধিয়ে যেত। পশুর মত সোজাসুজি করত ওরা কাজটা জানোয়ারের আদিমতা প্রকাশ পেত ওদের আচরণে! হল ঘরে দাঁড়িয়েই প্রেম করত ওরা, যেন সেই প্রথম দিনের প্রেম করার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, তারপর লুসিকে বুকে তুলে নিয়ে শোবার ঘরে আসত সনি।
বিছানায় শুয়েও প্রেম চলত ওদের। দুজনেই বিবস্ত্র অবস্থায় ষোলো ঘণ্টা কাটাত বাড়ির ভিতর মহা ঘটা করে রান্না-বান্না করত লুলি। মাঝে মাঝে সনির টেলিফোন আসত, সব কাজের কথা হত, লুসি সে-সব কখনও কান পেতে শুনতে যায়নি। সনির শরীরটাকেই আদর করতে ব্যস্ত থাকত ও, হাত বুলিয়ে দিত, চুমু খেত, মুখ গুঁজে রাখত দু উরুর মাঝখানে। মাঝে মাঝে সনি মদ ঢালার জন্য উঠত। ওর পাশ ঘেঁষে যাবার সময় হাত বাড়িয়ে ওর নগ্ন দেহ স্পর্শ করত লুসি। ধরে রাখত, আদর করত, যেন সনির শরীরের অঙ্গগুলো ওর খেলার সামগ্রী। বিশেষভাবে শুধু যেন ওর জন্যে তৈরি; বিচিত্র, নির্দোষ খেলনা, বড় পরিচিত, তবু তার মধ্যে কত অপ্রত্যাশিত আনন্দের ভাণ্ডার। প্রথম প্রথম নিজের এই উচ্ছ্বাসের জন্য লজ্জা পোব করত লুসি, পরে দেখল এতে সনি খুশি হয়। সব কিছুর মধ্যে একটা পশুসুলভ নির্মল ভাব ছিল। দুজনে দুজনকে পেয়ে ওরা বড় সুখী হয়েছিল
সনির বাবা যখন আততায়ীর গুলি খেয়ে রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়লেন, সেই প্রথম লুসির মনে হয়েছিল বিপদ তো তাহলে সনিরও ঘটতে পারে সেদিন বাড়িতে একা বসে শুধু ফুঁপিয়ে কাঁদেনি লুসি, জানোয়ারের মত গলা ছেড়ে বিলাপ করেছিল। সনি যখন তিন হপ্তার মধ্যে একবারও এল না, তখন লুলির একমাত্র আশ্রয় হয়ে উঠেছিল ঘুমের বড়ি, মদ, আর হৃদয়ের যাতনা। সে যন্ত্রণা ছিল সত্যিকার শারীরিক যন্ত্রণা। ওর গা ব্যথা করত। অবশেষে আবার একদিন যখন সনি এল, সারাটা সময় তাকে আঁকড়ে ধরে রাখল লুসি। এর পর প্রতি হপ্তায় অন্তত একবার আসত সনি, মারা যাবার আগের দিন পর্যন্ত।
খবরের কাগজে ওর মৃত্যুর খবর পড়েছিল লুসি। সেই রাতে আত্মহত্যা করার জন্যে একগাদা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল সে। কে জানে কেন, তবু মারা যায়নি লুসি। শুধু মনে আছে, সাজাতিক অসুস্থ অবস্থায় টলতে টলতে ফ্ল্যাটের হলঘর থেকে বেরিয়ে এসে লিফটের সামনে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে কারা যেন ওকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। সনির সাথে ওর অবৈধ সম্পর্কের কথা বিশেষ কেউ জানত না, তাই খবরের কাগজে ওর সম্পর্কে কয়েক ইঞ্চির বেশি কিছু লেখা হয়নি।
ও যখন হাসপাতালে, টম হেগেন ওকে দেখতে এসে সমবেদনা জানিয়ে গেল। লাস ভেগাসে সনির ভাই ফ্রেডি যে হোটেলটি চালায়, সেখানে টম হেগেনই ওর জন্য একটা চাকরি ঠিক করে দিল। টম হেগেন বলল, কর্লিয়নি পরিবারের কাছ থেকে একটা বার্ষিক ভাতা পাবে সে। সনি ওর জন্য এই ব্যবস্থা করে রেখে গেছে। টম জানতে চাইল; ও অন্তঃসত্ত্বা কিনা যেন, সে জন্যেই ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল লুসি। লুসি বলল, না। সেই মর্মান্তিক রাতে সনি ওর সাথে দেখা করতে এসেছিল কিনা, কিংবা ফোন করে আসবার কথা বলেছিল কিনা জিজ্ঞেস করতে, নুসি জানাল, না, আসেওনি, ফোনও করেনি। কাজ শেষ হয়ে গেলে লুসি সব সময় সনির জন্যে বাড়িতে বসে অপেক্ষা করত। সত্যি কথাই বলল লুসি। একমাত্র ওকেই আমি ভালবাসতে পেরেছিলাম, আর কাউকে কখনও ওভাবে ভালবাসতে পারব না। লক্ষ করল, কথাটা শুনে হাসল হেগেন। মনে হলো, আশ্চর্য হয়েছে সে। লুসি জানতে চাইল, অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে কথাটা? তুমি যখন ছোট ছিলে, ও ই না তোমাকে ওদের বাড়িতে নিয়ে এসে আশ্রয় দিয়েছিল?
