ঘটনাটা ডন কর্লিয়নির নজরে আনল টম হেগেন। বোচ্চিচ্চিওদের ডন আশা করছে, ডন কর্লিয়নি হয়তো হতভাগ্য যুবকের জন্যে কিছু করতে পারবেন। তিনিই হেগেনের কাছে এসেছেন। ডন কর্লিয়নি সংক্ষেপে প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি তো আর জাদুকর নন। লোকে তার কাছে কেবলই অসম্ভব জিনিস চায়। কিন্তু পরদিন হেগেনকে তার অফিসে ডেকে পাঠিয়ে, ঘটনাটার খুঁটিনাটি সব কথা শুনলেন তিনি। সব কথা শুনে ডন কর্লিয়নি ওকে বললেন, বোচ্চিচ্চিও পরিবারের কর্তাকে আমার সাথে দেখা করার জন্যে উঠানে নিয়ে এসো।
এরপর যা ঘটল তাতে ডন কর্লিয়নির প্রতিভার সরলতাই প্রমাণ হয়। তিনি বোচ্চিচ্চিও নেতাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে ফলিক্স বোচ্চিচ্চিওর স্ত্রী পুত্র-পরিবারকে প্রচুর পরিমাণে মাসোহারা দেয়া হবে এবং তার জন্যে যত টাকা লাগবে তার সব এখনই বোচ্চিচ্চিও পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। এর বিনিময়ে ফীলিক্সকে স্বীকার করতে হবে যে সলোযো আর পুলিশ ক্যাপটেন ম্যাকক্লাস্কির খুনের জন্যেও সে-ই দায়ী।
এ ব্যাপারে অনেক খুটিনাটি ব্যবস্থা করতে হলো। ফীলিক্সকে এমনভাবে দোষ স্বীকার করতে হবে যাতে শ্রোতাদের মনে বিশ্বাস জন্মায়। সুতরাং হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি খুঁটিনাটি ব্যাপার সমস্তই তার জানা দরকার। তাছাড়া, ক্যাপটেনকে ড্রাগসের ব্যবসার সাথে জড়াতে হবে। তারপর লুনা রেস্তোরাঁর সেই ওয়েটারকে রাজী করাতে হবে যাতে সে ফীলিক্স বৈচ্ছিচ্চিওকেই অপরাধী বলে সনাক্ত করে। খানিকটা সাহসের দরকার হবে তার। কারণ এর আগে আততায়ীর যে বর্ণনা সে দিয়েছে তার আমূল পরিবর্তন করা দরকার.এখন। ফলিক্স মাইকেলের চেয়ে অনেক বেশি বেঁটে আর মোটা। তবে সে-ব্যবস্থাও ডন কর্লিয়নিই করলেন। ফীলিক্সের ছেলেমেয়েরা সুশিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে সেজন্যে আরও কিছু বেশি টাকা বরাদ্দ করলেন তিনি। তারপর বোচ্চিচ্চিও পরিবারকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন, আসলে তিনটে খুনের জন্যে মৃত্যুবরণ করতেই হচ্ছে ফীলিক্সকে, ক্ষমা পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এই নতুন স্বীকৃতির ফলে আরও সুনিশ্চিত হবে মৃত্যুদণ্ড-এর বেশি কিছু নয়।
সমস্ত ব্যবস্থা হয়ে গেল। আগেই দিয়ে দেয়া হলো টাকা। দণ্ডিত ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলো। নির্দেশ ও উপদেশ পেল সে। বিনা দ্বিধায় রাজী হয়ে গেল ফীলিক্স। দণ্ডিত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি সব কাগজেই ছাপা হলো বড় বড় হরফে। সমস্ত ব্যাপারটা সাফল্যমণ্ডিত হলো, কোথাও কোন খুঁত নেই। কিন্তু ডন কর্লিয়নি সবসময়ই সাআতিক হুশিয়ার মানুষ। ফালিক্স বোচ্চিচ্চিওর প্রাণদণ্ড না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন তিনি। চার মাস কেটে গেল তারপর তিনি বাড়ি ফিরে আসার নির্দেশ পাঠালেন তার ছোট ছেলে মাইকেলকে।
৩.০৯ সনির মৃত্যুর পর
০৯.
সনির মৃত্যুর পর একটা বছর কেটে গেছে। কিন্তু লুসি ম্যানচিনির মনে এখনও তার জন্যে হাহাকার জাগে। তার তীব্র শোকের সাথে কোন প্রাচীন কাহিনীর নায়িকার শোকের তুলনা হয় না। ওর স্বপ্নগুলি কোন স্কুল ছাত্রীর পানসে স্বপনের মত নয়। ওর বাসনা সতী-সাধ্বী স্ত্রীর বাসনার মতও নয়। জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে লুসি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েনি, তার বলিষ্ঠ চরিত্রের অভাব তাকে পীড়া দিচ্ছে না। কোন আবেগময় উপহারের কোমল স্মৃতি ওর মনে কাটার মত বেঁধে না। তরুণ চিত্তের কোন বীরপূজার স্মৃতিও নয়। লুসির কোন স্নেহের কথা, রসের কথা শুনে সে মানুষটির মুখে হাসি, চোখে সরলতার আভাস ফুটে ওঠার স্মৃতিও নয়।
এসব কিছুই নয়, সনির অভাব বোধ করার প্রধান কারণ হলো, একমাত্র সে-ই যৌন-মিলনে লুসিকে পরিতৃপ্তি দিতে পারত। এই তরুণ বয়সে, অনভিজ্ঞ মনে লুসির আজ ধারণা, আর কেউ তাকে কখনও সেই পরিতৃপ্তি দিতে পারবে না।
এক বছর পর এখন লুসি নেভাডার মিষ্টি বাতাসে রোদ পোয়াচ্ছে। পায়ের কাছে শুয়ে রয়েছে ছিপছিপে শরীর, সোনালী চুল এক যুবক। ওর পায়ের আঙুল নিয়ে খেলা করছে। রোববার দুপুর। হোটেলের পাশে সুইমিং পুলের ধারে শুয়ে রয়েছে ওরা। চারদিকে এত লোকজন থাকাসত্ত্বেও যুবক ওর অনাবৃত উরুতে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
জুলস, এবার থামো, বলল লুসি। আমার তো ধারণা ছিল অন্তত ডাক্তাররা আর সব পুরুষের মত বোকা হয় না।
একগাল হাসল জুলস। বলল, আমি যে লাস ভেগাসের ডাক্তার। লুসির উরুর ভিতর দিকে একটু সুড়সুড়ি দিতেই, অবাক হয়ে জুল দেখল এই সামান্য স্পর্শেই কেমন উত্তেজিত হয়ে উঠছে মেয়েটা। গোপন করার চেষ্টা করলেও, ওর মুখ দেখেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে সেটা। সত্যি মেয়েটা বড় আদিম, আর নির্দোষ। কিন্তু তবু ওকে আয়ত্ত করতে পারছে না জুলস। কেন? ভেবে দেখার মত ব্যাপার। হারানো প্রিয়তমের জায়গায় কাউকে বসানো যায় না, এসব বাজে কথা। এই তো হাতের নিচে জ্যান্ত জিনিস জ্যান্ত জিনিস.আরেকটা জ্যান্ত জিনিসকেই চায়। ভা. জুলস সীগল ঠিক করল, নিজের ফ্ল্যাটে আজ রাতে একটা মরিয়া আর মোক্ষম চেষ্টা করে দেখবে সে। জুলসের একান্ত ইচ্ছা, চালাকির সাহায্য না নিয়েই ওকে আয়ত্ত করা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি চালাকিই করতে হয়, তাতেও সে পিছপা হবে না। সাবজেক্টটা তো নির্ভেজাল বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের জন্যে কি না করা যায় তা ছাড়া, এ-বেচারি তো সেটার জন্যই মরে যাচ্ছে।
